Your password is being change. Please wait ...

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক আইন

Volume - 44 Act - ১৯ Year - ২০১৪ Date - ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৪

Rajshahi Krishi Unnayan Bank Ordinance, 1986 (Ordinance No. LVIII of 1986) এর বিষয়বস্ত্ত বিবেচনাক্রমে উহা পরিমার্জনপূর্বক নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন

যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন), অতঃপর ‘‘পঞ্চদশ সংশোধনী’’ বলিয়া উল্লিখিত, দ্বারা সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১নং আইন) বিলুপ্তির ফলশ্রুতিতে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা জারীকৃত অধ্যাদেশসমূহ, অতঃপর ‘‘উক্ত অধ্যাদেশসমূহ’’ বলিয়া উল্লিখিত, অনুমোদন ও সমর্থন (ratification and confirmation) সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হওয়ায় উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পায়; এবং যেহেতু সিভিল আপীল নং ৪৮/২০১১ তে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ার ফলশ্রুতিতেও উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পায়; এবং যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহ ও উহাদের অধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন ইত্যাদি প্রজাতন্ত্রের কর্মের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন, জনগণের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণ এবং বহাল ও অক্ষুণ্ণ রাখিবার নিমিত্ত, জনস্বার্থে, উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা প্রদান করা আবশ্যক; এবং যেহেতু দীর্ঘসময় পূর্বে জারীকৃত উক্ত অধ্যাদেশসমূহ যাচাই-বাছাইপূর্বক যথানিয়মে নূতনভাবে আইন প্রণয়ন করা সময় সাপেক্ষ; এবং যেহেতু পঞ্চদশ সংশোধনী এবং সুপ্রীম-কোর্টের আপীল বিভাগের প্রদত্ত রায়ের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট আইনী শূন্যতা সমাধানকল্পে সংসদ অধিবেশনে না থাকাবস্থায় আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হওয়ায় তিনি ২১ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে ২০১৩ সনের ২নং অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করেন; এবং যেহেতু সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদের নির্দেশনা পূরণকল্পে উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর রাখিবার স্বার্থে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারীকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৭নং আইন) প্রণীত হইয়াছে; এবং যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া যে সকল অধ্যাদেশ আবশ্যক বিবেচিত হইবে সেইগুলি সকল স্টেক-হোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে বাংলা ভাষায় নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকারের সিদ্ধান্ত রহিয়াছে; এবং যেহেতু সরকারের উপরি-বর্ণিত সিদ্ধান্তের আলোকে Rajshahi Krishi Unnayan Bank Ordinance, 1986 (Ordinance No. LVIII of 1986) শীর্ষক অধ্যাদেশটির বিষয়বস্তু বিবেচনাক্রমে উহা পরিমার্জনপূর্বক নূতনভাবে আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রবর্তন ও প্রয়োগ

১। (১) এই আইন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক আইন, ২০১৪ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

(৩) ইহা রাজশাহী ও রংপুর প্রশাসনিক বিভাগের সমগ্র এলাকায় প্রযোজ্য হইবে।

২। সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(১) ‘‘কমিটি’’ অর্থ ধারা ১৩ এর অধীন গঠিত নির্বাহী কমিটি, অডিট কমিটি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি, কারিগরী উপদেষ্টা কমিটি এবং অন্যান্য কমিটি বা উপ-কমিটি।

(২) ‘‘কুটিরশিল্প’’ অর্থ সার্বক্ষণিক বা খণ্ডকালীন পেশা হিসাবে একটি পরিবারের সদস্যবৃন্দ বা অনুরূপ পেশার কতিপয় ব্যক্তির, যাহারা নিজদিগকে সমবায় সমিতিভুক্ত করিয়াছেন, দ্বারা পরিচালিত কোন শিল্প;

(৩) ‘‘কৃষি’’ অর্থ-(ক) যে কোন ধরনের শস্য উৎপাদন; (খ) উদ্যানকর্ষণ (horticulture); (গ) বনায়ন; (ঘ) মৎস্য চাষ, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ; (ঙ) পশুজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ; (চ) পোল্ট্রি ও পশুখাদ্য উৎপাদন; (ছ) পশুপালন; (জ) হাঁস-মুরগীর খামার পরিচালন; (ঝ) দুগ্ধ খামার পরিচালন; (ঞ) মৌমাছি পালন; (ট) রেশম চাষ; এবং (ঠ) অনুরূপ কোন কৃষিভিত্তিক শিল্প;

(৪) ‘‘কৃষিজীবী’’ অর্থ কৃষি পণ্যের উৎপাদন, উন্নয়ন, মজুদকরণ, গুদামজাতকরণ, বিপণন বা প্রক্রিয়াজাতকরণে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি, এবং উক্তরূপ যে কোন কার্যের সহিত সম্পৃক্ত, কোন আইনের অধীন নিগমিত বা নিবন্ধিত, কোন পাবলিক বা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বা সমবায় সমিতিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৫) ‘‘ক্ষুদ্র কৃষিজীবী’’ অর্থ একজন কৃষিজীবী যাহার দখলে একখণ্ড জমি বা জলাশয় রহিয়াছে, যাহা তাহার বা তাহার পরিবারের সদস্যদের দ্বারা চাষাবাদ বা ভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়;

(৬) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ বোর্ডের চেয়ারম্যান;

(৭) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত;

(৮) ‘‘পরিচালক’’ অর্থ বোর্ডের কোন পরিচালক;

(৯) ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংক’’ অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O.NO.127 of 1972) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংক;

(১০) ‘‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক’’ অর্থ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক;

(১১) ‘‘ব্যাংক’’ অর্থ ধারা ৪ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক;

(১২) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৮ এর অধীন গঠিত ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড;

(১৩) ‘‘সমবায় সমিতি’’ অর্থ সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ৪৭নং আইন) এর অধীন নিবন্ধিত কোন সমিতি।

৩। আইনের প্রাধান্য

৩। আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।

৪। ব্যাংক প্রতিষ্ঠা

৪। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, Rajshahi Krishi Unnayan Bank Ordinance, 1986 (Ordinance No. LVIII of 1986) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Rajshahi Krishi Unnayan Bank এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে।

(2) ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

(৩) ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এবং Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O. No. 127 of 1972) এবং ব্যাংকিং কোম্পানী সম্পর্কিত অন্য যে কোন আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ইহা একটি ব্যাংক কোম্পানী হিসাবে গণ্য হইবে।

(৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত আইনের অধীন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত যে কোন নির্দেশনা পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে কোন মতপার্থক্য দেখা দিলে বিষয়টি সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

৫। প্রধান কার্যালয়, ইত্যাদি

৫। (১) রাজশাহীতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থাকিবে এবং সরকার যেরূপ নির্দেশ প্রদান করিবে সেইরূপে রাজশাহী বা রংপুর বিভাগের অন্য কোন স্থানে উহা স্থানান্তর করা যাইবে।

(২) ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে, যে স্থানে কার্যালয় বা শাখা স্থাপন করা প্রয়োজন বিবেচনা করিবে, সেই স্থানে কার্যালয় বা শাখা স্থাপন করিতে পারিবে।

৬। অনুমোদিত মূলধন ও পরিশোধিত মূলধন

৬। (১) ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন হইবে ১ (এক) হাজার কোটি টাকা, যাহা ব্যাংকের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার কর্তৃক, সময়ে সময়ে, নির্ধারিত আকারে ও পদ্ধতিতে পরিশোধিত হইবে; তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, সময়ে সময়ে, ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি করিতে পারিবে।

(২) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক, সময় সময়, জারীকৃত ঝুঁকিভিত্তিক ন্যূনতম ও পর্যাপ্ত মূলধন সরকার কর্তৃক পরিশোধিত হইবে।

৭। সাধারণ নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধান

৭। (১) এই আইনের অধীন প্রণীত বিধিমালা সাপেক্ষে ব্যাংকের সাধারণ নির্দেশনা, প্রশাসনিক বিষয় ও কার্যক্রম একটি পরিচালনা বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং বোর্ড ব্যাংক কর্তৃক কৃত বা সম্পাদিত হইতে পারে এইরূপ সকল ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্যাবলী সম্পাদন করিতে পারিবে।

(২) বোর্ড উহার কার্যাবলী সম্পাদনকালে ব্যাংকের বাণিজ্যিক বিষয়াদি বিবেচনা করিবে, তবে কৃষিজীবী ও কৃষি উন্নয়নের স্বার্থ এবং কুটির শিল্প ও তৎসংশ্লিষ্ট শিল্পের উন্নয়ন এবং সাধারণভাবে জনস্বার্থের প্রতি বিশেষ গুরত্বারোপ করিবে।

(৩) ব্যাংক কোন নীতি নির্ধারণী প্রশ্নে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা, যদি থাকে, দ্বারা পরিচালিত হইবে এবং কোন বিষয় নীতি নির্ধারণী কিনা তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্ন উদ্ভূত হইলে উহাতে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।

৮। বোর্ড গঠন

৮। নিম্নবর্ণিত পরিচালকবৃন্দের সমন্বয়ে ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড গঠিত হইবে, যথা :- (ক) চেয়ারম্যান; (খ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক; (গ) রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পদাধিকারবলে; (ঘ) রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পদাধিকারবলে; (ঙ) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উক্ত বিভাগের অন্যূন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন একজন কর্মকর্তা; (চ) অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগ, পদাধিকারবলে; (ছ) অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগ, পদাধিকারবলে; (জ) উপ-পরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগ, পদাধিকারবলে; (ঝ) উপ-পরিচালক, প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগ, পদাধিকারবলে; এবং (ঞ) সরকার কর্তৃক মনোনীত কৃষি, ব্যবসা প্রশাসন বা আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ২ (দুই) জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।

৯। চেয়ারম্যান

৯। (১) ব্যাংকের একজন চেয়ারম্যান থাকিবেন।

(২) প্রজাতন্ত্রের চাকুরীতে নিয়োজিত নহেন এমন ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে, সরকার কর্তৃক স্থিরকৃত শর্তে, চেয়ারম্যান নিযুক্ত হইবেন।

(৩) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান উক্ত শূন্য পদে যোগদান না করা পর্যন্ত অথবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন পরিচালক সাময়িকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।

১০। ব্যবস্থাপনা পরিচালক

১০। (১) ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকিবেন।

(২) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকুরীর শর্তাবলী সরকার কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে।

(৩) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক উক্ত শূন্য পদে যোগদান না করা পর্যন্ত অথবা ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, বোর্ড কর্তৃক মনোনীত কোন কর্মকর্তা সাময়িকভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করিবেন।

১১। মেয়াদ পদত্যাগ, ইত্যাদি

১১। (১) চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্যান্য পরিচালকগণ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদ ও শর্তে স্বপদে বহাল থাকিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার যে কোন সময়, কোন কারণ প্রদর্শন ব্যতিরেকে, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং যে কোন পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করিতে পারিবে।

(৩) চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা অন্য কোন পরিচালক, যে কোন সময়, সরকারের নিকট তাহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন : তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কর্তৃক গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত কোন পদত্যাগপত্র কার্যকর হইবে না।

১২। চেয়ারম্যান ও পরিচালকগণের ক্ষমতা এবং কার্যাবলী

১২। (১) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন।

(২) চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্যান্য পরিচালকগণ বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত বা অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ, কার্যাবলী সম্পাদন এবং দায়িত্ব পালন করিবেন।

১৩। কমিটিসমূহ

১৩। (১) বোর্ডের একটি নির্বাহী কমিটি থাকিবে, যাহা নিম্নরূপে গঠিত হইবে, যথাঃ- (ক) চেয়ারম্যান; (খ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক; এবং (গ) বোর্ড কর্তৃক মনোনীত একজন পরিচালক।

(২) নির্বাহী কমিটি, এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধিমালা সাপেক্ষে, বোর্ডের এখতিয়ারাধীন যে কোন বিষয় নিষ্পত্তি করিতে পারিবে।

(৩) বোর্ডের একটি অডিট কমিটি থাকিবে, যাহা নিম্নরূপে গঠিত হইবে, যথা:- (ক) বোর্ড কর্তৃক পরিচালকগণের মধ্য হইতে মনোনীত একজন চেয়ারম্যান; এবং (খ) বোর্ড কর্তৃক মনোনীত ২ (দুই) জন পরিচালক।

(৪) বোর্ডের একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকিবে, যাহা নিম্নরূপে গঠিত হইবে, যথা:- (ক) বোর্ড কর্তৃক পরিচালকগণের মধ্য হইতে মনোনীত একজন চেয়ারম্যান; এবং (খ) বোর্ড কর্তৃক মনোনীত ২ (দুই) জন পরিচালক।

