Your password is being change. Please wait ...

অর্থ ঋণ আদালত আইন

Volume - 35 Act - ৮ Year - ২০০৩ Date - ১০ মার্চ, ২০০৩

আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণ আদায়ের জন্য প্রচলিত আইনের অধিকতর সংশোধন ও সংহতকরণকল্পে প্রণীত আইন৷

যেহেতু আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত ঋণ আদায়ের জন্য প্রচলিত আইনের অধিকতর সংশোধন ও সংহতকরণ প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

১৷ সংক্ষিপ্ত শিরোনামা, প্রয়োগ ও প্রবর্তন

১৷ (১) এই আইন অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ নামে অভিহিত হইবে৷ (২) সমগ্র বাংলাদেশে ইহার প্রয়োগ হইবে৷ (৩) এই আইনের ধারা ৪৬ ও ৪৭ এর বিধানদ্বয় উক্ত ধারাদ্বয়ে উল্লিখিত সময়ে এবং বাকী বিধানসমূহ ২০০৩ সালের ১লা মে তারিখ হইতে কার্যকর হইবে৷

২৷ সংজ্ঞা

২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,- (ক) “আর্থিক প্রতিষ্ঠান” অর্থ- (১) Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O. No. 127 of 1972) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংক; (২) Bangladesh Banks (Nationalisation) Order, 1972 (P.O. No. 26 of 1972) এর অধীন গঠিত ব্যাংক; (৩) ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বা পরিচালিত ব্যাংক কোম্পানী; (৪) Bangladesh House Building Finance Corporation Order, 1973 (P.O. No. 7 of 1973) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত গৃহ নির্মাণ ঋণদান কর্পোরেশন; (৫) Investment Corporation of Bangladesh Ordinance, 1976 (Ordinance No. XL of 1976) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ; (৬) The Bangladesh Shilpa Rin Sangstha Order, 1972 ( ১[ P.O. No. 128] of 1972) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা; (৭) The Bangladesh Shilpa Bank Order, ২[ 1972] (P.O. No. 129 of 1972) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক; (৮) The Bangladesh Krishi Bank Order, 1973 (P.O. No. 27 of 1973) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক; (৯) The Rajshahi Krishi Unnayan Bank Ordinance, 1986 (Ordinance No. LVIII of 1986) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক; (১০) The Bangladesh Small and Cottage Industries Corporation Act (E. P. Act XVII of 1959) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন; (১১) আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ২৭ নং আইন) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান; (১২) International Finance Corporation (IFC); (১৩) Commonwealth Development Corporation (CDC); (১৪) Islamic Development Bank (IDB); (১৫) Asian Development Bank (ADB); (১৬) International Bank for Reconstruction and Development (IBRD); (১৭) International Development Association (IDA); ৩[ (১৮) কোন আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত কোন ব্যাংক৷] (খ) “আদালত” বা “অর্থ ঋণ আদালত” অর্থ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ধারা ৪ এ উল্লিখিত অধীন প্রতিষ্ঠিত বা ঘোষিত কোন আদালত অথবা অর্থ ঋণ আদালত হিসাবে গণ্য হইবে মর্মে কোন যুগ্ম-জেলা জজের আদালত৷ (গ) “ঋণ” অর্থ- (১) অগ্রিম, ধার, নগদ ঋণ, ওভার ড্রাফট, ব্যাংকিং ক্রেডিট, বাটাকৃত বা ক্রয়কৃত বিল, ইসলামী শরীয়া মোতাবেক পরিচালিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিনিয়োগকৃত অর্থ বা অন্য যে কোন আর্থিক আনুকূল্য বা সুযোগ-সুবিধা, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন; (২) গ্যারান্টি, ইনডেমনিটি, ঋণপত্র বা অন্য কোন আর্থিক বন্দোবস্ত যাহা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ গ্রহীতার পক্ষে প্রদান বা জারী করে বা দায় হিসাবে গ্রহণ করে; (৩) কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উহার কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে প্রদত্ত কোন ঋণ; এবং (৪) পূর্ববর্তী ক্রমিক (১) হইতে (৩) এ উল্লিখিত ঋণ, বা, ক্ষেত্রমত, ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী পরিচালিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিনিয়োগকৃত অর্থ এর উপর বৈধভাবে আরোপিত সুদ, দণ্ড সুদ বা মুনাফা বা ভাড়া; (ঘ) “সরকার” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার৷

৩৷ আইনের প্রাধান্য

৩৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলীই কার্যকর হইবে৷

৪৷ আদালত প্রতিষ্ঠা

৪৷ (১) আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মামলার বিচার ও এই আইনের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, উপ-ধারা (২) ও (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক অর্থ ঋণ আদালত প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে৷ (২) সরকার, সুবিধাজনক মনে করিলে, দুই বা ততোধিক জেলার জন্য একটি অর্থ ঋণ আদালত প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে৷ (৩) উপ-ধারা (১) বা (২) এর অধীন কোন অর্থ ঋণ আদালত প্রতিষ্ঠিত বা ঘোষিত না হইয়া থাকিলে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায় সম্পর্কিত মামলা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় অধিক্ষেত্রের যুগ্ম-জেলা জজ আদালতে দায়ের করিতে হইবে; এবং এই আইনের বিধানাবলী ঐ সকল মামলার শুনানী, জারী, আপীল ইত্যাদি যাবতীয় কার্যক্রমে এমনভাবে অনুসরণীয় হইবে, যেন উক্ত যুগ্ম-জেলা জজ আদালত এই আইনের অধীনেই প্রতিষ্ঠিত বা ঘোষিত আদালত এবং এই আইনের উদ্দেশ্য সাধন কল্পে উক্ত যুগ্ম-জেলা জজের আদালত এই আইনের অধীন অর্থ ঋণ আদালত হিসাবে গণ্য হইবে৷ (৪) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বর্তমানে কার্যরত যুগ্ম-জেলা জজের কোন আদালতকে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, Civil Courts Act, 1887 এর বিধান অনুসারে, উহার স্থানীয় অধিক্ষেত্র স্থানান্তর বা অন্যত্র পুনঃনির্ধারণপূর্বক, অর্থ ঋণ আদালত হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে, এবং অনুরূপ ঘোষণার পর যুগ্ম-জেলা জজ আদালত হিসাবে উক্ত আদালতের কার্যক্রম সমাপ্ত হইবে বা স্থগিত থাকিবে, এবং জেলা জজ উক্ত যুগ্ম- জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন অন্য সকল মামলা তাঁহার এখ্‌তিয়ারাধীন অন্য কোন যুগ্ম-জেলা জজ আদালতে বদলীর নির্দেশ দান করিবেন৷ (৫) সরকার, সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে যুগ্ম-জেলা জজগণের মধ্য হইতে অর্থ ঋণ আদালতে বিচারক নিয়োগ করিবে, এবং উক্তরূপ নিয়োগপ্রাপ্ত একজন যুগ্ম-জেলা জজ অর্থ ঋণ সংক্রান্ত মামলা ব্যতিরেকে অন্য কোন দেওয়ানী কিংবা ফৌজদারী মামলার বিচারকার্য করিতে পারিবেন না৷ (৬) সরকার প্রয়োজন মনে করিলে অর্থ ঋণ আদালতের একজন বিচারককে, নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত, একাধিক অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক হিসাবে নিয়োগ করিতে পারিবে৷ (৭) ছুটি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে এই ধারার অধীন প্রতিষ্ঠিত, ঘোষিত বা গণ্য হওয়া অর্থ ঋণ আদালতে নিযুক্ত বিচারক দায়িত্ব পালনে সাময়িকভাবে অসমর্থ হইলে, জেলা জজ তাহার স্থানীয় অধিক্ষেত্র ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে নিযুক্ত কোন যুগ্ম-জেলা জজকে সাময়িকভাবে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত বা পূর্ণকালীন সময়ের জন্য উক্ত অর্থ ঋণ আদালতের দায়িত্বে নিযুক্ত করিতে পারিবেন৷ (৮) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে কোন সময়, যে কোন অর্থ ঋণ আদালত বিলুপ্ত করিতে পারিবে৷ (৯) সরকার উপ-ধারা (৮) অনুসারে কোন অর্থ ঋণ আদালত বিলুপ্ত করিলে একই আদেশ দ্বারা উক্ত আদালতে বিচারাধীন মামলার বিষয়েও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার বিধান করিবে৷ (১০) উপ-ধারা (৮) এর অধীন বিলুপ্ত অর্থ ঋণ আদালত, যদি উপ-ধারা (৪) অনুসারে ঘোষিত আদালত হইয়া থাকে, তাহা হইলে অনুরূপ ঘোষণার কারণে যুগ্ম-জেলা জজ আদালতের সমাপ্ত বা স্থগিত কার্যক্রম পুনর্জীবিত হইবে এবং জেলা জজ উক্ত আদালতে মামলা স্থানান্তরের ব্যবস্থা করিবেন৷ (১১) অর্থ ঋণ আদালত জেলা সদরে অবস্থিত হইবে, এবং দুই বা ততোধিক জেলার জন্য একটি অর্থ ঋণ আদালত প্রতিষ্ঠিত হইয়া থাকিলে, সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত আদালতের জেলা-সদর নির্ধারণ করিবে৷ (১২) এই ধারার অধীন যুগ্ম-জেলা জজের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত বা ঘোষিত অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক “জজ, অর্থ ঋণ আদালত” হিসাবে সম্বোধিত হইবে৷

