Your password is being change. Please wait ...

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অধ্যাদেশ

Volume Act ০১ Year - ২০১৫ Date - ২৬ জুলাই, ২০১৫

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার জন্য বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ

যেহেতু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার জন্য একটি কোম্পানী গঠন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং

যেহেতু সংসদ অধিবেশনে নাই এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে;

সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিলেন :-

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম

১। এই অধ্যাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অধ্যাদেশ, ২০১৫ নামে অভিহিত হইবে।

২। সংজ্ঞা

২। (১) বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে,-

(ক) ‘‘কর্তৃপক্ষ’’ অর্থ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ১৯ নং আইন) এর অধীন গঠিত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ;

(খ) ‘‘কমিশন’’ অর্থ Bangladesh Atomic Energy Commission Order, 1973 (President's Order No. 15 of 1973) এর অধীন গঠিত Bangladesh Atomic Energy Commission;

(গ) ‘‘কোম্পানী’’ অর্থ ধারা ৪ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত এবং নিগমিত ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেড’;

(ঘ) ‘‘কমিশনিং (commissioning)’’ অর্থ এমন একটি প্রক্রিয়া যাহার মাধ্যমে নির্মাণকার্য সমাপনান্তে কোন নিউক্লিয়ার বা বিকিরণ স্থাপনার ব্যবস্থাদি ও অংশসমূহ এবং কর্মকাণ্ডসমূহ সচল করা এবং সেইগুলি নকশা এবং প্রার্থিত কার্যসম্পাদন মাপকাঠি অনুযায়ী হইয়াছে কিনা তাহা যাচাইকরণ;

(ঙ) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ বোর্ডের চেয়ারম্যান;

(চ) ‘‘চুক্তি’’ অর্থ তফসিল ১ ও ২ এ উল্লিখিত চুক্তি এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য পারমাণবিক প্রযুক্তি সরবরাহকারী দেশ বা সংস্থার সহিত সম্পাদিতব্য সহযোগিতা চুক্তি;

(ছ) ‘‘ডিকমিশনিং (decommissioning)’’ অর্থ এমন একটি প্রক্রিয়া যাহার মাধ্যমে কোন নিউক্লিয়ার বা বিকিরণ স্থাপনা পরিচালনা কার্যক্রম এইরূপ পদ্ধতিতে চূড়ান্তভাবে বন্ধ বা অপসারণ করা হয় যাহাতে প্ল্যান্টের জনবল, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তার পর্যাপ্ত সুরক্ষা হয়;

(জ) ‘‘পরিচালক’’ অর্থ কোম্পানীর কোন পরিচালক;

(ঝ) ‘‘প্রকল্প’’ অর্থ প্রকল্পের সকল পর্যায়সহ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা সংক্রান্ত অন্য কোন প্রকল্প;

(ঞ) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ কোম্পানীর পরিচালনা বোর্ড;

(ট) ‘‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক’’ অর্থ কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক; এবং

(ঠ) ‘‘সংস্থা’’ অর্থ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা তথা International Atomic Energy Agency (IAEA) ।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সংজ্ঞায়িত হয় নাই এইরূপ কোন অভিব্যক্তি এই অধ্যাদেশে ব্যবহৃত হইয়া থাকিলে উহা ‘‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ১৯ নং আইন)’’ এ সংজ্ঞায়িত অভিব্যক্তির আলোকে সংজ্ঞায়িত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

৩। অধ্যাদেশের প্রাধান্য ও প্রয়োগ

৩। (১) আপাতত বলবৎ কোন কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।

(২) এই অধ্যাদেশে বর্ণিত হয় নাই কিন্তু অন্য কোন আইনে বর্ণিত কোম্পানী পরিচালনা সংক্রান্ত কোন বিধান, এই অধ্যাদেশের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, প্রয়োগযোগ্য হইবে।