(৫) আর্থিক সহায়তার জন্য ব্যাংকের নিকট দাখিলকৃত যে কোন কর্ম-পরিকল্পনা অথবা বোর্ড কর্তৃক প্রেরিত যে কোন বিষয় সম্পর্কে বোর্ডের নিকট কারিগরি পরামর্শ প্রদানের নিমিত্ত ব্যাংক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি নামে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করিতে পারিবে।

(৬) ব্যাংকের কার্যাবলী পরিচালনার সুবিধার্থে বোর্ড, প্রয়োজনে, অন্যান্য কমিটি বা উপ-কমিটি গঠন করিতে পারিবে।

(৭) কারিগরি উপদেষ্টা কমিটিসহ অন্যান্য কমিটির দায়িত্ব, কার্যাবলী এবং উহাদের সভার কার্যপদ্ধতি, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

১৪। সভা

১৪। (১) বোর্ড সভায় অন্যূন ৪(চার) জন এবং কমিটির সভায় অন্যূন ২(দুই) জন পরিচালকের উপস্থিতি ব্যতীত কোরাম পূর্ণ হইবে না এবং কোন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাইবে না।

(২) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত সময় ও স্থানে বোর্ড এবং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) বোর্ড বা কমিটির সকল সভায় উহার চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে উপস্থিত পরিচালকবৃন্দের দ্বারা এতদুদ্দেশ্যে মনোনীত একজন পরিচালক সভাপতিত্ব করিবেন।

(৪) বোর্ড বা কমিটির সভায় উপস্থিত উহার চেয়ারম্যান ও পরিচালকবৃন্দের একটি করিয়া ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে কেবল চেয়ারম্যান বা, ক্ষেত্রমত, সভাপতিত্বকারী পরিচালকের দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।

(৫) কেবল কোন পদের শূন্যতা অথবা বোর্ড বা কমিটি গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ড বা কোন কমিটির কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।

১৫। পরিচালকগণের সম্মানী, ইত্যাদি

১৫। (১) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যতিরেকে অন্যান্য পরিচালকগণ বোর্ড, কমিটি বা কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির সভায় যোগদানের জন্য সরকার কর্তৃক, সময়ে সময়ে, নির্ধারিত সম্মানী প্রাপ্ত হইবেন।

(২) বোর্ড, কমিটি বা কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির সভায় যোগদানের জন্য পরিচালকগণ কর্তৃক ব্যয়িত ভ্রমণ ব্যয়সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, পরিশোধিত হইবে।

(৩) এই ধারায় উল্লিখিত সকল সম্মানী, ভ্রমণ ব্যয় এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় ব্যাংক কর্তৃক প্রদেয় হইবে।

১৬। ব্যাংকের কার্যাবলী

১৬। (১) কৃষিজীবী, মৎস্যজীবী, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগী প্রতিপালনকারী এবং কুটির শিল্প, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ শিল্পসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিল্পে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে ব্যাংক, বিধি দ্বারা নির্ধারিত মেয়াদ, শর্ত ও পদ্ধতিতে কোন বস্তু ভাড়ায় গ্রহণ, ভাড়ায় প্রদান বা গুদামজাতকরণের সুবিধা প্রদানের নিমিত্ত, ঋণ হিসাবে অগ্রিম প্রদানসহ নগদে বা দ্রব্যে ঋণ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ব্যাংক নিম্নবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) আমানত হিসাবে অর্থ গ্রহণ;

(খ) ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যাংকের সম্পত্তির জামানতের বিপরীতে অথবা অন্য কোনভাবে ঋণ গ্রহণ;

(গ) বন্ড ও ডিবেঞ্চার ইস্যু এবং বিক্রয়;

(ঘ) বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি-বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে Small and Medium Enterprise (SME) ঋণ প্রদান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স প্রাপ্তি সাপেক্ষে বৈদেশিক বিনিময় ব্যবসা পরিচালন ও অর্থায়ন;

(ঙ) ব্যাংক প্রদত্ত ঋণ ও অগ্রিমের নিরাপত্তা বিধানের নিমিত্ত জামানত (pledge), বন্ধক (mortgage), দায়বন্ধন (hypothecation) অথবা যে কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির স্বত্তান্তর দলিল (assignment) বা কোন তফসিলী ব্যাংকের শর্তহীন ব্যাংক গ্যারান্টি অথবা দুই বা ততোধিক বৈধ স্বাক্ষরযুক্ত, যাহার মধ্যে একটি তফসিলী ব্যাংকের, বিনিময় বিল বা অঙ্গীকারপত্র অথবা অন্যান্য হস্তান্তরযোগ্য দলিলাদি আহরণ, গ্রহণ, বাট্টাকরণ, ক্রয়, বিক্রয় বা পুনঃবাট্টাকরণ : তবে শর্ত থাকে যে, কোন কৃষিজীবীকে সর্বসাকুল্যে অনধিক পাঁচ হাজার টাকা ঋণ প্রদানকালে ব্যাংক প্রয়োজনে এক বা একাধিক জামিনদারের অঙ্গীকারনামা দ্বারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করিতে পারিবে, যদি এইরূপ কৃষিজীবী তাহার উক্ত অঙ্গীকারনামার শর্তাদি প্রতিপালনে তাহার নির্দিষ্ট সম্পত্তির উপর চার্জ সৃষ্টি করিবার জন্য ব্যাংকের সহিত চুক্তিতে আবদ্ধ হয়;

(চ) বীজ বা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ সংশ্লিষ্ট যন্ত্র, সরঞ্জাম, উপকরণ, সার বা রাসায়নিক অথবা কৃষিতে ব্যবহৃত অন্যান্য দ্রব্য সামগ্রী ক্রয়, মজুদ ও ঋণে সরবরাহকরণ এবং উক্তরূপ দ্রব্যাদির জন্য যে কোন সংস্থার প্রতিনিধি হিসাবে কার্য সম্পাদন;

(ছ) কৃষির সহিত সম্পৃক্ত অথবা কৃষি, মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন এবং পশুপালন, পশুজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন এবং মৎস্য, পোল্ট্রি ও পশু খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের সহিত সম্পৃক্ত কুটির শিল্প এবং কৃষিভিত্তিক বা তৎসংশ্লিষ্ট শিল্পসমূহে অর্থায়নের সহিত সম্পৃক্ত নিগমবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের জন্য, অনধিক ১০(দশ) বৎসরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য, ঋণপত্র (Debenture) চালুকরণ;

