Your password is being change. Please wait ...

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল আইন

Volume - 42 Act - ১৩ Year - ২০১২ Date - মার্চ ৮, ২০১২

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল সংক্রান্ত আইন রহিতক্রমে সংশোধিত আকারে উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন

যেহেতু বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল সংক্রান্ত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল আইন, ১৯৯৬ (১৯৯৬ সনের ৭ নং আইন) রহিতক্রমে সংশোধিত আকারে উহা পুনঃপ্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ—

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে। (২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

২। সংজ্ঞা

২।বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে— (১) ‘‘ইনস্টিটিউট’’ অর্থ তফসিলে উল্লিখিত কোন ইনস্টিটিউট; (২) ‘‘কর্মচারী’’ অর্থ কাউন্সিলের কোন কর্মচারী এবং কাউন্সিলের কোন কর্মকর্তাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন; (৩) ‘‘কাউন্সিল’’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল; (৪) ‘‘কো-চেয়ারম্যান’’ অর্থ গভর্নিং বডির কো-চেয়ারম্যান; (৫) ‘‘কৃষি’’ অর্থে নিম্নবর্ণিত কার্যাবলী অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথাঃ— (ক) ফলমূলসহ সকল প্রকার উদ্ভিজ্জ, ফসল উৎপাদন ও তোলা, সংরক্ষণ এবং উহাদের প্রারম্ভিক প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যবহার এবং তৎসংক্রান্ত কার্যাবলী; (খ) বনজ সম্পদ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ এবং তৎসংক্রান্ত কার্যাবলী; (গ) পশু পালন, প্রজনন এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও তৎসংক্রান্ত কার্যাবলী; (ঘ) মৎস্য, শক্ত খোলসযুক্ত জলজ প্রাণি (Crustaceans) এবং সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, মনুষ্য খাদ্য হিসাবে ঘোষিত অন্য কোন জলজ প্রাণীর চাষ, প্রজনন এবং উন্নয়ন ও তৎসংক্রান্ত কার্যাবলী; (৬) ‘‘গভর্নিং বডি’’ অর্থ ধারা ৬ অনুসারে গঠিত গভর্নিং বডি; (৭) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান; (৮) ‘‘জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেম (NARS) বা সিস্টেম’’ অর্থ কাউন্সিল ও তফসিল ‘‘ক’’ এবং ‘‘খ’’ এ উল্লেখকৃত ইনস্টিটিউটের সম্মিলিত রূপ; (৯) ‘‘তফসিল’’ অর্থ এই আইনের কোন তফসিল; (১০) ‘‘সদস্য-পরিচালক’’ অর্থ ধারা ১৪(২) এ উল্লিখিত সদস্য-পরিচালক; (১১) ‘‘নির্বাহী চেয়ারম্যান’’ অর্থ ধারা ১৩ এর অধীনে নিযুক্ত নির্বাহী চেয়ারম্যান; (১২) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত; (১৩) ‘‘নির্বাহী পরিষদ’’ অর্থ ধারা ১১ অনুসারে গঠিত নির্বাহী পরিষদ; (১৪) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান; (১৫) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি; (১৬) ‘‘রিসার্চ গ্রান্ট (research grant) ’’ অর্থ সরকার কর্তৃক তফসিল ‘ক’ ও ‘খ’ এ উল্লিখিত ইনস্টিটিউটকে প্রদত্ত বাজেটের শুধুমাত্র গবেষণা উপখাতে এবং গবেষণা সহায়তায় মঞ্জুরীকৃত অর্থের সম্মিলিত অংশ; (১৭) ‘‘সচিবালয়’’ অর্থ ধারা ১৪(১) এ উল্লিখিত সচিবালয়; (১৮) ‘‘সহযোগী সংগঠন’’ অর্থ এমন কোন সংগঠন বা সংস্থা যাহা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একটি সহযোগী সংগঠনরূপে কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত।

৩। কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা

৩। (১) এই আইন বলবৎ হইবার সংগে সংগে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল নামে একটি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হইবে। (২) কাউন্সিল একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং, এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং কাউন্সিল ইহার স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