৫৷ আদালতের একক এখ্‌তিয়ার

৫৷ (১) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (৫) ও (৬) এর বিধান সাপেক্ষে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায় সম্পর্কিত যাবতীয় মামলা ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত, ঘোষিত বা গণ্য হওয়া অর্থ ঋণ আদালতে দায়ের করিতে হইবে এবং উক্ত আদালতেই উহাদের নিষ্পত্তি হইবে৷ (২) এই আইনের অধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্থাবর সম্পত্তি জামানত স্বরূপ বন্ধক গ্রহণপূর্বক প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে উক্ত বন্ধকী স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় (Sale) বা নিষ্ক্রিয় সমাপ্তির (Foreclosure) উদ্দেশ্যে The Transfer of Property Act, 1882 (Act No. IV of 1882) এর section 67 এর অধীন এবং The Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এর Order XXXIV এর বিধান অনুযায়ী কোন বন্ধকী মামলা (Mortgage suit) দায়ের করিতে চাহিলে, উক্ত মামলাও এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত অর্থ ঋণ আদালতেই দায়ের করিতে হইবে; এবং এইরূপ ক্ষেত্রে The Code of Civil Procedure, 1908 এর বিধানসমূহ এই আইনের বিধানসমূহের সহিত, যতদূর সম্ভব, সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রযোজ্য হইবে৷ (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকর্তৃক দায়েরকৃত মামলা নিষ্ক্রিয় সমাপ্তির (Foreclosure) উদ্দেশ্যে একটি বন্ধকী মামলা (Mortgage suit) হইলে, কেবলমাত্র সেই ক্ষেত্রে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রী প্রাথমিক ডিক্রী (Preliminary decree) হইবে এবং অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে ঋণ আদায়ার্থ দায়েরকৃত মামলায় আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রী চূড়ান্ত ডিক্রী (Final decree) হইবে৷ (৪) The Transfer of Property Act, 1882 অথবা বর্তমানে প্রচলিত অন্য কোন আইনে বিপরীত যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (৩) এর অধীন বন্ধকী মামলা ব্যতিরেকে, এই আইনের অধীন দায়েকৃত কোন মামলায়, আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রী বাদী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিষ্ক্রিয় সমাপ্তির (Foreclosure) প্রাথমিক ডিক্রী হিসাবে গণ্য হইবে; এবং ঋণের বিপরীতে বাদীর অনুকূলে বন্ধকী স্থাবর সম্পত্তি ডিক্রীর ধারাবাহিকতায় নিলাম বিক্রয় হওয়া মাত্রই উক্ত প্রাথমিক ডিক্রী চূড়ান্ত ডিক্রী হিসাবে গণ্য হইবে, এবং বিক্রয় চূড়ান্ত ও ক্রয় বৈধ গণ্য হইবে এবং অতঃপর উক্ত সম্পত্তি পূনরুদ্ধার করিবার কোনরূপ অধিকার (Right to redeem) বিবাদী-দায়িকের থাকিবে না৷ (৫) The Public Demands Recovery Act, 1913 (Act No. III of 1913) এর বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অর্থ ঋণ আদালত কর্তৃক আদায়যোগ্য ঋণ “সরকারী পাওনা” হইলেও উহা আদায়ার্থ মামলা এই আইনের অধীন আদালতেই দায়ের করিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনূর্ধ্ব ১[ ৫,০০,০০০ টাকার (পাঁচ লক্ষ টাকা)] দাবী সম্বলিত মামলাসমূহ অর্থ ঋণ আদালতে দায়ের না করিয়া The Public Demands Recovery Act, 1913 এর বিধান অনুযায়ী সার্টিফিকেট মামলা হিসাবেও দায়ের করা যাইবে৷ (৬) কোন বিশেষ আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণ আদায়ার্থ কোন বিশেষ বিধান উক্ত বিশেষ আইনে থাকিলে, এই আইনের বিধান উক্ত আইনের বিধানের অতিরিক্ত গণ্য হইবে; এবং অনুরূপ আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এই আইনের অধীন আদালতে ঋণ আদায়ার্থ মামলা দায়ের করা হইলে এই আইনের বিধানাবলীই প্রযোজ্য হইবে৷ (৭) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও, এই ধারার কোন কিছুই কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ধারা ২ এর দফা (ক) এর উপ-দফা (১২), (১৩), (১৪), (১৫), (১৬) ও (১৭) এর অধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারকে প্রদত্ত ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে কার্যকর হইবে না৷ (৮) এই আইনের অধীন দায়েরকৃত মামলা “অর্থ ঋণ মামলা” নামে রেজিিষ্ট্র হইবে৷ (৯) কোন জেলায় একাধিক অর্থ ঋণ আদালত থাকিলে, মামলা দায়েরের জন্য উহাদের স্থানীয় অধিক্ষেত্র জেলা জজ কর্তৃক নির্ধারিত হইবে৷ (১০) জেলা জজ স্বেচ্ছায় বা মামলার কোন পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে, ন্যায় বিচারের স্বার্থে একান্ত প্রয়োজন মনে করিলে, কোন অর্থ ঋণ আদালতে বিচারাধীন কোন মামলা তাঁহার নিজ এখ্‌তিয়ারাধীন এলাকায় অবস্থিত অন্য কোন অর্থ ঋণ আদালতে, যদি থাকে, স্থানান্তর করিতে পারিবেন৷ (১১) অর্থ ঋণ আদালত একটি দেওয়ানী আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত অসংগতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, দেওয়ানী আদালতের সমস্ত ক্ষমতা ও এখ্‌তিয়ার উহার থাকিবে৷

৬৷ বিচার পদ্ধতি

৬৷ (১) এই আইনের অধীন অর্থ ঋণ আদালতে দায়েরকৃত কোন মামলার বিচার বা নিষ্পত্তি সম্পর্কিত কার্যক্রমে, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত অসংগতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, The Code of Civil Procedure, 1908 এর সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে৷ (২) এই আইনের অধীন কোন মামলা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করিতে হইবে, আরজির বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট দালিলিক প্রমাণাদির সমর্থনে আরজির সহিত একটি হলফনামা (Affidavit) সংযুক্ত করিতে হইবে, আরজির সহিত প্রদেয় কোর্ট ফি (ad valorem) প্রদান করিতে হইবে এবং দাখিলকৃত আরজি যথাযথ হইলে আদালতের নির্ধারিত রেজিস্টারে উহা ক্রম অনুসারে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে৷ (৩) এই আইনের অধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা বিবাদী কর্তৃক লিখিত জবাব দাখিলের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্ধিতা করা যাইবে, লিখিত জবাবের বক্তব্যের এবং সংশ্লিষ্ট দালিলিক প্রমাণাদির সমর্থনে লিখিত জবাবের সহিত একটি হলফনামা (Affidavit) সংযুক্ত করিতে হইবে ১[ ****] এবং দাখিলকৃত লিখিত জবাব মামলার নথিতে সামিল হইবে। (৪) এই আইনের অধীন অর্থ ঋণ আদালতে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) ও (৩) এর বিধান অনুযায়ী সংযুক্ত হলফনামা (Affidavit) মৌলিক সাক্ষ্য (Substantive evidence) হিসাবে গণ্য হইবে, এবং আদালত কোন মামলার একতরফা বা তাত্ক্ষণিক নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোন সাক্ষীকে পরীক্ষা ব্যতিরেকে, কেবল এইরূপ হলফনামা-যুক্ত আরজি বা লিখিত জবাব ও সংশ্লিষ্ট দালিলিক প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করিয়া রায় বা আদেশ প্রদান করিবে৷ (৫) আর্থিক প্রতিষ্ঠান মূল ঋণগ্রহীতার (Principal debtor) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সময়, তৃতীয় পক্ষ বন্ধকদাতা (Third party mortgagor) বা তৃতীয় পক্ষ গ্যারান্টর (Third party guarantor) ঋণের সহিত সংশ্লিষ্ট থাকিলে, উহাদিগকে বিবাদী পক্ষ করিবে; এবং আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায়, আদেশ বা ডিক্রী সকল বিবাদীর বিরুদ্ধে যৌথভাবে ও পৃথক পৃথক ভাবে (Jointly and severally) কার্যকর হইবে এবং ডিক্রী জারীর মামলা সকল বিবাদী-দায়িকের বিরুদ্ধে একইসাথে পরিচালিত হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, ডিক্রী জারীর মাধ্যমে দাবী আদায় হওয়ার ক্ষেত্রে আদালত প্রথমে মূল ঋণগ্রহীতা-বিবাদীর এবং অতঃপর যথাক্রমে তৃতীয় পক্ষ বন্ধকদাতা (Third party mortgagor) ও তৃতীয় পক্ষ গ্যারান্টর (Third Party guarantor) এর সম্পত্তি যতদূর সম্ভব আকৃষ্ট করিবে: আরো শর্ত থাকে যে, বাদীর অনুকূলে প্রদত্ত ডিক্রীর দাবী তৃতীয় পক্ষ বন্ধকদাতা (Third party mortgagor) অথবা তৃতীয় পক্ষ গ্যারান্টর (Third party guarantor) পরিশোধ করিয়া থাকিলে উক্ত ডিক্রী যথাক্রমে তাহাদের অনুকূলে স্থানান্তরিত হইবে এবং তাহারা মূল ঋণগ্রহীতার (Principal debtor) বিরুদ্ধে উহা প্রয়োগ বা জারী করিতে পারিবেন৷

৭৷ সমন জারী সম্পর্কিত বিধান

৭। (১) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বাদী আদালতের জারীকারক কর্তৃক এবং প্রাপ্তি স্বীকারসহ রেজিষ্ট্রীকৃত ডাকযোগে প্রেরণের নিমিত্ত, আরজির সহিত সমন জারীর জন্য সমুদয় তলবনামা আদালতে দাখিল করিবেন, এবং আদালত অবিলম্বে উহাদের একযোগে জারীর ব্যবস্থা করিবেন, এবং যদি সমন ইসু্যর ১৫ (পনের) দিবসের মধ্যে জারী হইয়া ফেরত না আসে, অথবা তৎপূর্বেই বিনা জারীতে ফেরত আসে, তাহা হইলে আদালত উহার পরবর্তী ১৫ (পনের) দিবসের মধ্যে বাদীর খরচায় যে কোন একটি বহুল প্রচারিত বাংলা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়, এবং তদুপরি একটি স্থানীয় পত্রিকায়, যদি থাকে, এবং আদালত যদি ন্যায় বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় মনে করে, বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে সমন জারী করাইবেন, এবং অনুরূপ জারী আইনানুগ জারী মর্মে গণ্য হইবে। (২) উপ-ধারা (১) এর বিধান এর অতিরিক্ত হিসাবে বাদী যদি নিজ খরচায় কোন সমন ও নোটিশ বিবাদীর উপর জারী করাইতে ইচ্ছা করেন, তাহা হইলে আদালত পূর্ববর্তী উপ-ধারায় আদালতের জারীকারক কর্তৃক সমন জারীকরণের প্রথমোক্ত ব্যবস্থাটির অতিরিক্ত এই ব্যবস্থাটিও কার্যকর করিবে৷ (৩) জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে সমন জারীর আগাম ব্যবস্থা হিসাবে বাদী আরজি দাখিলের সময় আদালতে আরজির সহিত একটি নমুনা বিজ্ঞাপন দাখিল করিবেন, এবং আদালত পূর্ববর্তী উপ-ধারার বিধান অনুযায়ী করণীয় হইলে, উক্ত বিজ্ঞাপনটি প্রয়োজনীয় সংশোধন বা পরিবর্তন সাপেক্ষে, তাৎক্ষণিকভাবে জারীকরণের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করিবেন।

৮৷ আরজি

৮৷ (১) আর্থিক প্রতিষ্ঠান আরজি দাখিলের মাধ্যমে মামলা দায়ের করিবে এবং উক্ত আরজিতে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, নিম্্নবর্ণিত বিষয়সমূহ উল্লিখিত হইবে, যথা:- (ক) বাদীর নাম, ঠিকানা, কর্মস্থল ইত্যাদির বিবরণ; (খ) বিবাদীর নাম, ঠিকানা, কর্মস্থল, বাসস্থান ইত্যাদির বিবরণ; (গ) দাবীর সহিত সম্পর্কিত সকল ঘটনা; (ঘ) মামলার কারণ উদ্ভবের ঘটনা, স্থান এবং তারিখ; (ঙ) কোর্ট ফি প্রদানের উদ্দেশ্যে মামলার তায়দাদ; (চ) আদালতের এখ্‌তিয়ার রহিয়াছে মর্মে বিবরণ; এবং (ছ) প্রার্থিত প্রতিকার৷ (২) পূর্ববর্তী উপ-ধারায় বর্ণিত বিষয়াদির অতিরিক্ত, বাদী, আর্জিতে আরও অন্তর্ভুক্ত করিবে- (ক) একটি তফসিল, যাহাতে প্রদর্শিত হইবে- (অ) বিবাদীকে প্রদত্ত মূল ঋণ বা, ক্ষেত্রমত, বিনিয়োগকৃত টাকার পরিমাণ; (আ) স্বাভাবিক সুদ বা, ক্ষেত্রমত, মুনাফা বা ভাড়া হিসাবে আরোপিত টাকার পরিমাণ; (ই) দণ্ড সুদ হিসাবে আরোপিত টাকার পরিমাণ; (ঈ) আর অন্যান্য বিষয় বাবদ বিবাদীর উপর আরোপিত টাকার পরিমাণ; (উ) মামলা দায়েরের পূর্ব পর্যন্ত প্রণীত শেষ হিসাব মতে বিবাদী কর্তৃক বাদী আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ বা পাওনা পরিশোধ বাবদে জমাদানকৃত টাকার পরিমাণ; এবং (ঊ) বাদী কর্তৃক প্রদত্ত ও ধার্য মোট এবং বিবাদী কর্তৃক পরিশোধিত মোট টাকার তুলনামূলক অবস্থান; (খ) একটি তফসিল, যাহাতে, ঐ সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি যাহা বন্ধক বা জামানত রাখিয়া বিবাদী কর্তৃক ঋণ গৃহীত হইয়াছে, উহাদের এবং সংশ্লিষ্ট বন্ধকী বা জামানতী দলিলের বিস্তারিত পরিচয়, বিবরণ, এবং আর্থিক মূল্যায়ন যদি হইয়া থাকে, প্রদর্শিত হইবে৷ (৩) বাদী তাঁহার দাবীর সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে কোন দলিলের উল্লেখ করিলে এবং ঐ দলিল তাঁহার দখলে থাকিলে, আর্জির সহিত উক্ত দলিল অথবা উহার সত্যায়িত নকল বা ফটোকপি ফিরিস্তি সহকারে দাখিল করিবে৷ (৪) বাদী তাঁহার দাবীর সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাঁহার দখলে নাই এমন কোন দলিলের উপর নির্ভর করিলে, উক্ত দলিল কাহার নিকট আছে তাহা উল্লেখ করিয়া উক্ত দলিলের একটি তালিকা আর্জির সহিত দাখিল করিবে৷ (৫) উপ-ধারা (২) ও (৩) এর বিধানের ব্যত্যয়ে, পরবর্তীতে কোন দলিল বাদী দাখিল করিলে, আদালত সংগত কারণ ও খরচ প্রদান ব্যতিরেকে উহা গ্রহণ করিবে না; এবং প্রদেয় খরচ সরকারী রাজস্ব হিসাবে নির্ধারিত খাতে জমা হইবে৷ (৬) আরজিতে একটি দফায়, পক্ষে কার্যকারক হিসাবে কে দায়িত্ব পালন করিবেন, বাদী উহা উল্লেখ করিবে৷ (৭) বাদী কোন মামলায় বিবাদীর সম্পত্তির কোন তফসিল প্রদান করিতে অসমর্থ হইলে, বাদীর আবেদনক্রমে আদালত বিবাদীকে লিখিত হলফনামা সহকারে তাহার অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তির হিসাব দাখিল করিতে নির্দেশ প্রদান করিবে এবং এইরূপ নির্দেশ প্রাপ্ত হইলে বিবাদী তদ্‌নুসারে তাহা অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তির, যদি থাকে, তালিকা লিখিত হলফনামা সহকারে আদালতে পেশ করিবে৷ (৮) এই ধারার অধীনে আর্থিক প্রতিষ্ঠান মামলা দাখিল করার সময়, মোট যতসংখ্যক বিবাদী থাকিবেন, আরজি ও সংযুক্ত কাগজাদির ততসংখ্যক অনুলিপি আদালতে দাখিল করিবে৷