(৩) বাংলাদেশ এবং রাশিয়ান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে সম্পাদিত সহযোগিতা চুক্তি বা রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টসহ ভবিষ্যতে অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংশ্লিষ্ট সম্পাদিতব্য সহযোগিতা চুক্তি এবং/অথবা সম্পাদিত চুক্তির সংযোজন এবং/অথবা পরিমার্জন, এই অধ্যাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উহার ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(৪) প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে ধারা ৪ (১) অনুসারে কোম্পানী গঠন এবং নিগমিতকরণের পর, ধারা ৭ এ উল্লিখিত কোন উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোম্পানী গঠনের পূর্বে সরকার কর্তৃক সম্পাদিত কোন এগ্রিমেন্ট বা চুক্তি বা অন্য কোন কিছু হইতে অর্জিত বা অর্পিত সকল অধিকার, দায়বদ্ধতা এবং বাধ্যবাধকতা কোম্পানী কর্তৃক অর্জিত বা অর্পিত হইয়াছে এবং ধারা ৪ (৩) এর বিধান সাপেক্ষ, উক্ত অধিকার, দায়বদ্ধতা এবং বাধ্যবাধকতা কোম্পানীর বলিয়া গণ্য হইবে।

(৫) ধারা ৪ (১) এর অধীন কোম্পানী গঠন এবং নিগমিতকরণ না হওয়া পর্যন্ত, এই ধারার কোন কিছুই প্রকল্পের পরিচালনাকে বাধাগ্রস্থ করিবে না।

৪। কোম্পানী গঠন এবং নিগমিতকরণ

৪। (১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানী গঠন এবং নিগমিতকরণ করিবে।

(২) কোম্পানী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালন সংস্থা (Operating Organization) হিসাবে পরিচালনার দায়িত্ব পালন করিবে।

(৩) কমিশন, রাশিয়ান ফেডারেশন ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তি ও ভবিষ্যতে সম্পাদিতব্য এতদসক্রান্ত অন্যান্য চুক্তি এবং সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী মালিক সংস্থা (Owner Organization) হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কমিশন ইহার সকল বা যে কোন দায়িত্ব, প্রয়োজনবোধে, কোম্পানীর নিকট অর্পণ করিতে পারিবে।

(৪) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের তফসিল ১ এবং ২ এ উল্লিখিত চুক্তি এবং ভবিষ্যতে এতদসংক্রান্ত সম্পাদিতব্য চুক্তির আওতায় প্রকল্পের সকল সম্পত্তি, শেয়ার, অঙ্গীকার এবং দায়-দায়িত্ব কোম্পানীর নিকট হস্তান্তর করিবে।

৫। প্রধান কার্যালয়, ইত্যাদি

৫। কোম্পানীর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং প্রয়োজনবোধে, বোর্ড এর অনুমোদনক্রমে, দেশের যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাইবে।

৬। অনুমোদিত মূলধন

৬। (১) কোম্পানীর অনুমোদিত শেয়ার মূলধন এবং পরিশোধিত শেয়ার মূলধন, ইহার সংঘবিধি এবং সংঘস্মারক দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোম্পানী ইহার সকল বা যে কোন কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, স্থানীয় বা বিদেশী ব্যাংকসহ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত উৎস হইতে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, ঋণ গ্রহণ বা অনুদান সংগ্রহ করিতে পারিবে।

৭। কোম্পানীর কার্যাবলি

৭। (১) কোম্পানী, প্রকল্পের অধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনার স্থান উন্নয়ন, নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ, কমিশনিং, পরিচালনা ও ডিকমিশনিং এর জন্য দায়ী থাকিবে।

(২) কোম্পানী, যে কোন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প পরিচালনাকালীন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২, সংস্থার গাইডলাইন ও প্রমিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রচলিত প্র্যাকটিস অনুযায়ী প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ, নিউক্লীয় নিরাপত্তা, বিকিরণ সুরক্ষা, নিউক্লীয় সিকিউরিটি, জরুরি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিল্পসংক্রান্ত নিরাপত্তার যথাযথ প্রতিপালন নিশ্চিত করিবে।

