Your password is being change. Please wait ...

মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন

Volume - 42 Act - ৪৭ Year - ২০১২ Date - ১০ ডিসেম্বর, ২০১২

মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক এবং টার্নওভার কর আরোপের ক্ষেত্র বিস্তৃতকরণ এবং কর আদায় প্রক্রিয়া সহজীকরণ সংক্রান্ত বিধি-বিধান সুসংহতকরণ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে আনীত আইন।

যেহেতু মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক এবং টার্নওভার কর আরোপের ক্ষেত্র বিস্তৃতকরণ এবং কর আদায় প্রক্রিয়া সহজীকরণ সংক্রান্ত বিধি-বিধান সুসংহতকরণ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:―

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে। (২) এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়, দ্বাদশ অধ্যায় ও পঞ্চদশ অধ্যায় এবং ধারা ১২৮, ১৩২, ১৩৪ ও ১৩৫ অবিলম্বে কার্যকর হইবে। (৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত অধ্যায় ও ধারাসমূহ ব্যতীত এই আইনের অন্যান্য অধ্যায় ও ধারাসমূহ সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে, সেই তারিখে কার্যকর হইবে।

২। সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,― (১) ‘‘অনাবাসিক ব্যক্তি’’ অর্থ এমন ব্যক্তি যিনি আবাসিক নহেন; (২) ‘‘অপরাধ’’ অর্থ ধারা ১১১, ১১২ ও ১১৩ এ উল্লিখিত কোন অপরাধ; (৩) ‘‘অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহ’’ অর্থ ধারা ২৬ এ উল্লিখিত অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহ; (৪) ‘‘অব্যাহতিপ্রাপ্ত আমদানি’’ অর্থ ধারা ২৬ এ উল্লিখিত অব্যাহতিপ্রাপ্ত আমদানি; (৫) ‘‘অর্থ’’ অর্থ বাংলাদেশ বা যে কোন দেশে প্রচলিত কোন মুদ্রা (legal tender) , এবং নিম্নবর্ণিত দলিলাদিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:― (ক) বিনিমেয় দলিল (negotiable instrument) (খ) বিল অব এক্সচেঞ্জ, প্রমিসরি নোট, ব্যাংক ড্রাফট, পোস্টাল অর্ডার, মানি অর্ডার বা সমতুল্য দলিল; (গ) ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ড; বা (ঘ) এ্যাকাউন্ট ডেবিট বা ক্রেডিটের মাধ্যমে প্রদত্ত সরবরাহ; (৬) ‘‘অর্থনৈতিক কার্যক্রম’’ অর্থ পণ্য, সেবা বা স্থাবর সম্পত্তি সরবরাহের উদ্দেশ্যে নিয়মিত বা ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত কোন কার্যক্রম; এবং (ক) নিম্নবর্ণিত কার্যক্রমও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:― (অ) কোন ব্যবসা পেশা, বৃত্তি, জীবিকা উপার্জনের উপায়, পণ্য প্রস্ত্তত বা কোন ধরনের উদ্যোগ (undertaking) মুনাফার লক্ষ্যে কার্যক্রমটি পরিচালিত হউক বা না হউক; (আ) লিজ, লাইসেন্স বা অনুরূপ উপায়ে কোন পণ্য, সেবা বা সম্পত্তি সরবরাহ; (ই) কেবল একবারের জন্য পরিচালিত কোন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বা উদ্যোগ; বা (ঈ) উক্ত কার্যক্রমের প্রারম্ভে বা শেষে সম্পাদিত কোন কার্য; তবে― (খ) নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:― (অ) কর্মচারী কর্তৃক তাহার নিয়োগকর্তাকে প্রদত্ত সেবা; (আ) কোম্পানীর কোন পরিচালক কর্তৃক প্রদত্ত কোন সেবা: তবে, যেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার ব্যবসা পরিচালনার নিমিত্ত উক্ত পরিচালকের পদ গ্রহণ করেন, সেইক্ষেত্রে তৎকর্তৃক প্রদত্ত সেবা অর্থনৈতিক কার্যক্রম হইবে; (ই) বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত নয় এমন কোন বিনোদনমূলক কাজ বা শখ; (ঈ) বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ব্যতীত, সরকার কর্তৃক পরিচালিত নির্ধারিত কোন কার্যক্রম; (৭) ‘‘অংশীদারি কারবার’’ অর্থ অংশীদারি কারবার আইন, ১৯৩২ (১৯৩২ সনের ৯ নং আইন) এর ধারা ৪ এ সংজ্ঞায়িত অংশীদারি কারবার; (৮) ‘‘আগাম কর’’ অর্থ ধারা ৩১(২) এর অধীন করয্যেগ্য আমদানির উপর আগাম প্রদেয় কর; (৯) ‘‘আদেশ’’ অর্থ বোর্ড বা অনুমোদিত মূসক কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত কোন সাধারণ বা বিশেষ আদেশ; (১০) ‘‘আনুক্রমিক (progressive) বা পর্যাবৃত্ত (periodic) সরবরাহ’’ অর্থ― (ক) কোন চুক্তির অধীন আনুক্রমিক বা পর্যাবৃত্তভাবে অর্থ পরিশোধের শর্তাধীনে প্রদত্ত কোন সরবরাহ; (খ) কোন লিজ, হায়ার অব লাইসেন্স (ফাইন্যান্স লিজসহ) এর অধীন প্রদত্ত কোন সরবরাহ; বা (গ) নির্মাণ বা প্রকৌশলগত কার্যক্রম, ভবন পুনর্গঠন বা বর্ধিতকরণের কাজে প্রত্যক্ষভাবে প্রদত্ত কোন সরবরাহ; (১১) ‘‘আনুষঙ্গিক পরিবহন সেবা’’ অর্থ জাহাজে পণ্য বোঝাইকরণ বা খালাসকরণ সংক্রান্ত সেবা, পণ্য বাঁধা সংক্রান্ত সেবা, পণ্য পরিদর্শন সংক্রান্ত সেবা, শুল্ক দলিলাদি প্রস্ত্ততকরণ ও প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত সেবা, কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সংক্রান্ত সেবা, পণ্য গুদামজাতকরণ বা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সেবা ও অনুরূপ অন্য কোন সেবা; (১২) ‘‘আন্তর্জাতিক পরিবহন’’ অর্থ আনুষঙ্গিক পরিবহন সেবা ব্যতিরেকে, সড়ক, নৌ বা আকাশপথে যাত্রী ও পণ্যাদির নিম্নবর্ণিত পরিবহন, যথা:― (ক) বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন স্থান হইতে বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন স্থানে পরিবহন; (খ) বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন স্থান হইতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোন স্থানে পরিবহন; বা (গ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত কোন স্থান হইতে বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন স্থানে পরিবহন; (১৩) ‘‘আন্তর্জাতিক সহায়তা ও ঋণ চুক্তি’’ অর্থ বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, কারিগরি বা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদানের নিমিত্ত বাংলাদেশ সরকার এবং বিদেশী সরকার বা আন্তঃদেশীয় আন্তর্জাতিক সংস্থার সহিত আবদ্ধ কোন চুক্তি; (১৪) ‘‘আপীলাত ট্রাইব্যুনাল’’ অর্থ শুল্ক আইনের ধারা ১৯৬ এর অধীন গঠিত শুল্ক, আবগারি এবং মূল্য সংযোজন কর আপীলাত ট্রাইব্যুনাল; (১৫) ‘‘আবাসিক ব্যক্তি’’ অর্থ এমন কোন ব্যক্তি, যিনি― (ক) স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশে বসবাস করেন; বা (খ) চলতি বর্ষপঞ্জির ১৮২ (একশত বিরাশি) দিবসের অধিককাল বাংলাদেশে অবস্থান করেন; বা (গ) কোন বর্ষপঞ্জির ৯০ (নববই) দিবসের অধিককাল বাংলাদেশে অবস্থান করেন এবং উক্ত বর্ষপঞ্জির অব্যবহিত পূর্ববর্তী চার বৎসরের মধ্যে ৩৬৫ (তিনশত পয়ষট্টি) দিবসের অধিককাল বাংলাদেশে অবস্থান করিয়া থাকেন; এবং নিম্নবর্ণিত সত্তাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:― (ক) কোম্পানী, যদি উহা বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনের অধীন নিগমিত হয় বা উহার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশে অবস্থিত হয়; (খ) ট্রাস্ট, যদি ট্রাস্টের একজন ট্রাস্টি বাংলাদেশে আবাসিক হন বা ট্রাস্টের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশে অবস্থিত হয়; (গ) ট্রাস্ট ব্যতীত কোন ব্যক্তি সংঘ, যদি উহা বাংলাদেশে গঠিত হয় বা উহার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশে অবস্থিত হয়; (ঘ) সকল সরকারি সত্তা; বা (ঙ) সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ; (১৬) ‘‘আমদানি’’ অর্থ বাংলাদেশের বাহির হইতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমার অভ্যন্তরে কোন পণ্য আনয়ন; (১৭) ‘‘আমদানিকৃত সেবা’’ অর্থ নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তির নিকট বাংলাদেশের বাহির হইতে সরবরাহকৃত সেবা; (১৮) ‘‘ইলেকট্রনিক সেবা’’ অর্থ টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, স্থানীয় কিংবা বৈশ্বিক তথ্য নেটওয়ার্ক বা অনুরূপ মাধ্যমে প্রদানকৃত নিম্নবর্ণিত সেবা― (ক) ওয়েব সাইট, ওয়েব-হোস্টিং বা অনুষ্ঠান ও যন্ত্রপাতির দূরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ; (খ) সফটওয়্যার এবং দূরবর্তী সেবা প্রদানের মাধ্যমে উহার হালনাগাদকরণ; (গ) প্রদত্ত ইমেজ (image) , টেক্সট এবং তথ্য; (ঘ) ডাটাবেইজ বা তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার (access to database); (ঙ) স্ব-শিক্ষণ প্যাকেজ; (চ) সঙ্গীত, চলচ্চিত্র এবং ক্রীড়া; এবং (ছ) রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিল্পকলা, খেলাধুলা, বিজ্ঞান বিষয়ক এবং টেলিভিশন সম্প্রচারসহ যেকোন বিনোদনমূলক সম্প্রচার এবং অনুষ্ঠান। (১৯) ‘‘উপকরণ কর’’ (input tax) অর্থ আমদানিকৃত পণ্য বা সেবার করযোগ্য সরবরাহের উপর কোন ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় মূল্য সংযোজন করসহ যে কোন পণ্য, সেবা বা স্থাবর সম্পত্তির করযোগ্য সরবরাহের উপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর; (২০) ‘‘উৎপাদ কর’’ (output tax) অর্থ কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি কর্তৃক নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রদেয় মূল্য সংযোজন কর, যথা:― (ক) উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক করযোগ্য পণ্য, সেবা বা স্থাবর সম্পত্তি সরবরাহ; বা (খ) উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক করযোগ্য সেবা আমদানি; (২১) ‘‘উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা’’ অর্থ― (ক) কোন সরকারি সত্তা; (খ) এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বা সমাজ সেবা অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান; (গ) কোন ব্যাংক, বীমা কোম্পানী বা অনুরূপ আর্থিক প্রতিষ্ঠান; (ঘ) কোন মাধ্যমিকোত্তর (post secondary) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; (ঙ) কোন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী; বা (চ) বৃহৎ করদাতা ইউনিট (মূল্য সংযোজন কর) এর আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান; (২২) ‘‘উৎসে কর কর্তন সনদপত্র’’ অর্থ উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত কোন সনদপত্র; (২৩) ‘‘কমিশনার’’ অর্থ যখন এককভাবে শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তখন এই আইনের ধারা ৭৮ এর অধীন নিয়োগকৃত কমিশনার; (২৪) ‘‘কর’’ অর্থ মূসক, টার্নওভার কর ও সম্পূরক শুল্ক, এবং বকেয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে সুদ, জরিমানা ও অর্থদন্ডও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (২৫) ‘‘কর চালানপত্র’’ (tax invoice) অর্থ ধারা ৫১ এর অধীন সরবরাহকারী কর্তৃক ইস্যুকৃত কোন দলিল; (২৬) ‘‘করদাতা’’ অর্থ এই আইনের অধীন কর পরিশোধকারী এবং উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা; (২৭) ‘‘কর নিরূপণ’’ অর্থ পঞ্চম অধ্যায় এর অধীন করদাতা কর্তৃক কর নিরূপণ (assessment); (২৮) ‘‘কর নির্ধারণ’’ অর্থ একাদশ অধ্যায় এর অধীন কমিশনার কর্তৃক কর নির্ধারণ (determination); (২৯) ‘‘কর ভগ্নাংশ’’ অর্থ নিম্নবর্ণিত সূত্র অনুযায়ী নির্ণীত অর্থের পরিমাণ, যথা:― R/(100+R) যেইক্ষেত্রে, অর্থ ধারা ১৫(৩) এ উলিস্নখিত মূসক হার; (৩০) ‘‘কর মেয়াদ’’ অর্থ― (ক) মূল্য সংযোজন কর এবং সম্পূরক শুল্কের ক্ষেত্রে, খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জিতে চিহ্নিত এক মাস; বা (খ) টার্নওভার করের ক্ষেত্রে, ত্রৈমাসিক সময়কাল, যাহা মার্চ ৩১, জুন ৩০, সেপ্টেম্বর ৩০ বা ডিসেম্বর ৩১ এ সমাপ্তি ঘটে; (৩১) ‘‘করযোগ্য আমদানি’’ অর্থ অব্যাহতিপ্রাপ্ত আমদানি ব্যতীত যেকোন আমদানি; (৩২) ‘‘করযোগ্য সরবরাহ’’ অর্থ অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহ ব্যতীত কোন সরবরাহ, যাহা― (ক) বাংলাদেশে; (খ) কোন নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক; এবং (গ) কোন অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় প্রদত্ত হয়। (৩৩) ‘‘করহার’’ অর্থ প্রাসঙ্গিকতা ভেদে― (ক) ধারা ১৫(৩) এ উল্লিখিত মূসক হার; (খ) ধারা ৫৫(৪) এ উল্লিখিত সম্পূরক শুল্কহার; বা (গ) ধারা ৬৩(১) এ উল্লিখিত টার্নওভার করহার; (৩৪) ‘‘কর সুবিধা’’ অর্থ নিম্নবর্ণিত কোন সুবিধা, যথা:― (ক) উৎপাদ কর হ্রাসকরণ; (খ) পণ্য আমদানির উপর মূসক হ্রাসকরণ; (গ) জের টানা অতিরিক্ত অর্থের বৃদ্ধি বা করদাতার করদায়ের পরিমাণ হ্রাসকরণ; (ঘ) হ্রাসকারী সমন্বয়ের প্রাপ্যতা বৃদ্ধিকরণ; (ঙ) বৃদ্ধিকারী সমন্বয় হ্রাসকরণ; (চ) কর ফেরত প্রদান; (ছ) উৎপাদ কর স্থগিতকরণ বা উপকরণ কর রেয়াতের দাবী উত্থাপন ত্বরান্বিতকরণ; (জ) উৎপাদ কর বা বৃদ্ধিকারী সমন্বয় হিসাব বিলম্বিতকরণ বা উপকরণ কর রেয়াত বা হ্রাসকারী সমন্বয় দাবি উত্থাপন ত্বরান্বিতকরণ; (ঝ) মূলত ও কার্যত একটি করযোগ্য সরবরাহ বা করযোগ্য আমদানিকে অকরযোগ্য সরবরাহ বা আমদানিতে পরিণতকরণ; (ঞ) মূলত ও কার্যত কোন আমদানি বা অর্জনের ক্ষেত্রে উপকরণ কর রেয়াত প্রাপ্তির অধিকার না থাকা সত্ত্বেও রেয়াত প্রাপ্তির অধিকার সৃষ্টিকরণ; বা (ট) করদাতার টার্নওভার কম প্রদর্শন; (৩৫) ‘‘কার্যধারা’’ অর্থ কমিশনার কর্তৃক এই আইনের অধীন গৃহীত কোন কার্যধারা বা কার্যক্রম, কিন্তু অপরাধ সংক্রান্ত কোন মামলার কার্যক্রম উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না; (৩৬) ‘‘কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ চুক্তি’’ অর্থ ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত কোন চুক্তি যাহার অধীন― (ক) প্রথম কিস্তির অর্থ পরিশোধের পর অন্ততঃ একটি অতিরিক্তবার অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য প্রদান করা হয়; (খ) শেষ কিস্তির অর্থ পরিশোধের পর পণ্যের দখল অর্পণ করা হয়; এবং (গ) দখল অর্পণের মাধ্যমে পণ্যের মালিকানা হস্তান্তরিত হয়; (৩৭) ‘‘কেন্দ্রীয় ইউনিট’’ অর্থ অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সকল হিসাব-নিকাশ ও রেকর্ডপত্র যেখানে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত ও সংরক্ষিত হয়; (৩৮) ‘‘কোম্পানী’’ অর্থ কোন আইনের অধীন কোম্পানী হিসাবে নিগমিত কোন প্রতিষ্ঠান; (৩৯) ‘‘ক্রেডিট নোট’’ অর্থ হ্রাসকারী সমন্বয় গ্রহণের উদ্দেশ্যে করদাতা কর্তৃক ইস্যুকৃত কোন দলিল; (৪০) ‘‘চালান’’ অর্থ পণ পরিশোধের দায় সংক্রান্ত কোন দলিল; (৪১) ‘‘জরিমানা’’ অর্থ ধারা ৮৫ এর অধীন কমিশনার কর্তৃক আরোপিত জরিমানা, কিন্তু অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অর্থদণ্ড উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না; (৪২) ‘‘টার্নওভার’’ অর্থ কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন নির্ধারিত সময়ে বা কর মেয়াদে তাহার অর্থনৈতিক কার্যক্রম দ্বারা প্রস্তুতকৃত, আমদানিকৃত বা ক্রয়কৃত করযোগ্য পণ্যের সরবরাহ বা করযোগ্য সেবা প্রদান হইতে প্রাপ্ত বা প্রাপ্য সমুদয় অর্থ; (৪৩) ‘‘টার্নওভার কর’’ অর্থ ধারা ৬৩ এর অধীন আরোপিত কর; (৪৪) ‘‘ডেবিট নোট’’ অর্থ বৃদ্ধিকারী সমন্বয় গ্রহণের উদ্দেশ্যে করদাতা কর্তৃক ইস্যুকৃত কোন দলিল; (৪৫) ‘‘তফসিল’’ অর্থ এই আইনের কোন তফসিল; (৪৬) ‘‘তালিকাভুক্ত’’ অর্থ ধারা ১০(২) এর অধীন টার্নওভার কর তালিকাভুক্ত; (৪৭) ‘‘তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তি’’ অর্থ ধারা ১০(১) এর অধীন টার্নওভার কর তালিকাভুক্তিযোগ্য কোন ব্যক্তি; (৪৮) ‘‘তালিকাভুক্তিসীমা’’ অর্থ কোন ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের টার্নওভার প্রতি ১২ (বার) মাস সময়ে ২৪ (চবিবশ) লক্ষ টাকার সীমা, কিন্তু নিম্নবর্ণিত মূল্য উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:― (ক) অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহের মূল্য; (খ)

৩। আইনের প্রাধান্য

৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইন, বিধি, প্রবিধান বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্যকোনো দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।

৪। মূসক নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি

৪। (১) কেন্দ্রীয় বা শাখা ইউনিট নির্বিশেষে, নিম্নবর্ণিত প্রত্যেক ব্যক্তি কোন মাসের প্রথম দিন হইতে মূসক নিবন্ধনযোগ্য হইবেন, যথা:― (ক) যে ব্যক্তির টার্নওভার উক্ত মাসের পূর্ববর্তী মাসের শেষে সমাপ্ত ১২ (বার) মাস সময়ে নিবন্ধনসীমা অতিক্রম করে; বা (খ) যে ব্যক্তির প্রাক্কলিত টার্নওভার উক্ত মাসের পূর্ববর্তী মাসের প্রারম্ভ হইতে পরবর্তী ১২ (বার) মাস সময়ে নিবন্ধনসীমা অতিক্রম করে। (২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে মূসক নিবন্ধিত হইতে হইবে, যিনি― (ক) বাংলাদেশে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য প্রস্ত্তত করেন; বা (খ) বাংলাদেশে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য সেবা সরবরাহ করেন।

৫। কেন্দ্রীয় বা শাখা ইউনিটের নিবন্ধন

৫। (১) কেন্দ্রীয় ও সকল শাখা ইউনিটের জন্য প্রত্যেক নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের শুধুমাত্র একটি মূসক নিবন্ধন থাকিবে। (২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শাখা ইউনিটের হিসাব-নিকাশ ও রেকর্ডপত্র কেন্দ্রীয় ইউনিট হইতে পৃথক ও স্বতন্ত্রভাবে শাখা ইউনিটে পরিচালনা বা সংরক্ষণ করা হইলে উক্ত শাখা ইউনিটের জন্য পৃথক নিবন্ধন গ্রহণ করিতে পারিবে। (৩) পৃথকভাবে নিবন্ধিত প্রত্যেক শাখা ইউনিট, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পৃথক করদাতা হিসাবে গণ্য হইবে। (৪) একই অর্থনৈতিক কার্যক্রমের এক শাখা ইউনিট হইতে পৃথকভাবে নিবন্ধিত অপর শাখা ইউনিটে পণ্য বা সেবার আদান-প্রদান বা চলাচল সরবরাহ বলিয়া গণ্য হইবে না এবং ফলশ্রুতিতে উৎপাদ কর দায় বা উপকরণ কর রেয়াত উদ্ভূত হইবে না।

৬। মূসক নিবন্ধন

৬। (১) প্রত্যেক নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, মূসক নিবন্ধনের জন্য কমিশনারের নিকট আবেদন করিবেন। (২) কমিশনার, নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, উক্ত ব্যক্তিকে নিবন্ধিত করিয়া ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা সম্বলিত নিবন্ধন সনদপত্র প্রদান করিবেন।

৭। নিবন্ধিত ব্যক্তিবর্গের তালিকা প্রকাশ ও সংরক্ষণ

৭। (১) বোর্ড, সময় সময়, নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধিত ব্যক্তিবর্গের তালিকা প্রণয়ন করিয়া উহা প্রকাশ, প্রচার ও সংরক্ষণ করিবে। (২) কোন ব্যক্তির নাম প্রকাশিত তালিকায় না থাকিলে, উক্ত ব্যক্তি নিবন্ধিত বলিয়া গণ্য হইবে না। (৩) কোন ব্যক্তির নাম উক্ত তালিকায় থাকিলে, উক্ত ব্যক্তি এই আইনের অধীন নিবন্ধিত বলিয়া গণ্য হইবে।

৮। স্বেচ্ছা মূসক নিবন্ধন

৮। (১) যে ব্যক্তি কোন অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে করযোগ্য সরবরাহ প্রদান করেন, তাহার নিবন্ধনের আবশ্যকতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে স্বেচ্ছায় মূসক নিবন্ধনের জন্য কমিশনারের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন। (২) কমিশনার, নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, উক্ত ব্যক্তিকে নিবন্ধিত করিয়া ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা সম্বলিত নিবন্ধন সনদপত্র প্রদান করিবেন।