৯৷ লিখিত জবাব

৯৷ (১) আদালত কর্তৃক জারীকৃত সমনে নির্ধারিত তারিখে বিবাদী আদালতে হাজির হইবেন এবং লিখিত জবাব দাখিল করিয়া বাদীর দাবী সম্পর্কে জবাব থাকিলে উহা উপস্থাপন করিবেন৷ (২) বিবাদী তাঁহার বক্তব্যের সমর্থনে কোন দলিলের উপর নির্ভর করিলে এবং ঐ দলিল তাঁহার দখলে থাকিলে, উক্ত দলিল বা উহার সত্যায়িত ফটোকপি একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া লিখিত জবাবের সহিত ফিরিস্তি সহকারে দাখিল করিবেন৷ (৩) বিবাদী তাঁহার জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাঁহার দখল বা নিয়ন্ত্রণে নাই এমন কোন দলিলের উপর নির্ভর করিলে, উক্ত দলিল বা দলিলসমূহের একটি তালিকা, ঐগুলি কাহার দখলে আছে, নাম-ঠিকানা উল্লেখপূর্বক, লিখিত জবাবের সহিত দাখিল করিবেন৷ (৪) উপ-ধারা (২) ও (৩) এর বিধানের ব্যত্যয়ে, পরবর্তীতে কোন দলিল বিবাদী দাখিল করিলে, আদালত, সংগত কারণ ও খরচ প্রদান ব্যতিরেকে উহা গ্রহণ করিবে না; এবং প্রদেয় খরচ সরকারী রাজস্ব হিসাবে নির্ধারিত খাতে জমা হইবে৷ (৫) বাদীর দাবী বা উহার কোন অংশ বিবাদী স্বীকার করিয়া থাকিলে বিবাদী উক্ত স্বীকৃতির বিবরণ লিখিত জবাবের একটি দফায় সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করিবেন৷ (৬) বাদীর দাবী বা দাবীর কোন অংশ অস্বীকার করিলে, বিবাদী লিখিত জবাবের একটি দফায় উহার পরিমাণ এবং অস্বীকারের সমর্থনে কারণ বা যুক্তি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করিবেন৷ (৭) লিখিত জবাবের একটি দফায় বিবাদী বা বিবাদীগণের পক্ষে কার্যকারক হিসাবে কে দায়িত্ব পালন করিবেন উহা উল্লেখ করিতে হইবে৷ (৮) এই ধারার অধীনে বিবাদী লিখিত জবাব দাখিল করার সময়, লিখিত জবাব ও সংযুক্ত কাগজাদির একটি অনুলিপি বাদীর জন্য আদালতে দাখিল করিবে৷

১০৷ লিখিত জবাব দাখিলের সময়সীমা

১০৷ (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, অর্থ ঋণ আদালত, বিবাদী উপস্থিত হওয়ার ৪০ (চল্লিশ) দিবসের পরবর্তীতে বিবাদী কর্তৃক দাখিলকৃত কোন লিখিত জবাব গ্রহণ করিবে না, এবং এইরূপ ক্ষেত্রে আদালত অবিলম্বে একতরফা সূত্রে মামলা নিষ্পত্তি করিবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও, অন্যুন ২০০০ (দুই হাজার) এবং অনূর্ধ্ব ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা পর্যন্ত খরচ প্রদানের পূর্বশর্ত সাপেক্ষে আদালত উপরি-উক্ত সময়সীমা অনূর্ধ্ব আরো ২০ (বিশ) দিবস পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারিবে৷ (৩) এই ধারার অধীন প্রদেয় খরচ সরকারী রাজস্ব হিসাবে নির্ধারিত খাতে জমা করিয়া উহার চালান প্রমাণস্বরূপ আদালতে দাখিল করিতে হইবে৷

১১৷ লিখিত জবাবের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জবাব

১১৷ বিবাদী কর্তৃক দাখিলকৃত লিখিত জবাবের প্রত্যুত্তরে বাদী আর্থিক প্রতিষ্ঠান আরজির অতিরিক্ত কোন জবাব বা বিবরণ প্রদান করিতে চাহিলে, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, লিখিত জবাব দাখিলের পরবর্তী ১৫ (পনের) দিবসের মধ্যে উহা দাখিল করিবে৷

১২৷ আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কতিপয় জামানত বিক্রয়

১২৷ (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উহার নিজ দখল বা নিয়ন্ত্রণে থাকা বিবাদীর কোন সম্পত্তি যাহা পণ বা বন্ধক (Lien or pledge) রাখিয়া ঋণ প্রদান করা হইয়াছে, এবং যাহা বিক্রয় করিবার আইনগত অধিকার বাদীর রহিয়াছে বা বাদীকে অর্পণ করা হইয়াছে, উহা বিক্রয় না করিয়া এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ ঋণ পরিশোধ বাবদ সমন্বয় না করিয়া, অর্থ ঋণ আদালতে কোন মামলা দায়ের করিবে না৷ (২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও, কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজ দখল বা নিয়ন্ত্রণে থাকা পণ বা বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রয় না করিয়া মামলা দায়ের করিলে অনতিবিলম্বে উক্ত সম্পত্তি পূর্ব-বর্ণিত মতে বিক্রয় করিয়া বিক্রয়লব্ধ অর্থ ঋণের সহিত সমন্বয় করিবে এবং বিষয়টি আদালতকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে৷ (৩) কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিবাদীর নিকট হইতে কোন স্থাবর সম্পত্তি (Immovable Property) বন্ধক (Mortgage) রাখিয়া অথবা অস্থাবর সম্পত্তি (Movable Property) দায়বদ্ধ রাখিয়া (Hypothecated) ঋণ প্রদান করিলে এবং বন্ধক প্রদান বা দায়বদ্ধ রাখার সময় বন্ধকী বা দায়বদ্ধ সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষমতা ১[ *****] আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হইয়া থাকিলে, উহা বিক্রয় না করিয়া এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ ঋণ পরিশোধ বাবদ সমন্বয় না করিয়া, অথবা বিক্রয়ের চেষ্টা করিয়া ব্যর্থ না হইয়া, অর্থ ঋণ আদালতে কোন মামলা দায়ের করিবে না। (৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই আইনের ধারা ৩৩ এর উপ-ধারা (১), (২) ও (৩) এর বিধান, যতদূর সম্ভব, অনুসরণ করিবে৷ ২[ (৫) কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যদি উহার অনুকূলে উপ-ধারা (৩) এর অধীন বন্ধকি বা দায়বদ্ধ কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের জন্য এই ধারার অধীন গৃহীত কার্যক্রমের সুবিধার্থে অনুরূপ স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির দখল ও নিয়ন্ত্রণ বিক্রয়ের পূর্বে বা পরে বিবাদী বা ঋণ-গ্রহীতা হইতে নিজ দখল বা নিয়ন্ত্রণে সমর্পিত হওয়া অথবা, ক্ষেত্রমত, ক্রেতার অনুকূলে সমর্পণ করা প্রয়োজন মনে করে, তাহা হইলে উক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান লিখিতভাবে অনুরোধ করিলে বিবাদী বা ঋণ-গ্রহীতা অনুরূপ দখল অবিলম্বে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা, ক্ষেত্রমত, ক্রেতার অনুকূলে সমর্পণ করিবে৷ (৫ক) উপ-ধারা (৫) এর অধীন লিখিতভাবে অনুরোধ করা সত্ত্বেও যদি বিবাদী বা ঋণ-গ্রহীতা উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত সম্পত্তির দখল ও নিয়ন্ত্রণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা, ক্ষেত্রমত, ক্রেতার অনুকূলে সমর্পণ না করিয়া থাকেন, তাহা হইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট স্থানীয় অধিক্ষেত্রের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দরখাস্ত করিয়া উক্ত সম্পত্তির দখল ও নিয়ন্ত্রণ বিবাদী বা ঋণ-গ্রহীতা হইতে উহার অনুকূলে বা, ক্ষেত্রমত, ক্রেতার অনুকূলে সমর্পণ করিতে অনুরোধ করিতে পারিবে; এবং অনুরূপভাবে অনুরূদ্ধ হইলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা তাহার মনোনীত প্রথম শ্রেণীর কোন ম্যাজিস্ট্রেট, উক্ত সম্পত্তি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে বন্ধক বা দায়বদ্ধ থাকার বিষয়ে সন্তুষ্ট হওয়া সাপেক্ষে, উহার দখল ও নিয়ন্ত্রণ বিবাদী বা ঋণ-গ্রহীতা হইতে উদ্ধার করিয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা, ক্ষেত্রমত, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হইতে ক্রেতার অনুকূলে সমর্পণ করিবেন৷] (৬) কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান উপ-ধারা (২) ও (৩) এর বিধান পালন না করিলে, আদালত স্ব-উদ্যোগে অথবা দায়িকের লিখিত আবেদনক্রমে, ডিক্রী প্রদান করিবার সময় উক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উক্ত সম্পত্তির প্রদর্শিত মূল্যায়নের, যদি থাকে, সমপরিমাণ অর্থ মামলার দাবী হইতে বাদ দিয়া ডিক্রী প্রদান করিবে এবং প্রদর্শিত মূল্য না থাকিলে, আদালত, সম্পত্তির স্থানীয় অধিক্ষেত্রের সাব-রেজিষ্ট্রারের প্রতিবেদন গ্রহণ করিয়া, মূল্য নির্ধারণ করিবে এবং নির্ধারিত উক্ত মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ মামলার দাবী হইতে বাদ দিয়া ডিক্রী প্রদান করিবে৷ (৭) উপ-ধারা (৬) এর অধীন যে সম্পত্তির নির্ধারিত মূল্য মামলার দাবী হইতে বাদ দিয়া ডিক্রী প্রদান করা হইবে, উক্ত সম্পত্তির মালিকানা ধারা ৩৩ এর উপ-ধারা (৭) এর বিধানের অনুরূপ পদ্ধতিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ন্যস্ত হইবে৷ (৮) আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারার অধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক lien, pledge, hypothecation অথবা Mortgage এর অধীন প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে কোন জামানতী স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করা হইলে, উক্ত বিক্রয় ক্রেতার অনুকূলে বৈধ স্বত্ব সৃষ্টি করিবে এবং ক্রেতার ক্রয়কে কোনভাবেই তর্কিত করা যাইবে না: তবে শর্ত থাকে যে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিক্রয় কার্যক্রমে কোনরূপ অবৈধতা বা পদ্ধতিগত অনিয়ম থাকিলে, জামানত প্রদানকারী ঋণ-গ্রহীতা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবী করিতে পারিবেন৷