(৩) কোম্পানী, সংস্থার গাইড লাইন এবং আন্তর্জাতিক প্রচলিত প্র্যাকটিস অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং দক্ষ পরিচালনার জন্য সার্বিকভাবে দায়ী থাকিবে।

(৪) কোম্পানী, নিউক্লীয় সিকিউরিটি এবং নিউক্লীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদানের নিমিত্ত নীতিমালা প্রণয়ন এবং উহা বাস্তবায়ন করিবে।

(৫) উপরি-উক্ত বিধানাবলির সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এবং এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোম্পানী নিম্নলিখিত কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা:-

(ক) ইহার কার্যক্রমসমূহ দক্ষতার সহিত বাস্তবায়ন এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করিবার জন্য, সময় সময়, প্রয়োজনীয় সহায়ক সেবা এবং সুবিধা প্রদান করা;

(খ) পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করিবার জন্য প্রকল্পের পরিচালনা কার্যক্রম উহার উদ্দেশ্যের নিরীখে পুনর্নিরীক্ষণ করা;

(গ) প্রকল্পের মধ্যে যথাযথ নিরাপত্তামূলক সচেতনতা এবং আচরণকে প্রাধান্য প্রদান নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে পরিচালনা পুনর্নিরীক্ষণ এবং নিরীক্ষা সম্পর্কিত বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা করা;

(ঘ) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ প্রতিপালনের নিমিত্ত কর্তৃপক্ষের সহিত যোগাযোগ স্থাপন করা;

(ঙ) সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্র্যাকটিস অনুযায়ী দক্ষতার সহিত প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের নিরাপদ পরিচালনার জন্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অন্যান্য সংস্থার সহিত যোগাযোগ স্থাপন করা;

(চ) পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য জনবলের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা নির্ধারণ করা;

(ছ) পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর, নির্মিত কেন্দ্রের নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক এবং তথ্যপূর্ণ পদ্ধতিতে পরিচালনার জন্য একটি কমিশনিং কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা করা;

(জ) নির্দিষ্ট বিরতিতে নিরাপত্তার জন্য গুরত্বপূর্ণ আইটেমসমূহ রক্ষণাবেক্ষণ, পরীক্ষা, নজরদারী এবং পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা;

(ঝ) পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য স্থান নির্বাচন, নকশা এবং নির্মাণ পর্যায়ে নিরাপদ ডিকমিশনিং পরিকল্পনা প্রস্তুত করা;

(ঞ) সংস্থার গাইড লাইন অনুযায়ী পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনা এবং নিউক্লীয় পদার্থের বিষয়ে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার উন্নয়ন করা;

(ট) বিকিরণ আয়নায়নের ক্ষতিকর প্রভাব হইতে স্থাপনার জনবল, সাধারণ জনগণ এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করিবার জন্য বিকিরণ সুরক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ ও উন্নয়ন করা;

(ঠ) প্রক্রিয়ার পর্যাপ্ততা, ব্যবস্থাপনা, সম্পাদন, নিরূপণ এবং উন্নতকরণের সহিত জড়িতদের উন্নত সাংগঠনিক কাঠামো, কার্যকর দায়-দায়িত্ব, কর্তৃত্বের পর্যায় এবং সাধারণ ক্ষেত্র নিশ্চিত করিবার নিমিত্ত মান নিশ্চিতকরণ কার্যক্রমের উন্নয়ন করা;

(ড) পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হইতে উদ্ভুত সকল তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের হ্যান্ডলিং, ট্রিটমেন্ট, কন্ডিশনিং এবং ডিসপোজাল নিশ্চিত করিবার জন্য তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা;

(ঢ) পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কোন জরুরি অবস্থা উদ্ভবের ক্ষেত্রে উদ্ভূত পরিস্থিতি উপশমের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং যুক্তিসংগত নিশ্চয়তা প্রদানকারী জরুরি প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের উন্নয়ন সাধন; এবং