৯। মূসক নিবন্ধন বাতিল

৯। (১) যদি কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা হইতে বিরত থাকেন, তাহা হইলে তিনি, নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, মূসক নিবন্ধন বাতিলের জন্য কমিশনারের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন। (২) কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি যাহার আর নিবন্ধিত থাকিবার প্রয়োজন নাই, তাহার করযোগ্য সরবরাহ প্রদান অব্যাহত থাকিলে, তিনি নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে কমিশনারের নিকট নিবন্ধন বাতিলের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৮ এর অধীন স্বেচ্ছায় নিবন্ধিত কোন ব্যক্তিকে কমপক্ষে এক বৎসর নিবন্ধিত থাকিতে হইবে। (৩) কমিশনার, নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, মূসক নিবন্ধন বাতিল করিতে পারিবেন। (৪) যদি কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি মূসক নিবন্ধন বাতিলের জন্য উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন দাখিল না করেন এবং যথাযথ অনুসন্ধানের পর যদি কমিশনারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত ব্যক্তির মূসক নিবন্ধন বাতিলযোগ্য, তাহা হইলে তিনি উক্ত ব্যক্তিকে মূসক নিবন্ধন বাতিলের আবেদনপত্র দাখিল করিবার নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং উক্ত নির্দেশ অনুযায়ী আবেদন করা না হইলে কমিশনার স্ব-উদ্যোগে তাহার মূসক নিবন্ধন বাতিল করিতে পারিবেন। (৫) কোন নিবন্ধিত ব্যক্তির মূসক নিবন্ধন বাতিলের পর যদি দেখা যায় যে, তিনি তালিকাভুক্তিযোগ্য তাহা হইলে কমিশনার আবেদনের ভিত্তিতে বা স্ব-উদ্যোগে তাহাকে টার্নওভার করদাতা হিসাবে তালিকাভুক্ত করিতে পারিবেন। (৬) কোন নিবন্ধিত ব্যক্তির মূসক নিবন্ধন বাতিল করা হইলে, তিনি― (ক) অনতিবিলম্বে কর চালানপত্র, সমন্বিত কর চালানপত্র এবং উৎসে কর কর্তন সনদপত্র, রশিদ, ক্রেডিট নোট, ডেবিট নোট, ইত্যাদি ব্যবহার বা ইস্যু করা হইতে বিরত থাকিবেন; এবং (খ) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূসক নিবন্ধন সনদপত্র এবং উহার সকল প্রত্যায়িত অনুলিপি কমিশনারের নিকট ফেরত প্রদান এবং বকেয়া কর পরিশোধ ও চূড়ান্ত মূসক দাখিলপত্র দাখিল করিবেন।

১০। তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তি ও তালিকাভুক্তি

১০। (১) যদি কোন ব্যক্তি অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করিয়া ১২ মাসের কোন ত্রৈমাসিক শেষে তালিকাভুক্তিসীমা অতিক্রম করেন কিন্তু যদি নিবন্ধনসীমা অতিক্রম না করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি উক্ত ত্রৈমাসিক সময় সমাপ্ত হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে, টার্নওভার করদাতা হিসাবে তালিকাভুক্তির জন্য কমিশনারের নিকট আবেদন করিবেন। (২) কমিশনার নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, উক্ত ব্যক্তিকে টার্নওভার করদাতা হিসাবে তালিকাভুক্ত করিয়া ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা সম্বলিত টার্নওভার কর সনদপত্র প্রদান করিবেন।

১১। তালিকাভুক্তি বাতিল

১১। (১) প্রত্যেক তালিকাভুক্ত ব্যক্তি নিম্নবর্ণিত কারণে তাহার টার্নওভার কর তালিকাভুক্তি বাতিলের জন্য কমিশনারের নিকট নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, আবেদন করিতে পারিবেন, যথা:― (ক) যদি তিনি অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ করেন; (খ) যদি তাহার অর্থনৈতিক কার্যক্রমের টার্নওভার পর পর তিনটি কর মেয়াদে আনুপাতিক হারে তালিকাভুক্তি সীমার নিমেণ থাকে। (২) কমিশনার নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, উক্ত ব্যক্তির তালিকাভুক্তি বাতিল করিতে পারিবেন। (৩) মূসক নিবন্ধনের জন্য দাখিলকৃত আবেদন তালিকাভুক্তি বাতিলের আবেদন হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং কমিশনার যে তারিখে মূসক নিবন্ধন সনদপত্র ইস্যু করিবেন সেই তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী দিবসে টার্নওভার কর তালিকাভুক্তি বাতিল হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে। (৪) যদি কোন ব্যক্তি তালিকাভুক্তি বাতিলের জন্য উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন না করেন, তাহা হইলে কমিশনার নির্ধারিত সময়সীমা ও পদ্ধতিতে, উক্ত ব্যক্তির তালিকাভুক্তি বাতিল করিয়া প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।

১২। কমিশনার কর্তৃক স্ব-উদ্যোগে নিবন্ধনযোগ্য ও তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তিকে নিবন্ধন বা তালিকাভুক্তিকরণ

১২। কমিশনার যথাযথ অনুসন্ধানের পর যদি সন্তুষ্ট হন যে, কোন ব্যক্তি মূসক নিবন্ধনযোগ্য বা টার্নওভার কর তালিকাভুক্তিযোগ্য কিন্তু তিনি নিবন্ধন বা তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করেন নাই, তাহা হইলে কমিশনার স্ব-উদ্যোগে উক্ত ব্যক্তিকে মূসক নিবন্ধিত বা টার্নওভার কর তালিকাভুক্ত করিবেন।

১৩। সনদপত্র প্রদর্শনে নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তির দায়িত্ব

১৩। প্রত্যেক নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নির্দিষ্ট স্থানে মূসক নিবন্ধন সনদপত্র বা টার্নওভার কর সনদপত্র বা উহার সত্যায়িত অনুলিপি এমনভাবে প্রদর্শন করিয়া রাখিবেন যাহাতে উহা সহজে দৃষ্টিগোচর হয়।

১৪। পরিবর্তিত তথ্য অবহিতকরণে নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তির দায়িত্ব

১৪। প্রত্যেক নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি অর্থনৈতিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট নিম্নবর্ণিত তথ্যের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতিতে, কমিশনারকে অবহিত করিবেন, যথা:― (ক) ব্যবসায়ের নাম বা অন্য কোন বাণিজ্যিক নামসহ উক্ত ব্যক্তির নাম বা ব্যবসার ধরন পরিবর্তন; (খ) উক্ত ব্যক্তির ঠিকানা বা অন্য কোন যোগাযোগের তথ্যাদি পরিবর্তন; (গ) অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার স্থান পরিবর্তন; (ঘ) উক্ত ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের কোন তথ্যের পরিবর্তন; (ঙ) উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত এক বা একাধিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রকৃতি পরিবর্তন; (চ) নির্ধারিত অন্য কোন পরিবর্তন।

১৫। মূসক আরোপ

১৫। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, করযোগ্য আমদানি এবং করযোগ্য সরবরাহের উপর মূসক আরোপিত ও প্রদেয় হইবে। (২) করযোগ্য আমদানি বা করযোগ্য সরবরাহ মূল্যের সহিত উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত মূসক হার গুণ করিয়া প্রদেয় মূল্য সংযোজন করের পরিমাণ নিরূপণ ও নির্ধারণ করিতে হইবে। (৩) এই আইনে ভিন্নতর কিছু না থাকিলে, করযোগ্য সরবরাহ বা করযোগ্য আমদানির ক্ষেত্রে মূসক হার হইবে ১৫ (পনের) শতাংশ।

১৬। মূল্য সংযোজন কর পরিশোধে দায়ী ব্যক্তি

১৬। নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিকে মূসক প্রদান করিতে হইবে, যথা:― (ক) মূল্য সংযোজন কর আরোপযোগ্য আমদানির ক্ষেত্রে: আমদানীকারক; (খ) বাংলাদেশে করযোগ্য সরবরাহ প্রদানের ক্ষেত্রে: সরবরাহকারী; (গ) আমদানিকৃত সেবার করযোগ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে: সরবরাহ গ্রহীতা; (ঘ) নিবন্ধিত ব্যক্তির পক্ষে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিলামকারী কর্তৃক পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে: নিলামকারী।

১৭। বাংলাদেশে প্রদত্ত সরবরাহ

১৭। (১) ধারা ১৫ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নিম্নবর্ণিত সরবরাহসমূহ বাংলাদেশে প্রদত্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে:― (ক) আবাসিক ব্যক্তি কর্তৃক সরবরাহ; (খ) অনাবাসিক ব্যক্তি কর্তৃক বাংলাদেশের কোন নির্দিষ্ট স্থান হইতে বা উহার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনাপূর্বক প্রদত্ত সরবরাহ; (গ) উপ-ধারা (খ)-তে উল্লিখিত সরবরাহ ব্যতীত অনাবাসিক ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত সরবরাহ, যদি সরবরাহটি― (অ) স্থাবর সম্পত্তির সরবরাহ হয় এবং উক্ত স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত ভূমির অবস্থান বাংলাদেশে হয়; (আ) পণ্যের সরবরাহ হয় এবং উহা বাংলাদেশে হস্তান্তর , অর্পণ, স্থাপন বা সংযোজন করা হয়; (ই) যদি সরবরাহটি নিম্নবর্ণিত কোন সরবরাহ হয় এবং মূসক অনিবন্ধিত ব্যক্তিকে প্রদান করা হয়:― (ক) সেবা প্রদানকালে বাংলাদেশে অবস্থান করিয়া সেবা প্রদানকারী কায়িকভাবে বাংলাদেশে সেবা প্রদান করেন; (খ) বাংলাদেশে অবস্থিত ভূমির সহিত সরাসরি সংশ্লিষ্ট সেবার সরবরাহ হয়; (গ) বাংলাদেশের কোন ঠিকানায় বেতার ও টেলিভিশন হইতে গৃহীত সম্প্রচার সেবা হয়; (ঘ) সরবরাহকালে বাংলাদেশে অবস্থিত কোন ব্যক্তির নিকট ইলেক্ট্রনিক সেবা সরবরাহ; (ঙ) টেলিযোগাযোগ সেবা যাহা কোন টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী বা বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে অবস্থানকারী কোন বৈশ্বিক ভ্রমণকারী (global roaming) ব্যতীত বাংলাদেশে অবস্থানরত কোন ব্যক্তি কর্তৃক সূত্রপাত ঘটানো হয়। (২) উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এর উপ-দফা (আ) এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে কোন অনাবাসিক ব্যক্তি কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্য অভ্যন্তরীণ ভোগের নিমিত্ত খালাসের পূর্বে সরবরাহ প্রদান করা হইলে উক্ত সরবরাহ বাংলাদেশের বাহিরে প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে। (৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এর উপ-দফা (ই) এর উপ-উপদফা (ঙ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে যে ব্যক্তি টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান করেন তিনি সেই ব্যক্তি― (ক) যিনি সেবা সরবরাহকারী কর্তৃক নিম্নরূপে সনাক্তযোগ্য হন― (অ) সরবরাহের সূচনা নিয়ন্ত্রণকারীরূপে; (আ) সেবার মূল্য প্রদানকারীরূপে; (ই) সরবরাহের জন্য চুক্তিকারীরূপে; (খ) যদি একাধিক ব্যক্তি দফা (ক) এর শর্তাবলী পূরণ করেন, তাহা হইলে যিনি উক্ত দফার তালিকায় অধিকবার দৃশ্যমান হন; এবং (গ) সেবার ধরন বা প্রকার বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তিগণের বাস্তব অবস্থান কোন কারণে সরবরাহকারী কর্তৃক সনাক্ত করা সম্ভব না হইলে, সেই ক্ষেত্রে উক্তরূপ সেবা বা উক্তরূপ শ্রেণীর গ্রাহকের নিকট প্রদত্ত টেলিযোগাযোগ সেবার সকল প্রকার সরবরাহ, সরবরাহকারীর নিকট হইতে চালানপত্র গ্রহণকারী গ্রাহকের যে প্রকৃত বা বাস্তব আবাসিক বা বাণিজ্যিক ঠিকানা রহিয়াছে সেই স্থানে, সরবরাহটি প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

১৮। নিবন্ধিত সরবরাহকারী এবং সরবরাহগ্রহীতা

১৮। ধারা ১৭ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন নিবন্ধিত অনাবাসিক ব্যক্তি কর্তৃক অপর কোন নিবন্ধিত গ্রহীতার নিকট সরবরাহকৃত সেবা বাংলাদেশে প্রদত্ত হইবে, যদি― (ক) সরবরাহগ্রহীতা বাংলাদেশে কোন নির্দিষ্ট স্থান হইতে বা উহার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন; এবং (খ) সরবরাহটি উক্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে বা উক্ত নির্দিষ্ট স্থানে প্রদান করা হয়।

১৯। অনাবাসিক ব্যক্তির মূসক এজেন্ট

১৯। (১) কোন অনাবাসিক ব্যক্তি বাংলাদেশের কোন নির্দিষ্ট স্থান হইতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা না করিলে, তাহাকে একজন মূসক এজেন্ট নিয়োগ করিতে হইবে। (২) অনাবাসিক ব্যক্তির সকল দায়দায়িত্ব ও কার্যাবলী উক্ত মূসক এজেন্ট পালন ও সম্পাদন করিবেন, এবং আরোপিত কর, জরিমানা, দণ্ড এবং সুদসহ যাবতীয় অর্থ পরিশোধের জন্য তিনি অনাবাসিক ব্যক্তির সহিত যৌথভাবে ও পৃথকভাবে দায়বদ্ধ থাকিবেন। (৩) মূসক এজেন্ট কর্তৃক সম্পাদিত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নিবন্ধন তাহার প্রধানের (principal) নামে হইতে হইবে। (৪) বোর্ড, মূসক এজেন্ট নিয়োগের শর্ত, পদ্ধতি ও তাহার দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করিতে পারিবে।

২০। আমদানিকৃত সেবার ক্ষেত্রে গ্রহীতার নিকট হইতে (reverse charged) কর আদায়

২০। (১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আমদানিকৃত কোন সেবা সরবরাহ করযোগ্য সরবরাহ হইবে, যদি― (ক) সরবরাহ গ্রহীতা একজন নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি হন এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় উক্ত সেবা অর্জন (acquire) করেন; এবং (খ) সরবরাহটি নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে প্রদত্ত হইলে― (অ) উক্ত সেবা শূন্যহার বিশিষ্ট না হইয়া অন্য কোন হারে করযোগ্য হয়; এবং (আ) সরবরাহগ্রহীতা উক্ত সেবার উপর আরোপিত সমুদয় মূসক রেয়াতপ্রাপ্ত না হন। (২) আমদানিকৃত সেবার করযোগ্য সরবরাহের গ্রহীতা কর্তৃক প্রদেয় মূল্য সংযোজন কর উক্ত ব্যক্তির উৎপাদ এবং উপকরণ উভয়বিধ কর হইবে। (৩) আমদানিকৃত সেবা সরবরাহের কারণে যদি কোন সমন্বয় ঘটনা সংঘটিত হইয়া থাকে বা হয়, তাহা হইলে উক্তরূপ সমন্বয় সংঘটনের কারণে উক্ত সেবা একটি করযোগ্য সরবরাহ হইবে এবং উক্ত সেবার সরবরাহ গ্রহীতা সেবা সরবরাহকারী হিসাবে গণ্য হইবেন। (৪) ‘‘আমদানিকৃত সেবা’’র সংজ্ঞা এবং উক্ত সেবার ক্ষেত্রে এই আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, যদি কোন নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট কোন স্থান হইতে এবং বাংলাদেশের বাহিরে এক বা একাধিক নির্দিষ্ট স্থান হইতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে― (ক) উক্ত ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং বাহিরে পরিচালিত করযোগ্য কার্যক্রমের ক্ষেত্রে দুইজন পৃথক ব্যক্তি হিসাবে গণ করা হইবে; (খ) বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যান্তরে অবস্থিত ব্যক্তির নিকট (এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সংজ্ঞায়িত) সেবার প্রকৃতি বিশিষ্ট সুবিধা সম্বলিত সেবা প্রদান করিয়াছে বলিয়া গণ্য করা হইবে, যাহা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বা ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত ব্যক্তি কর্তৃক প্রাপ্ত হইয়াছে; (গ) সেবা সরবরাহ করা হইয়াছে উহা অনুমান করিয়া সরবরাহের সময় নির্ধারণ করা হইবে; এবং (ঘ) সেবা সরবরাহ বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন অনাবাসিক ব্যক্তি কর্তৃক বাংলাদেশে অবস্থিত কোন সহযোগীর নিকট প্রদান করা হইয়াছে অনুমান করিয়া উহার মূল্য নির্ধারণ করা হইবে।

২১। শূন্যহার বিশিষ্ট সরবরাহ

২১। (১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত সরবরাহের ক্ষেত্রে মূসক হার হইবে শূন্য, যথা:― (ক) ধারা ২২, ২৩ এবং ২৪ এ উল্লিখিত কোন সরবরাহ; বা (খ) শূন্যহার বিশিষ্ট সরবরাহ গ্রহণের অধিকার (right) বা ভবিষ্য ক্রয় বা বিক্রয়ের অধিকার (option) সংক্রান্ত সরবরাহ। (২) যদি কোন সরবরাহ অব্যাহতিপ্রাপ্ত এবং শূন্যহারবিশিষ্ট উভয়ই হয়, তাহা হইলে এই উপ-ধারার আওতায় সরবরাহটি অব্যাহতিপ্রাপ্ত না হইয়া শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে।

২২। বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত ভূমি

২২। স্থাবর সম্পত্তির সরবরাহ শূন্যহারবিশিষ্ট হইবে, যদি স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত ভূমি বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত হয়।

২৩। রপ্তানির নিমিত্ত পণ্য সরবরাহ

২৩। (১) রপ্তানির উদ্দেশ্যে কোন পণ্যের সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, পুনঃআমদানিকৃত বা পুনঃআমদানির জন্য অভিপ্রেত কোন পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না। (২) নিম্নবর্ণিত সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে, যথা:― (ক) যদি পণ্যটি সরবরাহের সময় বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত হয় এবং উক্ত পণ্য সরবরাহকারী কর্তৃক বাংলাদেশে সংযোজন, সংস্থাপন বা আমদানি করা না হয়; (খ) যদি পণ্যটি আমদানির পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভোগের নিমিত্তে প্রবেশের পূর্বে বাংলাদেশের বাহিরে কোন স্থানে সরবরাহ করা হয়, তাহা হইলে উক্ত পণ্য সরবরাহকালে বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত ছিল বলিয়া গণ্য হইবে; (গ) লাইসেন্সধারী শুল্কমুক্ত পণ্য বিক্রেতা কর্তৃক পর্যটক বা বিদেশ হইতে আগত কোন দর্শনার্থীর নিকট বাংলাদেশের বাহিরে ভোগের নিমিত্ত কোন পণ্যের সরবরাহ; বা (ঘ) যদি পণ্যটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের সমগ্র সময়কাল বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থান করে, তাহা হইলে উক্ত পণ্যের লিজ, হায়ার, লাইসেন্স বা উহার ব্যবহার সম্পর্কিত অন্যান্য সরবরাহ পৃথক সরবরাহ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্তরূপ প্রতিটি সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে। তবে, শর্ত থাকে যে, যদি পণ্যটি আন্তর্জাতিক ভূখন্ডে অবস্থানের অব্যবহিত পূর্বে এবং পরে বাংলাদেশে অবস্থান করে, তাহা হইলে লিজকৃত পণ্যটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আছে বলিয়া গণ্য হইবে। (৩) নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে, কোন পণ্যের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কারকরণ, সংস্কার সাধন, পরিবর্তন সাধন বা অনুরূপ কাজে ব্যবহার্য কোন পণ্যের সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে, যথা:― (ক) যদি সরবরাহকৃত পণ্য উক্ত পণ্যের সহিত সংযোজন করা হয় বা উহার অংশে পরিণত হয় বা সংযোজিত হইবার ফলে উহা অব্যবহারযোগ্য বা নষ্ট হইয়া যায়; (খ) যদি উক্ত পণ্য শুল্ক আইনের অধীন বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আমদানি করা হয়; বা (গ) যদি উক্ত পণ্য বাংলাদেশে সেবা গ্রহণের নিমিত্ত অস্থায়ীভাবে আনয়ন করা হয় ও সেবা গ্রহণের পর উক্ত পণ্য সেবা গ্রহণ ব্যতীত বাংলাদেশে অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করিয়া উহা বাংলাদেশ হইতে রপ্তানি করা হয়। (৪) নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে, মেরামত বা প্রতিস্থাপনের ওয়ারেন্টিযুক্ত পণ্যের সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে, যথা:― (ক) অনাবাসিক ও অনিবন্ধিত ওয়ারেন্টি প্রদানকারী কর্তৃক পণ প্রদান করা হইবে মর্মে ওয়ারেন্টি প্রদানকারীর সহিত সম্পাদিত চুক্তির অধীন যদি উক্ত পণ্য সরবরাহ করা হয়; এবং (খ) মালিকের উপর কোনরূপ মাশুল (charge) আরোপ ব্যতিরেকে যদি উক্ত পণ্য মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা হয়। (৫) আন্তর্জাতিক পরিবহনে নিয়োজিত সমুদ্রগামী জাহাজ বা উড়োজাহাজ বা অনুরূপ কোন যানবাহনের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কারকরণ, সংস্কার সাধন, পরিবর্তন সাধন বা অন্যবিধভাবে উহার কায়িক অবস্থার উপর অন্য কোন প্রভাব বিস্তারকরণের প্রক্রিয়ায় সরবরাহকৃত পণ্য শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে। (৬) আন্তর্জাতিক পরিবহনে নিয়োজিত সমুদ্রগামী জাহাজ বা উড়োজাহাজ সম্পর্কিত পণ্য-সম্ভার বা যন্ত্রাংশ ফ্লাইটের সময় বা সামুদ্রিক যাত্রাপথে উক্ত যানবাহনে ব্যবহার, ভোগ বা বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত হইলে উক্ত পণ্য-সম্ভার বা যন্ত্রাংশ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে। ব্যাখ্যা: এই ধারায়, ‘‘পণ্য-সম্ভার’’ অর্থ কোন সমুদ্রগামী জাহাজ বা উড়োজাহাজের ক্রু বা যাত্রীগণের ব্যবহার্য বা উহার রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজে ব্যবহার্য পণ্য-সম্ভার, এবং ব্যবহার্য পণ্য, জ্বালানী, খুচরা যন্ত্রাংশ, যন্ত্রপাতি, অনুরূপ পণ্য, তাৎক্ষণিক ব্যবহৃত হউক বা না হউক, উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।