১৩৷ মামলার বিচার্য বিষয় গঠন ও নিষ্পত্তি

১৩৷ (১) বিবাদী কর্তৃক লিখিত জবাব দাখিল হওয়ার পরবর্তীতে ধার্য একটি নির্ধারিত তারিখে আদালত উভয় পক্ষকে, যদি উপস্থিত থাকে, শুনানী করিয়া এবং আরজি ও লিখিত বর্ণনা পর্যালোচনা করিয়া মামলার বিচার্য বিষয়, যদি থাকে, গঠন করিবে; এবং যদি বিচার্য বিষয় না থাকে, আদালত অবিলম্বে রায় বা আদেশ প্রদান করিবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এ নির্ধারিত তারিখে, কোন বা উভয় পক্ষ যদি অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে আদালত, আরজি ও লিখিত বর্ণনা পর্যালোচনা করিয়া মামলার বিচার্য বিষয়, যদি থাকে, গঠন করিবে; এবং, যদি বিচার্য বিষয় না থাকে, আদালত অবিলম্বে রায় বা আদেশ প্রদান করিবে৷ (৩) মামলার যে কোন পর্যায়ে, লিখিত বর্ণনায় কিংবা অন্য কোনভাবে বিবাদী কর্তৃক বাদীর আর্জির বক্তব্য স্বীকৃত হইয়া থাকিলে, এবং উক্তরূপ স্বীকৃতির ভিত্তিতে যেরূপ রায় বা আদেশ পাইতে বাদী অধিকারী, সেরূপ রায় বা আদেশ প্রার্থনা করিয়া বাদী আদালতের নিকট দরখাস্ত করিলে, আদালত, বাদী ও বিবাদীর মধ্যে বিদ্যমান অপরাপর বিচার্য বিষয় নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা না করিয়া, উপযুক্ত রায় বা আদেশ প্রদান করিবে৷ (৪) মামলার শুনানীর জন্য ধার্য প্রথম তারিখে অথবা মামলার যে কোন পর্যায়ে যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, পক্ষদ্বয়ের মধ্যে ঘটনা অথবা আইনগত বিষয়ে কোন বিবাদ নাই, তাহা হইলে, আদালত, অবিলম্বে রায় বা আদেশ প্রদান করিয়া মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করিবে৷

১৪৷ মামলার শুনানী মুলতবী

১৪৷ (১) ধারা ১৭ এর মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমা সম্পর্কিত বিধান সাপেক্ষে অর্থ ঋণ আদালতের কোন মামলার চূড়ান্ত শুনানীর জন্য ধার্য তারিখ কোন এক পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে একবারের অধিক মুলতবী করা যাইবে না৷ (২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও, আদালত, এই পরিচ্ছেদে বিচার নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত সময়সীমার ব্যত্যয় না ঘটাইয়া, কোন পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঐ পক্ষ কর্তৃক অন্যুন ১,০০০/- (এক হাজার) এবং অনূর্ধ্ব ৩,০০০/- (তিন হাজার) টাকা পর্যন্ত খরচা নির্ধারিত তারিখের পূর্বে প্রদান করার পূর্ব-শর্ত সাপেক্ষে, একবারের অধিক মুলতবী মঞ্জুর করিতে পারিবে৷ (৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান মতে প্রদেয় মুলতবী খরচার টাকা সরকারী রাজস্ব হিসাবে নির্ধারিত খাতে জমা করিয়া প্রমাণস্বরূপ রসিদ আদালতে দাখিল করিতে হইবে; এবং এই শর্তের ব্যত্যয় হইলে আদালত অবিলম্বে এক তরফা সূত্রে মামলা নিষ্পত্তি করিবে৷ (৪) মামলার শুনানী শুরু হইবার পর উহা ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকিবে এবং এইরূপ মামলার আংশিক শুনানী কেবল আদালতের পরবর্তী কার্যদিবস পর্যন্ত মুলতবী করা যাইবে৷

১৫৷ মৌখিক বা লিখিত যুক্তিতর্ক সম্পর্কিত বিধান

১৫৷ (১) এই আইনের অধীন দায়েরকৃত মামলায় রায় প্রদানের পূর্বে মৌখিক যুক্তিতর্ক শ্রবণ করা অর্থ ঋণ আদালতের বিচারকের জন্য আবশ্যক হইবে না৷ (২) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, যদি কোন পক্ষ বা পক্ষগণ ইচ্ছা করেন, মামলার সাক্ষ্য সমাপ্ত হইবার অব্যবহিত পরেই আদালতকে লিখিতভাবে অবগত করিয়া এবং অপর পক্ষ বা পক্ষগণকে নকল সরবরাহপূর্বক, অনূর্ধ্ব ৫ (পাঁচ) দিবসের মধ্যে লিখিত যুক্তিতর্ক দাখিল করিতে পারিবে, তবে লিখিত যুক্তিতর্কের বিরুদ্ধে লিখিত উত্তর প্রদানের কোনরূপ সুযোগ থাকিবে না৷ (৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান সত্ত্বেও, প্রয়োজন মনে করিলে আদালত কোন পক্ষ বা পক্ষদ্বয়কে লিখিত যুক্তিতর্কের অতিরিক্ত মৌখিক যুক্তিতর্ক পেশ করিতে আদেশ প্রদান করিতে পারিবে৷

১৬৷ রায় প্রদান সম্পর্কিত বিধান

১৬৷ (১) মামলার সাক্ষ্য সমাপ্ত হইবার পর অনূর্ধ্ব ১০ (দশ) দিবসের মধ্যে আদালত রায় প্রদান করিবে, তবে, ধারা ১৫ এর উপ-ধারা (২) এর অধীনে পক্ষ বা পক্ষরা লিখিত যুক্তিতর্ক পেশ করিলে অথবা উপ-ধারা (৩) এর অধীনে আদালত মৌখিক যুক্তিতর্ক শ্রবণ করিলে, উক্তরূপ লিখিত যুক্তিতর্ক পেশ কিংবা মৌখিক যুক্তিতর্ক শ্রবণের তারিখ হইতে পরবর্তী অনূর্ধ্ব ১০ (দশ) দিবসের মধ্যে আদালত রায় প্রদান করিবে৷ (২) আদালত, প্রদত্ত রায় বা আদেশে, ডিক্রীকৃত টাকা কিস্তিতে পরিশোধের জন্য দীর্ঘতর সময়সীমা নির্ধারণ করিয়া না থাকিলে, অনূর্ধ্ব ৬০ (ষাট) দিবসের যে কোন একটি সময়সীমা নির্ধারণ করিয়া উক্ত সময়সীমার মধ্যে ডিক্রীকৃত টাকা পরিশোধের জন্য বিবাদীকে নির্দেশ প্রদান করিবে৷

১৭৷ মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমা সম্পর্কিত বিধান

১৭৷ (১) এই আইনের অধীনে দাখিলী মামলা, সমন জারী সত্ত্বেও বিবাদী হাজির না হইলে, সমন জারীর তারিখ হইতে অনূর্ধ্ব ৩০ (ত্রিশ) দিবসের মধ্যে, এবং বিবাদী হাজির হইয়া লিখিত জবাব দাখিল করিলে, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, লিখিত জবাব দাখিলের তারিখ হইতে অনূর্ধ্ব ৯০ (নব্বই) দিবসের মধ্যে নিষ্পন্ন করিতে হইবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও, ৯০ (নব্বই) দিবসের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করিতে অসমর্থ হইলে, উপযুক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করতঃ, আদালত, উক্ত সময়সীমা অনূর্ধ্ব আরো ৩০ (ত্রিশ) দিবস বর্ধিত করিতে পারিবে৷

১৮৷ মামলা দায়ের ও শুনানী সম্পর্কিত বিশেষ বিধান

১৮৷ (১) কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক আত্মসাত্কৃত কোন অর্থ ঋণ গণ্যে এই আইনের অধীন আদালতের মাধ্যমে আদায়যোগ্য হইবে না৷ (২) কোন ঋণগ্রহীতা, কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে, এই আইনের অধীন আদালতে, সংশ্লিষ্ট ঋণ হইতে উদ্ভূত কোন বিষয়ে, কোন প্রতিকার দাবী করিয়া মামলা দায়ের করিতে পারিবে না, এবং ঋণগ্রহীতা-বিবাদী, বাদী-আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় লিখিত জবাব দাখিল করিয়া, উক্ত লিখিত জবাবে প্রতিগণন (Set-off) বা পাল্টাদাবী (counter claim) অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবে না৷ (৩) ঋণগ্রহীতা-বিবাদী সংশ্লিষ্ট ঋণ হইতে উদ্ভূত বিষয়ে বাদী হইয়া কোন মামলা অন্য কোন আদালতে দায়ের করিয়া থাকিলে, উক্ত মামলা এই আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত আদালতে দায়েরকৃত মামলার সহিত একত্রে শুনানীযোগ্য (Analogous hearing) হইবে না, অথবা এই আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত আদালতে বিচারাধীন মামলাটি উপরি-উল্লিখিত অন্য আদালতে বিচারাধীন মামলার সহিত উক্ত অন্য আদালতেও একত্রে শুনানীযোগ্য হইবে না; এবং অনুরূপ কোন কারণে এই আইনের অধীন দায়েরকৃত মামলা স্থগিত করা যাইবে না৷

১৯৷ একতরফা ডিক্রী সম্পর্কিত বিধান

১৯৷ (১) মামলার শুনানীর জন্য ধার্য কোন তারিখে বিবাদী আদালতে অনুপস্থিত থাকিলে, কিংবা মামলা শুনানীর জন্য গৃহীত হইবার পর ডাকিয়া বিবাদীকে উপস্থিত পাওয়া না গেলে, আদালত মামলা একতরফা সূত্রে নিষ্পত্তি করিবে৷ (২) কোন মামলা একতরফা সূত্রে ডিক্রী হইলে, বিবাদী উক্ত একতরফা ডিক্রীর তারিখের অথবা উক্ত একতরফা ডিক্রী সম্পর্কে অবগত হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিবসের মধ্যে, উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, উক্ত একতরফা ডিক্রী রদের জন্য দরখাস্ত করিতে পারিবেন৷ (৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুযায়ী দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে বিবাদীকে উক্ত দরখাস্ত দাখিলের তারিখের পরবর্তী ১৫ (পনের) দিবসের মধ্যে ডিক্রীকৃত অর্থের ১০% এর সমপরিমাণ টাকা বাদীর দাবীর সেই পরিমাণের জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ নগদ সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, অথবা জামানতস্বরূপ ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা অন্য কোন প্রকার নগদায়নযোগ্য বিনিমেয় দলিল (Negotiable Instrument) আকারে জামানত হিসাবে আদালতে জমাদান করিতে হইবে৷ (৪) উপ-ধারা (৩) এর বিধানমতে ডিক্রীকৃত অর্থের ১০% এর সমপরিমাণ টাকা জমাদানের সংগে সংগে দরখাস্তটি মঞ্জুর হইবে, একতরফা ডিক্রী রদ হইবে এবং মূল মামলা উহার পূর্বের নম্বর ও নথিতে পুনরুজ্জীবিত হইবে, এবং আদালত ঐ মর্মে একটি আদেশ লিপিবদ্ধ করিবে; এবং অতঃপর মামলাটি যে পর্যায়ে এক তরফা নিষ্পত্তি হইয়াছিল, ঐ পর্যায়ের অব্যবহিত পূর্ববর্তী পর্যায় হইতে পরিচালিত হইবে৷ (৫) বিবাদী উপ-ধারা (৩) এর বিধানমতে ডিক্রীকৃত অর্থের ১০% এর সমপরিমাণ টাকা বাদীর দাবীর সেই পরিমাণের জন্য স্বীকৃতস্বরূপ নগদ সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, অথবা জামানতস্বরূপ ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা অন্য কোন প্রকার নগদায়নযোগ্য বিনিমেয় দলিল (Negotiable Instrument) আকারে জামানত হিসাবে আদালতে জমাদান করিতে ব্যর্থ হইলে, উক্ত দরখাস্তটি সরাসরি খারিজ হইবে; এবং আদালত ঐ মর্মে একটি আদেশ লিপিবদ্ধ করিবে৷ (৬) অর্থ ঋণ আদালতে বিচারাধীন কোন মামলা, বাদীর অনুপস্থিতির বা ব্যর্থতা হেতু খারিজ করা যাইবে না, এবং এইরূপ ক্ষেত্রে আদালত, নথিতে উপস্থাপিত কাগজাদি পরীক্ষা করিয়া গুণাগুণ বিশ্লেষণে মামলা নিষ্পত্তি করিবে৷