(ণ) কোম্পানীর সংঘস্মারক দ্বারা নির্ধারিত অন্য যে কোন কার্যাবলী সম্পাদন করা।

৮। কোম্পানী পরিচালনা

৮। (১) এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত বিধি এবং প্রবিধান সাপেক্ষে, কোম্পানীর কার্যক্রম এবং ব্যবসা পরিচালনা এবং সাধারণ তত্ত্বাবধান বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কোম্পানী যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্য ও বিষয়াদি সম্পাদন করিতে পারিবে, বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্য ও বিষয়াদি সম্পাদন করিতে পারিবে।

(২) বোর্ড, ইহার কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে, জনস্বার্থ এবং সাধারণভাবে নিরাপত্তাকে যথাযথ বিবেচনায় লইয়া সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত সাধারণ বা বিশেষ নির্দেশাবলি অনুসরণ করিবে।

৯। বোর্ড

৯। (১) বোর্ড, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তাবলি সাপেক্ষে, একজন চেয়ারম্যান, একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্যূন ৭ (সাত) জন ও অনধিক ১২ (বার) জন পরিচালক সমন্বয়ে গঠিত হইবে।

(২) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে, বোর্ডের চেয়ারম্যান হইবেন।

(৩) কমিশনের চেয়ারম্যান, পদাধিকারবলে, কোম্পানীর একজন পরিচালক হইবেন।

(৪) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ (১ম পর্যায়) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কোম্পানীর প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক হইবেন।

(৫) কোন পদের শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে কোন ক্রুটির কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না।

১০। ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্যান্য পরিচালকের কার্যাবলি

১০। (১) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী এবং সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হইবেন।

(২) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্যান্য পরিচালকগণ বোর্ড কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত বা অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ, কার্যাবলি সম্পাদন এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করিবেন।

১১। কোম্পানীর পরিচালকগণের অযোগ্যতা এবং অপসারণ

১১। (১) কোন ব্যক্তি পরিচালক হইবেন না বা পরিচালক থাকিবেন না, যদি তিনি-

(ক) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হন;

(খ) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হন;

(গ) নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন; বা

(ঘ) অপ্রাপ্তবয়স্ক হন।

(২) সরকার, চেয়ারম্যান বা যে কোন পরিচালককে তাহার পদ হইতে, লিখিত আদেশ দ্বারা, অপসারণ করিতে পারিবে, যদি তিনি-

(ক) এই অধ্যাদেশের অধীন তাহার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ বা অক্ষম হন অথবা দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন; অথবা

(খ) চেয়ারম্যান বা পরিচালক হিসাবে তাহার পদের অপব্যবহার করিয়া থাকেন; অথবা

(গ) কোম্পানীর সহিত বা দ্বারা বা পক্ষে সম্পাদিত কোন চুক্তি বা নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন শেয়ার বা স্বার্থ, সরকারের লিখিত অনুমোদন ব্যতিরেকে, জ্ঞাতসারে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বা তাহার কোন অংশীদারের মাধ্যমে অর্জন করেন বা ধারণ করেন।

১২। বোর্ডের সভা

১২। (১) বোর্ডের সভা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, চেয়ারম্যান উপযুক্ত মনে করিলে যে কোন সময় ও স্থানে সভা আহবান করিতে পারিবেন।

(২) কোম্পানীর মোট পরিচালকের অর্ধেক পরবর্তী পূর্ণসংখ্যক পরিচালকের উপস্থিতিতে বোর্ডের সভায় কোরাম পূর্ণ হইবে।

(৩) বোর্ডের সভায় উপস্থিত প্রত্যেক পরিচালকের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভার সভাপতির একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট থাকিবে।

(৪) যদি কোন কারণে চেয়ারম্যান বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করিতে অক্ষম হন তাহা হইলে চেয়ারম্যান কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে মনোনীত কোন পরিচালক সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং এইরূপ মনোনীত কোন পরিচালক না থাকিলে উপস্থিত পরিচালকগণ দ্বারা মনোনীত কোন পরিচালক সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৫) বোর্ড সভায় কোম্পানীর কোন বিষয়ে কোন পরিচালকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যক্তি স্বার্থ জড়িত থাকিলে তিনি ভোটদানে বিরত থাকিবেন।