২৪। শূন্যহার বিশিষ্ট সেবা সরবরাহ

২৪। (১) বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন ভূমির সহিত প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সেবার সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে। (২) সরবরাহ প্রদানকালে বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন পণ্যের উপর কায়িকভাবে প্রদত্ত সেবা শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে। (৩) নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে, কোন পণ্যের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কারকরণ, সংস্কার সাধন, পরিবর্তন সাধন, ইত্যাদি কাজে ব্যবহার্য কোন সেবা সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে, যথা:― (ক) যদি উক্ত পণ্য শুল্ক আইনের অধীন অস্থায়ীভাবে আমদানি করা হয়; বা (খ) যদি সেবা গ্রহণের উদ্দেশ্যে অস্থায়ীভাবে উক্ত পণ্য বাংলাদেশে আনয়ন করিবার পর সেবা গ্রহণ শেষে বাংলাদেশে অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হইয়া উহা বাংলাদেশ হইতে রপ্তানি করা হয়। (৪) আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কমূল্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত সেবার সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে। (৫) যদি কোন সেবা বাংলাদেশের বাহিরে সরবরাহ করা হয় এবং উক্ত সেবা এমন ধরনের হয় যাহা যখন এবং যে স্থানে প্রদান করা হয় তৎসময়ে এবং তদস্থানে কোন ব্যক্তি কর্তৃক গ্রহণ করা হয়, তাহা হইলে উক্ত সেবা সরবরাহ শূন্যহারবিশিষ্ট হইবে। (৬) উপ-ধারা (৫) এর বিধান সাপেক্ষে, কোন সেবা সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে, যদি― (ক) সরবরাহ গ্রহীতা― (অ) কোন অনাবাসিক ব্যক্তি হন এবং সেবা সরবরাহের সময় বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থান করেন; বা (আ) কোন আবাসিক ব্যক্তি হন এবং সেবা সরবরাহের সময় বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থান করিয়া কার্যত উক্ত সেবা গ্রহণ করেন; এবং (খ) উক্ত সেবা― (অ) বাংলাদেশে অবস্থিত ভূমির সহিত প্রত্যক্ষভাবে সর্ম্পকযুক্ত না হয়; (আ) সরবরাহকালে বাংলাদেশে অবস্থিত পণ্যের উপর উহা কায়িকভাবে প্রদান করা না হয়; বা (ই) বাংলাদেশের বাহিরে সাময়িকভাবে অবস্থানরত কোন ব্যক্তিকে বৈশ্বিক পদচারণার (global roaming) ক্ষেত্রে প্রদান করা না হয়। (৭) উপ-ধারা (৪) এর অধীন কোন সেবা সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে না, যদি― (ক) উক্ত সেবা সরবরাহ বাংলাদেশে অন্য কোন বিষয়ে একটি পরবর্তী সরবরাহ প্রাপ্তির (যাহা অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা শূন্যহার বিশিষ্ট নয়) অধিকার (right) বা ভবিষ্যতে ক্রয়ের অধিকার অর্জন (option) করা সংক্রান্ত হয়; বা (খ) উক্ত সেবা বাংলাদেশে অনিবন্ধিত কোন ব্যক্তির নিকট সরবরাহ করিবার উদ্দেশ্যে কোন অনাবাসিক ব্যক্তির সহিত সম্পাদিত চুক্তির অধীন সরবরাহ করা হয়। (৮) বাংলাদেশের বাহিরে কোন বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সম্পর্কিত অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে মামলা নথিভুক্তকরণ, মামলা পরিচালনা, অধিকার অর্পণ, উহার সংরক্ষণ, হস্তান্তর, স্বত্ব হস্তান্তর, লাইসেন্সকরণ বা অধিকার বলবৎকরণ সংক্রান্ত সেবা সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে। (৯) কোন টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী কর্তৃক অন্য কোন অনাবাসিক টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারীর নিকট প্রদত্ত টেলিযোগাযোগ সেবার সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে। (১০) মেরামত বা প্রতিস্থাপনের ওয়ারেন্টিযুক্ত পণ্যের অনুকূলে প্রদত্ত সেবা সরবরাহ নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে, শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে, যথা:― (ক) অনাবাসিক ও অনিবন্ধিত ওয়ারেন্টি প্রদানকারী কর্তৃক পণ প্রদত্ত হইবে মর্মে ওয়ারেন্টি প্রদানকারীর সহিত সম্পাদিত চুক্তির অধীন যদি উক্ত সেবা সরবরাহ করা হয়; বা (খ) মালিকের উপর কোনরূপ মাশুল আরোপ ব্যতিরেকে সেবা প্রদান করা হয়। (১১) নিম্নবর্ণিত সেবা সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে, যথা:― (ক) আন্তর্জাতিক পরিবহনে সেবা সরবরাহ; (খ) পণ্যের আন্তর্জাতিক পরিবহনে বীমা সেবা সরবরাহ; (গ) আন্তর্জাতিক পরিবহনে নিয়োজিত সমুদ্রগামী জাহাজ বা উড়োজাহাজের মেরামত, সংরক্ষণ, পরিষ্কারকরণ, সংস্কার সাধন, পরিবর্তন সাধন বা অন্য কোনভাবে কায়িক অবস্থার উপর প্রভাব বিস্তারকরণের সেবা সরবরাহ; (ঘ) আন্তর্জাতিক পরিবহনে নিয়োজিত কোন সমুদ্রগামী জাহাজ বা উড়োজাহাজের চালনা, পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনা, অনুরূপ বিষয়ের সহিত প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সেবা অনিবন্ধিত ও অনাবাসিক ব্যক্তির নিকট সরবরাহ; বা (ঙ) জাহাজে মালামাল বোঝাই ও খালাসকরণ সংক্রান্ত সরবরাহ।

২৫। ট্রাভেল এজেন্ট এবং ট্যুর অপারেটর

২৫। এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পর্যটন সেবা বাংলাদেশে প্রদত্ত হউক বা না হউক তাহা নির্বিশেষে এবং উহা বাংলাদেশে প্রদত্ত হইলে শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে কি-না তাহা বোর্ড নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং প্রতি করমেয়াদে সামগ্রিক ভিত্তিতে শূন্যহার বিশিষ্ট নয় এমন পর্যটন সেবার মূল্য নির্ধারণ করিয়া বোর্ড বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে। ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘‘পর্যটন সেবা’’ অর্থ আবাসন, খাদ্য, ভ্রমণ, বিনোদন এবং সমজাতীয় কোন বিষয় যা সচরাচর পর্যটক এবং আন্তর্জাতিক দর্শণার্থীদেরকে প্রদান করা হয়।

২৬। অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহ বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত আমদানি

২৬। এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত সরবরাহসমূহ মূসক অব্যাহতিপ্রাপ্ত হইবে, যথা:― (ক) প্রথম তফসিলে উল্লিখিত কোন সরবরাহ বা আমদানি; বা (খ) অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহ গ্রহণের অধিকার (right) বা ভবিষ্য ক্রয় বা বিক্রয়ের অধিকার (option) সংক্রান্ত সরবরাহ।

২৭। করযোগ্য আমদানির উপর মূসক আদায় পদ্ধতি

২৭। শুল্ক কমিশনার বা শুল্ক কর্মকর্তা যে পদ্ধতি ও সময়ে শুল্ক আইনের অধীন আমদানি শুল্ক আদায় করেন সেই একই পদ্ধতি ও সময়ে, আমদানির উপর আমদানি শুল্ক প্রযোজ্য না হইলেও করযোগ্য আমদানির উপর মূসক আদায় করিবেন।

২৮। করযোগ্য আমদানির মূল্য নির্ধারণ

২৮। কোন করযোগ্য আমদানির মূল্য হইবে নিম্নবর্ণিত পরিমাণের সমষ্টি, যথা:- (ক) শুল্ক আইনের অধীন আমদানি শুল্ক আরোপের উদ্দেশ্যে ধার্যকৃত পণ্য মূল্যের পরিমাণ; এবং (খ) পণ্য আমদানির উপর প্রদেয়, যদি থাকে, আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং অন্যান্য কর (মূসক এবং আগাম আয়কর ব্যতীত)।

২৯। পুনঃআমদানিকৃত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ

২৯। পণ্য রপ্তানির পর উহা পুনঃআমদানি করিবার ক্ষেত্রে যদি পণ্যটির আকৃতি, প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও গুণগতমান অপরিবর্তিত থাকে, তাহা হইলে উক্ত পণ্যের মেরামতের পর যে পরিমাণ মূল্য বর্ধিত হয় উহার সহিত বীমা, ভাড়া এবং ল্যান্ডিং চার্জ যোগ করিয়া মূসকযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করিতে হইবে।

৩০। রপ্তানির নিমিত্ত আমদানি

৩০। কোন পণ্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভোগের উদ্দেশ্যে খালাস বা ছাড় না করিয়া রপ্তানির উদ্দেশ্যে আনয়ন করা হইলে, উক্ত পণ্য করযোগ্য হইবে না।

৩১। আমদানিকালে আগাম কর পরিশোধ ও সমন্বয়

৩১। (১) প্রত্যেক নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য বা তালিকাভুক্ত কোন ব্যক্তি তাহার অর্থনৈতিক কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে আমদানিকৃত পণ্যের সরবরাহের উপর প্রদেয় মূসক বা টার্নওভার কর উপ-ধারা (২) এ উলিস্নখিত হারে আগাম পরিশোধ করিবেন। (২) করযোগ্য আমদানির উপর মূসক যে সময় ও পদ্ধতিতে আদায় করা হয় সেই একই সময় ও পদ্ধতিতে করযোগ্য আমদানি মূল্যের ৩ (তিন) শতাংশ হারে আগাম কর প্রদেয় হইবে। (৩) প্রত্যেক নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত আমদানিকারক যিনি আগাম কর পরিশোধ করিয়াছেন তিনি নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদের মূসক দাখিলপত্রে পরিশোধিত আগাম করের সমপরিমাণ অর্থ হ্রাসকারী সমন্বয় গ্রহণ করিতে পারিবেন। (৪) যে ব্যক্তি আগাম কর পরিশোধ করিয়াছেন কিন্তু নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত নহেন তিনি নির্ধারিত পদ্ধতিতে আগাম কর ফেরত প্রদানের নিমিত্ত কমিশনারের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন। (৫) কমিশনার আবেদন প্রাপ্তির পর নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহা নিষ্পত্তি করিবেন।

৩২। করযোগ্য সরবরাহের মূল্য নির্ধারণ

৩২। (১) এই ধারার বিধান সাপেক্ষে, করযোগ্য সরবরাহের পণ হইতে উক্ত পণের কর-ভগ্নাংশের সমপরিমাণ অর্থ বিয়োগ করিয়া যাহা পাওয়া যাইবে তাহাই হইবে সরবরাহ মূল্য। (২) আমদানিকৃত সেবার করযোগ্য সরবরাহের পণ হইবে সরবরাহের মূল্য বা সরবরাহকারী এবং সরবরাহগ্রহীতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হইলে উহার ন্যায্য বাজার মূল্য। (৩) উপ-ধারা (৭) এর অধীন নির্ধারিত বিষয় ব্যতিরেকে কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি কর্তৃক তাহার সহযোগীর নিকট সরবরাহকৃত করযোগ্য সরবরাহের মূল্য হইবে উক্ত সরবরাহের ন্যায্য বাজার মূল্য হইতে উহার কর-ভগ্নাংশ বিয়োজিত মূল্য, যদি― (ক) উক্ত সরবরাহ পণবিহীন হয় বা উহার পণ ন্যায্য বাজার মূল্য অপেক্ষা কম হয়; এবং (খ) উক্ত সহযোগী এইরূপ সরবরাহের নিমিত্তে উদ্ভূত সমুদয় উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণের অধিকারী না হন। (৪) অন্যবিধভাবে নির্ধারিত না থাকিলে পণবিহীন করযোগ্য সরবরাহের মূল্য শূন্য হইবে। (৫) করযোগ্য সরবরাহ ব্যতীত অন্য কোন সরবরাহের মূল্য হইবে সরবরাহের পণ। (৬) আবাসিক ভবন বিক্রয় সংক্রান্ত করযোগ্য সরবরাহের মূল্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে ধার্য করা হইবে। (৭) সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগে নির্মিত আবাসিক ভবনের অংশীদার একজন ভূমি মালিককে স্থাবর সম্পত্তির করযোগ্য সরবরাহ প্রদান করিলে উক্ত সরবরাহের মূল্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে ধার্য করা হইবে। ব্যাখ্যা: এই ধারায়― (ক) ‘‘আবাসিক ভবন’’ অর্থ বসবাস অভিপ্রেত বা উপযোগী কোন ভবন, এবং গ্যারেজ বা অনুরূপ স্থান ও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; কিন্তু বাণিজ্যিক আবাসন হিসাবে ব্যবহৃত ভবন বা ভবনের অংশ উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না; (খ) ‘‘বাণিজ্যিক আবাসন’’ অর্থ― (অ) এমন কোন হোটেল, মোটেল, সরাইখানা, বোর্ডিং হাউস, গেস্ট হাউস, হোস্টেল বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠান যেখানে অর্থের বিনিময়ে চার বা ততোধিক ব্যক্তির অবস্থান বা রাত্রীযাপনের ব্যবস্থা করা হয়; বা (আ) এমন কোন আবাসন যাহা কোন ব্যক্তির প্রধান বা স্থায়ী বাসস্থান নহে এবং যাহা কোন ব্যক্তির বসবাসের নিমিত্ত সরবরাহ করা হয়; কিন্তু স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশ হিসাবে ব্যবহৃত ছাত্র বা ছাত্রী হোস্টেল উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না।

৩৩। করযোগ্য সরবরাহের উপর মূসক প্রদানকাল

৩৩। (১) কোন করযোগ্য সরবরাহের উপর আরোপিত মূসক নিম্নবর্ণিত কার্যাবলীর মধ্যে যাহা সর্বাগ্রে ঘটে, উহা সংঘটিত হওয়ার সময় প্রদেয় হইবে, যথা:― (ক) যখন সরবরাহ প্রদান করা হয়; (খ) যখন সরবরাহ সংক্রান্ত চালানপত্র ইস্যু করা হয়; বা (গ) যখন পণের আংশিক বা সম্পূর্ণ গ্রহণ করা হয়। (২) পৃথক সরবরাহের অনুক্রম হিসাবে বিবেচিত আনুক্রমিক বা পর্যাবৃত্ত সরবরাহের উপর আরোপিত মূসক নিম্নবর্ণিত কার্যাবলীর মধ্যে যাহা সর্বাগ্রে ঘটে, উহা সংঘটিত হওয়ার সময় প্রদেয় হইবে, যথা:- (ক) যখন উক্ত সরবরাহের প্রত্যেকটির বিপরীতে পৃথক চালানপত্র ইস্যু করা হয়; (খ) যখন উক্ত সরবরাহের প্রত্যেকটির বিপরীতে প্রাপ্য পণের আংশিক বা সমুদয় গ্রহণ করা হয়; (গ) যখন অনুক্রম সরবরাহের বিপরীতে মূল্য প্রদেয় হয়; বা (ঘ) যে কর মেয়াদের সহিত প্রদেয় পণ সংশ্লিষ্ট সেই কর মেয়াদের প্রথম দিন, যদি উক্ত সময়ে প্রদেয় পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যায়। (৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান সত্ত্বেও বিতরণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোন পণ্য (যেমনঃ পানি, গ্যাস, তৈল বা বিদ্যুৎ) বা সেবার আনুক্রমিক বা পর্যাবৃত্তিক সরবরাহ করা হইলে, যে তারিখে উক্ত সরবরাহের প্রত্যেকটির বিপরীতে চালানপত্র ইস্যু করা হয়, উক্ত তারিখ হইতে ৯০ (নববই) দিনের মধ্যে আরোপিত মূসক পরিশোধ করিতে হইবে।

৩৪। আনুক্রমিক বা পর্যাবৃত্ত সরবরাহ

৩৪। (১) আনুক্রমিক বা পর্যাবৃত্ত সরবরাহের প্রতিটি সরবরাহ পৃথক সরবরাহ হিসাবে গণ্য হইবে। (২) যদি আনুক্রমিক বা পর্যাবৃত্ত সরবরাহের প্রতিটি সরবরাহ তাৎক্ষণিকভাবে পৃথক করা না যায়, তাহা হইলে উক্ত সরবরাহকে পৃথক সরবরাহের পর্যায়ক্রম হিসাবে গণ্য করা হইবে, যাহার প্রত্যেকটি উক্ত সরবরাহের অনুপাতের সহিত সংগতিপূর্ণ এবং যাহার সহিত পর্যায়ক্রমিক পণের প্রত্যেক পৃথক অংশ আনুপাতিক হারে সংশ্লিষ্ট। (৩) লিজ বা সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার সংক্রান্ত সরবরাহের প্রতিটি অংশের ক্ষেত্রে, লিজ বা সম্পত্তির উক্তরূপ ব্যবহারের অব্যাহত সময়কাল সরবরাহের সময় হিসাবে গণ্য হইবে।

৩৫। একক ও বহুবিধ সরবরাহ

৩৫। কোন সরবরাহ একাধিক উপাদান সম্বলিত হইলে নিম্নরূপে করারোপ করিতে হইবে, যথা:― (ক) প্রতিটি সরবরাহ সাধারণভাবে স্বতন্ত্র এবং স্বাধীন গণ্য হইবে; (খ) অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ হইতে একক সরবরাহের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সরবরাহকে কৃত্রিমভাবে বিভাজন করা যাইবে না; (গ) সরবরাহটি একক সরবরাহ নাকি একাধিক স্বতন্ত্র সরবরাহ তাহা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে লেনদেনটির প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করিতে হইবে; (ঘ) যদি সরবরাহটি এক বা একাধিক উপাদান সমন্বয়ে গঠিত হয়, তাহা হইলে উহা একক সরবরাহ হইবে, এবং অন্যান্য উপাদান উক্ত একক সরবরাহের অংশ হিসাবে গণ্য হইবে; (ঙ) কোন সরবরাহকে মূল সরবরাহের সহায়ক হিসাবে গণ্য করিতে হইবে, যদি উহা গ্রহীতার নিকট স্বয়ং মূল বিষয় না হইয়া বরং সরবরাহকৃত মূল বিষয়টি উত্তমরূপে ভোগের মাধ্যম হিসাবে বিবেচিত হয়।

৩৬। চলমান ব্যবসা হিসাবে প্রতিষ্ঠান বিক্রয়

৩৬। (১) কোন ব্যক্তি তাহার চলমান ব্যবসা হিসাবে কোন প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে হসত্মামত্মর করিলে উক্ত হসত্মামত্মর একক সরবরাহ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত একক সরবরাহ বাংলাদেশে কোন সরবরাহ হিসাবে বিবেচিত হইবে না। (২) উপ-ধারা (১) এর বিধান প্রযোজ্যতার ক্ষেত্রে, অর্থনৈতিক কার্যক্রমটি বিক্রয়ের পর চলমান থাকিবে এইরূপ উদ্দেশ্যে চলমান ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করিতে হইবে এবং উক্তরূপে হস্তান্তরিত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অব্যাহত পরিচালনার নিমিত্তে যাহা কিছু প্রয়োজন তাহা ক্রেতা কর্তৃক সম্পূর্ণরূপে অর্জন করিতে হইবে। (৩) কোন চলমান ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ পৃথকভাবে পরিচালনাযোগ্য হইলে, উক্ত অংশ একটি পৃথক অর্থনৈতিক কার্যক্রম হিসাবে গণ্য হইবে। (৪) উপ-ধারা (১) এর বিধান প্রযোজ্যতার ক্ষেত্রে, সরবরাহকারীর উপকরণ কর রেয়াত প্রাপ্যতা নির্ধারণের লক্ষ্য,― (ক) হস্তান্তরের জন্য গৃহীত সেবার উপর প্রদত্ত উপকরণ কর সরবরাহকারীর অন্যান্য কার্যক্রমের অনুবৃত্তিক্রমে নির্ধারিত হইবে; এবং (খ) ধারা ৪৭ এর অধীন নির্ণীত রেয়াতযোগ্য অনুপাতের মধ্যে হস্তান্তরের মূল্য অন্তর্ভুক্ত হইবে না। (৫) কোন ব্যক্তি প্রদেয় সমুদয় কর ও বকেয়া পরিশোধ না করিয়া কোন চলমান ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হসত্মামত্মর করিতে পারিবেন না। (৬) উপ-ধারা (৫) এর বিধান সত্ত্বেও, নির্ধারিত শর্ত ও সীমা সাপেক্ষে, কমিশনার তৎকর্তৃক হস্তান্তর মঞ্জুর করিতে পারিবেন, যদি প্রদেয় সমুদয় কর ও বকেয়া পরিশোধের নিমিত্ত ক্রেতা কোন তফসিলি ব্যাংক হইতে নিঃশর্ত ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিল করেন। (৭) উপ-ধারা (১) এর বিধানমতে, হসত্মামত্মরের তারিখ হইতে ক্রেতা সরবরাহকারীর উত্তরাধিকার (successor) হিসাবে বিবেচিত হইবেন এবং ক্রেতা কর্তৃক এই আইন যথাযথভাবে পরিপালনের লক্ষ্যে সরবরাহকারী ক্রেতাকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করিবেন এবং উক্তরূপ তথ্যপ্রদান নিশ্চিতকরণার্থে বোর্ড প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

৩৭। অধিকার (rights), ভবিষ্য ক্রয় বা বিক্রয়ের অধিকার (option) এবং ভাউচার

৩৭। (১) যদি কোন অধিকার বা ভবিষ্য ক্রয় বা বিক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করা হয়, তবে উক্ত অধিকার বা ভবিষ্য ক্রয় বা বিক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে যে সরবরাহ প্রদান করা হয়, উহার পণ হইবে অধিকার প্রয়োগের পর অতিরিক্ত পণ থাকিলে উহার সমপরিমাণ। (২) কোন সরবরাহের সমুদয় বা আংশিক মূল্য পরিশোধের নিমিত্ত ভাউচার গ্রহণ করা হইলে, উক্ত সরবরাহের পণ হইবে উক্ত ভাউচার মূল্য বিয়োগ করিবার পর যে মূল্য অবশিষ্ট থাকে সেই মূল্য। (৩) কোন ভাউচার সরবরাহ করযোগ্য সরবরাহ না হইলে উপ-ধারা (২) প্রযোজ্য হইবে না। ব্যাখ্যা: এই ধারায়, ‘‘ভাউচার’’ অর্থ প্রদত্ত কোন রশিদ, টিকেট, স্বীকারপত্র বা ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে ইস্যুকৃত অনুরূপ দলিল যাহার বাহক পণ্য, সেবা, বা স্থাবর সম্পত্তি সরবরাহ পাওয়ার অধিকার অর্জন করেন, তবে উহার মধ্যে ডাক টিকেট বা রাজস্ব স্ট্যাম্প অন্তর্ভুক্ত হইবে না।

৩৮। আগাম মূল্য পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ দ্রব্য বা সেবা সরবরাহ

৩৮। (১) কোন টেলিযোগাযোগ দ্রব্য বা সেবা সরবরাহকারী কর্তৃক কোন আগাম মূল্য পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ দ্রব্য মূল্যছাড়সহ টেলিযোগাযোগ মধ্যস্বত্বভোগীর নিকট সরবরাহ করা হইলে, উক্ত মূল্যছাড়সহ, উক্ত সরবরাহের পণ নিরূপণ করিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারা একজন টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী কর্তৃক অন্য কোন টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারীর নিকট টেলিযোগাযোগ দ্রব্য বা সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না। (২) কোন টেলিযোগাযোগ মধ্যস্বত্বভোগী কর্তৃক আগাম মূল্য পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ দ্রব্য ক্রয় করিয়া পরবর্তীতে বিক্রয় করা হইলে, বিক্রয়টি কোন করযোগ্য সরবরাহ বলিয়া গণ্য হইবে না। (৩) যেইক্ষেত্রে কোন টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী তাহার প্রতিনিধির মাধ্যমে আগাম মূল্য পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ দ্রব্য বা সেবা সরবরাহ করে, সেইক্ষেত্রে উক্ত প্রতিনিধিকে প্রদত্ত কমিশনসহ সরবরাহের পণ নিরূপণ করিতে হইবে। (৪) টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী বা অন্য কোন টেলিযোগাযোগ মধ্যস্বত্বভোগীর প্রতিনিধি হিসাবে কার্য সম্পাদনকারী কোন টেলিযোগাযোগ মধ্যস্বত্বভোগী কর্তৃক আগাম মূল্য পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ দ্রব্যের বিতরণ এই আইনের অধীন কোন করযোগ্য সরবরাহ হিসাবে গণ্য হইবে না। (৫) কোন টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী যিনি আগাম মূল্য পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ দ্রব্য সরবরাহ করেন এবং এই ধারার শর্তাবলী মোতাবেক মূসক পরিশোধ করেন, তিনি হ্রাসকারী সমন্বয় গ্রহণ করিতে পারিবেন, যদি― (ক) উক্ত দ্রব্যের অভিহিত মূল্যের আংশিক বা সমুদয় উক্ত টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হইতে কোন কিছু ক্রয়ে ব্যবহৃত হয়; (খ) অন্য কোন ব্যক্তি― (অ) বাংলাদেশে পরিচালিত কোন অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সরবরাহ প্রদান করেন; বা (আ) নিবন্ধিত হন; এবং (গ) টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী সরবরাহের বিষয়ে অন্য কোন ব্যক্তিকে অর্থ প্রদান করেন। (৬) হ্রাসকারী সমন্বয়ের পরিমাণ হইবে উক্ত অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রদত্ত অর্থের কর-ভগ্নাংশের সমান এবং যে কর মেয়াদে উক্ত অর্থ প্রদান করা হয় সেই কর মেয়াদে সমন্বয় সাধন করিতে হইবে। (৭) আগাম মূল্য পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ সেবা গ্রহণ বা দ্রব্য ব্যবহারকারী ব্যক্তির উপকরণ কর রেয়াত পাওয়ার অধিকার প্রমাণ এবং রেয়াত গ্রহণের পদ্ধতি নির্ধারণ করিয়া বোর্ড বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে। ব্যাখ্যা: এই ধারায়,― (ক) ‘‘আগাম মূল্য পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ দ্রব্য’’ অর্থ ফোন কার্ড, আগাম মূল্য পরিশোধের কার্ড, রিচার্জ কার্ড, বা অন্য কোন উপায়ে যেকোন টেলিযোগাযোগ পণ্য অর্জনের নিমিত্ত আগাম পরিশোধ, বা উহা যে নামেই অভিহিত বা আকারেই থাকুক না কেন, টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য পবনকাল (airtime) , ইন্টারনেট সুবিধা গ্রহণের সময় বা ডাউনলোড ক্ষমতা উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (খ) ‘‘টেলিযোগাযোগ মধ্যস্বত্বভোগী’’ অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যিনি পরিবেশক, প্রতিনিধি, মূসক এজেন্ট বা আগাম পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ দ্রব্যাদির কোন মধ্যস্বত্বভোগী; (গ) ‘‘টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী’’ অর্থ টেলিযোগাযোগ সেবার সরবরাহকারী, তবে টেলিযোগাযোগ মধ্যস্বত্বভোগী উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না ; এবং (ঘ) ‘‘টেলিযোগাযোগ সেবা’’ অর্থ তার, বেতার, অপটিকাল (optical) বা অনুরূপ কোন তড়িৎ চুম্বকীয় পদ্ধতিতে বা ইলেক্ট্রনিক সংকেতের মাধ্যমে লেখা, প্রতিচ্ছবি প্রক্ষেপণ, প্রচার, শব্দ বা অনুরূপ কোন তথ্য প্রেরণ, নির্গতকরণ ও সংকেত গ্রহণ করা সংক্রান্ত সেবা,― এবং নিম্নবর্ণিত বিষয়াদিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:― (অ) উক্ত প্রেরণ, নির্গতকরণ ও সংকেত গ্রহণের সামর্থ সম্বলিত ব্যবহারের অধিকার সম্পর্কিত হসত্মামত্মর বা এ্যাসাইনমেন্ট সেবা; এবং (আ) বৈশ্বিক বা স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য নেটওয়ার্কে প্রবেশের সুযোগ সম্বলিত সেবা; কিন্তু উহার মূলে থাকা (underlying) লিখন, প্রতিচ্ছবি, শব্দাবলী বা তথ্যসমূহের সরবরাহ সেবা উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না।