২০৷ অর্থ ঋণ আদালতের আদেশের চূড়ান্ততা

২০৷ এই আইনের বিধান ব্যতিরেকে, কোন আদালত বা কর্তৃপক্ষের নিকট অর্থ ঋণ আদালতে বিচারাধীন কোন কার্যধারা বা উহার কোন আদেশ, রায় বা ডিক্রীর বিষয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না, এবং এই আইনের বিধানকে উপেক্ষা করিয়া কোন আদালত বা কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিয়া কোন প্রতিকার দাবী বা প্রার্থনা করা হইলে, ঐরূপ আবেদন কোন আদালত বা কর্তৃপক্ষ গ্রাহ্য করিবে না৷

২১৷ [বিলুপ্ত]

১[ ***]

২২৷ মধ্যস্থতা

১[ ২২। (১) চতুর্থ পরিচ্ছেদে বর্ণিত সাধারণ পদ্ধতিতে মামলার বিচার বা শুনানী সম্পর্কিত যে বিধানই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন দায়েরকৃত কোন মামলায় বিবাদী কর্তৃক লিখিত জবাব দাখিলের পর, আদালত, ধারা ২৪ এর বিধান সাপেক্ষে, মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে, মামলাটি, নিযুক্ত আইনজীবীগণ কিংবা আইনজীবী নিযুক্ত না হইয়া থাকিলে পক্ষগণের নিকট প্রেরণ করিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রেরিত মামলায় নিযুক্ত আইনজীবীগণ মামলার পক্ষগণের সহিত পরামর্শক্রমে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে অপর একজন আইনজীবী, যিনি কোন পক্ষ কর্তৃক নিয়োজিত নহেন, অথবা কোন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, অথবা অন্য যে কোন উপযুক্ত ব্যক্তিকে মামলা নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে নিযুক্ত করিতে পারিবেন : তবে শর্ত থাকে যে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে লাভজনক পদে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি এই ধারার অধীন মধ্যস্থতাকারী নিযুক্ত হইবার অযোগ্য হইবেন। (৩) কোন মামলা মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির প্রয়াসের জন্য প্রেরণ করিবার সময় আদালত আইনজীবীগণ ও মধ্যস্থতাকারীর পারিশ্রমিক এবং মধ্যস্থতার পদ্ধতি নির্ধারণ করিয়া দিবেন না; সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, পক্ষগণ মধ্যস্থতাকারী পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পারিশ্রমিক ও মধ্যস্থতার পদ্ধতি নির্ধারণ করিবেন। (৪) পক্ষগণের তথ্যের গোপনীয়তা রৰা করিয়া মধ্যস্থতাকারী মধ্যস্থতা কার্যক্রম সমাপ্তির পর একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করিবেন এবং উক্ত প্রতিবেদনে সম্পাদনকারী হিসাবে পক্ষগণের স্বাক্ষর, কিংবা, ক্ষেত্রমত, বাম হস্তের বৃদ্ধাংগুলির ছাপ, এবং মধ্যস্থতাকারী ও আইনজীবীগণের স্বাক্ষর গ্রহণ করিতে হইবে; তবে মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলার বিরোধ নিষ্পত্তি হইয়া থাকিলে, অনুরূপ নিষ্পত্তির শর্তাদি লিখিতভাবে চুক্তি আকারে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে। (৫) আদালত, যে তারিখে মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলার বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদেশ প্রদান করিবে, উক্ত তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিবসের মধ্যে মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পন্ন করিতে হইবে, যদি না আদালত উভয় পক্ষ কতৃর্ক লিখিত দরখাস্ত দ্বারা অনুরুদ্ধ হইয়া, অথবা কারণ উল্লেখপূর্বক স্বীয় উদ্যোগে, উক্ত সময়সীমা অনধিক আরো ৩০ (ত্রিশ) দিবস বর্ধিত করিয়া থাকে। (৬) উপ-ধারা (১) এর অধীনে মধ্যস্থতার আদেশের ১০ (দশ) দিবসের মধ্যে পক্ষগণ আদালতকে লিখিতভাবে মধ্যস্থতাকারীর নাম অবহিত করিবেন এবং এই সময়ের মধ্যে পক্ষগণ মধ্যস্থতাকারী নিযুক্ত করিতে ব্যর্থ হইলে আদালত একজন মধ্যস্থতাকারী নিযুক্ত করিবে। (৭) আদালত উপ-ধারা (৪) এ উলি্লখিত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করিয়া এবং ধারা ২৪ এর বিধান সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আদেশ বা ডিক্রী প্রদান করিবে। (৮) এই ধারার অধীন মধ্যস্থতা কার্যক্রম গোপনীয় হইবে এবং পক্ষগণ, তাহাদের নিযুক্ত আইনজীবী, প্রতিনিধি এবং মধ্যস্থতাকারীর মধ্যে অনুষ্ঠিত কোন আলোচনা বা পরামর্শ, উপস্থাপিত কোন সাক্ষ্য, প্রদত্ত কোন স্বীকৃতি, বিবৃতি বা মন্তব্য গোপনীয় বলিয়া গণ্য হইবে এবং পরবতর্ীতে অনুষ্ঠিত উক্ত মামলার শুনানির কোন পর্যায়ে বা অন্য কোন কার্যক্রমে উহাদের উল্লেখ করা যাইবে না বা সাক্ষ্য হিসাবে উহা গ্রহণযোগ্য হইবে না। (৯) Court Fees Act, 1870 (Act No. VII of 1870) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি এই ধারার অধীন কোন মামলার বিরোধ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়, তাহা হইলে আদালত কালেক্টরের নিকট হইতে আরজির উপর প্রদত্ত সমুদয় কোর্ট ফি ফেরত প্রদানের লক্ষ্যে বাদীর অনুকূলে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিবে এবং উহার ভিত্তিতে বাদী প্রদত্ত কোর্ট ফি ফেরত পাইবার অধিকারী হইবেন। (১০) এই ধারার অধীন মধ্যস্থতার মাধ্যমে কোন মামলার নিষ্পত্তির আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে কোন আপীল বা রিভিশন দায়ের করা যাইবে না। (১১) মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রয়াস ব্যর্থ হইলে আদালত মধ্যস্থতা কার্যক্রমের পূর্ববর্তী অবস্থান হইতে মামলার শুনানীর কার্যক্রম আরম্ভ করিবে।]

২৩। পুনরায় বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রয়াস গ্রহণ

১[ ২৩। (১) ধারা ২২ এর অধীন মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি না হইলে ৪র্থ পরিচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আদালত কর্তৃক রায় বা আদেশ প্রদানের পূর্বে মামলার যে কোন পর্যায়ে উভয় পক্ষ আদালতের অনুমতিক্রমে ধারা ২২ এর উপ-ধারা (২), (৩) ও (৪) এ উল্লিখিত বিধান মোতাবেক বিকল্প পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তি করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির সুযোগ এই আইনের ধারা ১৭ তে উল্লিখিত মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমার ব্যত্যয় ঘটাইতে পারিবে না।]

২৪। মধ্যস্থতা [***] সভায় কার্যকর ভূমিকা রাখিতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মকর্তাগণকে ক্ষমতা অর্পণ

২৪। ২[ (১) এই আইনের অধীন মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিকল্প পদ্ধতিতে মামলার নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যকে কার্যকর করার লক্ষ্যে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান উহার পরিচালক পর্ষদ (Board of Directors) বা অনুরূপ উপযুক্ত পর্যায় কর্তৃক, তদ্উদ্দেশ্যে রিজুলিউশন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক, কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ে উপযুক্ত ব্যবস্থাপক বা কর্মকর্তাকে যথাযথ ৰমতা অর্পণ করিয়া আদেশ বা পরিপত্র জারী করিবে।] (২) আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত আদেশ বা পরিপত্রে, প্রদত্ত অনুমোদন ও অর্পিত ক্ষমতার সীমা এবং উক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতি ও নীতি, সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করিবে৷ (৩) আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উপ-ধারা (১) এর অধীনে জারীকৃত আদেশ বা পরিপত্রের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থ ঋণ আদালতে প্রেরণ করিবে৷ ৩[ (৪) আদালত, এই আইনের অধীন মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিকল্প পদ্ধতিতে উপনীত আপোষ অনুযায়ী ডিক্রী বা আদেশ প্রদান করিবার পূর্বে নিশ্চিত হইবেন যে, উক্ত আপোষ উপ-ধারা (২) এর নির্ধারিত সীমার অধীনেই হইয়াছে এবং, ক্ষেত্রমত, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক উহা অনুমোদিত হইয়াছে।]

২৫। উচ্চতর দাবী সম্পর্কিত বিরোধ বিকল্প পদ্ধতিতে নিষ্পত্তির প্রতিবেদনে অনুমোদন গ্রহণ

১[ ২৫। পাঁচ কোটি টাকার অধিক দাবী সম্বলিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোন মামলা এই আইনের অধীন মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিকল্প পদ্ধতিতে নিষ্পত্তির নিমিত্ত প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী, যে নামেই অভিহিত হইয়া থাকেন না কেন, কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে।]

২৬৷ দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের প্রয়োগ

২৬৷ The Code of Civil Procedure, 1908 এর অধীন মানি ডিক্রী জারী সংক্রান্ত বিধানাবলী, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত অসংগতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন ডিক্রী জারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে৷

২৭৷ জারীর আদালত

২৭৷ (১) অর্থ ঋণ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ বা ডিক্রী উক্ত আদালত কর্তৃক, অথবা উক্ত আদালত জারীর জন্য অন্য যে আদালতে প্রেরণ করে, সেই আদালত কর্তৃক জারী হইবে৷ (২) এই আইনের অধীনে দুই বা ততোধিক জেলার জন্য একটি মাত্র অর্থ ঋণ আদালত প্রতিষ্ঠিত হইয়া থাকিলে এবং উক্ত অর্থ ঋণ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায় বা আদেশ হইতে উদ্ভূত জারী মামলার কার্যক্রম এমন কোন জেলায় প্রয়োগ করা আবশ্যক হয়, যাহা অর্থ ঋণ আদালত যে জেলায় অবস্থিত উক্ত জেলা হইতে ভিন্ন, তাহা হইলে আদালত, যে জেলায় অর্থ ঋণ আদালত অবস্থিত, সেই জেলার জেলা জজের মাধ্যমে, জারী মামলাটি কার্যকর করিবার জন্য উপরি-উল্লিখিত ভিন্ন জেলার জেলা জজের নিকট প্রেরণ করিবে৷ (৩) উপ-ধারা (২) এর বিধানমতে প্রাপ্ত জারী মামলাটি জেলা জজ তাহার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন উপযুক্ত ও এখ্‌তিয়ারসম্পন্ন কোন আদালতে নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করিবেন এবং এইরূপ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই আইনের অধীন জারী বিষয়ক বিধানাবলী এমনভাবে প্রযোজ্য হইবে যেন, ঐ আদালতটি এই আইনের অধীনেই প্রতিষ্ঠিত একটি অর্থ ঋণ আদালত৷