৪। কাউন্সিলের কার্যালয়

৪। কাউন্সিলের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে এবং ইহা, প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।

৫। কাউন্সিলের পরিচালনা ও প্রশাসন

৫। (১) কাউন্সিলের একটি নির্বাহী পরিষদ থাকিবে এবং উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, কাউন্সিলের পরিচালনা ও প্রশাসন উক্ত পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কাউন্সিল যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে নির্বাহী পরিষদও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে। (২) নির্বাহী পরিষদ উহার ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্যাবলী সম্পাদনের ক্ষেত্রে গভর্নিং বডির নিকট দায়ী থাকিবে এবং গভর্নিং বডি কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশনা, আদেশ ও নির্দেশ অনুসরণ করিবে।

৬। গভর্নিং বডি

৬।কাউন্সিলের একটি গভর্নিং বডি থাকিবে, যাহা নিম্নবর্ণিত সদস্য-সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথাঃ— (ক) কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী, যিনি ইহার চেয়ারম্যানও হইবেন; (খ) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী, যিনি ইহার কো-চেয়ারম্যানও হইবেন; (গ) পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী, যিনি ইহার কো-চেয়ারম্যানও হইবেন; (ঘ) জাতীয় সংসদের স্পীকার কর্তৃক মনোনীত দুই জন সংসদ-সদস্য; (ঙ) পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি বিষয়ক সদস্য; (চ) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব; (ছ) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব; (জ) পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব; (ঝ) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর ভাইস-চ্যান্সেলর; (ঞ) নির্বাহী চেয়ারম্যান; (ট) বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান; (ঠ) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক; (ড) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত, অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদাসম্পন্ন একজন প্রতিনিধি; (ঢ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত, অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদাসম্পন্ন একজন প্রতিনিধি; (ণ) ‘ক’ তফসিলে উল্লিখিত জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেম (NARS) এর প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধানগণ (ত) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক; (থ) মৎস্য অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক; (দ) বন অধিদপ্তর এর প্রধান বন সংরক্ষক; (ধ) সরকার কর্তৃক মনোনীত তিনজন বিজ্ঞানী, যাহারা কাউন্সিল অথবা কোন ইনস্টিটিউটে কর্মরত নহেন এবং খাদ্যশস্য, অর্থকরী ফসল, মৎস্য চাষ, পশুপালন, পশু চিকিৎসা, বন, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক বিজ্ঞান, সমাজ বিষয়ক বিজ্ঞান (Social Science) অথবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোন বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রথিতযশা গবেষকরূপে স্বীকৃত; (ন) সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন কৃষক প্রতিনিধি; (প) সরকার কর্তৃক মনোনীত কৃষিজ সামগ্রীর উপকরণ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের একজন প্রতিনিধি; (ফ) সরকার কর্তৃক মনোনীত কৃষি গবেষণা বা কৃষি উন্নয়নের সহিত জড়িত কোন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এর একজন প্রতিনিধি; (ব) সদস্য পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ), যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

৭। সদস্যপদের মেয়াদ

৭। (১) ধারা ৮ এর বিধান সাপেক্ষে, ধারা ৬ এ উল্লিখিত গভর্নিং বডির মনোনীত কোন সদস্যের সদস্যপদের মেয়াদ হইবে উক্ত পদে তাহার মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী তিন বৎসর। (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত যে কোন মনোনীত সদস্য চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন। (৩) উপ-ধারা (১) এবং (২) এর বিধান সত্ত্বেও মনোনয়নকারী কর্তৃপক্ষ যে কোন সময় উহার প্রদত্ত কোন মনোনয়ন বাতিল করিয়া উপযুক্ত নতুন কোন ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে মনোনয়ন প্রদান করিতে পারিবে।