৩৯। লটারী, লাকী ড্র, হাউজি, র‌্যাফেল ড্র এবং অনুরূপ উদ্যোগ

৩৯। (১) কোন ব্যক্তি লটারী, লাকী ড্র, হাউজি, র‌্যাফেল ড্র বা অনুরূপ উদ্যোগ পরিচালনা করিলে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক বিক্রীত টিকেটের (যে নামেই অভিহিত হউক) পণ হইবে টিকেটের মূল্য। (২) পরিবেশক বা প্রতিনিধির নিকট মূল্যছাড় প্রদান করিয়া বিক্রীত টিকেটের ক্ষেত্রে উক্ত মূল্যছাড় হিসাবে গণ্য না করিয়া উহার মূল্য নিরূপণ করিতে হইবে। ব্যাখ্যা: এই ধারায় ‘‘টিকেটের মূল্য’’ অর্থ জয়লাভের আশায় টিকেট ধারণ এবং উক্তরূপ উদ্যোগে অংশগ্রহণে ক্রেতা কর্তৃক প্রদেয় অর্থ।

৪০। কর্মচারী বা কর্মকর্তাকে নগদ অর্থের পরিবর্তে দ্রব্যের মাধ্যমে প্রদত্ত সুবিধার মূল্য

৪০। (১) কোন নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি তাহার কোন কর্মচারী বা কর্মকর্তাকে নগদ অর্থের পরিবর্তে দ্রব্যের মাধ্যমে প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা হিসাবে যে পণ্য সরবরাহ করেন উহা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে। (২) কোন নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক তাহার কোন কর্মচারী বা কর্মকর্তাকে পণবিহীন বা ন্যায্য বাজার মূল্য অপেক্ষা কম মূল্যে সেবা বা স্থাবর সম্পত্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে উহার মূল্য হইবে উক্ত সরবরাহের ন্যায্য বাজার মূল্য।

৪১। কিস্তিতে পণ্য বিক্রয়

৪১। (১) যেইক্ষেত্রে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ চুক্তির অধীন কোন পণ্য সরবরাহ করা হয়, সেইক্ষেত্রে- (ক) উক্ত সরবরাহের উপর প্রদেয় উৎপাদ কর তখনই প্রদেয় হইবে যখন উক্ত সরবরাহের অর্থ পরিশোধ করা হইবে এবং প্রত্যেক কর মেয়াদে অর্থ প্রদানের সময় করের পরিমাণ নিরূপণ ও পরিশোধ করিতে হইবে; এবং (খ) প্রত্যেক কর মেয়াদে নিরূপিত উৎপাদ করের পরিমাণ হইবে উক্ত মেয়াদে পরিশোধিত অর্থের কর ভগ্নাংশ। (২) কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ চুক্তির অধীন কোন পণ্য সরবরাহ করা হইলে, প্রত্যেক কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের বিপরীতে পৃথক পৃথক কর চালানপত্র ইস্যু করিতে হইবে।

৪২। বাতিলকৃত লেনদেন

৪২। (১) যদি কোন সরবরাহের লেনদেন বাতিল হয় এবং সরবরাহকারী পূর্বে গৃহীত পণ ফেরত প্রদানকালে উহার অংশবিশেষ রাখিয়া দেয়, তাহা হইলে উক্ত বাতিলকরণের কারণে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে পণের যে অংশ রাখিয়া দেওয়া হয় উহার উপর প্রযোজ্য কর সমন্বয় করা যাইবে। (২) যদি কোন সরবরাহের লেনদেন বাতিল হয় এবং উক্ত বাতিলের ফলশ্রুতিতে সরবরাহকারী গ্রহীতার নিকট হইতে কোন অর্থ আদায় করে, তাহা হইলে যেই কর মেয়াদে উহা আদায় করা হয় সেই কর মেয়াদে উক্ত আদায়কৃত অর্থ সরবরাহের পণ হিসাবে গণ্য হইবে এবং কর প্রদেয় হইবে।

৪৩। ঋণ পরিশোধে সম্পত্তি বিক্রয়

৪৩। (১) যেইক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি (পাওনাদার) কর্তৃক অপর কোন ব্যক্তির (ঋণগ্রহীতা) সম্পত্তি উক্ত পাওনাদার কর্তৃক ঋণগ্রহীতার নিকট প্রাপ্য ঋণের সমুদয় বা আংশিক আদায়ের নিমিত্ত বিক্রয়ের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়, সেইক্ষেত্রে― (ক) সরবরাহটি ঋণ গ্রহীতা কর্তৃক প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে; (খ) পাওনাদার সরবরাহের উপর প্রদেয় কর, যদি থাকে, পরিশোধ করিতে দায়ী থাকিবেন; এবং (গ) ঋণ এবং অন্যান্য ঋণ পরিশোধসহ উক্তরূপ পরিশোধের পর উদ্বৃত্ত কোন অর্থ ঋণগ্রহীতার নিকট ফেরৎ প্রদানের পূর্বে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রদেয় মূল্য সংযোজন কর পরিশোধযোগ্য হইবে। (২) ঋণ গ্রহীতা এবং পাওনাদার যৌথভাবে ও পৃথকভাবে কর পরিশোধের জন্য দায়ী থাকিবেন। (৩) কোন অনিবন্ধিত পাওনাদার কর্তৃক এই ধারার অধীন মূল্য সংযোজন কর পরিশোধ করিবার শর্ত ও পদ্ধতি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

৪৪। বিক্রয় যন্ত্র

৪৪। (১) যেই ক্ষেত্রে বিক্রয়যন্ত্র, মিটার বা অনুরূপ কোন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে (পরিশোধ টেলিফোন ব্যতীত) পণ্যের করযোগ্য সরবরাহ প্রদান করা হয় ও উহা মুদ্রা, নোট বা টোকেনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, সেইক্ষেত্রে সরবরাহকারী বা তাহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত বিক্রয় যন্ত্র, মিটার বা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র হইতে উক্ত মুদ্রা, নোট বা টোকেন বাহির করিবার সময় কর প্রদেয় হইবে। (২) যেইক্ষেত্রে করযোগ্য সরবরাহ বিক্রয় যন্ত্র, মিটার বা অন্য কোন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে প্রদান করা হয় এবং উক্ত সরবরাহের জন্য নির্ধারিত উপায়ে অর্থ প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে সরবরাহ গ্রহণকারী ব্যক্তি কর্তৃক সরবরাহকারীকে অর্থ প্রদানকালে কর প্রদেয় হইবে।

৪৫। সরবরাহের উপর প্রদেয় নীট কর নিরূপণ ও পরিশোধ পদ্ধতি

৪৫। (১) কোন কর মেয়াদে করদাতা কর্তৃক প্রদেয় নীট করের পরিমাণ নিম্নবর্ণিত উপায়ে নিরূপণ করিতে হইবে, যথা:― (ক) উক্ত কর মেয়াদে প্রদেয় সকল উৎপাদ কর এবং সম্পূরক শুল্ক যোগ করিয়া; (খ) উক্ত কর মেয়াদে যেই সকল উপকরণ কর রেয়াত পাওয়ার অধিকারী উহা দফা (ক) এর অধীন নিরূপিত কর যোগফল হইতে বিয়োগ করিয়া; (গ) উক্ত কর মেয়াদে উক্ত নিবন্ধিত ব্যক্তির সকল বৃদ্ধিকারী সমন্বয় যোগ করিয়া; এবং (ঘ) উক্ত কর মেয়াদে উক্ত নিবন্ধিত ব্যক্তির সকল হ্রাসকারী সমন্বয় বিয়োগ করিয়া। (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত পদ্ধতিতে নিরূপিত নীট কর, উক্ত কর মেয়াদের দাখিলপত্র পেশ করিবার পূর্বে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করিতে হইবে।

৪৬। উপকরণ কর রেয়াত

৪৬। (১) এই আইনে ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকিলে, কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি করযোগ্য সরবরাহ বা করযোগ্য আমদানির উপর আরোপিত মূল্য সংযোজন করের বিপরীতে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করিতে পারিবেন, যদি― (ক) উক্ত ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় এবং উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক করযোগ্য সরবরাহ প্রদানের উদ্দেশ্যে আমদানি সম্পন্ন করা হয় বা তাহার নিকট সরবরাহ প্রদান করা হয়; এবং (খ) উক্ত ব্যক্তি কোন সরবরাহের ক্ষেত্রে সরবরাহের পণ পরিশোধ করেন বা পরিশোধের জন্য দায়ী; (২) কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করিতে পারিবে না, যদি:― (ক) করযোগ্য সরবরারেহর মূল্য ১,০০,০০০.০০ (এক লক্ষ) টাকা অতিক্রম করে; এবং (খ) সরবরাহের বিপরীতে পণের আংশিক বা সমুদয় পরিমাণ ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যতিরেকে নগদ অর্থের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। (৩) কোন অর্জন বা আমদানির বিপরীতে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করিতে পারিবে না, যদি― (ক) উক্ত অর্জন বা আমদানি যাত্রী যানবাহন সংক্রান্ত হয় বা উহার খুচরা যন্ত্রাংশ বা উক্ত যানবাহনের মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণ সেবার উদ্দেশ্যে করা হয়; তবে, যানবাহনের ব্যবসা করা, ভাড়া খাটানো বা পরিবহন সেবা প্রদান উক্ত ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হইলে এবং যানবাহনটি উক্ত উদ্দেশ্যে অর্জিত হইলে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করা যাইবে; (খ) উক্ত অর্জন বা আমদানি চিত্তবিনোদন সংক্রান্ত বা চিত্তবিনোদনের নিমিত্তে ব্যবহৃত হয়; তবে, বিনোদন প্রদান উক্ত ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট হইলে এবং বিনোদনটি অর্থনৈতিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রদান করা হইলে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করা যাইবে; (গ) উক্ত অর্জন ক্রীড়া বিষয়ক, সামাজিক বা বিনোদনমূলক ক্লাব, সংঘ বা সমিতিতে কোন ব্যক্তির সদস্যপদ বা প্রবেশাধিকার সম্পর্কিত হয়; (ঘ) উক্ত অর্জন পরিবহন সেবা সংক্রান্ত হয়; তবে, কোন কর্মচারীকে নগদ অর্থের বদলে সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত কোন সরবরাহ এবং ধারা ৪০ এর অধীন করযুক্ত সরবরাহের উপর উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করা যাইবে; (ঙ) উক্ত অর্জন ধারা ৫৮ এর অধীন বোর্ড কর্তৃক প্রবর্তিত বিশেষ বিধানের আওতায় সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য সম্পর্কিত হয়। (৪) নিবন্ধিত ব্যক্তিকে দাখিলপত্র পেশকালে উপকরণ কর রেয়াত দাবীর সমর্থনে নিম্নবর্ণিত দলিলাদি দখলে রাখিতে হইবে, যথা:― (ক) আমদানির ক্ষেত্রে, আমদানিকারকের নাম এবং ব্যবসা সনাক্তকরণ নম্বর সম্বলিত বিল অব এন্ট্রি (Bill of Entry) এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভোগের নিমিত্ত প্রবেশ করিয়াছে বলিয়া শুল্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ছাড়কৃত দলিল ; (খ) সরবরাহের ক্ষেত্রে, সরবরাহকারী কর্তৃক ইস্যুকৃত কর চালানপত্র ; (গ) উৎসে কর কর্তনকারী সত্তার ক্ষেত্রে, সরবরাহকারী কর্তৃক ইস্যুকৃত সমন্বিত কর চালানপত্র এবং উৎসে কর কর্তন সনদপত্র। (৫) আমদানিকৃত সেবার সরবরাহ গ্রহীতা উক্ত সরবরাহের বিপরীতে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করিতে পারিবে না, যদি উক্ত সরবরাহ গ্রহীতা মূসক দাখিলপত্রে আমদানিকৃত সেবা সরবরাহের উপর প্রদেয় উৎপাদ কর অন্তর্ভুক্ত না করেন। (৬) যে কর মেয়াদে মূসক পরিশোধ করা হয়, সেই কর মেয়াদে বা তৎপরবর্তী দুইটি কর মেয়াদের মধ্যে নিবন্ধিত ব্যক্তি কর্তৃক উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করিতে হইবে এবং উক্ত সময়ের পর উক্ত রেয়াত গ্রহণের দাবী তামাদি হইবে।

৪৭। আংশিক উপকরণ কর রেয়াত

৪৭। (১) যেক্ষেত্রে একজন নিবন্ধিত ব্যক্তি কোন করযোগ্য সরবরাহের আংশিক পণ পরিশোধ করেন বা পরিশোধে দায়ী থাকেন, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি যে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করিতে পারিবেন, তাহা উক্ত ব্যক্তি যে পরিমাণ পণ পরিশোধ করেন বা পরিশোধ করিতে দায়ী থাকেন সেই পরিমাণের ভিত্তিতে নিরূপণ করিতে হইবে। (২) কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি কোন কর মেয়াদে আমদানি বা অর্জনের বিপরীতে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করিতে পারিবেন; তবে, পূর্ণ উপকরণ কর রেয়াত প্রাপ্য না হইলে তদীয় সমুদয় আমদানি বা অর্জনের ক্ষেত্রে উপকরণ কর রেয়াত প্রাপ্যতা উপ-ধারা (৩) এর অধীন নিরূপণ করিতে হইবে। (৩) প্রতি কর মেয়াদে এই ধারার সহিত সংশ্লিষ্ট আমদানি কিংবা অর্জনের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করা যাইবে উহা নিম্নবর্ণিত সূত্র অনুযায়ী নিরূপণ করিতে হইবে: I x T/A যেক্ষেত্রে― I হইলো এই উপ-ধারার সহিত সংশ্লিষ্ট আমদানি কিংবা অর্জনের উপর যে পরিমাণ উপকরণ করের উদ্ভব হয় তাহার মোট পরিমাণ এবং যাহার নিমিত্তে উক্ত কর মেয়াদে রেয়াত দাবি করা হয়; T হইলো কোন কর মেয়াদে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত সকল করযোগ্য সরবরাহের মূল্য; এবং A হইলো কোন কর মেয়াদে নিবন্ধিত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত সকল সরবরাহের মূল্য। (৪) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড নির্ধারণ করিতে পারিবে যে,― (ক) কোন উপাদান উক্ত সূত্রের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হইবে বা অন্তর্ভুক্ত হইবে না; (খ) কখন এবং কিভাবে T/A ভগ্নাংশ পূর্ণ সংখ্যায় উন্নীত বা অবনত করা হইবে; (গ) পঞ্জিকা বর্ষ শেষে সম্পাদিত কোন বার্ষিক সমন্বয়; (ঘ) আর্থিক সেবা সরবরাহকারীর আংশিক উপকরণ কর রেয়াত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি; (ঙ) মূলধনী সম্পদের বিপরীতে সাধিত অতিরিক্ত সমন্বের ক্ষেত্রে দাবিকৃত উপকরণ কর রেয়াতের সহিত সম্পদের প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।

৪৮। সমন্বয়

৪৮। কোন সমন্বয় ঘটনা সংঘটিত হইলে, নির্ধারিত পরিমাণ, শর্ত, সময়সীমা ও পদ্ধতিতে করদাতা নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন করিতে পারিবেন, যথা:- (ক) উৎসে কর্তিত করের বৃদ্ধিকারী বা হ্রাসকারী সমন্বয়; (খ) বাৎসরিক পুনঃহিসাব প্রণয়নের ফলে প্রযোজ্য বৃদ্ধিকারী বা হ্রাসকারী সমন্বয়; (গ) ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ না করিবার কারণে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়; (ঘ) ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত পণ্যের ক্ষেত্রে, বৃদ্ধিকারী সমন্বয়; (ঙ) নিবন্ধিত হওয়ার ক্ষেত্রে, উপকরণ কর ও মূসক বৃদ্ধিকারী সমন্বয়; (চ) নিবন্ধন বাতিলকরণের ক্ষেত্রে, বৃদ্ধিকারী সমন্বয়; (ছ) সুদ, জরিমানা, অর্থদ-, ফি, ইত্যাদি পরিশোধ সংক্রান্ত বৃদ্ধিকারী সমন্বয়; (জ) পুনঃবিক্রয়ের নিমিত্ত ক্রীত সেকেন্ড-হ্যান্ড পণ্যের ক্ষেত্রে, হ্রাসকারী সমন্বয়; (ঝ) বীমা সংক্রান্ত হ্রাসকারী সমন্বয়; (ঞ) লটারী, লাকী ড্র, র‌্যাফেল ড্র, হাউজি এবং অনুরূপ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে, হ্রাসকারী সমন্বয়; (ট) করহার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, বৃদ্ধিকারী বা হ্রাসকারী সমন্বয়; (ঠ) পূর্ববর্তী কর মেয়াদ হইতে ঋণাত্মক জের টানার নিমিত্ত হ্রাসকারী সমন্বয়; (ড) পূর্ববর্তী কর মেয়াদে অতিরিক্ত পরিশোধিত মূসক হ্রাসকারী সমন্বয়; বা (ঢ) নির্ধারিত অন্য কোন বৃদ্ধিকারী বা হ্রাসকারী সমন্বয়।

৪৯। উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা কর্তৃক উৎসে কর কর্তন ও বৃদ্ধিকারী সমন্বয়

৪৯। (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, উৎসে কর্তনকারী সত্তা ব্যতীত কোন সরবরাহকারী উৎসে কর কর্তনকারী সত্তার নিকট চুক্তি, টেন্ডার বা কার্যাদেশের অধীন ১০ (দশ) হাজার টাকার অধিক মূল্যের অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা শূন্যহার বিশিষ্ট নয় এমন সরবরাহ প্রদান করিলে, উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা উক্ত সরবরাহকারীর নিকট পরিশোধযোগ্য পণ হইতে উক্ত সরবরাহের কর-ভগ্নাংশের অনধিক এক-তৃতীয়াংশ উৎসে কর্তন করিবে। (২) সরবরাহকারী নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত না হইলে এবং সমন্বিত কর চালানপত্র এবং উৎসে কর কর্তন সনদপত্র জারি না করিলে, উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা সরবরাহকারীর নিকট হইতে কোন সরবরাহ গ্রহণ করিবে না এবং সরবরাহকারীকে উক্ত সরবরাহের বিপরীতে কোন মূল্য পরিশোধ করিবে না। (৩) উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা কর্তিত মূসকের পরিমাণ বৃদ্ধিকারী সমন্বয় সাধন করিবে এবং নিম্নবর্ণিত সময় ও পদ্ধতিতে কর্তিত মূসক পরিশোধ করিবে, যথা:- (ক) উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা নিবন্ধিত হইলে, যে সরবরাহের উপর উৎসে কর কর্তন করা হইয়াছে সেই সরবরাহ সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদের দাখিলপত্র পেশ করিবার সময়; এবং (খ) উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা নিবন্ধিত না হইলে, নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতিতে। (৪) উৎসে কর কর্তন এবং সরকারি কোষাগারে জমা প্রদানের জন্য উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা এবং সরবরাহকারী যৌথ ও পৃথকভাবে দায়ী থাকিবে।

৫০। উৎসে কর কর্তনের পর সরবরাহকারী কর্তৃক হ্রাসকারী সমন্বয়

৫০। (১) উৎসে কর কর্তন করা হইলে, নিবন্ধিত ব্যক্তি উৎসে কর্তিত অর্থের সমপরিমাণ অর্থ নির্ধারিত পদ্ধতিতে হ্রাসকারী সমন্বয় সাধন করিতে পারিবেন। (২) যে কর মেয়াদে কোন সরবরাহের উপর প্রদেয় কর পরিশোধ করা হয়, সেই কর মেয়াদে বা সেই কর মেয়াদের পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে উক্ত সমন্বয় সাধন করিতে হইবে এবং উক্ত সময়ের পর সমন্বয় দাবী তামাদি হইবে। (৩) সরবরাহকারী উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা বরাবরে সমন্বিত কর চালানপত্র এবং উৎসে কর কর্তন সনদপত্র ইস্যু না করিলে, হ্রাসকারী সমন্বয় গ্রহণ করিতে পারিবে না।

৫১। কর চালানপত্র

৫১। (১) প্রত্যেক নিবন্ধিত সরবরাহকারী করযোগ্য সরবরাহের উপর যে তারিখে মূসক প্রদেয় হইবে সেই তারিখ বা তৎপূর্বে নিম্নবর্ণিত তথ্যসম্বলিত একটি সংখ্যানুক্রমিক করচালানপত্র জারি করিবেন, যথা:- (ক) চালানপত্র প্রদানের তারিখ ও সময়; (খ) সরবরাহকারীর নাম, ঠিকানা, ও ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা; (গ) সরবরাহমূল্য ২৫,০০০.০০ (পঁচিশ হাজার) টাকার অধিক হইলে ক্রেতার নাম, ঠিকানা, ও ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা; (ঘ) সরবরাহকৃত পণ্যের বর্ণনা, পরিমাণ, সরবরাহ প্রদানের প্রকৃত তারিখ ও সময়; (ঙ) সরবরাহ মূল্য (মূসক ব্যতীত); (চ) সরবরাহের উপর প্রযোজ্য মূসক হার; (ছ) প্রদেয় মূসকের পরিমাণ; (জ) সরবরাহ মূল্য এবং প্রদেয় মূসকের যোগফল; এবং (ঝ) বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন তথ্য। (২) কোন কর চালানপত্রে উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এ উল্লি¬খিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত না থাকিলে, উক্ত চালানপত্রের বিপরীতে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করা যাইবে না। (৩) যে ক্ষেত্রে ধারা ৫৩ প্রযোজ্য হইবে, সে ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না।

৫২। ক্রেডিট নোট এবং ডেবিট নোট

৫২। (১) ক্রেডিট বা ডেবিট নোটে নিম্নবর্ণিত তথ্যাবলী অন্তর্ভুক্ত থাকিতে হইবে, যথা:― (ক) ডেবিট বা ক্রেডিট নোটের ক্রমিক নম্বর, ইস্যুর তারিখ ও সময়; (খ) সরবরাহকারীর নাম, ঠিকানা ও ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা; (গ) প্রাসঙ্গিক মূল কর চালানপত্রের ক্রমিক নম্বর, তারিখ ও সময়; (ঘ) সমন্বয়ের প্রকৃতি; (ঙ) মূসকের পরিমাণের উপর প্রভাব; (চ) সরবরাহের উপর প্রদেয় মূসকের প্রভাব ৫,০০০.০০ (পাঁচ হাজার) টাকার অধিক হইলে সরবরাহ গ্রহীতার নাম, ঠিকানা ও ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা; এবং (ছ) সমন্বয় ঘটনার কারণে বৃদ্ধিকারী বা হ্রাসকারী সমন্বয়ের পরিমাণ সনাক্তকরণের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় তথ্য। (২) কোন ক্রেডিট নোটে উপ-ধারা (১) এর দফা (চ) এ উল্লিখিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত না থাকিলে, উক্ত ক্রেডিট নোট হ্রাসকারী সমন্বয় দাবীর সমর্থনে ব্যবহার করা যাইবে না।