২৮৷ জারীর জন্য মামলা দাখিলের সময়সীমা

২৮। (১) The Limitation Act, 1908 এবং The Code of Civil Procedure, 1908 এ ভিন্নতর যে বিধানই থাকুক না কেন, ডিক্রীদার, আদালতযোগে ডিক্রী বা আদেশ কার্যকর করিতে ইচ্ছা করিলে, ডিক্রী বা আদেশ প্রদত্ত হওয়ার অনূর্ধ্ব ১[ ১ (এক) বৎসরের মধ্যে], ধারা ২৯ এর বিধান সাপেক্ষে জারীর জন্য আদালতে দরখাস্ত দাখিল করিয়া মামলা করিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর বিধানের ব্যত্যয়ে, ডিক্রী বা আদেশ প্রদানের পরবর্তী ২[ ১ (এক) বৎসর] অতিবাহিত হইবার পরে জারীর জন্য দায়েরকৃত কোন মামলা তামাদিতে বারিত হইবে এবং অনুরূপ তামাদিতে বারিত মামলা আদালত কার্যার্থে গ্রহণ না করিয়া সরাসরি খারিজ করিবে। (৩) জারীর জন্য দ্বিতীয় বা পরবর্তী মামলা, প্রথম বা পূর্ববর্তী জারীর মামলা খারিজ বা নিষ্পত্তি হওয়ার পরবর্তী এক বত্সর সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে দাখিল করা হইলে, উক্ত মামলা তামাদিতে বারিত হইবে; এবং তামাদিতে বারিত অনুরূপ মামলা আদালত কার্যার্থে গ্রহণ না করিয়া সরাসরি খারিজ করিবে৷ (৪) জারীর জন্য কোন নতুন মামলা প্রথম জারীর মামলা দাখিলের পরবর্তী ৬ (ছয়) বত্সর সময় অতিবাহিত হইবার পরে দাখিল করা হইলে, উক্ত মামলা তামাদিতে বারিত হইবে; এবং তামাদিতে বারিত অনুরূপ মামলা আদালত কার্যার্থে গ্রহণ না করিয়া সরাসরি খারিজ করিবে৷

২৯৷ সময়সীমা সম্পর্কিত বিশেষ বিধান

২৯৷ আদালত, রায় প্রদানের সময় ডিক্রীকৃত টাকা এককালীন অথবা কিস্তিতে পরিশোধের জন্য কোন সময়সীমা নির্ধারণ করিয়া থাকিলে, অনুরূপ সময়সীমা অতিক্রান্ত বা অকার্যকর হইবার পর হইতে ধারা ২৮(১) এ উল্লিখিত সময়সীমা কার্যকর হইবে৷

৩০৷ নোটিশ জারী সম্পর্কিত বিধান

৩০। ১[ (১)] আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ডিক্রীদার আদালতের জারীকারক কর্তৃক এবং প্রাপ্তি স্বীকারসহ রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে প্রেরণের নিমিত্ত, জারীর দরখাস্তের সহিত নোটিশ জারীর জন্য সমুদয় তলবানা আদালতে দাখিল করিবেন, এবং আদালত অবিলম্বে উহাদের একযোগে জারীর ব্যবস্থা করিবেন, এবং যদি সমন ইসু্যর ১৫ (পনের) দিবসের মধ্যে জারী হইয়া ফেরত না আসে, অথবা তৎপূর্বেই বিনা জারীতে ফেরত আসে, তাহা হইলে আদালত, উহার পরবর্তী ১৫ (পনের) দিবসের মধ্যে বাদীর খরচায় যে কোন একটি বহুল প্রচারিত বাংলা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়, এবং তদুপরি ন্যায় বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় মনে করিলে স্থানীয় একটি পত্রিকায়, যদি থাকে, বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে নোটিশ জারী করাইবেন, এবং অনুরূপ জারী আইনানুগ জারী মর্মে গণ্য হইবে। ২[ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পত্রিকার মাধ্যমে নোটিশ জারী করিবার ক্ষেত্রে ডিক্রীদার লিখিতভাবে আদালতকে যে পত্রিকার নাম অবহিত করিবেন আদালত তদনুযায়ী উক্ত পত্রিকায় নোটিশ জারী করাইবে।]

৩১৷ জারীর কার্যক্রমের স্থগিতাদেশ

৩১৷ অর্থ ঋণ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ বা ডিক্রীর বিরুদ্ধে আপীল বা রিভিশন উচ্চতর আদালতে দায়ের করা হইলে উহা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জারীর কার্যধারা স্থগিত করিবে না; উচ্চতর আদালত সুস্পষ্টভাবে তদুদ্দেশ্যে স্থগিতাদেশ প্রদান করিলেই কেবল জারীর কার্যধারা তদ্‌অনুযায়ী স্থগিত থাকিবে৷

৩২৷ জারীর বিরুদ্ধে আপত্তি

৩২। (১) অর্থ ঋণ আদালতের ডিক্রী বা আদেশ হইতে উদ্ভুত জারী মামলায় কোন তৃতীয় পক্ষ দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের বিধানমতে দাবী পেশ করিলে, আদালত প্রাথমিক বিবেচনায় উক্ত দাবী সরাসরি খারিজ না করিলে, ডিক্রীদার অনূধর্্ব ৩০ (ত্রিশ) দিবসের মধ্যে উহার বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি দায়ের করিয়া শুনানী দাবী করিতে পারিবেন। ১[ (২) উপরোক্ত মতে দাবী পেশ করিবার ক্ষেত্রে, দরখাস্তকারী, ডিক্রীকৃত অর্থের, অথবা ডিক্রীকৃত অর্থের আংশিক ইতিমধ্যে আদায় হইয়া থাকিলে অনাদায়ী অংশের, ১০% এর সমপরিমাণ জামানত বা বন্ড দাখিল করিবে, এবং অনুরূপ জামানত বা বন্ড দাখিল না করিলে উক্ত দাবী অগ্রাহ্য হইবে।] (৩) অর্থ ঋণ আদালত, উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন দাবী বিবেচনার্থ গ্রহণ করিলে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ২[ লিখিত আপত্তি] দাখিল হওয়ার ৩০ (ত্রিশ) দিবসের মধ্যে উহা নিষ্পন্ন করিবে এবং কোন কারণে ৩০ (ত্রিশ) দিবসের মধ্যে উহা নিষ্পন্ন করিতে ব্যর্থ হইলে, কারণ লিপিবদ্ধ করতঃ, উক্ত সময়সীমা অনূধর্্ব আরো ৩০ (ত্রিশ) দিবস বর্ধিত করিতে পারিবে। ৩[ (৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন দাখিলকৃত লিখিত আপত্তি নিষ্পন্ন করিয়া আদালত যদি অবধারণ করিতে পারে যে, উপ-ধারা (১) এর অধীন দাবী সম্বলিত দরখাস্তটি ডিক্রীদারের পাওনা বিলম্বিত বা প্রতিহত করিবার অসাধু উদ্দেশ্যে দায়ের করা হইয়াছিল, তাহা হইলে আদালত উক্ত দরখাস্ত খারিজ করিবার সময় একই আদেশ দ্বারা উপ-ধারা (২) এর অধীন দাখিলকৃত জামানত বা বন্ড বাজেয়াপ্ত করিবে এবং ডিক্রীকৃত টাকা যে পদ্ধতিতে আদায় করা হয়, বাজেয়াপ্ত জামানত বা বন্ডের অধীন টাকা একই পদ্ধতিতে আদালত আদায় করিবে এবং আদায়কৃত অর্থ ডিক্রীদারকে প্রদান করিবে।]