১৩। কমিটি

১৩। বোর্ড উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত প্রয়োজনে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।

১৪। কর্মকর্তা-কর্মচারি,ইত্যাদি নিয়োগ

১৪। কোম্পানী উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা, পরামর্শক, উপদেষ্টা, নিরীক্ষক এবং কর্মচারি নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

১৫। ক্ষমতা অর্পণ

১৫। বোর্ড, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, আদেশে নির্ধারিত ইহার যে কোন ক্ষমতা, উক্ত আদেশে নির্ধারিত পরিস্থিতিতে ও শর্তাধীনে, যদি থাকে, চেয়ারম্যান বা অন্য কোন নির্ধারিত পরিচালক বা কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।

১৬। হিসাব পরিচালনা

১৬। কোম্পানী যে কোন তফসিলি ব্যাংকে হিসাব খুলিতে এবং পরিচালনা করিতে পারিবে।

ব্যাখ্যা।- ‘‘তফসিলি ব্যাংক’’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O 127 of 1972) এর Article 2 (j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank কে বুঝাইবে।

১৭। সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ

১৭। কোম্পানী উহার মূলধন সরকার কর্তৃক অনুমোদিত শেয়ার, সিকিউরিটিতে বা অন্য কোন খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।

১৮। শেয়ার সমর্পণ

১৮। কোম্পানী, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, উহার ধারণকৃত যে কোন শেয়ার অন্য কোন কোম্পানীর নিকট সমর্পণ করিতে পারিবে।

১৯। ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা

১৯। (১) কোম্পানী, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে বা সরকার কর্তৃক উহাকে প্রদত্ত কোন সাধারণ কর্তৃত্বের শর্তানুযায়ী-

(ক) কোম্পানীর সকল বা যে কোন উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বাংলাদেশের ভিতরে ঋণ গ্রহণ বা বৈদেশিক মূদ্রা সংগ্রহ করিতে পারিবে;

(খ) কোম্পানীর মালিকানাধীন কোন সম্পত্তি দায়বদ্ধকরণ বা বন্ধকের মাধ্যমে দফা (ক) এর অধীন গৃহীত ঋণের কোন অংশ জামানত রাখিতে পারিবে;

(গ) বন্ড, ডিবেঞ্চার এবং ডিবেঞ্চার-স্টক ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করিতে পারিবে।

(২) সরকার তৎকর্তৃক উপযুক্ত পদ্ধতি এবং শর্তে কোম্পানী কর্তৃক ইস্যুকৃত কোন বন্ড, ডিবেঞ্চার বা ডিবেঞ্চার-স্টক এবং উহার সুদের পুনঃপরিশোধের জন্য গ্যারান্টি প্রদান করিতে পারিবে।

২০। হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা

২০। (১) কোম্পানী হিসাব সংক্রান্ত নীতিমালা, প্রতিষ্ঠিত প্রথা এবং সরকার অথবা মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক কর্তৃক ইস্যুকৃত সাধারণ নির্দেশাবলি যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক নির্ধারিত ফরমে ইহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং মুনাফা ও ক্ষতির হিসাব এবং ব্যালান্স শীটসহ উহার হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।

(২) সরকার কর্তৃক নিযুক্ত Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (P.O. No. 2 of 1973) এ সংজ্ঞায়িত কোন চার্টার্ড একাউনটেন্ট অথবা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কোন নিরীক্ষক দ্বারা কোম্পানীর হিসাব নিরীক্ষা করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নিযুক্ত প্রত্যেক নিরীক্ষককে কোম্পানীর বার্ষিক আর্থিক বিবরণীর একটি করিয়া কপি সরবরাহ করিতে হইবে এবং তিনি উহার সহিত সংশ্লিষ্ট হিসাব ও ভাউচার পরীক্ষা করিবেন এবং কোম্পানী কর্তৃক রক্ষিত সকল বহির তালিকা নিরীক্ষককে সরবরাহ করিতে হইবে এবং নিরীক্ষক যুক্তিযুক্ত সময়ে কোম্পানীর বহি, হিসাব এবং অন্য কোন দলিলাদি পরীক্ষা করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপ হিসাব সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোম্পানীর যে কোন পরিচালক বা কর্মকর্তাকে নিরীক্ষক জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