৮। সদস্যপদের অবসান

৮। গভর্নিং বডির কোন সদস্যের সদস্যপদের অবসান হইবে, যদি— (ক) ধারা ৬ (ঘ) এর অধীনে মনোনীত কোন সংসদ-সদস্যের ক্ষেত্রে, তাহার আসন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৭ অনুসারে শূন্য হয়; (খ) তাহার সদস্যপদের মেয়াদ ধারা ৭(১) অনুসারে উত্তীর্ণ হয়; (গ) তিনি ধারা ৭(২) অনুসারে স্বীয় পদ ত্যাগ করেন; (ঘ) তিনি চেয়ারম্যানের অনুমতি ব্যতিরেকে গভর্নিং বডির পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন; (ঙ) তিনি মৃত্যুবরণ করেন; (চ) তিনি কোন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক মানসিক বিকারগ্রস্ত বলিয়া ঘোষিত হন; (ছ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন; (জ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন তিন মাস কারাদণ্ডে বা অন্যূন পাঁচ হাজার টাকা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হন।

৯। কাউন্সিলের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী

৯। (১) কাউন্সিলের উদ্দেশ্য হইবে জাতীয় প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া ইনস্টিটিউট এবং সহযোগী সংগঠনসমূহের মাধ্যমে কৃষি বিষয়ক গবেষণা, পরিকল্পনা পরিচালনা, সমন্বয়, পরিবীক্ষণ (Monitoring) এবং মূল্যায়ন করা। (২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে কাউন্সিল নিম্নবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন করিবে, যথা :— (ক) কৃষি সম্পর্কিত জাতীয় নীতিমালার ভিত্তিতে জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমভুক্ত সকল গবেষণার বিষয়াবলী এবং উহাদের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা এবং কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে বিদেশী সহায়তার ব্যবহার সম্পর্কে সরকারকে পরামর্শ প্রদান করা; (খ) ইনস্টিটিউট কর্তৃক পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের দিক-নির্দেশনামূলক গবেষণা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা; (গ) কৃষি ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা; (ঘ) জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত— (অ) সকল ইনস্টিটিউটের বার্ষিক গবেষণা কর্মসূচী (ARP), প্রকল্প পুনরীক্ষণ ও সুপারিশ এবং সকল বার্ষিক গবেষণা কর্মসূচী ও বাজেট পুনরীক্ষণ (review) ও তৎবাবদ research grant যা শুধুমাত্র গবেষণা উপ-খাতে এবং গবেষণা সহায়তা আকারে সরকার কর্তৃক মঞ্জুরীকৃত অর্থের ইনস্টিটিউটভিত্তিক বরাদ্দ হইবে। (আ) ‘‘খ’’ তফসিলভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রশাসনিক কার্যাবলী ও তৎসংশ্লিষ্ট বাজেট বরাদ্দ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক সম্পাদিত হইবে। (ই) কৃষি খাতের সকল গবেষণার সমন্বয় ও তৎসংশ্লিষ্ট বাজেট বরাদ্দ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কার্যক্রম বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হইবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কৃষি গবেষণা সিস্টেমভুক্ত সকল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের স্বাতন্ত্র্য, স্বকীয়তা এবং গবেষণার স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখিয়া গবেষণায় দ্বৈততা পরিহার করার লক্ষ্যে research grant এর বরাদ্দ এবং পরিচালনা সংক্রান্ত একটি বিধি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা জারি করিবে এবং উক্ত বিধির ভিত্তিতে research grant পরিচালিত হইবে। (ঙ) কাউন্সিল কর্তৃক, চুক্তির ভিত্তিতে বা অন্য কোনভাবে, কোন ইনস্টিটিউট বা সহযোগী সংগঠনকে প্রদত্ত সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হইবে এইরূপ গবেষণা প্রস্তাব অনুমোদন করা এবং উক্তরূপ গবেষণা প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ এবং গবেষণা কার্যক্রম মূল্যায়ন ও পরীক্ষা করা; (চ) গবেষণার মান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে— (অ) প্রতিটি ইনস্টিটিউটের গৃহীত কার্যক্রম এবং চলমান কার্যাবলীর অগ্রগতি পরিবীক্ষণ করা; (আ) প্রতিটি ইনস্টিটিউটের গৃহীত কার্যক্রম এবং সম্পাদিত কার্যাবলী একটি অভ্যন্তরীণ বিশেষজ্ঞ প্যানেল দ্বারা, সময় সময়, পুনরীক্ষণের ব্যবস্থা করা; (ই) পাঁচ বৎসর অন্তর অন্তর প্রতিটি ইনস্টিটিউটের গৃহীত কার্যক্রম ও সম্পাদিত