(জ) স্বর্ণ, অলংকার, মণিমুক্তা, নিরাপত্তা জামানত বা সঞ্চয়পত্র এবং মালিকানা দলিলসহ অন্যান্য মূল্যবান দ্রব্যাদির হেফাজত এবং এইরূপ কোন নিরাপত্তা জামানত বা সঞ্চয়সমূহের বিক্রয়লব্ধ অর্থ সংগ্রহকরণ, আসল, সুদ বা লভ্যাংশ, যাহাই হউক না কেন;

(ঝ) নির্বাহক, অছি বা অন্যভাবে যে কোন উদ্দেশ্যে বিষয় সম্পত্তির পরিচালন;

(ঞ) অর্থ এবং নিরাপত্তা আমানতের মূল্য প্রদান, গ্রহণ, সংগ্রহ এবং প্রেরণ;

(ট) ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে সকল প্রকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন, রক্ষণাবেক্ষণ ও হস্তান্তর;

(ঠ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, যে কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূলধন, পরিসম্পদ ও দায়দেনাসহ ব্যবসার দায়িত্ব গ্রহণ;

(ড) তফসিলী ব্যাংক কর্তৃক মঞ্জুরীকৃত ঋণের কৃষিজ সম্পত্তির নিরাপত্তার বিপরীতে নিশ্চয়তা প্রদান;

(ঢ) কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব খোলা অথবা উহার সহিত যে কোন প্রতিনিধিত্ব বন্দোবস্তকরণ এবং উহার প্রতিনিধি (Agency) বা প্রতিসংগী (Correspondent) হিসাবে কাজ করা;

(ণ) কেবল সাময়িক ব্যবস্থা হিসাবে সরকারি জামানতসমূহে উহার তহবিল বিনিয়োগ;

(ত) ব্যাংকের যে কোন দাবীর সম্পূর্ণ বা আংশিক পাওনা পরিশোধস্বরূপ ব্যাংকের দখলভুক্ত স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় অথবা নগদীকরণ এবং ব্যাংকের জামানত হিসাবে গৃহীত যে কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন, অধিকারে রাখা এবং সার্বিকভাবে যে কোন অধিকার, স্বত্ব বা স্বার্থ পরিচালন;

(থ) ব্যাংকের শাখা সম্প্রসারণের পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিং প্রবর্তনকরণ; (দ) ব্যাংকের কার্যক্রম যুগোপযোগী করিবার লক্ষ্যে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন ব্যাংকিং চালুকরণ; এবং

(ধ) ব্যাংকের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক, এইরূপ আনুষঙ্গিক বা প্রয়োজনীয়, কার্যাদি সম্পাদন করা।

 

(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার কর্তৃক প্রতিশ্রুত (Guaranteed) যে কোন ঋণ সুনির্দিষ্ট জামানত ব্যতিরেকে প্রদান করা যাইবে।

(৪) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কুটির শিল্প, কৃষিভিত্তিক শিল্প বা তৎসংশ্লিষ্ট যে কোন শিল্পে নিয়োজিত যে কোন ব্যক্তির ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা বিধান করিবার লক্ষ্যে ব্যাংকের নিকট যে কোন প্রকার বা যে কোন পরিমাণ স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি জামানত, বন্ধক, দায়বদ্ধ বা স্বত্বান্তর অথবা ভিন্নভাবে এইরূপ যে কোন সম্পত্তির উপর চার্জ সৃষ্টি করা এবং এই আইনের বিধান অনুযায়ী জামানতকৃত, বন্ধককৃত, দায়বদ্ধকৃত স্বত্বান্তরিত যে কোন সম্পত্তি হইতে ব্যাংক উহার পাওনা আদায়ের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকারী হইবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ জামানত, বন্ধক, দায়বদ্ধ, স্বত্বান্তরিত বা অন্যভাবে চার্জকৃত সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলাম ব্যতীত এবং এইরূপ সম্পত্তির পরিমাণ ব্যাংকের পাওনা আদায়ের জন্য পর্যাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উহা বিক্রয় বা ভিন্নভাবে হস্তান্তর করা যাইবে না এবং যেক্ষেত্রে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ অথবা একাধিক নিলাম ডাককারী পাওয়া যাইবে না, সেইক্ষেত্রে ব্যাংক নিলাম ডাকের ব্যবস্থা করিবে না।

(৫) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ নিশ্চিতকরণের জন্য কোন সম্পত্তির উপর সৃষ্ট চার্জ অথবা ঋণের ব্যবহার নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে ব্যাংকের অনুকূলে সম্পাদিত যে কোন অঙ্গীকারপত্রের শর্ত অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তরিত সম্পত্তি, যিনি বিনিময় মূল্য দ্বারা ও চার্জের নোটিশ ছাড়াই এইরূপ সম্পত্তি অর্জন করিয়াছেন, উক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও কার্যকর থাকিবে।

(৬) ব্যাংক উহার ঋণ এবং আদায় সংশ্লিষ্ট ব্যয় পর্যবেক্ষণের জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোন সংস্থাকে নিযুক্ত করিতে পারিবে।

(৭) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা সাপেক্ষে, যদি থাকে, ব্যাংক বাংলাদেশের বাহিরে উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত সকল অথবা যে কোন ব্যবসা পরিচালনা করিতে পারিবে।

(৮) এই আইনের অন্য কোন বিধানে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কৃষি ছাড়াও অন্য যে কোন উদ্দেশ্যে ব্যাংকের যে কোন আমানতকারীকে তাহার নিজস্ব আমানতের বিপরীতে প্রয়োজনে ঋণ প্রদান করা যাইবে।

১৭। বন্ড এবং ঋণপত্র

১৭। (১) ব্যাংক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বন্ড ও ঋণপত্র (debenture) ইস্যু এবং বিক্রয় করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ইস্যুকৃত এবং বিক্রিত বন্ড ও ঋণপত্রে সরকারি নিশ্চয়তা থাকিবে এবং উহাদের সুদের হার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