(৪) নিরীক্ষক শেয়ারহোল্ডারগণকে বার্ষিক আর্থিক বিবরণী অবহিত করিবেন এবং নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে এই মর্মে বর্ণনা থাকিবে যে, আর্থিক বিবরণীতে সকল প্রয়োজনীয় বিষয় সন্নিবেশিত এবং যথাযথভাবে প্রস্তুতকৃত, ইহাতে কোম্পানীর যাবতীয় বিষয়াদির সত্য এবং সঠিক চিত্র প্রতিফলিত হইয়াছে এবং নিরীক্ষক বোর্ডের নিকট কোন ব্যাখ্যা অথবা তথ্য তলব করিয়া থাকিলে উহা প্রদান করা হইয়াছে কি না এবং উহা সন্তোষজনক কি না তাহা উল্লেখ করিবে।

(৫) সরকার, যে কোন সময়ে নিরীক্ষককে শেয়ারহোল্ডার ও ঋণদাতাদের স্বার্থ রক্ষাকল্পে কোম্পানী কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের পর্যাপ্ততা অথবা কোম্পানীর বিষয়াদি নিরীক্ষাকালীন পদ্ধতির পর্যাপ্ততার বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

২১। প্রতিবেদন, ইত্যাদি

২১। (১) কোম্পানী, সময় সময়, সরকারের চাহিদা মোতাবেক, রিটার্ন, প্রতিবেদন এবং বিবরণী সরকারের নিকট দাখিল করিবে।

(২) কোম্পানী প্রতি অর্থ বৎসরের শেষে যথাশীঘ্র সম্ভব নিরীক্ষক কর্তৃক নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীসহ উক্ত বৎসরে কোম্পানীর কার্যক্রমের একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে।

২২। পরিচালনা কার্যক্রম, ইত্যাদি

২২। কোম্পানী প্রত্যেক অর্থ-বৎসর আরম্ভ হইবার পূর্বে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট দাখিল করিবে, যথা:-

(ক) উহার পরিচালনা এবং প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রম;

(খ) উক্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সম্ভাব্য আর্থিক ব্যয়; এবং

(গ) উক্ত বৎসরে উহার মূলধন বিনিয়োগ এবং জনবল বৃদ্ধির প্রস্তাব এবং তজ্জন্য সম্ভাব্য আর্থিক ব্যয়।

২৩। বার্ষিক সাধারণ সভা

২৩। (১) কোম্পানীর শেয়ারহোল্ডারগণের বার্ষিক সাধারণ সভা বোর্ড কর্তৃক কোম্পানীর সংঘস্মারক ও সংঘবিধি অনুসারে নির্ধারিত স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে।

(২) শেয়ারহোল্ডারগণের অন্য কোন সাধারণ সভা কোম্পানীর সংঘস্মারক ও সংঘবিধি অনুসারে আহবান করা যাইবে।

(৩) বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত শেয়ারহোল্ডারগণ বার্ষিক হিসাব, কোম্পানীর কার্যক্রমের উপর বোর্ডের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং বার্ষিক ব্যালান্স শীট ও হিসাবের উপর নিরীক্ষকের প্রতিবেদন সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা বোর্ডের নিকট সুপারিশ করিবার অধিকারী হইবেন।

২৪। সংরক্ষিত তহবিল

২৪। কোম্পানী, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, একটি সংরক্ষিত তহবিল প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।

২৫। জনসেবক

২৫। চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালক ও অন্যান্য পরিচালক, উপদেষ্টা, কর্মকর্তা বা কর্মচারীগণ এই অধ্যাদেশ বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান অনুযায়ী কার্য করিবার ক্ষেত্রে Penal Code, 1860 (Act XLVof 1860) এর section 21 এ সংজ্ঞায়িত অর্থে public servant বলিয়া গণ্য হইবেন।