কার্যাবলী উক্ত ইনস্টিটিউট-বহির্ভূত একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল দ্বারা পুনরীক্ষণ (review) এর ব্যবস্থা করা; (ছ) নূতন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা কেন্দ্র, গবেষণা স্থল, গ্রন্থাগার, তথ্য কেন্দ্র, যাদুঘর, হারবেরিয়াম (herbarium), জার্ম প্লাজম (germ-plasm) , উদ্ভিদ প্রবর্তন কেন্দ্র (Plant introduction centre) প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ করা; (জ) জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমকে যুক্তিসংগত ও বাস্তবসম্মত রূপ দেয়ার উদ্দেশ্যে, সিস্টেমভুক্ত ইনস্টিটিউট এবং উহাদের অধীনস্থ গবেষণাস্থল বা গবেষণা কেন্দ্র, গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, তথ্য কেন্দ্র, যাদুঘর, হারবেরিয়াম, জার্ম প্লাজম এবং উদ্ভিদ প্রবর্তন কেন্দ্র এবং অন্যান্য স্থাপনার সংখ্যা, অবস্থান ও কার্য পরিধি নির্ধারণ, পরিবর্তন বা পরিবর্ধন সম্পর্কে সরকারকে বা, ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউটকে পরামর্শ প্রদান করা; (ঝ) কৃষি ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়া পরিবীক্ষণ করা এবং ইনস্টিটিউট ও সহযোগী সংগঠনসমূহের ফলাফল ও প্রযুক্তি প্রচার এবং মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমস্যা দূরীকরণের জন্য সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা বা, ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা, ক্ষেত্রমত, ইনস্টিটিউটকে পরামর্শ প্রদান করা; (ঞ) এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে ইহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকুরীর শর্তাবলী নির্ধারণ করা; (ট) কাউন্সিল, ইনস্টিটিউট এবং, ক্ষেত্রমত, সহযোগী সংগঠনসমূহের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; (ঠ) সরকারি নীতির আওতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন, কর্মশালা ও সেমিনারে কাউন্সিল ও ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ এবং তৎসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; (ড) কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য কার্যকর এবং উপযোগিতাসম্পন্ন উদ্ভাবন ও সরঞ্জামাদির দ্রুত পরীক্ষা, অভিযোজন ও ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা সংগঠনসমূহ ও অন্যান্য দেশের কৃষি গবেষণা সংগঠনসমূহের সহিত সংযোগ রক্ষা করা; (ঢ) ইনস্টিটিউট এবং, ক্ষেত্রমত, সহযোগী সংগঠনসমূহ কর্তৃক গৃহীত গবেষণা প্রকল্প ও কার্যক্রমের সম্পাদনোত্তর মূল্যায়ন করা এবং উহাদিগকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা; (ণ) যে কোন সংস্থা অথবা ব্যক্তির উদ্যোগে গবেষণা কর্মকাণ্ড পরিচালনার লক্ষ্যে, গভর্নিং বডির অনুমোনক্রমে endowment fund, trust fund ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করা; (ত) কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত প্রবিধানের ভিত্তিতে জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত যথাযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে endowment fund, trust fund পরিচালনা করা এবং উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে, উক্ত ফান্ডের মাধ্যমে লাভজনক কর্মসূচী গ্রহণ করা; (থ) গবেষণা-সম্প্রসারণ-কৃষক-মার্কেট সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে সম্প্রসারণ সংস্থাসমূহের কর্মকাণ্ড সমন্বয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করা; (দ) কৃষি গবেষণাকে উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ মেধার প্রয়োজন হয় এইরূপ নবপ্রবর্তনমূলক (innovative) বা গবেষণামূলক কর্মসম্পাদনের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমের যে কোন বিজ্ঞানীকে, সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে, গভর্নিং বডির অনুমোদনক্রমে, সম্মানী হিসাবে নগদ অর্থ অথবা অন্য কোনরূপ পুরস্কার প্রদান করাঃ তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত উদ্দীপনা স্কীম (incentive scheme) প্রণয়নের প্রয়োজন হইবে; (ধ) উপরিউক্ত কার্যাবলী এবং এই আইনের অধীন অন্যান্য বিধানের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় ও আনুষংগিক কার্যাবলী সম্পাদন করা।