১৮। গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ, ইত্যাদি

১৮। ব্যাংক, প্রয়োজনে, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ও পরামর্শক্রমে, নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে, যথা :- (ক) কৃষি ঋণ, কৃষি পণ্য বিপণন, মৎস্যজীবী বা গবাদি পশু ও হাসঁ-মুরগী প্রতিপালনকারী সমবায় সমিতির কৃষি ঋণ, কুটির শিল্প বা তৎসংশ্লিষ্ট শিল্পের ঋণ এবং সমপ্রকৃতির যে কোন গবেষণা বা তৎসম্পর্কিত বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপন; এবং (খ) ব্যাংকের কর্মকর্তা বা কর্মচারিদের, সমবায় সমিতির কর্মকর্তা বা কর্মচারিদের এবং ব্যাংকের সহিত আর্থিক সম্পর্ক থাকিতে পারে এইরূপ নিগমিত অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তা বা কর্মচারিদের কল্যাণার্থে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপনসহ প্রশিক্ষণ সুবিধাদির ব্যবস্থাকরণ।

১৯। ক্ষুদ্র কৃষিজীবীদের ঋণ চাহিদার প্রতি গুরুত্ব প্রদান

১৯। ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বোর্ড, যতদূর সম্ভব, প্রান্তিক এবং ভূমিহীন কৃষকসহ ক্ষুদ্র কৃষিজীবীদের ঋণ চাহিদার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করিবে।

২০। পরিচালকদের জামানতবিহীন ঋণ প্রদান নিষিদ্ধ

২০। ব্যাংক, কোন পরিচালককে অথবা কোন পরিচালকের স্বার্থ জড়িত রহিয়াছে এইরূপ কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে, জামানতবিহীন অগ্রিম বা ঋণ প্রদান করিবে না।

২১। প্রদত্ত ঋণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যবহার

২১। কোন ঋণ যে উদ্দেশ্যে প্রদত্ত হইবে সেই উদ্দেশ্যেই ঋণের অর্থ ব্যয়িত হয় কি না ব্যাংক তাহা নিশ্চিত করিবে এবং কোন ঋণের অর্থ উহার উদ্দেশ্যের বিপরীতে ভিন্ন কোন ক্ষেত্রে ব্যয়িত হইলে, ব্যাংক অবিলম্বে উক্ত ঋণের অর্থ ফেরত লইবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

২২। কতিপয় ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃক ঋণের টাকা সম্পূর্ণরূপে পরিশোধের দাবী

২২। কোন চুক্তিতে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক নোটিশের মাধ্যমে কোন ঋণগ্রহীতাকে অবিলম্বে ব্যাংকের সমুদয় পাওনা পরিশোধের জন্য দাবী করিতে পারিবে, যদি- (ক) যে চুক্তির অধীনে ঋণ, অগ্রিম বা ধার মঞ্জুর করা হইয়াছে, সেই চুক্তির কোন শর্ত প্রতিপালনে ঋণগ্রহীতা ব্যর্থ হন; (খ) ব্যাংক যুক্তিসংগতভাবে আশংকা করে যে, ঋণগ্রহীতা তাহার ঋণ পরিশোধে অসমর্থ; (গ) ব্যাংকের বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ঋণ, অগ্রিম বা ধারের আবেদনে কোন স্বতন্ত্র বিষয় অথবা মঞ্জুরীকৃত ঋণ, অগ্রিম বা ধার সম্পর্কিত অন্য কোন প্রতিবেদনে বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে মিথ্যা বা ভ্রান্ত তথ্য প্রদত্ত হয়; (ঘ) অগ্রিম, ঋণ বা ধারের জামানত হিসাবে ব্যাংকে বন্ধকীকৃত, দায়বদ্ধকৃত অথবা স্বত্বান্তরিত সম্পত্তি ব্যাংকের সন্তুষ্টি অনুযায়ী যথোপযুক্তভাবে সংরক্ষণ করা না হয়, অথবা ব্যাংক কর্তৃক প্রাক্কলিত মূল্যের শতকরা ২০ (বিশ) ভাগের বেশী অবচয় হয় এবং ব্যাংকের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত জামানত প্রদান করা না হয়; (ঙ) ব্যাংকের বিনা অনুমতিতে ব্যাংকের নিকট জামানতকৃত, বন্ধকীকৃত, দায়বদ্ধকৃত অথবা স্বত্বান্তরিত কোন সম্পত্তি তৃতীয় পক্ষের নিকট ইজারা প্রদান করা হয়, অথবা অন্য যে কোনভাবে চার্জ সৃষ্টি করা হয়, বন্দোবস্ত প্রদান করা হয় অথবা ঋণ, অগ্রিম বা ধার মঞ্জুরকালীন অবস্থিত স্থান হইতে স্থানান্তরিত হয়; এবং (চ) ব্যাংকের বিবেচনায় অন্য যে কোন কারণে উহার স্বার্থ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

২৩। পাওনা আদায়

২৩। (১) যে ক্ষেত্রে কোন চুক্তির অধীন ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ কোন কৃষিজীবী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন, অথবা অন্য কোনভাবে ব্যাংকের সহিত সম্পাদিত চুক্তির শর্তাবলী প্রতিপালনে ব্যর্থ হন, এইরূপ অক্ষমতা বা ব্যর্থতা যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত কারণে না হয়, সেইক্ষেত্রে এতদুদ্দেশ্যে জারিকৃত বিধি অনুযায়ী, ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কৃষিজীবীর প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা অধিগ্রহণ করিতে পারিবে এবং ব্যাংকে তাহার দায়দেনা নিশ্চিতকরণের জন্য উক্ত কৃষিজীবী কর্তৃক জামানত, বন্ধক, দায়বদ্ধ বা স্বত্বান্তরিত যে কোন সম্পত্তি বিক্রয় বা নগদীকরণ করিতে পারিবে।

(২) ঋণগ্রহীতার নিকট ব্যাংকের সমুদয় পাওনা বকেয়া ভূমি রাজস্ব হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে।

(৩) ব্যাংকের পাওনা আদায়ের উদ্দেশ্যে Public Demands Recovery Act, 1913 (Act No. III of 1913) প্রয়োগের ক্ষেত্রে উক্ত আইনের section 7, 9, 10 ও 13 এর বিধানাবলী প্রয়োগ হইবে না এবং উক্ত আইনের section 6 এর অধীন ইস্যুকৃত সার্টিফিকেটে উল্লিখিত ব্যাংকের পাওনা অর্থের পরিমাণ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীনে আদায়যোগ্য সমবায় সমিতির নিকট হইতে পাওনা অর্থ, সরকারে এইরূপ পাওনা অর্থ আদায় সংক্রান্ত আপাততঃ বলবৎ আইনের বিধানাবলী অনুযায়ী, আদায়যোগ্য হইবে।