২৬। চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালক ও অন্যান্য পরিচালকের দায়মুক্তি

২৬। (১) কোম্পানী কর্তৃক, বা ইহার চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালক বা অন্য কোন পরিচালক কর্তৃক সরল বিশ্বাসে তাহার কর্তব্য পালনকালীন কৃত সকল ক্ষতি এবং ব্যয়ের জন্য চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালক ও অন্যান্য পরিচালকগণ কোম্পানী, বা ক্ষেত্রমত, সরকার কর্তৃক দায়মুক্তি পাইবে, যদি না উক্ত ক্ষতি বা ব্যয় তাহাদের ইচ্ছাকৃত কার্য বা অবহেলার কারণে সংঘটিত হইয়া না থাকে।

(২) চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালক এবং/বা অন্য কোন পরিচালক ব্যক্তিগতভাবে, কোম্পানী এবং/বা প্রকল্পের অধীন কর্মরত অন্য কোন পরিচালক বা কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক কৃত কোন কার্যের ফলে কোম্পানী এবং/বা প্রকল্পের পক্ষে গৃহীত কোন সম্পত্তি বা অর্জিত জামানতের অপর্যাপ্ততা বা স্বল্পতার কারণে কোম্পানী এবং/বা প্রকল্প বা অন্য কারো কোন ক্ষতি বা ব্যয়ের জন্য দায়ী থাকিবেন না।

২৭। সংঘস্মারক ও সংঘবিধি পরিবর্তন

২৭।কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোম্পানী, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে, সেইরূপ পদ্ধতিতে ইহার সংঘস্মারক এবং সংঘবিধি সংশোধন বা পরিবর্তন করিতে পারিবে।

২৮। সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ

২৮। এই অধ্যাদেশ জারীর পূর্বে বা পরবর্তী সময়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার বিষয়ে সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজকর্মের জন্য সরকার, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালক, অন্য কোন পরিচালক, পরামর্শক, উপদেষ্টা, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।

২৯। ভূমি অধিগ্রহণ, ইত্যাদি

২৯। এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোম্পানীর কোন ভূমি প্রয়োজন হইলে উহা জনস্বার্থে প্রয়োজন বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে উহা Acquisition and Requisition of Immovable Property Ordinance, 1982 (Ordinance No. II of 1982) এর বিধান মোতাবেক অধিগ্রহণ করা যাইবে।

(২) কোম্পানী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট অধিগ্রহণকৃত কোন ভূমি ইজারা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে, এতদসংক্রান্ত আইন, বিধিমালা, নীতিমালা বা নির্দেশিকা অনুসরণে অস্থায়ী ভিত্তিতে ইজারা প্রদান করা যাইবে।

৩০। কোম্পানীর অবসায়ন

৩০। কোম্পানী বা কর্পোরেশনের অবসায়ন সংক্রান্ত আইনের কোন বিধান এই কোম্পানীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না এবং এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ এবং নির্দেশিত পদ্ধতি ব্যতিরেকে কোম্পানীর অবসায়ন ঘটানো যাইবে না।

৩১। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৩১। এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

৩২। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

৩২। এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, এই অধ্যাদেশ বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

৩৩। তফসিল সংশোধনের ক্ষমতা

৩৩। সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তফসিলে কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত বা কর্তন বা উহাতে অন্তর্ভুক্ত কোন বিষয়ের বর্ণনা পরিবর্তনের নিমিত্ত তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে।

৩৪। হেফাজত

৩৪। (১) সরকার, এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের পূর্বে তফসিল ১ ও ২ এ উল্লিখিত চুক্তির ধারাবাহিকতায় কৃত সকল কার্যক্রমের বিষয়ে তৎকর্তৃক প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত যে কোন আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত আদেশ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রদত্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) প্রকল্পের অধীন কৃত সকল কার্য বা গৃহীত ব্যবস্থা এই অধ্যাদেশের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।