১০। গভর্নিং বডির সভা

১০। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, গভর্নিং বডি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে। (২) গভর্নিং বডির সভা উহার চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি তিন মাসে কমপক্ষে একটি গভর্নিং বডির সভা অনুষ্ঠিত হইবেঃ আরও শর্ত থাকে যে, জরুরী প্রয়োজনে স্বল্প সময়ের নোটিশে সভা আহবান করা যাইবে। (৩) চেয়ারম্যান গভর্নিং বডির সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে কো-চেয়ারম্যান এবং তাঁহাদের সকলের অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত সদস্যগণ কর্তৃক তাহাদের মধ্য হইতে মনোনীত কোন সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন। (৪) গভর্নিং বডির সভার কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না। (৫) গভর্নিং বডির প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে প্রদত্ত ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতিত্বকারী সদস্যের দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে। (৬) গভর্নিং বডি উহার সভার কোন আলোচ্য বিষয়ে বিশেষ অবদান রাখিতে সক্ষম এইরূপ যে কোন ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে, এবং উক্ত ব্যক্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে তাহার কোন ভোটাধিকার থাকিবে না। (৭) শুধুমাত্র কোন সদস্যপদে শূন্যতা বা গভর্নিং বডি গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে গভর্নিং বডির কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।

১১। নির্বাহী পরিষদ

১১। (১) কাউন্সিলের একটি নির্বাহী পরিষদ থাকিবে, যাহা নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা :— (ক) নির্বাহী চেয়ারম্যান, যিনি ইহার চেয়ারম্যানও হইবেন; (খ) সদস্য-পরিচালকগণ; (গ) ইনস্টিটিউটসমূহের প্রধান নির্বাহীগণ, যে নামেই অভিহিত হউন না কেন; (ঘ) কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী, যে নামেই অভিহিত হউন না কেন; (ঙ) সদস্য-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ), যিনি ইহার সচিবও হইবেন। (২) ধারা ৫ এর বিধান সাপেক্ষে, নির্বাহী পরিষদ কাউন্সিলের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদন করিবে।

১২। নির্বাহী পরিষদের সভা

১২। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, নির্বাহী পরিষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে। (২) নির্বাহী পরিষদের সভা নির্বাহী চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি দুই মাসে নির্বাহী পরিষদের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে। (৩) নির্বাহী চেয়ারম্যান নির্বাহী পরিষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত সদস্যগণ কর্তৃক তাহাদের মধ্য হইতে মনোনীত কোন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন। (৪) নির্বাহী পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম গঠিত হইবে, তবে মুলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না। (৫) নির্বাহী পরিষদের সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতিত্বকারী সদস্যের একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে। (৬) নির্বাহী পরিষদ উহার সভার আলোচ্য বিষয়ে অবদান রাখিতে সক্ষম এইরূপ যে কোন ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ করিতে পারিবে, এবং উক্ত ব্যক্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে তাহার কোন ভোটাধিকার থাকিবে না। (৭) শুধুমাত্র কোন সদস্যপদের শূন্যতা বা নির্বাহী পরিষদ গঠনে ত্রুটি থাকার কারণে নির্বাহী পরিষদের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।

১৩। নির্বাহী চেয়ারম্যান

১৩। (১) কাউন্সিলের একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান থাকিবেন। (২) নির্বাহী চেয়ারম্যান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকুরীর শর্তাবলী সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে। (৩) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী হইবেন, এবং এই আইন, বিধি ও প্রবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে, তিনি তাহার ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।