(৫) কেবল ব্যাংকের পাওনা আদায়ের উদ্দেশ্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, তাহার অধিক্ষেত্রে, উক্ত আইনের অধীন একজন সার্টিফিকেট অফিসার কর্তৃক প্রয়োগযোগ্য সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।

২৪। সংরক্ষিত তহবিল, ইত্যাদি

২৪। ব্যাংক সাধারণ সংরক্ষিত তহবিল (General Reserve Fund) নামে একটি তহবিল প্রতিষ্ঠা করিবে এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, সময়ে সময়ে, এইরূপ অন্যান্য বিশেষ সংরক্ষিত তহবিল প্রতিষ্ঠা করিবে।

২৫। মুনাফা বণ্টন

২৫। অনাদায়ী ও সন্দেহজনক ঋণ, সম্পদের অবচয় অথবা অন্য কোন বিষয়ে, যাহা সাধারণভাবে ব্যাংকারদের জন্য প্রযোজ্য, পর্যাপ্ত সঞ্চিতি রাখিয়া, এতদ্‌বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাংকের বাৎসরিক নীট মুনাফার বণ্টন করা যাইবে।

২৬। হিসাব ও নিরীক্ষা

২৬। (১) ব্যাংক যথাযথভাবে উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং লাভ ক্ষতির হিসাব ও স্থিতিপত্রসহ বার্ষিক হিসাব-বিবরণী প্রস্তুত করিবে এবং এইরূপ হিসাব সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক, সময়ে সময়ে, প্রদত্ত সাধারণ নির্দেশনা পালন করিবে।

(২) সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অন্যূন ২ (দুই) জন নিরীক্ষক, যাহারা Bangladesh Chartered Accounts Order, 1973 (P.O. No. 2 of 1973) অনুযায়ী চার্টার্ড একাউনটেন্ট হিসাবে অভিহিত, কর্তৃক ব্যাংকের হিসাব নিরীক্ষিত হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নিযুক্ত প্রত্যেক নিরীক্ষককে ব্যাংকের বার্ষিক স্থিতিপত্র ও অন্যান্য হিসাবের কপি সরবরাহ করা হইবে এবং তাহারা ব্যাংকের সকল হিসাব, রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ, রশিদ ও অন্যান্য সম্পত্তি পরীক্ষা করিতে পারিবেন এবং এতদুদ্দেশ্যে যে কোন পরিচালক অথবা ব্যাংকের কর্মকর্তা বা কর্মচারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

(৪) নিরীক্ষকগণ এই ধারার অধীন কৃত নিরীক্ষা প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবেন এবং উক্ত প্রতিবেদনে এই মর্মে উল্লেখ করিবেন যে, তাহাদের মতে বার্ষিক স্থিতিপত্রে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সন্নিবেশ করা হইয়াছে এবং উহা যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হইয়াছে, যাহা ব্যাংকের কার্যাবলীর প্রকৃত ও সঠিক চিত্র প্রদর্শন করে এবং এই ক্ষেত্রে তাহারা ব্যাংকের নিকট হইতে কোন ব্যাখ্যা বা তথ্য যাচনা করিলে, উহা সরবরাহ করা হইয়াছে কিনা ও তাহা সন্তোষজনক ছিল কিনা তাহাও উল্লেখ করিবেন।

(৫) সরকার এবং ব্যাংকের পাওনাদারগণের স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থাদি অথবা ব্যাংকের কার্যাবলী নিরীক্ষণের পদ্ধতির পর্যাপ্ততার উপর প্রতিবেদন পেশ করিবার জন্য সরকার নিরীক্ষকগণের প্রতি, সময়ে সময়ে, নির্দেশ জারী করিতে পারিবে এবং যে কোন সময় নিরীক্ষণের পরিধি বিস্তৃত বা সম্প্রসারণ করিতে পারিবে অথবা নিরীক্ষণে ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বনের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে অথবা নিরীক্ষক কিংবা অন্য যে কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ দ্বারা সরকারের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় অন্য যে কোন ধরনের পরিবীক্ষণ করিতে পারিবে।

(৬) ব্যাংক, সরকারি বাণিজ্যিক নিরীক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে, বাৎসরিক ভিত্তিতে, ব্যাংকের নির্ধারিত শাখা বা কার্যালয়ের বাণিজ্যিক নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করিবে।

(৭) ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন ব্যবস্থা জোরদার করিবার লক্ষ্যে প্রতিটি শাখার নিরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দল কর্তৃক সম্পন্ন করিতে হইবে এবং আপত্তিসমূহ যদি থাকে, দ্রুত নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

২৭। আর্থিক বিবরণী এবং প্রতিবেদন

২৭। (১) ব্যাংক, সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে যাচিত বিবরণী, রিটার্ণ ও প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে।

(২) ব্যাংক, প্রত্যেক অর্থ-বৎসর সমাপ্ত হইবার পর যথাশীঘ্র সম্ভব, অনধিক চার মাসের মধ্যে, প্রতিবেদনাধীন বৎসরে ব্যাংকের কার্যাবলীর উপর বার্ষিক প্রতিবেদনসহ ধারা ২৬ অনুযায়ী নিরীক্ষক কর্তৃক নিরীক্ষিত হিসাবের একটি আর্থিক বিবরণী বা প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন সরকার কর্তৃক প্রাপ্ত নিরীক্ষিত হিসাব এবং বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারি গেজেট, এবং ব্যাংকের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করিতে হইবে।

২৮। কর্মকর্তা এবং কর্মচারি নিয়োগ

২৮। (১) সরকার, তদকর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদ ও শর্তে, ব্যাংকের এক বা একাধিক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক নিয়োগ করিবে।

(২) ব্যাংক, উহার দক্ষ পরিচালনার নিমিত্ত প্রয়োজন বোধ করিলে, সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে এতদ্‌বিষয়ে জারীকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত মেয়াদ এবং শর্তে, উপদেষ্টাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারি নিয়োগ করিতে পারিবে।