৩৩৷ নিলাম বিক্রয়

৩৩৷ (১) অর্থ ঋণ আদালত ডিক্রী বা আদেশ জারীর সময় কোন সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বাদীর খরচে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের তারিখ হইতে অন্যুন ১৫ (পনের) দিবসের সময় দিয়া সীলমোহরকৃত টেন্ডার আহ্বান করিবে, উক্ত বিজ্ঞপ্তি কমপক্ষে বহুল প্রচারিত একটি বাংলা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়, তদুপরি ন্যায় বিচারের স্বার্থে প্রয়োজন মনে করিলে স্থানীয় একটি পত্রিকায়, যদি থাকে, প্রকাশ করিবে; এবং আদালতের নোটিশ বোর্ডে লটকাইয়া ও স্থানীয়ভাবে ঢোল সহরত যোগেও উক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রচার করিবে৷ ১[ (২) প্রত্যেক দরদাতা, উদ্ধৃত দর অনূর্ধ্ব ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা হইলে উহার ২০%, উদ্ধৃত দর ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা অপেক্ষা অধিক এবং অনূর্ধ্ব ৫০,০০,০০০ (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা হইলে উহার ১৫% এবং উদ্ধৃত দর ৫০,০০,০০০ (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা অপেক্ষা অধিক হইলে উহার ১০% এর সমপরিমান টাকার, জামানতস্বরূপ, ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার আদালতের অনুকূলে দরপত্রের সহিত দাখিল করিবেন। (২ক) দরপত্র সরাসরি নির্দিষ্ট দরপত্র বাক্সে কিংবা রেজিস্ট্রীকৃত ডাকযোগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণের মাধ্যমে দাখিল করিতে হইবে। (২খ) অনূর্ধ্ব ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকার উদ্ধৃত দর গৃহীত হইবার পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিবসের মধ্যে, ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা অপেক্ষা অধিক এবং অনূর্ধ্ব ৫০,০০,০০০ (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকার উদ্ধৃত দর গৃহীত হইবার পরবর্তী ৬০ (ষাট) দিবসের মধ্যে এবং ৫০,০০,০০০ (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকার অধিক উদ্ধৃত দর গৃহীত হইবার পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিবসের মধ্যে, দরদাতা সমুদয় মূল্য পরিশোধ করিবেন এবং তাহা করিতে ব্যর্থ হইলে আদালত জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করিবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট ডিক্রীদার-আর্থিক প্রতিষ্ঠান লিখিত দরখাস্ত দাখিল করিয়া দায়িকের সুবিধার্থে সময়সীমা বর্ধিত করিবার জন্য অনুরোধ করিলে, আদালত এই উপ-ধারার অধীন নির্ধারিত সময়সীমার অনূর্ধ্ব ৬০ (ষাট) দিবস পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারিবে। (২গ) ডিক্রীদারের পক্ষে যদি লিখিতভাবে আদালতকে এই মর্মে অবহিত করা হয় যে, উপ-ধারা (২) এর অধীন দাখিলকৃত দরপত্রে সম্পত্তির প্রস্তাবকৃত মূল্য অস্বাভাবিকভাবে অপর্যাপ্ত বা কম এবং আদালত যদি উহাতে একমত পোষন করে, তাহা হইলে আদালত, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, উক্ত দর প্রস্তাব অগ্রাহ্য করিতে পারিবে।] (৩) ২[ উপ-ধারা (২খ) এর অধীনে] জামানত বাজেয়াপ্ত হইলে উহার অর্থ ডিক্রীদারকে প্রদান করা হইবে, ডিক্রীকৃত দাবীর সহিত উক্ত অর্থ সমন্বয় করা হইবে, এবং অতঃপর আদালত, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা কতর্ৃক উদ্ধৃত দর এবং পূর্বে বাজেয়াপ্তকৃত জামানত একত্রে সর্বোচ্চ দরদাতা কতর্ৃক উদ্ধৃত দর অপেক্ষা কম না হইলে, উক্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে সম্পত্তি নিলাম খরিদ করিতে আহ্বান করিবে; এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা ৩[ আহুত হইবার পর উপ-ধারা (২খ) এ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পুর্ণ মূল্য] পরিশোধ করিবেন এবং তাহা করিতে ব্যর্থ হইলে তাঁহার জামানত বাজেয়াপ্ত হইবে এবং জামানতের উক্ত অর্থ ডিক্রীদারকে ডিক্রীর দাবীর সহিত সমন্বয় করিবার জন্য প্রদান করা হইবে। (৪) কোন সম্পত্তি ৪[ উপ-ধারা (১), (২), (২ক), (২খ), (২গ) ও (৩) এর বিধান অনুসারে] নীলামে বিক্রয় করা সম্ভব না হইলে, আদালত পুনরায় কমপক্ষে বহুল প্রচারিত ২(দুই)টি বাংলা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়, তদুপরি ন্যায় বিচারের স্বার্থে প্রয়োজন মনে করিলে স্থানীয় একটি পত্রিকায়, যদি থাকে, উপ-ধারা (১) এর অনুরূপ পদ্ধতিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করাইয়া এবং আদালতের নোটিশ বোর্ডে নোটিশ টাংগাইয়া ও স্থানীয়ভাবে ঢোল সহরতযোগে সীলমোহরকৃত টেন্ডার আহ্বান করিবে; এবং বিক্রয় ও বাজেয়াপ্ত বিষয়ে ৫[ উপ-ধারা (২), (২ক), (২খ), (২গ) ও (৩) এ উল্লিখিত বিধান] অনুসরণ করিবে। ৬[ (৪ক) উপ-ধারা (১) ও (৪) এর অধীন পত্রিকার মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি জারী করিবার ক্ষেত্রে, বাদী লিখিতভাবে আদালতকে যে পত্রিকার নাম অবহিত করিবেন আদালত তদনুযায়ী উক্ত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করাইবে।] (৫) কোন সম্পত্তি ৭[ উপ-ধারা (১), (২), (২ক), (২খ), (২গ), (৩) ও (৪) এর বিধান অনুসারে] বিক্রয় করা সম্ভব না হইলে, উক্ত সম্পত্তি, ডিক্রীকৃত দাবী পরিপূর্ণভাবে পরিশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, দখল ও ভোগের অধিকারসহ ডিক্রীদারের অনুকূলে ন্যস্ত করা হইবে, এবং ডিক্রীদার ৮[ উপ-ধারা (১), (২), (২ক), (২খ), (২গ), (৩) ও (৪) এর বিধান অনুসারে] উক্ত সম্পত্তি বিক্রয় করিয়া অপরিশোধিত ডিক্রীর দাবী আদায় করিতে পারিবে, এবং আদালত ঐ মর্মে একটি সার্টিফিকেট ইসু্য করিবে। (৬) ডিক্রীকৃত অংকের অতিরিক্ত অর্থ বিক্রয় বাবদ আদায় হইলে, উক্ত অতিরিক্ত অর্থ দায়িককে ফেরত্ প্রদান করিতে হইবে, এবং বিক্রীকৃত অর্থ ডিক্রীর দাবী অপেক্ষা কম হইলে অবশিষ্ট অর্থ বাবদ, ২৮ ধারার বিধান সাপেক্ষে, আরো জারীর মামলা গ্রহণযোগ্য হইবে৷ ৯[ (৬ক) উপ-ধারা (৫) ও (৬) এর বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেক্ষেত্রে কোন সম্পত্তি, দখল ও ভোগের অধিকারসহ, ডিক্রিদারের অনুকূলে ন্যস্ত করা সত্বেও ডিক্রিদার উক্ত সম্পত্তি উপযুক্ত মূল্যে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রয় করিতে অসমর্থ হন, সেক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তির নির্ধারিত মূল্য কিংবা যুক্তিসংগত আনুমানিক মূল্য বাদ দিয়া, ধারা ২৮ এর বিধান সাপেক্ষে, জারীর মামলা দায়ের করা যাইবে। (৬খ) এই ধারায় ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (৫) এর অধীন কোন সমপত্তি, দখল ও ভোগের অধিকারসহ, ডিক্রীদারের অনুকূলে ন্যস্ত হইবার ক্ষেত্রে, অনুরূপ ন্যস্ত হইবার ৬ (ছয়) বৎসরের মধ্যে উপ-ধারা (৭) এর অধীন ডিক্রীদারের পক্ষে আদালতের নিকট লিখিত আবেদন করিয়া উক্ত সম্পত্তির মালিকানা অর্জন করা যাইবে এবং তাহা না করা হইলে ৬ (ছয়) বৎসর উত্তীর্ণ হইবার সাথে সাথেই উক্ত সম্পত্তিতে ডিক্রীদারের মালিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বর্তিত হইবে এবং সংশ্লিষ্ট আদালত হইতে তৎমর্মে ঘোষণা বা সনদ গ্রহণ করা যাইবে।] (৭) উপ-ধারা (৪) ও (৫) এর বিধান সত্ত্বেও, ডিক্রীদার, উলি্লখিত সম্পত্তি মালিকানাসত্ত্বে পাইতে আগ্রহী মর্মে আদালতের নিকট লিখিতভাবে আবেদন করিলে, আদালত, ১০[ উপ-ধারা (১), (২), (২ক), (২খ), (২গ) ও (৩) এর বিধানাবলীর কোনরূপ হানি না ঘটাইয়া], উপ-ধারা (৪) ও (৫) এর কার্যক্রম অনুসরণ করা হইতে বিরত থাকিবে; এবং ডিক্রীদারের প্রার্থিতমতে উল্লেখিত সম্পত্তির স্বত্ত্ব ডিক্রীদারের অনুকূলে ন্যস্ত হইয়াছে মর্মে ঘোষণা প্রদানপূর্বক তৎমর্মে একটি সনদপত্র জারী করিবে এবং জারীকৃত এইরূপ সনদপত্র সত্ত্বের দলিল হিসাবে গণ্য হইবে; এবং আদালত উহার একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সাব- রেজিষ্ট্রারের অফিসে নিবন্ধনের জন্য প্রেরণ করিবে। ১১[ (৭ক) উপ-ধারা (৫) বা (৭) এর অধীন সম্পত্তির দখল আদালতযোগে প্রাপ্ত হওয়া আবশ্যক হইলে, ডিক্রীদারের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে আদালত ডিক্রীদারকে উক্ত সম্পত্তির দখল অর্পণ করিতে পারিবে। (৭খ) উপ-ধারা (৭ক) এর অধীন ডিক্রীদারকে সম্পত্তির দখল অর্পণ করিবার পূর্বে আদালতকে পুনঃ নিশ্চিত হইতে হইবে যে, উক্ত সম্পত্তিই আইনানুগভাবে উহার প্রকৃত মালিক কর্তৃক ডিক্রীর সংশ্লিষ্ট ঋণের বিপরীতে বন্ধক প্রদান করা হইয়াছিল অথবা ডিক্রী কার্যকর করিবার লক্ষ্যে দায়িকের প্রকৃত স্বত্ব দখলীয় সম্পত্তি হিসাবে উক্ত সম্পত্তিই ক্রোক করা হইয়াছিল।] (৮) বর্তমানে প্রচলিত অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (৭) এর অধীনে জারীকৃত সনদপত্র বাবদ কোন কর বা রেজিষ্ট্রেশন ফি আদায়যোগ্য হইবে না৷ (৯) উপ-ধারা (৫) এর অধীনে সম্পত্তির দখল ও ভোগের অধিকার অথবা উপ-ধারা (৭) এর অধীনে সম্পত্তির স্বত্ত্ব ডিক্রীদারের অনুকূলে ন্যস্ত হইলে, ধারা ২৮ এর বিধান সাপেক্ষে, উক্ত ডিক্রী জারী মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হইবে৷

৩৪৷ দেওয়ানী আটকাদেশ

৩৪৷ (১) উপ-ধারা (১২) এর বিধান সাপেক্ষে, অর্থ ঋণ আদালত, ডিক্রীদার কর্তৃক দাখিলকৃত দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে, ডিক্রীর টাকা পরিশোধে বাধ্য করিবার প্রয়াস হিসাবে, দায়িককে ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখিতে পারিবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর উল্লিখিত বিধান, মূল ঋণ গ্রহীতার মৃত্যুর কারণে পারিবারিক উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী স্থলাভিষিক্ত দায়িক-ওয়ারিশদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না৷ (৩) জারী মামলা কোন কোম্পানী (Company), যৌগ কারবারী প্রতিষ্ঠান (Firm) অথবা অন্য কোন নিগমবদ্ধ সংস্থা (Corporate body) এর বিরুদ্ধে কার্যকর করিতে বিবাদী-দায়িককে দেওয়ানী কারাগারে আটক করা আবশ্যক হইলে, উল্লিখিত কোম্পানী, যৌথ কারবারী প্রতিষ্ঠান বা নিগমবদ্ধ সংস্থা আইন বা বিধি মোতাবেক যে সকল স্বাভাবিক ব্যক্তির (Natural person) সমন্বয়ে গঠিত বলিয়া গণ্য হইবে, সেই সকল ব্যক্তি এককভাবে ও যৌথভাবে দেওয়ানী কারাগারে আটকের জন্য দায়ী হইবেন৷ (৪) উপ-ধারা (৩) এর বিধান এইরূপ কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর হইবে না যিনি ডিক্রীর সংশ্লিষ্ট ঋণ গ্রহণের পরবর্তীতে উত্তরাধিকার সূত্রে উপরি-উল্লিখিত কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের স্থলাভিষিক্ত হইয়াছেন৷ (৫) উপ-ধারা (১) বা (৩) এর অধীনে দেওয়ানী কারাগারে আটক কোন ব্যক্তি, ডিক্রীর দাবী সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ না করা পর্যন্ত, অথবা ৬ (ছয়) মাসের সময়সীমা অতিক্রম না হওয়া পর্যন্ত, যাহা পূর্বে হয়, দেওয়ানী কারাগার হইতে মুক্তি লাভ করিবে না, এবং ডিক্রীর সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করার সংগে সংগে আদালত তাহাকে দেওয়ানী কারাগার হইতে মুক্তির নির্দেশ প্রদান করিবে৷ (৬) উপ-ধারা (৫) এর বিধান সত্ত্বেও, দেওয়ানী কারাগারে আটক দায়িক যদি ডিক্রীদারের অপরিশোধিত পাওনার ২৫% এর সমপরিমাণ অর্থ নগদ পরিশোধ করিয়া এই মর্মে বন্ড প্রদান করেন যে, তিনি পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিবসের মধ্যে অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধ করিবেন, তবে সেক্ষেত্রে আদালত দায়িককে মুক্তি প্রদান করিবে৷ (৭) উপ-ধারা (৬) এ উল্লিখিত বন্ডের শর্ত মোতাবেক যদি দায়িক অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হন, তবে তিনি পুনরায় গ্রেফতার ও দেওয়ানী কারাগারে আটক হইতে দায়ী থাকিবেন, এবং এইরূপ দেওয়ানী কারাগারে পুনরায় আটকাদেশ হইলে, উহা ছয় মাস পর্যন্ত বহালযোগ্য নতুন আটকাদেশ হিসাবে গণ্য হইবে৷ (৮) এই আইনের অধীনে দেওয়ানী কারাগারে আটককৃত ব্যক্তির ভরণপোষণ খরচ সরকার কর্তৃক বিচারাধীন আসামীর অনুরূপ খরচের ন্যায় বহন করা হইবে, এবং পরবর্তীকালে সরকার ডিক্রীদারের নিকট হইতে সরকারী পাওনা হিসাবে উক্ত খরচের অর্থ আদায় করিতে পারিবে, এবং ডিক্রীদার দায়িকের নিকট হইতে মামলার খরচ বাবদ উক্ত অর্থ আদায় করিতে পারিবে৷ (৯) এই ধারার অধীনে আদালত কোন দায়িককে দেওয়ানী কারাগারে আটক করার আদেশ প্রদান করিবে না, যদি না তত্পূর্বে অন্ততঃ একটি নিলাম বিক্রয় কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হইয়া থাকে এবং উহার দ্বারা ডিক্রীদারের প্রাপ্য পরিপূর্ণভাবে আদায় হইয়া থাকে৷ (১০) যদি কোন কারণে উপ-ধারা (৯) এর অধীন একটিও নিলাম বিক্রয় কার্যক্রম অনুষ্ঠান করা সম্ভব না হয়, তবে সেই ক্ষেত্রে দায়িককে সরাসরি গ্রেফতার ও দেওয়ানী কারাগারে আটক করা যাইবে৷ (১১) ১৮ (আঠার) বত্সরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তিকে এই ধারার অধীনে ডিক্রী কার্যকর করার নিমিত্ত গ্রেফতার এবং দেওয়ানী কারাগারে আটক করা বা রাখা যাইবে না৷ (১২) এই আইনের অধীনে কোন ডিক্রী বা আদেশ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পরিচালিত জারী মামলায়, জারী মামলার সংখ্যা একাধিক হইলেও, কোন একজন দায়িককে গ্রেফতার করিয়া পরিপূর্ণ মেয়াদের জন্য একবার দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা হইলে, তাহাকে পুনর্বার গ্রেফতার করা ও দেওয়ানী কারাগারে আটক করা যাইবে না৷ (১৩) এই ধারার অধীনে কোন দায়িককে আংশিক বা পূর্ণ মেয়াদের জন্য দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখার কারণে তিনি দেনার দায় হইতে মুক্ত গণ্য হইবেন না, এবং এই আইনের অধীন নির্ধারিত তামাদি দ্বারা বারিত না হইলে, তাহার বিরুদ্ধে নতুন করিয়া জারী মামলা দায়ের করা যাইবে৷