১৪। সচিবালয়, ইত্যাদি

১৪। (১) এই আইনের অধীনে কাউন্সিলের ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদনের ক্ষেত্রে, গভর্নিং বডি এবং নির্বাহী পরিষদকে সহায়তা করার জন্য কাউন্সিলের একটি সচিবালয় থাকিবে, যাহা প্রয়োজনীয় সংখ্যক উইং এ বিভক্ত থাকিবে, এবং এইরূপ কোন উইং-এর একাধিক ইউনিট বা শাখা থাকিতে পারিবে। (২) প্রতিটি উইং-এর প্রধান সদস্য-পরিচালক নামে অভিহিত হইবেন এবং তাহারা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে নিয়োজিত হইবেন। (৩) নির্বাহী পরিষদ, আদেশ দ্বারা, প্রতিটি উইং-এর কার্যাবলী নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপে নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাহী চেয়ারম্যান, আদেশ দ্বারা প্রতিটি উইং-এর কার্যাবলী নির্ধারণ করিয়া দিবেন।

১৫। সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, ইত্যাদি

১৫। (১) সচিবালয়ের প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী থাকিবে এবং ধারা ১৬ এর বিধান সাপেক্ষে, এইরূপ কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের নিয়োগ ও চাকুরীর শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে। (২) এই আইন, বিধি ও প্রবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে, সদস্য পরিচালকসহ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নির্বাহী চেয়ারম্যানের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে তাহাদের দায়িত্ব পালন করিবেন।

১৬। জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমের জনবল

১৬। আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন— (ক) কাউন্সিল এবং তফসিল ‘ক’ তে উল্লিখিত কোন ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উহার সমবেতনক্রমভুক্ত অন্যান্য পদে পদোন্নতি বা অন্য কোন পদ্ধতিতে নিয়োগের উদ্দেশ্যে কাউন্সিল একটি পদোন্নতি কমিটি বা বাছাই কমিটি গঠন করিবে এবং এই কমিটির সুপারিশ ব্যতীত উক্তরূপ কোন পদে কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ করা যাইবে নাঃ তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপে সুপারিশ করার ক্ষেত্রে উক্ত কমিটি নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করিবে; (খ) দফা (ক) তে উল্লিখিত পদের নিম্নতর পদসমূহে পদোন্নতির ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট পদধারীগণের প্রয়োজনীয় যোগ্যতার মানদন্ড সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্দেশ্যে, নির্বাহী পরিষদ একটি সুষম পদ্ধতি নির্ধারণ ও সংশোধন করিবে এবং কাউন্সিলসহ তফসিল ‘ক’ তে উল্লিখিত ইনস্টিটিউট উক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করিবে; (গ) দফা (ক) ও (খ) এর বিধানাবলী কার্যকর করার উদ্দেশ্যে, কাউন্সিল— (অ) উহার নিজস্ব কর্মকর্তাগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান প্রণয়নের বা, ক্ষেত্রমত, সংশোধনের ব্যবস্থা করিবে; এবং (আ) কোন ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান প্রণয়নের বা, ক্ষেত্রমত, সংশোধনের জন্য উক্ত ইনস্টিটিউটকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিবে; (ঘ) দফা (ক), (খ) এবং (গ) এর বিধান অনুসারে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাহী পরিষদ, উক্ত দফাসমূহের বিধানাবলী কার্যকর করার উদ্দেশ্যে, প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারিবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃক উক্ত নির্দেশ অনুসরণ করিবে; (ঙ) তফসিল ‘ক’ তে উল্লিখিত ইনস্টিটিউটসমূহে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকুরীর অন্যান্য শর্তাবলী সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সম্ভব হইলে অভিন্ন করার উদ্দেশ্যে কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউট বা, ক্ষেত্রমত, সরকারের নিকট প্রয়োজনীয় সুপারিশ করিতে পারিবে।

১৭। তহবিল

১৭। (১) কাউন্সিলের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা : — (ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান; (খ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোন বিদেশী সরকার, সংস্থা বা আন্তর্জাতিক সংস্থা হইতে প্রাপ্ত অনুদান; (গ) গবেষণা উদ্যোগ হইতে প্রাপ্ত আয়; (ঘ) কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ(local authority) কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান; (ঙ) কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান; (চ) অন্য কোন উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ। (২) তহবিলের অর্থ, কাউন্সিলের নামে, গভর্নিং বডি কর্তৃক অনুমোদিত কোন তফসিলী ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং নির্বাহী পরিষদ দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল হইতে অর্থ উঠানো যাইবে। (৩) তহবিল হইতে কাউন্সিলের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে। (৪) কাউন্সিল, গভর্নিং বডির অনুমোদনক্রমে উপ-ধারা (১) এর (খ), (গ), (ঘ), (ঙ) ও (চ) উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ গ্রহণ ও উহার ব্যয় বা বিতরণ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করিবে এবং সরকারের অনুমোদনক্রমে চূড়ান্ত করিবে।