৫৩। সমন্বিত কর চালানপত্র এবং উৎসে কর কর্তন সনদপত্র

৫৩। (১) উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা ব্যতীত কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি যিনি উৎসে কর কর্তনকারী সত্তার নিকট কোন সরবরাহ প্রদান করেন, তিনি উক্ত সরবরাহের উপর যে তারিখে মূসক প্রদেয় হয় সেই তারিখ বা তৎপূর্বে নির্ধারিত তথ্য সম্বলিত একটি সমন্বিত কর চালানপত্র এবং উৎসে কর কর্তন সনদপত্র ইস্যু করিবেন। (২) সমন্বিত কর চালানপত্র এবং উৎসে কর কর্তন সনদপত্রের আকার ও ধরন বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হইবে। (৩) সমন্বিত কর চালানপত্র এবং উৎসে কর কর্তন সনদপত্রের অনুলিপি সরবরাহকারীকে তাহার অন্যান্য রেকর্ডপত্রের সহিত নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত সংরক্ষণ করিতে হইবে যাহা উৎসে কর কর্তনকারী ব্যক্তি কর্তৃক সত্যায়িত হইতে হইবে।

৫৪। কর দলিলাদি সংক্রান্ত অন্যান্য বিধান

৫৪। কর দলিলাদি ও উহার অনুলিপি ইস্যু, সংরক্ষণ ও দাখিলের শর্ত , পদ্ধতি, সময়সীমা, ইত্যাদি সংক্রান্ত বিধান বোর্ড বিধি দ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।

৫৫। সম্পূরক শুল্ক আরোপ

৫৫। (১) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য আমদানির উপর, বাংলাদেশে প্রস্ত্ততকৃত সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য সরবরাহের উপর এবং বাংলাদেশে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য সেবা সরবরাহের উপর সম্পূরক শুল্ক আরোপিত এবং প্রদেয় হইবে। (২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভোগের নিমিত্ত আমদানি না করিয়া রপ্তানির নিমিত্ত আমদানি করা হইলে, উক্ত পণ্যের আমদানির উপর কোন সম্পূরক শুল্ক আরোপিত হইবে না। (৩) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের তৃতীয় অধ্যায় এর অধীন শূন্যহার বিশিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য বা সেবা সরবরাহের উপর সম্পূরক শুল্ক আরোপিত হইবে না। (৪) প্রদেয় সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ হইবে- (ক) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য কোন পণ্য বা সেবার উপর দ্বিতীয় তফসিলের কলাম (৪) এ কোন সম্পূরক শুল্ক হার সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকিলে, উক্ত পণ্য বা সেবার সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য মূল্যের সহিত উক্ত হার গুণ করিয়া নিরূপিত অর্থ; বা (খ) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য কোন পণ্য বা সেবার উপর দ্বিতীয় তফসিলের কলাম (৪) এ সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকিলে, উক্ত পরিমাণ। (৫) কোন সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য বা সেবা সরবরাহের উপর কেবলমাত্র একটি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক প্রদেয় হইবে।

৫৬। সম্পূরক শুল্ক পরিশোধে দায়ী ব্যক্তি

৫৬। নিমণবর্ণিত ব্যক্তিকে সম্পূরক শুল্ক প্রদান করিতে হইবে, যথা:― (ক) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে: আমদানিকারক; (খ) বাংলাদেশে প্রস্ত্ততকৃত সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে: সরবরাহকারী; বা (গ) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে: ভিন্নরূপ নির্ধারিত না থাকিলে সেবা সরবরাহকারী।

৫৭। সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য মূল্য

৫৭। সম্পূরক শুল্ক আরোপের উদ্দেশ্যে পণ্য বা সেবার সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য মূল্য হইবে নিম্নরূপ, যথা:― (ক) আমদানিকৃত সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে, শুল্ক আইনের ধারা ২৫ বা ধারা ২৫(ক) এর অধীন আমদানি শুল্ক আরোপনীয় মূল্যের সহিত আমদানি শুল্ক এবং রেগুলেটরী ডিউটি (যদি থাকে) যোগ করিয়া যে মূল্য হয় সেই মূল্য; (খ) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য বা সেবার সরবরাহের ক্ষেত্রে, পণ্য বা সেবার করযোগ্য সরবরাহের মূল্য হইবে ধারা ৩২ অনুযায়ী নির্ণীত মূল্য হইতে সম্পূরক শুল্ক বিয়োগ করিয়া: তবে শর্ত থাকে যে, সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য বা সেবা পণবিহীন বা অপর্যাপ্ত পণবিশিষ্ট হইলে, উহার সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য মূল্য হইবে উক্ত সরবরাহের কর-ভগ্নাংশ হ্রাসকৃত ন্যায্য বাজার মূল্য হইতে সম্পূরক শুল্ক বিয়োগ করিয়া; এবং (গ) যে পণ্যের ক্ষেত্রে খুচরা মূল্যের ভিত্তিতে মূসক আরোপিত হইবে, সেই পণ্যের ক্ষেত্রে, ধারা ৫৮(২) এ বর্ণিত খুচরা মূল্য সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য মূল্য বলিয়া বিবেচিত হইবে।

৫৮। তামাক এবং এ্যালকোহলযুক্ত পণ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিকল্প (special scheme)

৫৮। (১) বাংলাদেশে প্রস্ত্ততকৃত নিম্নবর্ণিত সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের উপর সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং আদায়ের উদ্দেশ্যে বোর্ড, এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধানাবলী সাপেক্ষে, উক্ত পণ্যের প্রস্ত্ততকারকের জন্য আবশ্যকীয় বিশেষ পরিকল্প প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথা:― (ক) তামাকজাত পণ্য বা উহার মিশ্রিত পণ্যসহ সমতুল্য অন্য কোন পণ্য; বা (খ) মদ জাতীয় পানীয়, মদ জাতীয় পানীয়ের উপকরণ বা সমতুল্য অন্য কোন পণ্য। (২) উক্ত বিশেষ পরিকল্প দ্বারা বোর্ড উক্ত পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং উক্ত মূল্য মূসক এবং সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য মূল্য হিসাবে গণ্য হইবে। (৩) উক্ত বিশেষ পরিকল্পে নিম্নবর্ণিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথা:― (ক) উক্ত পণ্যের মোড়ক, বোতল, পাত্র বা ধারকে বা উহার গায়ে নিরাপত্তামূলক বৈশিষ্ট্য সম্বলিত স্ট্যাম্প, ব্যান্ডরোল বা বিশেষ চিহ্ন বা বিশেষ আকারের এবং ডিজাইনের ছাপ সংক্রান্ত বা অনুরূপ কোন বিষয়; এবং (খ) উক্ত স্ট্যাম্প, ব্যান্ডরোল বা বিশেষ চিহ্ন বা ছাপের প্রস্ত্ততকরণ, অর্জন, বিতরণ, সংরক্ষণ, ব্যবহার, তদারকি, পর্যবেক্ষণ, হিসাব-নিকাশ, নিষ্পত্তিকরণ, ইত্যাদি সংক্রান্ত বা অনুরূপ কোন বিষয়।

৫৯। আমদানির উপর সম্পূরক শুল্ক আদায়

৫৯। (১) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের উপর যে সময় ও পদ্ধতিতে আমদানি শুল্ক আদায় করা হয়, সেই একই সময় ও পদ্ধতিতে, সম্পূরক শুল্ক আদায় করিতে হইবে। (২) এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে, সম্পূরক শুল্ক আদায় এবং পরিশোধের উদ্দেশ্যে শুল্ক আইনের বিধানাবলী (প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং অভিযোজনসহ) এমনভাবে প্রযোজ্য হইবে যেন আমদানির উপর প্রদেয় সম্পূরক শুল্ক একটি আমদানি শুল্ক। (৩) উপ-ধারা (২) এর বিধানাবলীর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, শুল্ক আইনের অধীন কোন পরিমাণ বন্ড বা গ্যারান্টির দাবী করা হইলে, উহা এমনভাবে হিসাব করিতে হইবে যেন প্রদেয় সম্পূরক শুল্ক আমদানি পণ্যের উপর একটি আমদানি শুল্ক।

৬০। সরবরাহের উপর সম্পূরক শুল্ক আদায়

৬০। (১) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য বা সেবা সরবরাহের উপর যে সময়ে মূসক প্রদেয় হইবে, সেই একই সময়ে সম্পূরক শুল্ক প্রদেয় হইবে। (২) সম্পূরক শুল্ক পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তি দাখিলপত্রে সম্পূরক শুল্ক সংক্রান্ত তথ্যাদি উল্লেখ করিবেন।

৬১। সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের অনুমিত সরবরাহ

৬১। (১) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য প্রস্ত্ততকারী কোন ব্যক্তি যদি তৎকর্তৃক সরবরাহকৃত পণ্যের পরিমাণের বিষয়ে নিরীক্ষাকালে হিসাব প্রদান করিতে না পারেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি পণ্যসমূহ ন্যায্য বাজার মূল্যে সরবরাহ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে। (২) যদি উক্ত পণ্য নিম্নবর্ণিত কোন কারণে নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহা হইলে সম্পূরক শুল্ক প্রদেয় হইবে না, যথা:― (ক) অগ্নিকা- বা অন্য কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে; বা (খ) কোন ব্যক্তির নিকট সরবরাহকৃত না হইয়া ক্ষয়প্রাপ্ত, ক্ষতিগ্রস্ত বা নিঃশেষ হওয়ার কারণে।

৬২। সম্পূরক শুল্কের নিমিত্ত হ্রাসকারী সমন্বয়

৬২। সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য আমদানিকারী ব্যক্তি নির্ধারিত পদ্ধতি ও সময়ে আমদানির উপর তৎকর্তৃক পরিশোধিত সম্পূরক শুল্কের হ্রাসকারী সমন্বয় সাধন করিতে পারিবেন যদি পণ্যটি শুল্ক আইনের অধীন শুল্ক করাদি প্রত্যর্পণের (Drawback) শর্তাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

৬৩। টার্নওভার কর আরোপ ও আদায়

৬৩। (১) তালিকাভুক্ত বা তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তি তাহার অর্থনৈতিক কার্যক্রমের টার্নওভারের উপর ৩ (তিন) শতাংশ হারে টার্নওভার কর প্রদান করিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পরিশোধিত আগাম করের পরিমাণ উক্ত টার্নওভার কর হইতে সমন্বয় করিতে হইবে। (২) কোন তালিকাভুক্ত ব্যক্তির কোন কর মেয়াদে প্রদেয় টার্নওভার কর, উক্ত কর মেয়াদের দাখিলপত্র পেশ করিবার পূর্বে পরিশোধ করিতে হইবে। (৩) প্রদেয় টার্নওভার কর নিরূপণ ও আদায় পদ্ধতি, হিসাবরক্ষণ, টার্নওভার কর প্রত্যর্পণ, ন্যায়-নির্ণয়ন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

৬৪। দাখিলপত্র পেশ

৬৪। (১) প্রত্যেক নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত বা নিবন্ধনযোগ্য বা তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তিকে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রত্যেক কর মেয়াদের জন্য মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করিতে হইবে। (২) মূসক দাখিলপত্রে সম্পূরক শুল্ক পরিশোধের তথ্যাদি অন্তর্ভুক্ত করিয়া উক্ত দাখিলপত্রে পেশ করিতে হইবে।

৬৫। বিলম্বে দাখিলপত্র পেশ

৬৫। নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে আবেদনের ভিত্তিতে কমিশনার কোন ব্যক্তিকে বিলম্বে দাখিলপত্র পেশ করিবার জন্য অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন, তবে উক্ত অনুমতি কর পরিশোধের প্রকৃত তারিখকে ১ (এক) মাসের অধিক বর্ধিত করিবে না বা সুদ পরিশোধের দায়-দায়িত্বকে পরিবর্তন করিবে না।

৬৬। দাখিলপত্রে সংশোধন

৬৬। নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে করদাতার আবেদনক্রমে কমিশনার দাখিলপত্রের কোন করণিক ক্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করিয়া সংশোধিত দাখিলপত্র পেশ করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন; তবে, যে পারিপার্শ্বিকতার ভিত্তিতে এই ধারার অধীন সংশোধনীর ফলে হ্রাসকৃত সমন্বয়ের উদ্ভব হইবে এবং জরিমানা পরিশোধ ব্যতীত দাখিলপত্র দাখিল করা যাইবে তাহা বোর্ড নির্ধারণ করিতে পারিবে।

৬৭। পূর্ণ, অতিরিক্ত বা বিকল্প দাখিলপত্র পেশ

৬৭। নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে কমিশনার নোটিশের মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে কোন একটি কর মেয়াদের জন্য পূর্ণ, অতিরিক্ত বা বিকল্প দাখিলপত্র পেশ করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং উক্ত নিবন্ধিত ব্যক্তি কোন নির্দিষ্ট কর মেয়াদে মূল দাখিলপত্র পেশ না করিবার ক্ষেত্রেও অনুরূপ আদেশ প্রদান করা যাইবে।

৬৮। ঋণাত্মক নীট অর্থ জের টানা ও ফেরত প্রদান

৬৮। (১) যদি কোন কর মেয়াদে উপকরণ কর এবং প্রাপ্য হ্রাসকারী সমন্বয়ের সমষ্টি, উৎপাদ কর, সম্পূরক শুল্ক এবং বৃদ্ধিকারী সমন্বয়ের সমষ্টিকে অতিক্রমের কারণে উক্ত কর মেয়াদে প্রদেয় নীট অর্থের পরিমাণ ঋণাত্মক হয়, তাহা হইলে― (ক) নির্মাণ, গৃহ নির্মাণ, ভূমি উন্নয়ন বা সম্পত্তি উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে: অতিরিক্ত পরিমাণ অর্থ অনির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত জের টানিতে হইবে এবং এই ধারা অনুযায়ী পরবর্তী কর মেয়াদসমূহে উক্ত অর্থ বিয়োজন করা যাইবে; এবং (খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে: অতিরিক্ত পরিমাণ অর্থ জের টানিতে হইবে এবং পরবর্তী ছয়টি কর মেয়াদে উক্ত অর্থ বিয়োজন করা যাইবে, তৎপরবর্তীতে অবশিষ্ট অর্থ এই ধারা অনুসারে ফেরৎ প্রদান করিতে হইবে। (২) নির্মাণ, গৃহ নির্মাণ, ভূমি উন্নয়ন বা সম্পত্তি উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কোন নিবন্ধিত ব্যক্তিকে পূর্ববর্তী কর মেয়াদ হইতে জের টানা অতিরিক্ত অর্থের বিপরীতে হ্রাসকারী সমন্বয় প্রদান করিতে হইবে। (৩) যেক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) প্রযোজ্য হইবে না, সেক্ষেত্রে কোন নিবন্ধিত ব্যক্তিকে পূর্ববর্তী কর মেয়াদ হইতে জের টানা অতিরিক্ত অর্থ নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে হ্রাসকারী সমন্বয় প্রদান করিতে হইবে― (ক) সকল উৎপাদ করের পরিমাণ এবং এই ধারার অধীন প্রদত্ত সমন্বয় ব্যতীত অন্যান্য সমুদয় সমন্বয় হিসাবে লইয়া পরবর্তী কর মেয়াদে উক্ত মেয়াদের জন্য প্রদেয় করের পরিমাণ নির্ধারণ করিতে হইবে; (খ) যদি নিরূপিত অর্থের পরিমাণ ধনাত্মক হয়, তবে― (অ) পূর্বের কর মেয়াদ হইতে জের টানা অতিরিক্ত অর্থের এমন অংশ হ্রাসকারী সমন্বয় প্রদান করিতে হইবে যাহাতে প্রদেয় অর্থের পরিমাণ শূন্যে হ্রাস পায়; এবং (আ) জের টানা অতিরিক্ত অর্থ সময়ের ক্রমানুসারে সমন্বয় সাধন করিতে হইবে, সর্বাপেক্ষা পূর্বের জের প্রথমে এবং সর্বাপে ক্ষা া নতুন জের শেষে সমন্বয় সাধন করিতে হইবে; (গ) পূর্বের কর মেয়াদ হইতে জের টানা যে পরিমাণ অর্থ দফা (খ) এর অধীন সমন্বয় করা যাইবে না, উহা ততক্ষণ পর্যন্ত জের টানিতে হইবে, যতক্ষণ না― (অ) কোন কর মেয়াদের জন্য জের টানা সমুদয় অতিরিক্ত অর্থ বিয়োজিত হয়; বা (আ) নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য জের টানা অতিরিক্ত অর্থের আংশিক বা সমুদয় পরিমাণ ছয়টি কর মেয়াদ পর্যন্ত জের টানা হয়। (৪) যদি অতিরিক্ত অর্থের আংশিক বা সমুদয় পরিমাণ সমন্বয় ব্যতিরেকে ছয়টি কর মেয়াদ যাবৎ জের টানা হইয়া থাকে, তাহা হইলে― (ক) অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ৫০,০০০.০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকার অধিক না হইলে উক্ত পরিমাণ শূন্যে হ্রাস না পাওয়া পর্যন্ত উহার জের টানিতে হইবে, বা (খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, উক্ত পরিমাণ অর্থ নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে আবেদন প্রাপ্তির ৩ (তিন) মাসের মধ্যে ফেরৎ প্রদান করিতে হইবে। (৫) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি নির্মাণ, গৃহ নির্মাণ বা সম্পত্তি উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কাযক্রম উভয়ই পরিচালনা করেন; সেক্ষেত্রে সমুদয় ঋণাত্মক নীট অর্থের পরিমাণ উপ-ধারা (২) এর বিধানসমূহের অধীন জের টানিতে হইবে, যদি না উক্ত ব্যক্তি ধারা (৫) এর অধীন নির্মাণ, গৃহ নির্মাণ বা সম্পত্তি উন্নয়ন কার্যক্রম এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বিষয়ে পৃথকভাবে নিবন্ধিত হন। (৬) অন্যান্য খাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিসমূহের মধ্যে নির্মাণ, গৃহ নির্মাণ এবং সম্পত্তি উনণয়নের খাতসমূহের পর্যায়ক্রমিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান সংক্রান্ত বিধিসহ ঋণাত্মক জের টানিবার নিমিত্তে কর মেয়াদের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে হ্রাস করিয়া বোর্ড বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

৬৯। ঋণাত্মক নীট পরিমাণ অর্থ জের টানা ব্যতিরেকে ফেরৎ প্রদান

৬৯। (১) ধারা ৬৮ এর বিধানাবলী সত্ত্বেও, কোন নিবন্ধিত ব্যক্তির প্রদেয় অর্থের পরিমাণ ঋণাত্মক হইলে, তিনি উহা ফেরৎ পাওয়ার অধিকারী হইবেন, যদি কমিশনার নিশ্চিত হন যে,― (ক) উক্ত ব্যক্তির টার্নওভারের ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশ বা তদূর্ধ্ব তৃতীয় অধ্যায় এর অধীন শূন্যহার বিশিষ্ট সরবরাহ হইতে উদ্ভূত হয় বা হইবে; (খ) উক্ত ব্যক্তির উপকরণ ব্যয়ের ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশ বা তদূর্ধ্ব আমদানি বা অর্জন তৃতীয় অধ্যায় এর অধীন শূন্য করহার বিশিষ্ট সরবরাহ প্রস্ত্ততে ব্যবহৃত হয়; (গ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, কমিশনার যদি এই মর্মে নিশ্চিত হন যে, উক্ত ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রকৃতির ফলে (যে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ধারা ৬৮ এর উপ-ধারা (২) প্রযোজ্য নহে) নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত উপকরণ কর রেয়াতের উদ্ভব হয়। (২) এই ধারার অধীন নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে অর্থ ফেরৎ লাভের জন্য আবেদন করা হইলে,― (ক) অর্থের পরিমাণ অনূধর্ব ৫০,০০০.০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা হইলে, উক্ত অর্থ পরবর্তী কর মেয়াদে হ্রাসকারী সমন্বয় হিসাবে জের টানিতে হইবে; বা (খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, আবেদনের তারিখ হইতে ৩ (তিন) মাসের মধ্যে কমিশনার উক্ত অর্থ ফেরৎ প্রদান করিবেন।

৭০। ফেরৎ প্রদত্ত অর্থের প্রয়োগ

৭০। (১) ধারা ৬৮ বা ধারা ৬৯ এর অধীন কোন ব্যক্তিকে অর্থ ফেরৎ প্রদান করা হইবে না, যদি না এবং যতক্ষণ না আবেদনকারী চলতি কর মেয়াদ পর্যন্ত সকল মূসক দাখিলপত্র পেশ করেন। (২) কোন ব্যক্তির নিকট ফেরৎ দাবিকৃত অর্থ প্রদেয় হইলে, কমিশনার ফেরৎযোগ্য অর্থ হইতে প্রথমে এই আইনের অধীন উক্ত ব্যক্তির নিকট পাওনা বকেয়া করের দায়-দেনা (সুদ, দ- বা জরিমানাসহ) হ্রাস করিবেন। (৩) উপ-ধারা (২) প্রয়োগের পর, যদি কোন অর্থ অবশিষ্ট থাকে এবং উহার পরিমাণ অনূধর্ব ৫০,০০০.০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা হয়, তাহা হইলে কমিশনার উহা ফেরৎ প্রদান না করিয়া উক্ত অর্থ বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত কোন কর মেয়াদে হ্রাসকারী সমন্বয় হিসাবে গণ্য করিবার লক্ষ্যে নিবন্ধিত ব্যক্তিকে অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন।

৭১। কূটনৈতিক এবং অন্যান্য আমত্মর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত কর ফেরত প্রদান

৭১। (১) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি-বিধানে উল্লিখিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, কমিশনার নিম্নবর্ণিত সরবরাহের উপর প্রদত্ত কর ফেরত প্রদান করিতে পারিবেন, যথা:― (ক) আপাতত: বাংলাদেশে বলবৎ কোন কনভেনশন বা অনুরূপ আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীন মূসক হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহ; বা (খ) বাংলাদেশে অধিষ্ঠিত বিদেশী রাষ্ট্রের কূটনৈতিক বা কনস্যুলার মিশনের আনুষ্ঠানিক উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রদত্ত সরবরাহ। (২) উপ-ধারা (১) এ উলিস্নখিত ব্যক্তির নিকট প্রদত্ত সরবরাহ অব্যাহতি প্রদান বা শূন্যহার বিশিষ্ট না করিয়া ফেরৎ প্রদানের মাধ্যমে কার্যকর করা হইবে।

৭২। অতিরিক্ত পরিশোধিত কর সমন্বয় বা ফেরত প্রদান

৭২। যদি কোন ব্যক্তি কোন কর মেয়াদের দাখিলপত্রে প্রদর্শিত প্রদেয় করের তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণ কর পরিশোধ করেন, তাহা হইলে নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে উক্ত অর্থ ফেরত গ্রহণের জন্য আবেদন করা যাইবে বা পরবর্তী দাখিলপত্রে হ্রাসকারী সমন্বয় সাধন করা যাইবে।