২৯। ক্ষমতার্পণ

২৯। ব্যাংকের দক্ষ পরিচালনা নিশ্চিতকল্পে এবং দৈনন্দিন ব্যবসায়িক লেনদেন কার্যক্রম সহজতর করিবার লক্ষ্যে বোর্ড উহার যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট শর্তে চেয়ারম্যান, পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক অথবা ব্যাংকের কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে।

৩০। ভুল বিবৃতি, ইত্যাদির দন্ড

৩০। এই আইনের অধীনে কোন অগ্রিম বা ঋণ পাইবার জন্য কোন আবেদন, স্থিতিপত্র, লাভ-ক্ষতির বিবরণী, ঘোষণাপত্র অথবা প্রার্থিত বা মঞ্জুরীকৃত আর্থিক সহায়তার জন্য ব্যাংকে দাখিলকৃত কোন দলিলপত্রে যদি কেহ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বিবরণ প্রদান করেন অথবা জ্ঞাতসারে কোন ভুল তথ্য পরিবেশিত হইবার বা থাকিবার সুযোগ প্রদান করেন অথবা যে উদ্দেশ্যে ব্যাংক মঞ্জুর করিয়াছে উহা ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে অগ্রিম বা ঋণের অর্থ ব্যবহার করেন বা ব্যবহারের সুযোগ প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত মেয়াদে কারাদন্ডে অথবা ১ (এক) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

৩১। তথ্য প্রকাশ করিবার দন্ড

৩১। (১) ব্যাংকের নিকট আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদনকারী কর্তৃক প্রদত্ত বা দাখিলকৃত কোন তথ্য প্রকাশ করা যাইবে না অথবা কোন পরিচালক, কারিগরী উপদেষ্টা কমিটির সদস্য অথবা ব্যাংকের কোন উপদেষ্টা, কর্মকর্তা বা কর্মচারি তাহার দায়িত্ব সম্পাদনের সহিত সম্পর্কযুক্ত নয় এইরূপ কোন উদ্দেশ্যে উহা ব্যবহার করিতে পারিবেন না।

(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে তিনি ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত মেয়াদে কারাদন্ডে অথবা ১ (এক) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে অথবা উভয়দন্ডে দণ্ডিত হইবেন।

৩২। অননুমোদিতভাবে ব্যাংকের নাম ব্যবহারের দন্ড

৩২।(১) ব্যাংকের লিখিত সম্মতি ব্যতীত কোন প্রসপেকটাস, বিজ্ঞাপন বা অন্য কোথাও ব্যাংকের নাম ব্যবহার করা যাইবে না।

(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে তিনি ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত মেয়াদে কারাদন্ডে অথবা ১ (এক) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

৩৩। অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ

৩৩। বোর্ড কর্তৃক এতদুদ্দেশ্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ দায়ের ব্যতীত কোন আদালত এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করিবে না।

৩৪। বিশ্বস্ততা এবং গোপনীয়তার ঘোষণা

৩৪। (১) প্রত্যেক পরিচালক, কারিগরী উপদেষ্টা কমিটির সদস্য, নিরীক্ষক, এবং ব্যাংকের কোন উপদেষ্টা, কর্মকর্তা ও কর্মচারি তাহার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে এই আইনের তফসিলে প্রদত্ত ফরমে বিশ্বস্ততা ও গোপনীয়তার ঘোষণা প্রদান করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন ব্যক্তি তাহার বিশ্বস্ততা ও গোপনীয়তার ঘোষণা লংঘন করিলে তিনি ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত মেয়াদে কারাদন্ডে অথবা ১(এক) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

৩৫। অবসায়ন

৩৫। ব্যাংক কোম্পনীসহ যে কোন কোম্পানীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অবসায়ন সম্পর্কিত আইনের বিধান ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না এবং সরকারের লিখিত আদেশ ও সরকার যেরূপ নির্দেশনা প্রদান করিবে সেইরূপ পদ্ধতি ব্যতিরেকে ব্যাংক বিলুপ্ত হইবে না।

৩৬। দায়মুক্তি

৩৬। (১) পরিচালকগণ দায়িত্ব পালনকালে, স্বেচ্ছাকৃত কার্য বা বিচ্যুতি ব্যতীত, তৎকর্তৃক সংঘটিত সকল ক্ষয়-ক্ষতি এবং ব্যয়ের জন্য ব্যাংক কর্তৃক দায়মুক্তি লাভ করিবেন।

(২) ব্যাংকের পক্ষে অর্জিত বা গৃহীত কোন সম্পত্তির বা জামানতের মূল্যের অকার্যকারিতা বা ঘাটতিজনিত কারণে উদ্ভূত ব্যাংকের কোন ক্ষতি বা ব্যয়ের জন্য বা কোন ব্যক্তির অন্যায় কার্যের দ্বারা ব্যাংকের পক্ষে অর্জিত বা গৃহীত দায়ের জন্য অথবা সরকারি কার্য সম্পাদনকালে তাহার দ্বারা সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কার্যের জন্য একজন পরিচালক অন্য কোন পরিচালক অথবা ব্যাংকের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারির কার্যাবলীর জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হইবেন না।

৩৭। জনসেবক

৩৭। ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ তাহাদের দায়িত্ব পালনকালে Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 21 এ Public servant (জনসেবক) অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক বলিয়া গণ্য হইবেন।

৩৮। বিধি পণয়নের ক্ষমতা

৩৮। (১) সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয়ে, বিধিমালা প্রণয়ন করা যাইবে, যথা :- (ক) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব এবং ক্ষমতা; (খ) বন্ড এবং ডিবেঞ্চার ইস্যু ও পুনঃক্রয়ের পদ্ধতি, শর্ত এবং সময়সীমা; এবং (গ) নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিবর্গকে অগ্রিম, ঋণ বা ধার মঞ্জুরের শর্তাবলী, যথা:- (অ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক; (আ) কারিগরী উপদেষ্টা কমিটির কোন সদস্য; (ই) ব্যাংকের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারি; (ঈ) উপর্যুক্ত উপ-দফাসমূহে বর্ণিত কোন ব্যক্তির কোন আত্মীয়; এবং (উ) কোন ব্যক্তি বা কোন সমবায় সমিতি অথবা যে কোন নিগমবদ্ধ সংস্থা যাহার সহিত, বা যাহাতে, এই দফায় উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের যে কেহ অংশীদার, পরিচালক, ব্যবস্থাপক, কর্মচারি বা অন্য কোনভাবে জড়িত।