১৮। বাজেট

১৮। কাউন্সিল, প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে কাউন্সিলের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন উহার উল্লেখ থাকিবে।

১৯। হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা

১৯। (১) কাউন্সিল সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহার হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্ত্তত করিবে। (২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা-হিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর কাউন্সিলের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কাউন্সিল এর নিকট পেশ করিবেন। (৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা রিপোর্টে কোন আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা নিষ্পত্তির জন্য কাউন্সিল অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে। (৪) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে, মহা-হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কাউন্সিলের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং গভর্নিং বডি বা নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য বা যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

২০। বার্ষিক প্রতিবেদন

২০। কাউন্সিল, প্রতি অর্থ বৎসর সমাপ্ত হওয়ার পরবর্তী ৩০ নভেম্বর তারিখের মধ্যে, উক্ত অর্থ বৎসরে গৃহীত গবেষণা প্রকল্প, সম্পাদিত কার্যাবলী এবং কাউন্সিলের সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কিত তথ্যাদির সার-সংক্ষেপ সম্বলিত একটি প্রতিবেদন সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।

২১। কমিটি

২১। কাউন্সিল এই আইনের অধীন উহার কোন ক্ষমতা প্রয়োগ বা কোন কার্য-সম্পাদনের ব্যাপারে উহাকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে, তৎকর্তৃক নির্ধারিত সীমা ও শর্ত সাপেক্ষে, গভর্নিং বডি বা নির্বাহী পরিষদের কোন সদস্য বা কাউন্সিলের কর্মকর্তা সমন্বয়ে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে, এবং, প্রয়োজনবোধে, উক্ত কমিটিতে অন্য কোন ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবে।

২২। ক্ষমতা অর্পণ

২২। কাউন্সিল এই আইন বা তদধীনে প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের অধীন উহার কোন ক্ষমতা, লিখিত আদেশ দ্বারা গভর্নিং বডি বা নির্বাহী পরিষদের কোন সদস্য, কোন কর্মকর্তা বা কোন কমিটিকে অর্পণ করিতে পারিবে।

২৩। তফসিল সংশোধন

২৩। সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সময়ে সময়ে তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে।

২৪। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

২৪। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

২৫। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

২৫। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কাউন্সিল সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইন বা বিধির সহিত অসংগতিপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

২৬। গভর্নিং বডি, নির্বাহী পরিষদের সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ জনসেবক

২৬। গভর্নিং বডি এবং নির্বাহী পরিষদের সকল সদস্য, এবং সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং কাউন্সিলের পক্ষে কোন কাজ করিবার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন ব্যক্তি Penal Code (Act XLV of 1860) এর section 21 এ সংজ্ঞায়িত অর্থে public servant বলিয়া গণ্য হইবেন।

২৭। সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ

২৭। এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজকর্মের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাহার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সরকার, কাউন্সিল, বা উক্ত কাজকর্ম সম্পাদনকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।

২৮। কতিপয় আইনের অপ্রযোজ্যতা

২৮। কাউন্সিল বা তৎকর্তৃক পরিচালিত কার্যক্রম এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন) দ্বারা রহিতকৃত Factories Act, 1965 (E.P. Act IV of 1965), Shops and Establishments Act, 1965 (E. P. Act VII of 1965), Employment of Labour (Standing Orders) Act, 1965 (E.P. Act VIII of 1965) অথবা Industrial Relations Ordinance, 1969 (Ord. XXIII of 1969) এর প্রাসংগিক বিধানাবলী, যাহা বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এ অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছে এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে না।

২৯। ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

২৯। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি পাঠ প্রকাশ করিবে, যাহা এই আইনের অনুমোদিত ইংরেজী পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবে। (২) বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