৭৩। কর নির্ধারণ

৭৩। (১) কমিশনার নিমণবর্ণিত ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া তৎকর্তৃক প্রদেয় করের পরিমাণ নির্ধারণ করিতে পারিবেন, যথা:― (ক) যদি কমিশনার দাখিলপত্র পরীক্ষা করিয়া দাখিলপত্রের যথার্থতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট না হন বা যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাস করেন যে,- (অ) কোন দাখিলপত্রে উক্ত ব্যক্তি উৎপাদ কর, সম্পূরক শুল্ক বা বৃদ্ধিকারী বা হ্রাসকারী সমন্বয়ের বিষয়ে মিথ্যা ঘোষণা বা অসত্য বর্ণনা প্রদান করিয়াছেন, বা অনিয়মিতভাবে উপকরণ কর রেয়াত বা হ্রাসকারী সমন্বয় গ্রহণ করিয়াছেন; বা (আ) টার্নওভার কর দাখিলপত্রে উক্ত ব্যক্তি কোন কর মেয়াদে তাহার টার্নওভার সম্পর্কে মিথ্যা ঘোষণা প্রদান করিয়াছেন; (খ) যদি উক্ত ব্যক্তি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করিতে ব্যর্থ হন; (গ) যদি উক্ত ব্যক্তি প্রদেয় কর পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হন; বা (ঘ) যদি উক্ত ব্যক্তি অর্থ ফেরত লাভের বা প্রত্যর্পণ পাওয়ার অধিকারী না হওয়া সত্ত্বেও তাহার বরাবরে অর্থ ফেরত প্রদান বা প্রত্যর্পণ প্রদান করা হয়। (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ক্ষেত্রে, কমিশনার কোন ব্যক্তির কর নির্ধারণ বা সংশোধিত কর নির্ধারণ করিবার ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) কার্যদিবসের মধ্যে উক্ত ব্যক্তির উপর নোটিশ জারি করিবেন, যাহাতে অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যের সহিত নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি উল্লেখ থাকিবে, যথা:- (ক) কর নির্ধারণের কারণ, কর নির্ধারণের ফলে প্রদেয় করের পরিমাণ এবং যাহার ভিত্তিতে উক্ত পরিমাণ কর নির্ধারণ করা হইয়াছে উহার বিবরণ; (খ) যে তারিখের মধ্যে কর প্রদান করিতে হইবে সেই তারিখ; তবে, উক্ত তারিখ নোটিশ জারির তারিখ হইতে কমপক্ষে ১৫ (পনের) কার্যদিবস পরে হইতে হইবে; এবং (গ) কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করিবার স্থান ও সময়। (৩) কমিশনার কর মেয়াদ সমাপ্তির ৫ (পাঁচ) বৎসরের অধিককাল পরে উল্লিখিত কর মেয়াদের জন্য সংশোধিত কর নির্ধারণসহ কোন কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন না, যদি না― (ক) নিবন্ধিত ব্যক্তি দাখিলপত্র পেশকরণে ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা বা প্রতারণা করেন; কোন কর মেয়াদের জন্য দাখিলপত্র পেশ না করেন; বা কর মেয়াদে প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করিয়া অর্থ ফেরত প্রদানের জন্য আবেদন করেন; বা (খ) নিবন্ধিত ব্যক্তি কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোন তথ্য গোপন করেন, বিকৃত করেন বা মিথ্যা তথ্য প্রদানপূর্বক কর চালানপত্র ইস্যু করেন বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই সকল বা অন্য কোন অপরাধ করেন; বা (গ) আদালত বা আপীলাত ট্রাইব্যুনাল বা মূল্য সংযোজন কর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কার্যকরকরণের জন্য সংশোধিত কর নির্ধারণ প্রয়োজন হয়। (৪) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে, এই ধারার কোন কিছুই কমিশনারকে কোন সুদ বা জরিমানা আরোপে ও আদায়ে বাধা সৃষ্টি করিবে না, যথা:― (ক) প্রদেয় মূসক, সম্পূরক শুল্ক বা টার্নওভার কর পরিশোধের মূল ধার্য তারিখ হইতে হিসাব করিবার ক্ষেত্রে; বা (খ) কোন ব্যক্তি অর্থ ফেরত লাভের অধিকারী না হওয়া সত্ত্বেও, যদি তাহাকে কোন অর্থ ফেরত প্রদান করা হয় এবং উপর্যুক্তভাবে ফেরত প্রদানকৃত অর্থ সমন্বয়ের নিমিত্ত কোন কর নির্ধারণের উদ্ভব হয়, তাহা হইলে যেই তারিখে উক্ত ব্যক্তিকে অর্থ ফেরত প্রদান করা হইয়াছিল, সেই তারিখ হইতে হিসাব করিবার ক্ষেত্রে।

৭৪। সরবরাহ গ্রহীতার মিথ্যা ঘোষণা

৭৪। (১) সরবরাহ গ্রহীতা কর্তৃক প্রতারণামূলক মিথ্যা বর্ণনার কারণে, যদি কোন সরবরাহকারী ভুলবশতঃ করযোগ্য সরবরাহকে শূন্যহার বিশিষ্ট সরবরাহ বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহ গণ্য করেন, তাহা হইলে কমিশনার শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া বিলম্বে মূসক পরিশোধের ফলে প্রদেয় যেকোন সুদ বা জরিমানাসহ উক্ত সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রদেয় মূসক পরিশোধের লক্ষ্যে সরবরাহ গ্রহীতার বরাবরে কর ধার্য করিতে পারিবেন, এবং সরবরাহ গ্রহীতা নিবন্ধিত হউক বা না হউক উক্তরূপ কর নির্ধারণ, গ্রহীতা কর্তৃক প্রদেয় মূসক নির্ধারণ বলিয়া গণ্য হইবে। (২) কমিশনার সরবরাহ গ্রহীতা বরাবরে প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি নিম্নবর্ণিত বিষয় উল্লেখ করিয়া কর নির্ধারণ নোটিশ প্রেরণ করিবেন, যথা:― (ক) কর নির্ধারণের কারণ; (খ) কর নির্ধারণের ফলে প্রদেয় মূসকের পরিমাণ; (গ) উক্ত মূসক প্রদেয় হইবার তারিখ; এবং (ঘ) কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপীল করিবার স্থান ও সময়। (৩) উপ-ধারা (১) এর কোনকিছুই কমিশনারকে সরবরাহকারীর নিকট হইতে উক্ত সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রদেয় মূসক, সুদ বা জরিমানা আদায় করিতে বাধা সৃষ্টি করিবে না এবং তিনি সরবরাহকারীর নিকট হইতে প্রদেয় পরিমাণের অংশবিশেষ এবং গ্রহীতার নিকট হইতে অংশবিশেষ আদায় করিতে পারিবেন। (৪) সরবরাহ গ্রহীতা কর্তৃক প্রতারণা বা মিথ্যা বর্ণনার কারণে, যদি কোন সরবরাহকারী কমিশনার বরাবরে মূসক, সুদ বা জরিমানা পরিশোধ করিয়া থাকেন, তাহা হইলে সরবরাহকারী উক্তরূপ সরবরাহের জন্য গ্রহীতার নিকট হইতে উক্ত পরিমাণ অর্থ আদায় করিতে পারিবেন।

৭৫। সরবরাহকারীর মিথ্যা বর্ণনা

৭৫। (১) যেইক্ষেত্রে কোন অনিবন্ধিত ব্যক্তি কোন সরবরাহ গ্রহীতার নিকট পণ্য সরবরাহ করেন এবং কর চালানপত্র গণ্য করিয়া কোন মিথ্যা দলিল ইস্যু করেন, যাহা উক্ত সরবরাহকে একটি করযোগ্য সরবরাহ বলিয়া প্রতীয়মান করে, সেইক্ষেত্রে উক্ত সরবরাহ করযোগ্য সরবরাহ বলিয়া গণ্য হইবে; এবং উক্ত ব্যক্তি নিবন্ধিত হইয়া থাকিলে, সরবরাহের ক্ষেত্রে যেই হার প্রযোজ্য হইত সেই হারে কর আদায়যোগ্য হইবে: তবে, শর্ত থাকে যে, যদি দলিলাদিতে উচ্চতর হার প্রদর্শিত বা অনুমিত হয়, তাহা হইলে উক্ত উচ্চতর হার প্রযোজ্য হইবে। (২) কমিশনার উক্ত ব্যক্তিকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া, তাহাকে নিবন্ধিত ব্যক্তি এবং উক্ত সরবরাহকে করযোগ্য সরবরাহ বিবেচনা করিয়া কর নির্ধারণ করিবেন।

৭৬। কর সুবিধা প্রদান ও রদকরণ (negation)

৭৬। (১) যদি কোন পরিকল্পের (scheme) মাধ্যমে এই আইনের কোন বিধানের অপব্যবহার করিয়া, কোন ব্যক্তি কোন কর সুবিধা গ্রহণ করেন বা গ্রহণ করিবার প্রত্যাশা করেন, যাহার একমাত্র বা প্রধান উদ্দেশ্য হইল কর সুবিধা লাভ; তাহা হইলে কমিশনার করদাতাকে শুনানি প্রদান করিয়া নির্ধারিত ক্ষেত্র ও পদ্ধতিতে এমনভাবে কর সুবিধার যথার্থতা নিরূপণ, নির্ধারণ, রদকরণ বা হ্রাসকরণের জন্য যুক্তিযুক্ত আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং এমনভাবে সুবিধা লাভকারী ব্যক্তির দায়-দায়িত্ব নিরূপণ করিতে পারিবেন যেন বিশেষ প্রস্তাবটি গৃহীত হয় নাই বা কার্যকর হয় নাই। (২) এই ধারার উদ্দেশ্যে কোন কার্যধারা, চুক্তি, বন্দোবস্ত, প্রতিশ্রুতি, পরিকল্পনা, প্রস্তাব বা কার্যক্রম প্রকাশ্য বা নিহীত বা আইনসঙ্গতভাবে বলবৎযোগ্য হইক বা না হউক পরিকল্প (scheme) এর অন্তর্ভুক্ত হইবে।

৭৭। কর নির্ধারণী নোটিশের গ্রহণযোগ্যতা

৭৭। (১) কর নির্ধারণ নোটিশের মূল বা সত্যায়িত কপি কার্যধারায় চূড়ান্ত প্রমাণ হিসাবে এমনরূপে গ্রহণযোগ্য হইবে যেন উক্ত কর নির্ধারণ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হইয়াছে এবং কর নির্ধারণ সম্পর্কিত কার্যক্রম ব্যতীত, কর নির্ধারণের সকল বিষয় এবং নির্ধারিত করের পরিমাণ যথার্থ বিবেচিত হইবে। (২) কোন কর যাহা নির্ধারণ করা হইয়াছে বা কার্যকর করা হইয়াছে, উহা আকার ও প্রকারগত কারণে রদ করা যাইবে না বা বাতিল বা বাতিলযোগ্য বলিয়া গণ্য করা যাইবে না। (৩) কোন কাজ না করা বা কোন ভুল-ক্রুটির কারণে কোন কর নির্ধারণ ক্ষতিগ্রস্ত বা প্রভাবিত হইবে না, যদি কর নির্ধারণ এই আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং কর নির্ধারণের আওতাধীন ব্যক্তি বা যাহার উপর কর নির্ধারিত হইতে পারে তাহার নাম উক্ত নোটিশে সাধারণ ধারণা অনুযায়ী উল্লিখিত হয়।

৭৮। মূল্য সংযোজন কর কর্তৃপক্ষ এবং উহার কর্মকর্তা

৭৮। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মূল্য সংযোজন কর কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ থাকিবে যাহা বোর্ড, তদধীন এক বা একাধিক মূল্য সংযোজন কর দপ্তর এবং নিম্নবর্ণিত মূসক কর্মকর্তা সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:― (ক) চীফ কমিশনার, মূল্য সংযোজন কর; (খ) কমিশনার, মূল্য সংযোজন কর; (গ) কমিশনার (আপীল), মূল্য সংযোজন কর; (ঘ) কমিশনার (বৃহৎ করদাতা ইউনিট), মূল্য সংযোজন কর; (ঙ) মহাপরিচালক, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল; (চ) মহাপরিচালক, নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর; (ছ) অতিরিক্ত কমিশনার বা অতিরিক্ত মহাপরিচালক, মূল্য সংযোজন কর; (জ) যুগ্ম কমিশনার বা পরিচালক, মূল্য সংযোজন কর; (ঝ) উপ কমিশনার বা উপ-পরিচালক, মূল্য সংযোজন কর; (ঞ) সহকারী কমিশনার বা সহকারী পরিচালক, মূল্য সংযোজন কর; (ট) রাজস্ব কর্মকর্তা, মূল্য সংযোজন কর; (ঠ) সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, মূল্য সংযোজন কর; এবং (ড) বোর্ড কর্তৃক নিয়োগকৃত অন্য কোন কর্মকর্তা। (২) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, মূসক কর্মকর্তাগণের নিয়োগ এবং আঞ্চলিক অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করিয়া এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি-বিধানের আওতায় তাহাদের দায়িত্ব, কর্তব্য, ক্ষমতা ও কার্যাবলী সুনির্দিষ্ট করিতে পারিবে। (৩) বোর্ড, সমগ্র দেশ বা বিশেষ কোন অঞ্চলের জন্য বা একটি বিশেষ শ্রেণীর করদাতার জন্য, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, এক বা একাধিক বৃহৎ করদাতা ইউনিট গঠন, উক্ত ইউনিটে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মূসক কর্মকর্তা নিয়োগ এবং উক্ত ইউনিটের কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

৭৯। মূসক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এবং কর্তব্য

৭৯। (১) বোর্ড, এই আইনের অধীন মূসক কর্তৃপক্ষের নীতি নির্ধারণী দায়িত্ব পালনসহ অন্যান্য সকল দায়িত্ব সম্পাদন, কর্তব্য পালন এবং ক্ষমতা প্রয়োগ করিবে। (২) মূসক কর্মকর্তাগণ, বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ, তদারকি এবং তত্ত্বাবধানে থাকিয়া, নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক দায়িত্ব সম্পাদন, কর্তব্য পালন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন, যথা:― (ক) কর আদায় এবং উহার হিসাবরক্ষণ সংক্রান্ত কার্যক্রম; (খ) এই আইন এবং উহার অধীন প্রণীত বিধি-বিধানের প্রয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম; এবং (গ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত অন্য যে কোন দায়িত্ব পালন বা কর্তব্য ও কার্যাবলী সম্পাদন। (৩) মূসক কর্মকর্তাগণ, বোর্ড কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা আরোপিত পরিসীমা ও শর্ত সাপেক্ষে, এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি-বিধানের অধীন— (ক) তাহাদের উপর ন্যস্ত যাবতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন এবং কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক অধস্তন কর্মকর্তাকে প্রদত্ত সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন; এবং (খ) কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাহার অধস্তন যেকোন কর্মকর্তাকে প্রদত্ত বা তাহার উপর অর্পিত সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদন করিতে পারিবেন।

৮০। মূসক কর্মকর্তার আদেশ বা সিদ্ধান্ত সংশোধনে বোর্ডের ক্ষমতা

৮০। বোর্ড স্ব-উদ্যোগে মূসক কর্মকর্তা কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত যেকোন কার্যধারার নথিপত্র, বা তৎকর্তৃক প্রদত্ত যেকোন আদেশ বা সিদ্ধান্তের যথার্থতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও সময়ে, উহা তলব করিয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতঃ যুক্তিযুক্ত যেকোন আদেশ প্রদান করিতে পারিবে: তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ কোন আদেশ দ্বারা কোন ব্যক্তির জন্য এই আইনের অধীন নির্ধারিত কোন অধিকার বা বাধ্যবাধকতা ক্ষুণ্ণ করা যাইবে না।

৮১। ক্ষমতা অর্পণ

৮১। (১) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত সীমা ও শর্ত সাপেক্ষে, যেকোন মূসক কর্মকর্তাকে তাহার নাম ও পদবী উল্লেখপূর্বক এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি-বিধানের অধীন কমিশনারের যেকোন দায়িত্ব পালন ও কর্তব্য সম্পাদনের ক্ষমতা অর্পণ করিতে পারিবে। (২) বোর্ডের ভিন্নতর নির্দেশ না থাকিলে, কমিশনার বা মহাপরিচালক তদধস্তন যেকোন মূসক কর্মকর্তাকে তাহার এখতিয়ারাধীন এলাকায় তাহার যেকোন ক্ষমতা প্রয়োগের কর্তৃত্ব প্রদান করিতে পারিবেন।

৮২। মূসক কর্মকর্তাকে সহায়তা প্রদান

৮২। (১) মূসক কর্মকর্তাকে এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন তাহাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও আনসারের যেকোন সদস্য এবং ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ, আবগারি, শুল্ক, আয়কর এবং মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণকারী সকল সরকারি কর্মকর্তাসহ অন্য যেকোন সরকারি কর্মকর্তা এবং সকল ব্যাংক কর্মকর্তা সহায়তা প্রদান করিবেন। (২) সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন কোন মূসক কর্মকর্তা, তাহাকে সহায়তা করিবার উদ্দেশ্যে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন সদস্য, কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা বা অন্য কোন ব্যক্তিকে যে কোন ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব, ব্যাংক এ্যাকাউন্টের হিসাব বিবরণী, দলিলাদিসহ অন্য যেকোন তথ্য সরবরাহের অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং উক্ত অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সদস্য, কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা তলবকৃত তথ্য সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবেন।

৮৩। মূসক কর্মকর্তার প্রবেশ ও তল্লাশির ক্ষমতা

৮৩। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনারের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন যেকোন মূসক কর্মকর্তা নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন, যথা:- (ক) অর্থনৈতিক কার্যক্রমের স্থান, অঙ্গন, ঘরবাড়ি, যানবাহন, ইত্যাদিতে প্রবেশ ও তল্লাশি; এবং (খ) অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিদর্শন ও উহার রেকর্ডপত্র, নথিপত্র, দলিলাদি ও হিসাব পরীক্ষাকরণ। (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত স্থান কাহারও আবাসস্থল হইলে, উক্ত কর্মকর্তাকে উক্ত স্থানের স্বত্বাধিকারী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা তত্ত্বাবধানকারীকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নোটিশ প্রদান করিতে হইবে এবং সুর্যাস্ত হইতে সুর্যোদয় পর্যন্ত সময়ে উক্তরূপ প্রবেশ করা যাইবে না। (৩) কোন ব্যক্তি এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির কোন বিধান লংঘন করিলে, সহকারী কমিশনার বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার মূসক কর্মকর্তা উক্ত ব্যক্তির ব্যাংক এ্যাকাউন্ট অপরিচালনযোগ্য (freeze) করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অনুরোধ করিতে পারিবেন।

৮৪। পণ্য জব্দকরণ ও উহার নিষ্পত্তি

৮৪। (১) যদি কোন ব্যক্তি এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধান লংঘন করিয়া কোন পণ্য সরবরাহ করেন বা কোন সেবা প্রদান করেন, তাহা হইলে উক্ত পণ্য, বা সেবা প্রদানের সহিত সংশ্লিষ্ট পণ্য কমিশনার নির্ধারিত পদ্ধতিতে জব্দ ও নিষ্পত্তি করিতে পারিবেন। (২) কোন কার্যধারা নিষ্পন্নাধীন থাকা অবস্থায় উপ-ধারা (১) এর অধীন জব্দকৃত পণ্য কমিশনার উহার মালিক বা প্রতিনিধির অনুকূলে নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে অন্তবর্তীকালীন ছাড় প্রদান করিতে পারিবেন।

৮৭। সমন প্রেরণ

৮৭। (১) রাজস্ব কর্মকর্তার নিমেণ নহেন এমন কোন মূসক কর্মকর্তা এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনে যে কোন ব্যক্তিকে সাক্ষ্য প্রদান ও দলিলাদি উপস্থাপনের জন্য সমন প্রেরণ করিতে পারিবেন। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সমনকৃত যে কোন ব্যক্তি উক্ত কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হইতে বাধ্য থাকিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৩২ ও ১৩৩ এর অধীন সশরীরে উপস্থিত হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন প্রেরণ করা যাইবে না।

৮৮। শুল্ক কর্মকর্তাগণের দায়িত্ব এবং ক্ষমতা

৮৮। (১) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার প্রয়োগ ও কার্যকরকরণার্থ শুল্ক কর্মকর্তাগণের নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব থাকিবে, যথা:― (ক) করযোগ্য আমদানির উপর আরোপিত মূসক আদায়; এবং (খ) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য আমদানির উপর প্রদেয় সম্পূরক শুল্ক আদায়। (২) শুল্ক কর্মকর্তা তাহার উপর শুল্ক আইন দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতা এইরূপভাবে প্রয়োগ করিতে পারিবেন যেন উক্ত আইনের শুল্ক আরোপ সংক্রান্ত বিধানাবলী আমদানি পণ্যের উপর এই আইনের অধীন আরোপিত মূসক এবং সম্পূরক শুল্কের প্রতি এইরূপে প্রযোজ্য হইবে, যেইরূপ উহা আমদানি শুল্কের উপর প্রযোজ্য হয়।

৮৯। গোপনীয়তা

৮৯। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ২০ নং আইন) এর বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোন করদাতার নিকট হইতে প্রাপ্ত সকল তথ্য এবং দলিলাদি গোপনীয় গণ্য হইবে।

৯০। করদাতার অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিরীক্ষা এবং অনুসন্ধান

৯০। (১) কর ফাঁকি রোধকল্পে কমিশনার বা মহাপরিচালক এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন যেকোন ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের যাবতীয় বিষয় নিরীক্ষা এবং অনুসন্ধান করিতে পারিবেন। (২) বোর্ড, উক্ত নিরীক্ষা এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বিধি প্রণয়ন এবং অডিট ম্যানুয়্যাল প্রণয়ন ও প্রকাশ করিবে। (৩) কমিশনার বা মহাপরিচালক কর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত মূসক কর্মকর্তা উক্ত অডিট ম্যানুয়্যাল অনুযায়ী নিরীক্ষা এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করিয়া কমিশনার বা মহাপরিচালক বরাবরে নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করিবেন। (৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে, নিরীক্ষিত কর মেয়াদে করদাতার প্রদেয় করের দায়-দায়িত্ব উদঘাটিত হইলে, কমিশনার বা মহাপরিচালক উক্ত করদায় নির্ধারণ করিবেন, এবং অপরিশোধিত করের উপর প্রযোজ্য সুদ উল্লেখ করিয়া উহা আদায়ের জন্য পরবর্তী কার্যধারা গ্রহণের নিমিত্ত উহা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিবেন।

৯১। মূসক কর্মকর্তাগণের ক্ষমতা

৯১। (১) ক্ষমতাপ্রাপ্ত মূসক কর্মকর্তা অনুমোদিত উদ্দেশ্যে, নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে, যেকোন ব্যক্তির নিকট নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি দাবী করিতে পারিবেন, যথা:― (ক) নিরীক্ষা এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোন ব্যক্তি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য; বা (খ) কোন ব্যক্তির কর্তৃত্বে থাকা দলিলাদি বা সাক্ষ্য-প্রমাণ। (২) উক্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত মূসক কর্মকর্তার নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা থাকিবে, যথা:- (ক) যেকোন রেকর্ডপত্রের প্রতিলিপি করিবার; (খ) যেকোন রেকর্ড নির্ধারিত পদ্ধতিতে, জব্দ করিবার; (গ) যেকোন রেকর্ড বা পণ্য সীল করিবার; এবং (ঘ) নির্ধারিত ক্ষেত্রে ও পদ্ধতিতে, যেকোন ব্যক্তির ব্যাংক এ্যাকাউন্ট অপরিচালনযোগ্য (freeze) করিবার ব্যবস্থা গ্রহণের। (৩) ক্ষমতাপ্রাপ্ত মূসক কর্মকর্তা কর্তৃক কোন রেকর্ড, দলিলপত্র বা পণ্য জব্দ করিবার ক্ষেত্রে, উহা যাহার নিকট হইতে জব্দ করা হইয়াছে তাহার নিকট নির্ধারিত পদ্ধতিতে ফেরত প্রদান করিতে হইবে। (৪) যদি কোন ব্যক্তি কোন দলিল বা অন্য কোন সাক্ষ্য-প্রমাণের উপর আইনানুগভাবে বিশেষ অধিকার দাবী করেন যাহা কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত মূসক কর্মকর্তা জব্দ বা পরীক্ষা করিতে চাহেন, তাহা হইলে বিশেষ অধিকার দাবীকৃত উক্ত কাগজপত্রাদি খামে আবদ্ধ করিয়া যৌথভাবে সীলযুক্ত করিবেন এবং বিশেষ অধিকারপ্রাপ্ত কিনা তাহা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবেন। (৫) এই অধ্যায়ের কোন বিধানবলে, আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অনুসন্ধানমুক্ত কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা, কূটনৈতিক ভবন, কনস্যুলার বা বিদেশী রাষ্ট্রের মিশনসমূহে প্রবেশ ও তল্লাশি করা যাইবে না। ব্যাখ্যা: এই ধারায় ‘‘অনুমোদিত উদ্দেশ্য’’ অর্থ― (ক) কোন ব্যক্তির করদায় নির্ধারণের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ; (খ) কোন ব্যক্তির নিকট হইতে কর সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ; (গ) কর ফাঁকি উদঘাটন; বা (ঘ) এই আইনের বিধানাবলী পরিপালন নিশ্চিতকরণ।