৩৯। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

৩৯। (১) বোর্ড, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধিমালার সহিত অসংগতিপূর্ণ নহে এইরূপ, প্রবিধানমালা প্রণয়ন করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয়ে, প্রবিধানমালা প্রণয়ন করা যাইবে, যথা :- (ক) বোর্ড বা কমিটির সভা ও কার্যক্রম পরিচালনা; (খ) ব্যাংকের ঋণ ও বকেয়া আদায়ের পদ্ধতি; (গ) ঋণের কোন আবেদনে একজন পরিচালকের প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ স্বার্থের প্রকাশ; (ঘ) ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের নিয়োগ ও চাকুরীর শর্তাবলী নির্ধারণ এবং তাহাদের ভবিষ্য তহবিল গঠন ও উহার ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি; (ঙ) কর্মকর্তা ও কর্মচারি এবং প্রতিনিধিগণের কর্তব্য এবং আচরণ; (চ) রিটার্ণ ও বিবরণীর ফরম; এবং (ছ) ব্যাংকের আয় ও ব্যয়ের বার্ষিক প্রাক্কলন প্রস্তুত এবং উহা বোর্ড ও সরকারের নিকট দাখিলকরণ।

৪০। অসুবিধা দূরীকরণ

৪০। এই আইনের কোন বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা উদ্ভূত হইলে উক্তরূপ অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে সরকার, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় আদেশ জারী করিতে পারিবে।

৪১। P. O. No. 27 of 1973 এর সংশোধন

৪১। Bangladesh Krishi Bank Order, 1973 (P.O. No. 27 of 1973) এর Aritcle 1 এর clause

(2) তে উল্লিখিত “Rajshahi” শব্দটির পরিবর্তে “Rajshahi and Rangpur” শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

৪২। রহিতকরণ ও হেফাজত

৪২। (১) এই আইন কার্যকর হইবার সংগে সংগে Rajshahi Krishi Unnayan Bank, Ordinance, 1986 (Ordinance No. LVIII of 1986) রহিত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিত হওয়া সত্ত্বেও, উক্ত Ordinance এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Rajshahi Krishi Unnayan Bank এর-

(ক) সকল সম্পদ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, প্রকল্প এবং অন্য সকল প্রকার দাবি ও অধিকার ব্যাংকের সম্পদ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, সম্পত্তি, অর্থ, প্রকল্প এবং দাবি অধিকার হিসাবে গণ্য হইবে;

(খ) সকল ঋণ ও দায়-দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা বা উহার পক্ষে বা উহার সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি যথাক্রমে ব্যাংকের ঋণ ও দায়-দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা বা উহার পক্ষে বা উহার সহিত সম্পাদিত চুক্তি বলিয়া গণ্য হইবে;

(গ) বিরুদ্ধে বা তদ্‌কর্তৃক দায়েরকৃত কোন মামলা, গৃহীত কার্যধারা বা সূচিত যে কোন কার্যক্রম অনিষ্পন্ন থাকিলে উহা এমনভাবে নিষ্পন্ন হইবে যেন উহা এই আইনের অধীন ব্যাংকের বিরুদ্ধে বা তদ্‌কর্তৃক দায়েরকৃত, গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে;

(ঘ) সকল চুক্তি, দলিল, বন্ড, সম্মতি, আমমোক্তারনামা ও বৈধ প্রতিনিধি অনুমোদন, যাহাতে উক্ত ব্যাংক একটি পক্ষ ছিল, ব্যাংকের অনুকূলে বা বিরুদ্ধে এমনভাবে বলবৎ ও কার্যকর থাকিবে যেন উহাতে ব্যাংক একটি পক্ষ ছিল এবং ব্যাংকের অনুকূলেই উহা ইস্যু করা হইয়াছিল;

(ঙ) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সকল বিধিমালা, প্রবিধানমালা, আদেশ, নির্দেশ, নীতিমালা বা ইনস্ট্রুমেন্ট, এই আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন নূতনভাবে প্রণীত বা জারি না হওয়া পর্যন্ত বা, ক্ষেত্রমত, বিলুপ্ত না করা পর্যন্ত, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ, পূর্বের ন্যায় এমনভাবে চলমান, অব্যাহত ও কার্যকর থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রণীত বা জারি হইয়াছে;

(চ) বিদ্যমান বোর্ড, কমিটি ,কারিগরী কমিটি অথবা অন্যান্য কমিটি বা উপ-কমিটি, যদি থাকে, কার্যক্রম, বিদ্যমান মেয়াদ অবসানের পূর্বে বিলুপ্ত করা না হইলে, এমনভাবে অব্যাহত থাকিবে যেন উক্ত বোর্ড, কমিটি বা কারিগরী কমিটি এই আইনের অধীন গঠিত হইয়াছে;

(ছ) চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ, বিদ্যমান মেয়াদের পূর্বে অব্যাহতি প্রদান করা না হইলে, ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে স্ব স্ব পদে এমনভাবে বহাল থাকিবেন যেন তাহারা এই আইনের অধীন নিযুক্ত হইয়াছেন;

(জ) অধীন প্রতিষ্ঠিত বা স্থাপিত অধঃস্তন বা শাখা কার্যালয়ের, ঢাকা শাখাসহ, যে নামে ও স্থানেই প্রতিষ্ঠিত বা স্থাপিত হউক না কেন, কার্যক্রম এই আইনের অধীন ব্যাংকের অধঃস্তন বা শাখা কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত বা স্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত বা, ক্ষেত্রমত, বিলুপ্ত না করা পর্যন্ত, এমনভাবে কার্যকর ও অব্যাহত থাকিবে যেন উহারা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বা স্থাপিত হইয়াছে; এবং

(ঝ) কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে যে শর্তাধীনে চাকুরীতে নিয়োজিত ছিলেন, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে ব্যাংকের চাকুরীতে নিয়োজিত থাকিবেন এবং পূর্বের নিয়মে বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্ত হইবেন।



Related Laws

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন  

কৃষি বিপণন আইন

জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালীকরণের উদ্দেশ্যে কৃষক, উৎপাদক, কৃষি ব্যবসায়ী…

জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি আইন

জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন  

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন

বরেন্দ্র এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং তদ্‌সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে…

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন আইন

Bangladesh Agricultural Development Corporation Ordinance, 1961 রহিতক্রমে উহার বিধানাবলী বিবেচনাক্রমে সময়ের…

Share your thoughts on this law