৩০। রহিতকরণ ও হেফাজত

৩০। (১) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল আইন, ১৯৯৬ (১৯৯৬ সনের ৭ নং আইন) এর অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্‌দ্বারা রহিত করা হইল। (২) উক্ত আইন রহিত হইবার সংগে সংগে— (ক) উহার অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, অতঃপর বিলুপ্ত কাউন্সিল বলিয়া উল্লিখিত, বিলুপ্ত হইবে; (খ) বিলুপ্ত কাউন্সিলের সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধাদি, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ এবং সিকিউরিটিসহ সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি এবং ঐ সকল সম্পত্তিতে বিলুপ্ত কাউন্সিলের যাবতীয় অধিকার ও স্বার্থ কাউন্সিলে হস্তান্তরিত হইবে এবং কাউন্সিল উহার অধিকারী হইবে; (গ) বিলুপ্ত কাউন্সিলের সকল ঋণ, দায়-দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে বা উহার সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি যথাক্রমে কাউন্সিলের ঋণ, দায়-দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে বা সহিত সম্পাদিত চুক্তি বলিয়া গণ্য হইবে; (ঘ) বিলুপ্ত কাউন্সিল কর্তৃক বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা বা সূচিত অন্য কোন আইনগত কার্যধারা কাউন্সিল কর্তৃক বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বা সূচিত মামলা বা কার্যধারা বলিয়া গণ্য হইবে; (ঙ) কোন চুক্তি, দলিল বা চাকুরীর শর্তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিলুপ্ত কাউন্সিলের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাউন্সিলের কর্মকর্তা ও কর্মচারী হইবেন এবং এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে তাহারা যে শর্তাধীনে চাকুরীতে ছিলেন, তাহারা এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে কাউন্সিলের চাকুরীতে নিয়োজিত থাকিবেন। (চ) বিলুপ্ত কাউন্সিলের অধীন প্রতিষ্ঠিত সচিবালয় এবং উহার উইং, ইউনিট বা শাখা কাউন্সিলের অধীন প্রতিষ্ঠিত সচিবালয়, এবং উহার উইং, ইউনিট বা শাখা হিসাবে গণ্য হইবে তাদের কার্যাবলী পূর্বের ন্যায় বলবৎ ও কার্যকর থাকিবে। (৩) উক্ত আইন রহিত হওয়া সত্ত্বেও উহার অধীনে প্রণীত কোন বিধি বা প্রবিধানমালা, জারীকৃত কোন প্রজ্ঞাপন, প্রদত্ত কোন আদেশ, নির্দেশ, অনুমোদন, সুপারিশ, প্রণীত সকল পরিকল্পনা বা কার্যক্রম, অনুমোদিত সকল বাজেট এবং কৃত সকল কাজকর্ম উক্ত রহিতের অব্যবহিত পূর্বে বলবৎ থাকিলে এবং এই আইনের কোন বিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে এই আইনের অনুরূপ বিধানের অধীন, প্রণীত, জারীকৃত, প্রদত্ত, অনুমোদিত এবং কৃত বলিয়া গণ্য হইবে, এবং মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা এই আইনের অধীনে রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে।



Related Laws

বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন

Bangladesh Veterinary Practitioners Ordinance, 1982 রহিতক্রমে উহার বিধানাবলি বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার…

বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আইন

বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ প্রতিষ্ঠা এবং এতদ্‌সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক…

বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন

ইপিজেডস্থ বা জোনস্থ শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের…

বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন

রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কার্যক্রম বা পাঠ্যক্রমের…

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন

Fisheries Research Institute Ordinance, 1984 রহিতক্রমে উহার বিধানাবলি বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার…

Blogs

Zithromax Cost At Walmart http://costofcial.com -…
JustdewXT JustdewXT

precio cialis andorra http://cialisle.com
CharlesanWorgo CharlesanWorgo

healthy man viagra legit buy…
ThomaserAgova ThomaserAgova

brauche cialis side…
Jasonjuilt Jasonjuilt

comprar…
JamesBup JamesBup