৯২। তত্ত্বাবধানাধীন সরবরাহ, পর্যবেক্ষণ ও নজরদারী

৯২। (১) যেক্ষেত্রে কোন করদাতা সম্পূরক শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে এই আইনের বিধানাবলী পরিপালন না করেন, সেইক্ষেত্রে কমিশনার কর্তৃক আদিষ্ট মূসক কর্মকর্তা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত করদাতার প্রকৃত করদায় নির্ধারণের লক্ষ্যে, তাহার সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট যেকোন স্থানে তত্ত্বাবধানাধীন সরবরাহ, পর্যবেক্ষণ এবং নজরদারী করিতে পারিবেন। (২) উক্ত মূসক কর্মকর্তা উল্লিখিত করদাতার করদায় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে যাবতীয় তথ্যাবলী উল্লেখ করিয়া কমিশনারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করিবেন। (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন দাখিলকৃত প্রতিবেদন এবং এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন সংগৃহীত তথ্যাবলীর ভিত্তিতে, কমিশনার করদাতাকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া করদাতার প্রকৃত করদায় নির্ধারণ করিতে পারিবেন।

৯৩। একাধিক দাপ্তরিক নিরীক্ষা

৯৩। কোন নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি একই কর মেয়াদের জন্য দুইবার নিরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যদি না কমিশনারের নিকট নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকে বা তাহার বিশ্বাস করিবার যথেষ্ট কারণ থাকে যে, উক্ত ব্যক্তি নিরীক্ষিত কর মেয়াদে ভুল বা মিথ্যা তথ্য বা দলিলাদি উপস্থাপন করিয়া প্রতারণার মাধ্যমে কর ফাঁকি দিয়াছেন।

৯৪। বিশেষ নিরীক্ষা

৯৪। (১) নির্ধারিত সীমা ও শর্ত সাপেক্ষে, যেকোন নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তির রেকর্ডপত্র নিরীক্ষাসহ বিশেষ হিসাব নিরীক্ষা সম্পাদনের নিমিত্ত বোর্ড যেকোন হিসাব নিরীক্ষক নিয়োগ করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত হিসাব নিরীক্ষক, এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মূসক কর্মকর্তা বলিয়া গণ্য হইবেন।

৯৫। বকেয়া কর আদায়

৯৫। (১) মূসক, সম্পূরক শুল্ক, টার্নওভার কর, সুদ, অর্থদণ্ড বা জরিমানার কোন অর্থ খেলাপি করদাতা কর্তৃক প্রদেয় হইলে, কমিশনার উক্ত বকেয়া কর খেলাপি করদাতার নিকট হইতে আদায় করিবার কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন। (২) বকেয়া কর প্রদেয় বলিয়া গণ্য হইবে, যদি― (ক) বকেয়া করের পরিমাণ দাখিলপত্রে প্রদেয় হিসাবে প্রদর্শিত হয় এবং উহা অপরিশোধিত থাকে; (খ) খেলাপি করদাতার উপর জারিকৃত কর নির্ধারণী নোটিশে বকেয়া করের পরিমাণ প্রদর্শিত হয় এবং খেলাপি করদাতা নোটিশে উল্লিখিত সর্বশেষ তারিখে উহা পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হন; বা (গ) এই আইনের অধীন কোন কার্যক্রম নিষ্পত্তির ফলে কোন বকেয়া কর প্রদেয় হয় । (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন খেলাপি করদাতা কর্তৃক বকেয়া কর প্রদেয় হইলে, উহা আদায়ের লক্ষ্যে কমিশনার খেলাপি করদাতার বরাবরে নোটিশ প্রেরণ করিবেন। (৪) বকেয়া কর আদায়ের কার্যধারায়, বকেয়া করের দায় ও পরিমাণ প্রমাণের ক্ষেত্রে, উক্ত নোটিশ চূড়ান্ত প্রামাণ্য দলিল (conclusive proof) বলিয়া গণ্য হইবে। (৫) বকেয়া কর আদায়ের ক্ষেত্রে কমিশনার নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন, যথা:- (ক) খেলাপি করদাতার কোন অর্থ কোন আয়কর, শুল্ক, মূসক বা আবগারি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকিলে, উহা হইতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বকেয়া কর কর্তন করিবেন; (খ) খেলাপি করদাতার অর্থ অপর কোন ব্যক্তি বা সহযোগী বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের নিকট থাকিলে, উক্ত ব্যক্তি বা ব্যাংকে পরিশোধ করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন; (গ) খেলাপি করদাতার ব্যবসা অঙ্গন হইতে কোন পণ্য বা সেবার সরবরাহ বন্ধের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন; (ঘ) খেলাপি করদাতার আমদানিকৃত পণ্য খালাস বন্ধের লক্ষ্যে শুল্ক ভবনের বিল অব এন্ট্রি (Bill of Entry) প্রক্রিয়াকরণ সিস্টেমে ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা বন্ধ (lock) করিতে পারিবেন; (ঙ) খেলাপি করদাতার ব্যাংক হিসাব নির্ধারিত পদ্ধতিতে অপরিচালনযোগ্য (freeze) করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন; (চ) খেলাপি করদাতার ব্যবসা অঙ্গন তালাবদ্ধ করিয়া রাখিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন বা নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতিতে তালাবদ্ধ করিতে পারিবেন; (ছ) খেলাপি করদাতার যেকোন স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক বা অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করিয়া নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিক্রয়ের মাধ্যমে বকেয়া কর আদায় করিতে পারিবেন; বা (জ) খেলাপি করদাতার কোন জিম্মাদারের নিকট হইতে নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে জামানত গ্রহণ করিতে পারিবেন। (৬) শুল্ক কমিশনার কর্তৃক বকেয়া কর আদায়ের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক যে পদ্ধতিতে আদায় করা হয় সেই একই পদ্ধতিতে উক্ত বকেয়া কর আদায় করিতে হইবে।

৯৬। দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন মূসক কর্মকর্তার ক্ষমতা

৯৬। দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে দেওয়ানী আদালতের যে ক্ষমতা রহিয়াছে এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, বকেয়া কর আদায়ের উদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত মূসক কর্মকর্তার সেইরূপ একই ক্ষমতা থাকিবে।

৯৭। বকেয়া কর আদায়ের ক্ষেত্রে অধিক্ষেত্রের পরিবর্তন

৯৭। খেলাপি করদাতা যদি অন্য কোন কমিশনারের অধিক্ষেত্রাধীন এলাকায় বসবাস করেন বা তদস্থানে তাহার কোন অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা সম্পত্তি থাকে, তাহা হইলে কমিশনার উক্ত কমিশনারকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং উক্ত কমিশনার বকেয়া কর এমনভাবে আদায় করিবেন যেন উহা তাহার এখতিয়ারে প্রাপ্য বকেয়া।

৯৮। আদায়কৃত অর্থ বা জামানতের বিলিবন্টন

৯৮। (১) আদায়কৃত অর্থ বা জামানতের পরিমাণ বকেয়া কর অপেক্ষা কম হইলে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত অর্থ বা জামানত নিম্নবর্ণিত ক্রমানুসারে বিলিবন্টন করিতে হইবে, যথা:― (ক) প্রথমত, প্রদেয় সুদের পরিমাণ হ্রাসকরণার্থে; (খ) দ্বিতীয়ত, অর্থদণ্ড বা জরিমানার পরিমাণ হ্রাসকরণার্থে; এবং (গ) তৃতীয়ত, মূসক, সম্পূরক শুল্ক বা টার্নওভার করের পরিমাণ হ্রাসকরণার্থে। (২) আদায়কৃত অর্থ বা জামানতের পরিমাণ বকেয়া কর অপেক্ষা অধিক হইলে, উপ-ধারা (১) এর অধীন বিলিবন্টনের পর অতিরিক্ত অর্থ করদাতা বা জিম্মাদারের নিকট ফেরত প্রদান করিতে হইবে। (৩) উপ-ধারা (১) ও (২) অনুসারে কোন অর্থ বা জামানত বিলিবন্টন করা হইলে, কমিশনার নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতিতে উক্ত বিষয়ে বকেয়া করদাতা বা জিম্মাদারকে অবহিত করিবেন।

৯৯। খেলাপি করদাতার স্থাবর সম্পত্তির উপর সরকারের পূর্বস্বত্ব (lien) ও উহার ক্রোক

৯৯। (১) যদি কোন খেলাপি করদাতা নির্ধারিত তারিখে বকেয়া কর পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে খেলাপি করদাতার মালিকানাধীন সকল সম্পত্তির উপর সরকারের অনুকূলে অগ্রাধিকার সম্পন্ন পূর্বস্বত্ব সৃষ্টি হইবে এবং সম্পূর্ণ বকেয়া কর পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত উক্ত পূর্বস্বত্ব বলবৎ থাকিবে। (২) কমিশনার নোটিশের মাধ্যমে পূর্বস্বত্ব সৃষ্টির বিষয়টি খেলাপি করদাতাকে অবহিত করিবেন এবং নোটিশ জারির এক মাসের মধ্যে খেলাপি করদাতা বকেয়া কর পরিশোধ না করিলে, খেলাপি করদাতার উক্ত সম্পত্তি কমিশনার নির্ধারিত পদ্ধতিতে ক্রোক ও বিক্রয় করিয়া বকেয়া কর আদায় করিতে পারিবেন।

১০০। পণ্য জব্দকরণ, উহার বিক্রয় ও বিক্রয়লব্ধ অর্থের বিলিবন্টন

১০০। (১) বকেয়া কর আদায়ের উদ্দেশ্যে যদি কোন পণ্য তাৎক্ষণিকভাবে এবং বিনা নোটিশে জব্দ করা হইয়া থাকে, তবে কমিশনার, যথাশীঘ্র সম্ভব, নিম্নবর্ণিত ব্যক্তির উপর জব্দের নোটিশ জারি করিবেন, যথা:― (ক) জব্দকৃত পণ্যের মালিক; (খ) জব্দ করিবার অব্যবহিত পূর্বে পণ্য হেফাজতকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি; বা (গ) জব্দকৃত পণ্য দাবি করেন এমন কোন ব্যক্তি: তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোন ব্যক্তি পণ্য দাবি না করেন, তাহা হইলে কোন নোটিশ জারির প্রয়োজন হইবে না। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন পণ্য জব্দ করা হইলে, নিম্নবর্ণিত শর্তে কমিশনার উক্ত পণ্য উক্ত ব্যক্তির নিকট ফেরত প্রদান করিতে পারিবেন, যথা:— (ক) যে পরিমাণ বকেয়া কর আদায়ের নিমিত্ত জব্দ করা হইয়াছে, সেই পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জামানত প্রদান করা হইলে; বা (খ) যে পরিমাণ বকেয়া কর আদায়ের নিমিত্ত জব্দ করা হইয়াছে, সেই পরিমাণ অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করিতে সম্মত হইয়া প্রথম কিস্তির অর্থ পরিশোধ করিলে। (৩) যদি কর পরিশোধ করা না হয় বা কোন জামানত প্রদান করা না হয় বা খেলাপি করদাতা বকেয়া কর কিস্তিতে পরিশোধে সম্মত হইয়া প্রথম কিস্তির অর্থ পরিশোধ না করেন, তাহা হইলে কমিশনার জব্দকৃত পণ্য, নির্ধারিত সময়সীমা ও পদ্ধতিতে, বিক্রয় করিতে পারিবেন। (৪) জব্দকৃত পণ্যের বিক্রয়লব্ধ অর্থ নিম্নবর্ণিত উপায়ে বিলিবন্টন করিতে হইবে, যথা:― (ক) প্রথমত, পণ্য জব্দকরণ, সংরক্ষণ এবং বিক্রয়ের খরচাদি পরিশোধ করিয়া; (খ) দ্বিতীয়ত, যে পরিমাণ বকেয়া কর আদায়ের নিমিত্ত পণ্য জব্দ করা হইয়াছিল সেই পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করিয়া; (গ) তৃতীয়ত, এই আইন দ্বারা রহিত আইনের অধীন প্রাপ্য যেকোন কর পরিশোধ করিয়া; এবং (ঘ) চতুর্থত, অবশিষ্ট অর্থ, যদি থাকে, পণ্যের মালিককে ফেরত প্রদান করিয়া। (৫) যে কর নির্ধারণের ভিত্তিতে বকেয়া কর আদায়ের জন্য পণ্য জব্দ করা হইয়াছে সেই কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে কমিশনার (আপীল) বা আপীলাত ট্রাইব্যুনাল বা সুপ্রীম কোর্টে কার্যধারা চলাকালে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্র ব্যতীত খেলাপি করদাতার সম্পত্তি বিক্রয় স্থগিত থাকিবে, যথা:— (ক) বিনষ্টযোগ্য বা পচনশীল কোন পণ্য; এবং (খ) কমিশনার কর্তৃক নির্ধারিত কোন পণ্য।

১০১। প্রতিনিধির দায়দায়িত্ব এবং বাধ্যবাধকতা

১০১। (১) বকেয়া কর আদায়ের উদ্দেশ্যে খেলাপি করদাতার উপর আরোপিত সকল দায়দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের জন্য খেলাপি করদাতার প্রতিনিধিও দায়ী থাকিবেন। (২) খেলাপি করদাতার যে পরিমাণ সম্পত্তি বা অর্থ, প্রতিনিধির দখল বা নিয়ন্ত্রণাধীন রহিয়াছে, উহা বকেয়া কর আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতিনিধির নিকট হইতে আদায়যোগ্য হইবে। (৩) বকেয়া করের জন্য প্রতিনিধিও ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকিবেন যদি তিনি বকেয়া কর অপরিশোধিত থাকাকালে- (ক) প্রদেয় অর্থ পরিশোধের নিমিত্ত প্রাপ্ত বা উদ্ভূত অর্থ উত্তোলন করেন, উহাতে দায় সৃষ্টি করেন বা হস্তান্তর করেন; বা (খ) তাহার দখলে থাকা উক্ত ব্যক্তির কোন অর্থ বা তহবিল উত্তোলন করেন বা অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রদান করেন। (৪) প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইলে, এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন খেলাপি করদাতার উপর আরোপিত দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালন করা হইতে এই ধারার কোন কিছুই খেলাপি করদাতাকে অব্যাহতি প্রদান করিবে না। (৫) যদি কোন খেলাপি করদাতার দুই বা ততোধিক প্রতিনিধি থাকে, তাহা হইলে এই ধারায় উল্লিখিত দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ উক্ত প্রতিনিধিবর্গের ক্ষেত্রে যৌথভাবে এবং পৃথকভাবে প্রযোজ্য হইবে।

১০২। রিসিভারের দায়িত্ব

১০২। (১) কমিশনার বকেয়া কর আদায়ের নিমিত্ত রিসিভারের দখলে নেওয়া সম্পদ হইতে খেলাপি করদাতার বকেয়া কর পরিশোধ করিবার জন্য রিসিভারকে অনুরোধ করিতে পারিবেন। (২) কমিশনার কর্তৃক উপ-ধারা (১) এর অধীন অনুরুদ্ধ হইলে, রিসিভার উক্ত সম্পদের বিক্রয়লব্ধ অর্থ হইতে বকেয়া কর নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করিয়া প্রামাণিক দলিলাদিসহ কমিশনারকে অবহিত করিবেন। ব্যাখ্যা: এই ধারায় ‘‘রিসিভার’’ অর্থ কোন আইন বা আদালত কর্তৃক নিয়োজিত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি।

১০৩। কোম্পানী বা ব্যক্তি সংঘ বা সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগের পরিচালক বা উদ্যোক্তার দায়

১০৩। (১) যদি কোন কোম্পানী বা ব্যক্তি সংঘ বা সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ বকেয়া কর পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে যে সময় উক্ত অর্থ বকেয়া হইয়াছিল সেই সময় যাহারা উক্ত কোম্পানী বা ব্যক্তি সংঘ বা সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগের পরিচালক বা প্রতিনিধি বা উদ্যোক্তা ছিলেন তাহারা যথাযথ সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা এবং দক্ষতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হইলে সকলে যৌথ ও ব্যক্তিগতভাবে উক্ত অর্থ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত দায়ী থাকিবেন। (২) বকেয়া কর পরিশোধে দায়ী প্রত্যেক পরিচালক বা প্রতিনিধি বা উদ্যোক্তা, অন্যান্য পরিচালক বা প্রতিনিধি বা উদ্যোক্তার নিকট হইতে পুনর্ভরণ (reimbursement) পাওয়ার অধিকারী হইবেন। (৩) উক্ত পরিচালক, প্রতিনিধি, এজেন্ট বা উদ্যোক্তা কর্তৃক সম্পাদিত কর্মকাণ্ডের সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া নিম্নবর্ণিত কর্মকাণ্ড উক্ত কোম্পানী বা ব্যক্তি সংঘ বা সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ কর্তৃক সম্পাদিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, যথা:- (ক) অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা উহার অংশবিশেষ পরিচালনা; (খ) অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রক্রিয়ায় কোন সরবরাহ, আমদানি বা অর্জন; (গ) পণ্য প্রস্ত্ততকরণ বা সেবা সরবরাহ; (ঘ) জারিকৃত কোন নোটিশ প্রাপ্তি; (ঙ) দাখিলপত্র পেশকরণ; (চ) কর পরিশোধ; বা (ছ) তথ্য সরবরাহ।

১০৪। অংশীদারি কারবার বা অনিগমিত সংঘের ধারাবাহিকতা

১০৪। যদি― (ক) কোন অংশীদারি কারবার বা অনিগমিত সংঘ নূতন কোন অংশীদার বা সদস্য ভর্তি বা অবসর গ্রহণের কারণে বিলুপ্ত হইয়া যায় বা অবসায়িত হয়; (খ) বিদ্যমান অবশিষ্ট সদস্য সমন্বয়ে নূতন কোন অংশীদারি কারবার বা অনিগমিত সংঘের সৃষ্টি হয়; এবং (গ) উক্ত অংশীদারি কারবার বা অনিগমিত সংঘ সেইরূপ অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে, যাহা অবসায়িত অংশীদারি কারবার বা সংঘের দ্বারা পরিচালিত হইত; তাহা হইলে অবসায়িত অংশীদারি কারবার বা সংঘ এবং নূতন অংশীদারি কারবার বা সংঘ, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একটি অবিচ্ছেদ্য অংশীদারি কারবার বা সংঘ বলিয়া গণ্য হইবে।

১০৫। করদাতার মৃত্যু বা দেউলিয়াত্ব ঘোষণা

১০৫। কোন করদাতার মৃত্যুর পর বা তাহার দেউলিয়াত্ব ঘোষণার পর যদি তৎকর্তৃক পরিচালিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম তাহার সম্পত্তির ট্রাস্টি বা নির্বাহক দ্বারা পরিচালিত হয়, তাহা হইলে উক্ত নির্বাহক বা ট্রাস্টি, এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, করদাতা বলিয়া গণ্য হইবে।

১০৬। বকেয়া কর কিস্তিতে পরিশোধ

১০৬। (১) বকেয়া কর কিস্তিতে পরিশোধ করিবার নিমিত্ত কমিশনার একজন খেলাপি করদাতাকে নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন এবং কোন কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে উক্তরূপ অনুমতি বাতিল করিতে পারিবেন। (২) এই ধারার অধীন প্রদত্ত কিস্তিতে বকেয়া কর পরিশোধের সময়সীমা ১২ (বার) মাসের অতিরিক্ত হইবে না।

১০৭। রেকর্ডপত্র এবং হিসাব সংরক্ষণ

১০৭। (১) কোন নিবন্ধিত ব্যক্তির করদায় এবং অন্যান্য দায়দেনা নিরূপণের সুবিধার্থে ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত নির্ধারিত উপায় ও পদ্ধতিতে করদাতা তাহার অর্থনৈতিক কার্যক্রমের হিসাবাদি, দলিলপত্র এবং অন্যান্য রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ করিবেন। (২) উপ-ধারা (১) এর পরিধিকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, সংরক্ষিত রেকর্ডপত্র এবং হিসাবাদির মধ্যে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথা:- (ক) করযোগ্য বা কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত নির্বিশেষে পণ্য, সেবা বা স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের বিবরণী, এবং তৎসংশ্লিষ্ট চালানপত্র; (খ) পণ্য, সেবা বা স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় সংক্রান্ত বিবরণী; (গ) কর চালানপত্র, ক্রেডিট নোট, ডেবিট নোট এবং উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক ইস্যুকৃত এবং প্রাপ্ত সমন্বিত কর চালানপত্র এবং উৎসে কর কর্তন সনদপত্র; (ঘ) উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পণ্য আমদানি বা রপ্তানি সংশ্লিষ্ট শুল্ক দলিলপত্র; (ঙ) উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রস্ত্ততকৃত পণ্য কোন নির্দিষ্ট সময়ে যেই মূল্যে সরবরাহ করা হয় সেই মূল্য, পণ্যের উপকরণ-উৎপাদ সম্পর্ক বা সহগ (input-output coefficient) , এবং উক্ত পণ্যের উপর প্রস্ত্ততকারক কর্তৃক প্রদত্ত মূল্যছাড় বা রেয়াত সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র; (চ) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য সেবা সরবরাহ বা সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের প্রস্ত্ততকরণ এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র; (ছ) কর জমা প্রদানের সমর্থনে ট্রেজারি চালান এবং ট্রেজারি চালান ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কর জমা প্রদান করা হইয়া থাকিলে উক্তরূপ জমা প্রদানের সমর্থনে দালিলিক প্রমাণাদি; (জ) প্রতিটি কর মেয়াদের দাখিলপত্র; এবং (ঝ) নির্ধারিত অন্য কোন দলিলাদি বা রেকর্ডপত্র।

১০৮। ফরম, নোটিশ এবং দলিলাদির সত্যায়ন

১০৮। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোন ফরম, নোটিশ, দাখিলপত্র এবং অন্যান্য দলিলের আকার এবং আকৃতি বোর্ড যেরূপ উপযুক্ত বলিয়া বিবেচনা করিবে, সেইরূপ পদ্ধতিতে নির্ধারণ করিতে পারিবে।

১০৯। নোটিশ জারি

১০৯। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোন সমন বা নোটিশ বা সিদ্ধান্ত বা আদেশ বা নির্দেশ কোন ব্যক্তির উপর জারি করা প্রয়োজন হইলে, উহা উক্ত ব্যক্তির উপরে যথাযথভাবে জারি করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, যদি উহা― (ক) উক্ত ব্যক্তি বা তাহার প্রতিনিধি কর্তৃক ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা হয়; (খ) উক্ত ব্যক্তির সর্বশেষ জ্ঞাত বাংলাদেশের বাসস্থানে বা ব্যবসায়ের স্থানে প্রেরণ করা হয়; (গ) উক্ত ব্যক্তির সর্বশেষ জ্ঞাত ঠিকানায় রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়; (ঘ) ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রেরণ করা হয়; বা (ঙ) দফা (ক) হইতে দফা (ঘ) এ উল্লিখিত পদ্ধতিতে জারি করা না যায়; তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট মূল্য সংযোজন কর কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে আঁটিয়া দেওয়া হয়। (২) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন জারিকৃত নোটিশ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে পরিপালিত হওয়ার পর নোটিশ জারির বৈধতা সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

১১০। দলিলপত্রের বৈধতা

১১০। (১) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন জারিকৃত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত মূসক কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত কোন নোটিশ বা অন্যান্য দলিল যথাযথ বলিয়া গণ্য হইবে, যদি উহাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর, এবং নাম ও পদবী মুদ্রিত বা স্ট্যাম্পযুক্ত থাকে এবং টেলিফোন বা ফ্যাক্স বা মোবাইল ফোন নম্বর বা ই-মেইল ঠিকানা উল্লেখ থাকে এবং নোটিশটি একটি দাপ্তরিক নথি ও পত্র নমবর সমবলিত হয়। (২) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন প্রস্ত্ততকৃত, ইস্যুকৃত বা সম্পাদিত কোন দলিল― (ক) ফরমে করা হয় নাই বলিয়া বাতিল বা বাতিলযোগ্য গণ্য হইবে না; বা (খ) উহাতে কোন ভুল-ত্রুটি থাকিলে বা কিছু বাদ পড়িলে উহার যথার্থতা ক্ষুণ্ণ হইবে না; যদি উহা বিষয় ও প্রসংগের সহিত সংগতিপূর্ণ হয়।

১১১। মূসক নিবন্ধন বা টার্নওভার কর সনদপত্র ও কর দলিল সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড

১১১। যদি কোন ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে― (ক) জাল বা ভুয়া ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা সম্বলিত মূসক নিবন্ধন সনদপত্র বা র্টানওভার কর সনদপত্র বা সমন্বিত কর চালানপত্র এবং উৎসে কর কর্তন সনদপত্র তৈরী বা ব্যবহার করেন; বা (খ) জাল বা ভুয়া কর চালানপত্র, ক্রেডিট নোট, ডেবিট নোট, সমন্বিত কর চালানপত্র এবং উৎসে কর কর্তন সনদপত্র তৈরী বা ব্যবহার করেন; (গ) অন্য কোন উপায়ে প্রদেয় কর ফাঁকি প্রদান করেন; বা (ঘ) উক্ত ব্যক্তি প্রাপ্য না হওয়া সত্ত্বেও কর ফেরৎ দাবি করেন; তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ডে বা প্রদেয় করের সমপরিমাণ অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

১১২। মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বিবৃতি বা বিবরণ প্রদানের অপরাধ ও দণ্ড

১১২। যদি কোন ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে কোন কর দলিলাদিতে মূসক কর্মকর্তার নিকট মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বিবরণ বা বিবৃতি প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ডে বা প্রদেয় করের সমপরিমাণ অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডেত হইবেন।

১১৩। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপরাধ ও দণ্ড

১১৩। মূসক কর্মকর্তাকে এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন দায়িত্ব পালনে যদি কোন ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বা সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড বা অন্যূন ১০(দশ) হাজার টাকা বা অনূর্ধ্ব ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডেত হইবেন।

১১৪। অপরাধের তদন্ত, বিচার ও আপীল

১১৪। (১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অপরাধসমূহ ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে এবং তিনি এই আইনে বর্ণিত যে কোন অর্থদণ্ড আরোপ করিতে পারিবেন। (২) অপরাধসমূহ জামিনযোগ্য (bailable) ও অ-আমলযোগ্য (non-cognizable) হইবে। (৩) কমিশনারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে, সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার নিম্নে নহেন, এমন কোন মূসক কর্মকর্তার নিকট হইতে লিখিত অভিযোগ ব্যতীত, উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট কোন অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিবেন না। (৪) নির্ধারিত পদ্ধতি ও সময়সীমার মধ্যে মূসক কর্মকর্তা এই আইনের অধীন দণ্ডনীয় অপরাধের তদন্ত সম্পন্ন করিবেন। (৫) উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন বিচারের ক্ষেত্রে যে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি অবলম্বন করেন সেই একই পদ্ধতিতে অপরাধসমূহের বিচার করিবেন এবং উক্ত অপরাধ সংক্রান্ত আপীল, রিভিউ, রিভিশন, ইত্যাদি ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

১১৫। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অতিরিক্ত ক্ষমতা

১১৫। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অপরাধ সংঘটনকারীর ব্যাংক এ্যাকাউন্ট অপরিচালনযোগ্য (freeze) করিবার ক্ষমতা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের থাকিবে।

১১৬। কোম্পানী, ব্যক্তি সংঘ বা সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ কর্তৃক অপরাধ সংঘটন

১১৬। (১) কোন কোম্পানী বা ব্যক্তি সংঘ বা সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ কর্তৃক কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে, উক্ত অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এমন প্রত্যেক পরিচালক, অংশীদার, প্রধান নির্বাহী, ব্যবস্থাপক, সচিব, কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রতিনিধি বা মূসক এজেন্ট উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে বা উক্ত অপরাধ সংঘটন রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন। (২) উক্ত পরিচালক, অংশীদার, প্রধান নির্বাহী, ব্যবস্থাপক, সচিব, কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রতিনিধি বা মূসক এজেন্টের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার একই কার্যধারায় উক্ত কোম্পানীকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে উক্ত কোম্পানীর উপর অর্থদণ্ড ব্যতীত কারাদণ্ড আরোপ করা যাইবে না।

১১৭। অপরাধে সহায়তাকারী

১১৭। যদি কোন ব্যক্তি কোন অপরাধ সংঘটনে সহায়তা বা সহযোগিতা করেন বা প্ররোচিত বা প্রলুব্ধ করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনকারীর ন্যায় একই অপরাধে অপরাধী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্ত অপরাধীর ন্যায় একই দণ্ডে দণ্ডেত হইবেন।

১১৮। মামলা দায়েরের পূর্বানুমোদন।

১১৮। কমিশনারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত, কোন অপরাধের জন্য কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যাইবে না।

১১৯। অপরাধের আপোষরফা

১১৯। (১) নির্ধারিত পদ্ধতিতে অপরাধসমূহ আপোষযোগ্য (compoundable) হইবে। (২) মামলা দায়ের করিবার জন্য কমিশনার কর্তৃক পূর্বানুমোদনের পূর্বে বা পরে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তে আপোষরফা করা যাইবে, তবে মামলা রুজু করিবার পর আপোষরফা করিতে হইলে আদালতের অনুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।

১২০। অর্থদণ্ড প্রদেয় করের অতিরিক্ত

১২০। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আরোপিত অর্থদণ্ড প্রদেয় মূসক, সম্পূরক শুল্ক, টার্নওভার কর বা জরিমানার অতিরিক্ত হিসাবে গণ্য হইবে।

১২১। কমিশনার (আপীল) এর নিকট আপীল

১২১। (১) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন অতিরিক্ত কমিশনার বা তৎনিম্ন পদধারী মূসক কর্মকর্তা কর্তৃক গৃহীত কোন সিদ্ধান্ত বা প্রদত্ত কোন আদেশ দ্বারা কোন করদাতা বা মূসক কর্মকর্তা সংক্ষুব্ধ হইলে, তিনি নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত সিদ্ধান্ত বা আদেশ জারীর ৯০ (নববই) দিনের মধ্যে কমিশনার (আপীল) এর নিকট আপীল দায়ের করিতে পারিবেন। (২) মূসক কর্মকর্তা ব্যতীত কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কর্তৃক উপ-ধারা (১) এর অধীন আপীল দায়ের করিবার ক্ষেত্রে, তাহাকে উক্ত আপীল দায়েরকালে তর্কিত আদেশে উল্লিখিত দাবীকৃত করের দশ শতাংশ বা দাবীকৃত কর না থাকিলে, আরোপিত জরিমানার দশ শতাংশ পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করিতে হইবে। (৩) কমিশনার (আপীল) নির্ধারিত পদ্ধতিতে পক্ষগণকে যথাযথ শুনানীর সুযোগ প্রদান করিয়া, সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসরের মধ্যে আপীল কার্যক্রম নিষ্পত্তি করিবেন। (৪) কমিশনার (আপীল) তর্কিত আদেশ বা সিদ্ধান্ত বহাল রাখিতে বা পরিবর্তন করিতে বা বাতিল করিতে বা তিনি যেইরূপ সঙ্গত মনে করিবেন, সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, প্রাথমিক পর্যায়ে (de novo) তিনি কার্যধারাটি পুনঃবিবেচনার জন্য রিমান্ডে প্রেরণ করিবেন না। (৫) আপীল নিষ্পত্তি করিবার প্রয়োজনে কমিশনার (আপীল), নির্ধারিত পদ্ধতি ও সময়ে তর্কিত বিষয়ে অধিকতর নিরীক্ষা, তদন্ত অনুষ্ঠান, তথ্য সংগ্রহ বা কার্যধারার যথার্থতা যাচাই করিতে পারিবেন। (৬) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কমিশনার (আপীল) নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আপীল নিষ্পত্তি করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে আপীলটি কমিশনার (আপীল) কর্তৃক মঞ্জুর করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

১২২। আপীলাত ট্রাইব্যুনালে আপীল

১২২। (১) কমিশনার বা কমিশনার (আপীল) বা মহাপরিচালক বা সমমর্যাদার কোন মূসক কর্মকর্তা কর্তৃক এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ বা সিদ্ধান্ত দ্বারা কোন ব্যক্তি বা মূসক কর্মকর্তা সংক্ষুব্ধ হইলে, তিনি নির্ধারিত পদ্ধতিতে তর্কিত সিদ্ধান্ত বা আদেশ জারীর ৯০ (নববই) দিনের মধ্যে আপীলাত ট্রাইব্যুনালে আপীল দায়ের করিতে পারিবেন। (২) মূসক কর্মকর্তা ব্যতীত, অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক উপ-ধারা (১) এর অধীন আপীল দায়ের করিবার ক্ষেত্রে, তাহাকে উক্ত আপীল দায়েরকালে তর্কিত আদেশে উল্লিখিত দাবীকৃত করের দশ শতাংশ বা দাবীকৃত কর না থাকিলে, আরোপিত জরিমানার দশ শতাংশ পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করিতে হইবে। (৩) আপীলাত ট্রাইব্যুনাল আপীলের পক্ষগণের শুনানি গ্রহণের পর অন্তর্বর্তীকালীন কর আদায়ের স্থগিতাদেশসহ যেরূপ সঙ্গত এবং সমীচীন মনে করিবেন সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন। (৪) কর আদায় স্থগিতকরণ সংক্রান্ত আপীলাত ট্রাইব্যুনালের যেকোন অন্তবর্তীকালীন আদেশ, উহা প্রদানের তারিখ হইতে ৬ (ছয়) মাস অতিবাহিত হইবার পরের দিবসে অকার্যকর হইবে, যদি না কার্যধারাটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পন্ন করা হয়, বা উহার পূর্বে আপীলাত ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক অমত্মর্বর্তী আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। (৫) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি আপীলাত ট্রাইব্যুনাল ২ (দুই) বৎসর সময়সীমার মধ্যে আপীলটি নিষ্পত্তি করিতে ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে আপীলটি আপীলাত ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মঞ্জুর করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে। (৬) আপীলাত ট্রাইব্যুনাল এবং উহার বেঞ্চসমূহের কর্মপদ্ধতি উক্ত ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্ধারিত হইবে। (৭) আপীলাত ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) এর ধারা ১৯৩ এবং ধারা ২২৮ এর অধীন বিচার বিভাগীয় কার্যধারা হিসাবে গণ্য হইবে এবং উহা দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন একটি দেওয়ানী আদালত হিসাবে গণ্য হইবে।

১২৩। কার্যধারায় সাক্ষ্য প্রমাণের দায়

১২৩। (১) কমিশনার (আপীল) ও আপীলাত ট্রাইব্যুনালের কোন কার্যধারায় বিচার্য বিষয় প্রমাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত হলফনামা চূড়ান্ত প্রমাণ হিসাবে গণ্য হইবে, যদি না করদাতা উক্ত হলফনামার বিষয়টি খণ্ড করিয়া ভিন্নরূপ প্রমাণ পেশ করিতে পারেন। (২) উক্ত হলফনামার সহিত কমিশনার কর্তৃক ইস্যুকৃত নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দলিল সংযুক্ত করিতে হইবে।

১২৪। হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন

১২৪। (১) বোর্ড বা আপীলাত ট্রাইব্যুনালের আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা কমিশনার বা মহাপরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে নহেন, এমন কোন মূসক কর্মকর্তা, উক্ত আদেশের আইনগত প্রশ্নে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশনের আবেদন দাখিল করিতে পারিবেন। (২) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্ত রিভিশনের বিষয়ে, যতদূর সম্ভব দেওয়ানী কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে। (৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশনের আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে, তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৫ প্রযোজ্য হইবে। (৪) মূসক কর্মকর্তা ব্যতীত, অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক উপ-ধারা (১) এর অধীন হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশনের আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে, তাহাকে তর্কিত আদেশে উল্লিখিত প্রদেয় করের বা জরিমানার ১০ (দশ) শতাংশ অর্থ পরিশোধ করিতে হইবে।

১২৫। বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি

১২৫। (১) এই আইনের অন্য কোন বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন করদাতা নির্ধারিত পদ্ধতি, শর্ত বা সময়ে কোন বিরোধ বিকল্প উপায়ে নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত প্যানেল হইতে তৎকর্তৃক নির্বাচিত কোন সহায়তাকারীর নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং সহায়তাকারী নির্ধারিত পদ্ধতি, শর্তে বা সময়ে উক্ত বিরোধ বিকল্প উপায়ে সমঝোতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন। (২) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য, সময়ে সময়ে, এক বা একাধিক মূল্য সংযোজন কর কমিশনারেট নির্ধারণ করিতে পারিবে। (৩) কোন বিরোধ বিকল্প উপায়ে সমঝোতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হইলে, উক্ত সমঝোতার বিরুদ্ধে কোন আদালতে আপত্তি উত্থাপন করা যাইবে না এবং যেসকল বিরোধ বিকল্প উপায়ে সমঝোতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হইবে না, সেই সকল বিরোধের ক্ষেত্রে, এই আইনের বিধানানুযায়ী পুনরায় কার্যধারা গ্রহণ করিতে হইবে। (৪) কোন বিরোধ বিকল্প উপায়ে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হইলে, উক্ত পন্থা অবলম্বনের জন্য ব্যয়িত সময়কাল আপীল দায়েরের সময়সীমা গণনায় অন্তর্ভুক্ত হইবে না। ব্যাখ্যা: এই ধারায়, ‘‘বিরোধ’’ অর্থ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির প্রয়োগ হইতে উদ্ভূত কোন বিরোধ; কিন্তু অপরাধ বা আইনগত প্রশ্ন জড়িত রহিয়াছে এমন বিরোধ উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না।

১২৬। সরকার কর্তৃক কর অব্যাহতি

১২৬। (১) জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলার নিমিত্ত তাৎক্ষণিক কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজন হইলে সরকার পরবর্তী অর্থ আইন কার্যকর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের অধীন আরোপযোগ্য করের আংশিক বা সম্পূর্ণ অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে, তবে এই উপ-ধারার অধীন প্রদত্ত অব্যাহতি পরবর্তী অর্থ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা না হইলে উহা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হইবে। (২) আন্তর্জাতিক সহায়তা ও ঋণ চুক্তিতে, উক্ত চুক্তির অধীন কোন আমদানি বা সরবরাহের উপর প্রযোজ্য করের আংশিক বা সম্পূর্ণ অব্যাহতি প্রদান করিবার বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকিলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের অধীন আরোপযোগ্য করের আংশিক বা সম্পূর্ণ অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে, এবং (ক) আমদানির ক্ষেত্রে: আমদানিকে অব্যাহতি প্রদান করিয়া অব্যাহতি কার্যকর করা হইবে; এবং (খ) সরবরাহের ক্ষেত্রে: উক্ত সরবরাহটিকে বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে প্রদত্ত সরবরাহ অব্যাহতি প্রদান না করিয়া ধারা ৭১ এর অধীন ফেরৎ প্রদানের মাধ্যমে অব্যাহতি কার্যকর করা হইবে।

১২৭। প্রদেয় করের উপর সুদ আরোপ

১২৭। (১) যদি কোন ব্যক্তি নির্ধারিত তারিখে বা উক্ত তারিখের পূর্বে, কমিশনারের নিকট প্রদেয় কর পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে তাহাকে নির্ধারিত তারিখের পরবর্তী দিন হইতে পরিশোধের দিন পর্যন্ত প্রদেয় করের পরিমাণের উপর মাসিক ২ (দুই) শতাংশ সরল হারে সুদ পরিশোধ করিতে হইবে। (২) যে পদ্ধতিতে উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে প্রদেয় কর আদায় করা হয় সেই একই পদ্ধতিতে কমিশনার তাহার নিকট হইতে সুদ আদায় করিবেন। (৩) কোন ব্যক্তি কর্তৃক সুদসহ করের কোন পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করিবার পর, যদি প্রমাণিত হয় যে, সুদের সহিত সংশ্লিষ্ট অর্থ প্রদেয় ছিল না, তাহা হইলে উক্ত অর্থের উপর পরিশোধিত সুদ তাহাকে ফেরত প্রদান করিতে হইবে। (৪) অর্থদণ্ড বা জরিমানার অতিরিক্ত হিসাবে উক্ত সুদ প্রদেয় হইবে।

১২৮। অনলাইনে কার্যসম্পাদন, দাখিলপত্র পেশকরণ এবং কর পরিশোধ, ইত্যাদি

১২৮। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩৯ নং আইন) এর বিধানাবলী সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন সম্পাদিতব্য যে কোন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে অনলাইনে বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সম্পাদন করা যাইবে।

১২৯। আদালতে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা

১২৯। বোর্ড বা কোন কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ বা সিদ্ধান্ত বা গৃহীত কোন ব্যবস্থার (কর নিরূপণ, কর আরোপ, জরিমানা আরোপ, সুদ আরোপ, কর আদায়করণ বাতিল বা পরিবর্তন করিবার জন্য বা কোন নিরীক্ষা, তদন্ত বা অনুসন্ধান বা এইরূপ সকল বিষয়) বিরুদ্ধে এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন কার্যধারা রুজু বা মামলা দায়ের করা ব্যতীত অন্য কোন আদালতে কোন মামলা দায়ের করা যাইবে না।

১৩০। মূসক পরামর্শক নিয়োগ

১৩০। (১) কোন কার্যধারায় কোন করদাতার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করা বা তাহাকে পরামর্শ প্রদানের জন্য লাইসেন্সধারী মূসক পরামর্শকগণের মধ্য হইতে যেকোন ব্যক্তিকে নিয়োগ করা যাইবে। (২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মূসক পরামর্শক হিসাবে কার্যক্রম পরিচালনা করিতে আগ্রহী প্রত্যেক ব্যক্তি, নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তে, বোর্ডের নিকট আবেদন করিলে বোর্ড, নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তে, উক্ত ব্যক্তিকে মূসক পরামর্শকের লাইসেন্স প্রদান করিতে পরিবে।

১৩১। করণিক ত্রুটি, ইত্যাদির সংশোধন

১৩১। এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন কৃত কোন কর্মকাণ্ডে কোন করণিক বা গাণিতিক ভুল-ত্রুটি থাকিলে মূসক কর্মকর্তা উক্ত ভুল-ত্রুটি সংশোধন করিতে পারিবেন।

১৩২। দলিলপত্রের প্রত্যায়িত অনুলিপি

১৩২। করদাতা কর্তৃক আবেদনের ভিত্তিতে, নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে, কমিশনার নিম্নবর্ণিত দলিলপত্রের প্রত্যায়িত অনুলিপি প্রদান করিতে পারিবেন, যথা:― (ক) করদাতা কর্তৃক মূসক কর্মকর্তার নিকট সরবরাহকৃত দলিলাদি বা কাগজপত্র; (খ) উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা কর্তৃক কর কর্তনের প্রমাণস্বরূপ মূসক কর্মকর্তার নিকট দাখিলকৃত দলিলপত্র; বা (গ) বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দলিল।

১৩৩। মূসক ছাড়পত্র প্রদান

১৩৩। (১) কোন করদাতা নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে মূসক ছাড়পত্রের জন্য কমিশনারের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন। (২) কমিশনার নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত করদাতাকে মূসক ছাড়পত্র প্রদান করিতে পারিবেন, যদি তিনি এই মর্মে নিশ্চিত হন যে― (ক) করদাতার নিকট কোন কর পাওনা বা বকেয়া নাই; বা (খ) করদাতা কর পরিশোধের জন্য জামানত প্রদান করিয়াছেন।

১৩৪। ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যক্রম সম্পাদন

১৩৪। বোর্ড, নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তে, নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক কার্যাবলী প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করিতে পারিবে, যথা:- (ক) দাখিলপত্রে উল্লিখিত প্রাথমিক তথ্যসহ অন্য যেকোন তথ্য অমত্মর্ভুক্তি এবং প্রক্রিয়াকরণ; (খ) ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা প্রদান করা হইয়াছে এমন সকল ব্যক্তির তালিকা প্রস্ত্ততকরণ; (গ) বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন কার্যক্রম।

১৩৫। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

১৩৫। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এবং উহার বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

১৩৬। ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

১৩৬। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, প্রয়োজন মনে করিলে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে। (২) বাংলা পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

১৩৭। রহিতকরণ ও হেফাজত

১৩৭। (১) এই আইন প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২২ নং আইন) রহিত হইবে। (২) উক্ত আইন রহিত হওয়া সত্ত্বেও― (ক) উক্ত আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত ব্যবস্থা, সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে; (খ) উক্ত আইনের অধীন প্রণীত সকল বিধি, প্রদত্ত সকল আদেশ, জারিকৃত সকল প্রজ্ঞাপন বা নোটিশ এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে এবং এই আইনের অধীন প্রণীত, প্রদত্ত বা জারিকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে; (গ) উক্ত আইন দ্বারা বা উহার অধীন আরোপিত কোন কর বা ফিস বা অন্য কোন পাওনা, এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে অনাদায়ী থাকিলে, উহা উক্ত আইন অনুযায়ী আদায় করা হইবে, এবং কোন বিষয় অনিষ্পন্ন থাকিলে, তাহা উক্ত আইন অনুযায়ী নিষ্পন্ন হইবে যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই।

১৩৮। ক্রান্তিকালীন কর হিসাব

১৩৮। (১) ধারা ৩৩ এর বিধানাবলী সত্ত্বেও, করযোগ্য সরবরাহের উপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর এই আইন প্রবর্তন দিবসে প্রদেয় হইবে, যদি― (ক) কোন সরবরাহ প্রবর্তন দিবসের পরে প্রদান করা হইয়া থাকে বা পরে প্রদান করা হয়; এবং (খ) কোন সরবরাহের জন্য প্রবর্তন দিবসের পূর্বে কর চালানপত্র ইস্যু করা হয় বা সরবরাহের মূল্য পরিশোধ করা হয় বা উভয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়; তবে, যদি মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এর অধীন উক্ত ব্যক্তি সরবরাহের উপর মূল্য সংযোজন কর পরিশোধ করিয়া থাকেন এবং উক্ত মূল্য সংযোজন কর উক্ত আইনের অধীন কমিশনারের নিকট পেশকৃত দাখিলপত্রে প্রদর্শন করিয়া থাকেন, তাহা হইলে মূল্য সংযোজন কর প্রদেয় হইবে না। (২) উপ-ধারা (১) এর আওতায় সম্পাদিত কোন সরবরাহ আনুক্রমিক বা পর্যাবৃত্ত সরবরাহ হইলে, প্রত্যেক অংশের উপর পৃথকভাবে মূল্য সংযোজন কর প্রদেয় হইবে এবং সম্পাদিত কার্যক্রম পৃথক সরবরাহ হিসাবে গণ্য হইবে।

১৩৯। এই আইন প্রবর্তনের পর আবদ্ধ চুক্তি

১৩৯। এই আইন প্রবর্তনের পর কোন চুক্তি সম্পাদিত হইলে এবং উক্ত চুক্তিতে মূল্য সংযোজন কর এবং সম্পূরক শুল্কের বিধান অন্তর্ভুক্ত না থাকিলে- (ক) উক্ত চুক্তিমূল্যের মধ্যে সরবরাহের উপর প্রদেয় মূল্য সংযোজন কর এবং সম্পূরক শুল্ক (যদি থাকে) অন্তর্ভুক্ত আছে বলিয়া গণ্য হইবে; এবং (খ) সরবরাহকারী উক্ত সরবরাহের চুক্তিমূল্য নির্ধারণকালে মূল্য সংযোজন কর এবং সম্পূরক শুল্ক (যদি থাকে) অন্তর্ভুক্ত না করিলেও উক্ত চুক্তির অধীন প্রদত্ত সরবরাহের উপর সরবরাহকারী কর্তৃক উক্ত কর পরিশোধ করিতে হইবে।



Related Laws

সরকারি চাকরি আইন

প্রজাতন্ত্রের কর্মবিভাগ সৃজন ও পুনর্গঠন, একীকরণ, সংযুক্তকরণ এবং প্রজাতন্ত্রের…

পণ্য উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্রমিক (চাকরির শর্তাবলী) আইন,

পণ্য উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকগণের চাকরির…

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন  

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন

বরেন্দ্র এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং তদ্‌সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে…

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন আইন

Bangladesh Agricultural Development Corporation Ordinance, 1961 রহিতক্রমে উহার বিধানাবলী বিবেচনাক্রমে সময়ের…

Share your thoughts on this law