৩৫৷ ম্যাজিস্ট্রেট গণ্য হওয়া মর্মে বিধান

৩৫৷ এই আইনের অধীনে জারীর কার্যক্রম পরিচালনাকালে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী ও দেওয়ানী কারাগারে আটকের উদ্দেশ্যে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট মর্মে গণ্য হইবে এবং এই আইনের অধীনে উপযুক্ত ফরমসমূহ তৈরী না হওয়া পর্যন্ত, উক্ত আদালত উক্ত বিষয়ে The Code of Criminal Procedure, 1898 এর প্রাসংগিক ফরমসমূহ, প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে (Mutatis Mutandis), ব্যবহার করিবে৷

৩৬৷ তৃতীয় পক্ষ হইতে ডিক্রীর টাকা আদায়

৩৬৷ (১) যদি ডিক্রীদার আদালতকে দরখাস্ত দ্বারা অবহিত করে যে, কোন একজন ব্যক্তির নিকট হইতে দায়িক টাকা পাওনা আছে, তাহা হইলে আদালত, উক্ত ব্যক্তিকে শুনানী অন্তে যথার্থ মনে করিলে, তাহার নিকট হইতে দায়িক যে টাকা প্রাপ্য হন, উহা হইতে ডিক্রীকৃত টাকার সমপরিমাণ টাকা আদালতে জমা দানের জন্য লিখিতভাবে আদেশ প্রদান করিবে এবং আদালত, উক্ত টাকা আদায় হওয়ার পর ঐ বাবদ একটি রসিদ প্রদান করিবে; এবং উক্ত রশিদ দ্বারা ঐ ব্যক্তি দায়িকের নিকট ঐ পরিমাণ অর্থের জন্য দেনা হইতে আইনতঃ মুক্ত হইবেন৷ (২) প্রচলিত অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ বিধান থাকা সত্ত্বেও, উপ-ধারা (১) এর বিধানে উল্লেখিত মতে বিবাদী-দায়িক কোন পোষ্ট অফিস, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ইনসিওরার এর নিকট হইতে কোন টাকা পাওনা হইলে, আদালত উক্ত পোষ্ট অফিস, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ইনসিওরার এর নিকট হইতে ডিক্রী পরিতুষ্ট করার জন্য শুনানী করিয়া সন্তুষ্ট হইলে, উক্ত টাকা ক্রোক করিয়া আদায় করিতে পারিবে; এবং এক্ষেত্রে কোন পাস বই, ডিপোজিট রশিদ, পলিসি কাগজ, অন্য কোন প্রকার দলিল, এন্ট্রি, ইনডোরসমেন্ট বা অনুরূপ অন্য কোন ইনস্ট্রুমেন্ট আদালত কর্তৃক পেশ করা আবশ্যক হইবে না৷ (৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীনে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ অমান্য করিলে অমান্যকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়ী ব্যক্তির নিকট হইতে সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে, এবং একই আদালত প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট গণ্যে এবং তত্সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাবলে উক্ত টাকা জরিমানা হিসাবে আদায় করিবে৷

৩৭৷ জারী কার্যক্রম নিষ্পত্তির সময়সীমা

৩৭৷ (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, অর্থ ঋণ আদালত, জারী মামলার কার্যক্রম দরখাস্ত দায়ের হওয়ার পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিবসের মধ্যে নিষ্পন্ন করিবে এবং ব্যর্থতায় আদালত কারণ লিপিবদ্ধকরতঃ উক্ত সময়সীমা অনধিক আরো ৬০ (ষাট) দিবস পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারিবে৷ (২) আদালত, মামলার পক্ষ নহে এইরূপ কোন পক্ষের কোন দাবী নিষ্পত্তির নিমিত্ত কোন সময় এই আইনের ৩২ ধারার অধীনে ব্যয় করিলে, অথবা কিস্তিতে ডিক্রীকৃত টাকা পরিশোধের জন্য কোন সময় ৪৯ ধারার অধীনে দায়িককে মঞ্জুর করিলে, উক্ত সময় উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত সময়ের সহিত যুক্ত হইবে৷

৩৮৷ জারীর পর্যায়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি

১[ ৩৮। (১) এই আইনের অধীন অর্থ ঋণ আদালত মামলায় প্রদত্ত ডিক্রীর ধারাবাহিকতায় জারী কার্যক্রম অব্যাহত থাকার যে কোন পর্যায়ে পক্ষগণ মধ্যস্থতার মাধ্যমে জারী মামলার বিষয়বস্তু নিষ্পত্তি করিয়া আদালতকে অবহিত করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে ধারা ২২ এর উপ-ধারা (২), (৩) ও (৪) এ উল্লিখিত বিধান অনুসরণ করিতে হইবে। (৩) আদালত, উপ-ধারা (১) এর অধীন অবহিত হইলে এবং নিষ্পত্তির বিষয়ে সন্তুষ্ট হইলে, উক্ত জারী মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করিয়া আদেশ প্রদান করিবে।]]

৩৯৷ জারী বিষয়ক বিধি প্রণয়ন

৩৯৷ সরকার, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত অসংগতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জারী সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আরো বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷

৪০৷ দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের প্রয়োগ

৪০৷ এই পরিচ্ছেদের অধীন আপীল ও রিভিশন কার্যক্রমে, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে৷

৪১৷ আপীল দায়ের ও নিষ্পত্তি সম্পর্কিত বিশেষ বিধান

৪১। (১) মামলার কোন পক্ষ, কোন অর্থ ঋণ আদালতের আদেশ বা ডিক্রী দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে, যদি ডিক্রীকৃত টাকার পরিমাণ ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অপেক্ষা অধিক হয়, তাহা হইলে উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, ১[ পরবর্তী ৬০ (ষাট) দিবসের] মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে, এবং যদি ডিক্রীকৃত টাকার পরিমাণ ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অথবা তদ্অপেক্ষা কম হয়, ২[ তাহা হইলে পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিবসের মধ্যে জেলাজজ আদালতে আপীল করিতে পারিবেন।] (২) আপীলকারী, ডিক্রীকৃত টাকার পরিমাণের ৫০% এর সমপরিমাণ টাকা বাদীর দাবীর আংশিক স্বীকৃতিস্বরূপ নগদ ডিক্রীদার আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, অথবা বাদীর দাবী স্বীকার না করিলে, জামানতস্বরূপ ডিক্রী প্রদানকারী আদালতে জমা করিয়া উক্তরূপ জমার প্রমাণ দরখাস্ত বা আপীলের মেমোর সহিত আদালতে দাখিল না করিলে, উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আপীল কার্যার্থে গৃহীত হইবে না৷ (৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান সত্ত্বেও, বিবাদী-দায়িক ইতিমধ্যে ১৯(৩) ধারার বিধান মতে ১০% (দশ শতাংশ) পরিমাণ টাকা নগদ অথবা জামানত হিসাবে জমা করিয়া থাকিলে, অত্র ধারার অধীনে আপীল দায়েরের ক্ষেত্রে উক্ত ১০% (দশ শতাংশ) টাকা উপরি-উল্লিখিত ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) টাকা হইতে বাদ হইবে৷ (৪) উপরি-উল্লিখিত বিধানাবলী সত্ত্বেও, বাদী-আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই ধারার অধীনে কোন আপীল দায়ের করিলে, উহাকে উপরি-উল্লিখিত মতে কোন টাকা বা জামানত জমা দান করিতে হইবে না৷ (৫) জেলা জজ কোন আপীল গ্রহণ করা মাত্রই লিখিতভাবে উল্লেখ করিবেন যে, তিনি নিজেই উক্ত আপীল শুনানী করিবেন কি না, এবং তিনি নিজে উক্ত আপীল শুনানী না করিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে, অনতিবিলম্বে উক্ত আপীলটি শুনানীর জন্য তাহার অধিক্ষেত্রের অধীন কোন একজন অতিরিক্ত জেলা জজের নিকট, যদি থাকে, প্রেরণ করিবেন; এবং কোন অতিরিক্ত জেলা জজ না থাকিলে, জেলা জজ নিজেই উক্ত আপীল শ্রবণ করিবেন৷ (৬) আপীল আদালত, আপীল গৃহীত হইবার পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিবসের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিবে, এবং ৯০ (নব্বই) দিবসের মধ্যে আপীলটি নিষ্পত্তি করিতে ব্যর্থ হইলে, আদালত, লিখিতভাবে কারণ উল্লেখপূর্বক, উক্ত সময়সীমা অনধিক আরো ৩০ (ত্রিশ) দিবস বর্ধিত করিতে পারিবে৷

৪২৷ রিভিশন দায়ের ও নিষ্পত্তি সম্পর্কিত বিধান

৪২৷ (১) কোন আদালত, আপীলে প্রদত্ত রায় বা ডিক্রীর বিরুদ্ধে কোন রিভিশনের দরখাস্ত গ্রহণ করিবে না, যদি না দরখাস্তকারী, আপীল আদালত কর্তৃক প্রদত্ত বা বহালকৃত ডিক্রীর টাকার ৭৫% এর সমপরিমাণ টাকা, আপীল দায়ের কালে দাখিলকৃত ৫০% টাকাসমেত, উক্ত পরিমাণ টাকার স্বীকৃতি স্বরূপে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, অথবা বাদীর দাবী স্বীকার না করিলে জামানত স্বরূপে ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা নগদায়নযোগ্য অন্য কোন বিনিমেয় দলিল (Negotiable Instrument) আকারে ডিক্রী প্রদানকারী আদালতে জমা করিয়া উক্তরূপ জমার প্রমাণ দরখাস্তের সহিত আদালতে দাখিল করেন৷ (২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও, বাদী-আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই ধারার অধীনে রিভিশন দায়ের করিলে, উহাকে উপরি-উল্লিখিত মতে কোন টাকা বা জামানত জমা বা দাখিল করিতে হইবে না৷ (৩) উচ্চতর আদালত, রিভিশনের দরখাস্ত গৃহীত হইবার পরবর্তী ৬০ (ষাট) দিবসের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিবে, এবং ৬০ (ষাট) দিবসের মধ্যে রিভিশন নিষ্পত্তি করিতে ব্যর্থ হইলে, আদালত, লিখিতভাবে কারণ উল্লেখপূর্বক, উক্ত সময়সীমা অনধিক আরো ৩০ (ত্রিশ) দিবস বর্ধিত করিতে পারিবে৷

৪৩৷ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে আপীল

৪৩৷ এই আইনের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক আপীল বা রিভিশনে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রী বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে আপীল দায়েরের জন্য ঋণ গ্রহীতা-বিবাদীকে আপীল বিভাগ অনুমতি প্রদান করার ক্ষেত্রে, সংগত মনে করিলে, ৪২(১) ধারার অনুরূপ পদ্ধতিতে ডিক্রীকৃত টাকার অপরিশোধিত অবশিষ্টাংশের যে কোন পরিমাণ টাকা নগদ বাদী-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অথবা জামানতস্বরূপ ডিক্রী প্রদানকারী আদালতে জমাদান করার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে৷

৪৪৷ অন্তবর্তীকালীন আদেশ

৪৪৷ (১) অর্থ ঋণ আদালত, মামলার সঠিক ও পরিপূর্ণ বিচার ও ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে এবং বিচার কার্যক্রমের অপব্যবহার প্রতিরোধকল্পে যেরূপ অন্তবর্তীকালীন আদেশ প্রদান করা সংগত মনে করিবে, সেরূপ অন্তবর্তীকালীন আদেশ প্রদান করিতে পারিবে৷ (২) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীনে কোন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন অন্তবর্তীকালীন আদেশকে উচ্চতর কোন আদালতে আপীল বা রিভিশন আকারে বিতর্কিত করা যাইবে না৷ (৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান সত্ত্বেও, কোন পক্ষ ধারা ৪১ এর অধীন দায়েরকৃত আপীলে এইরূপ কোন বিষয় যুক্তি হিসাবে গ্রহণ করিতে পারিবে, যাহা উপরি-উল্লিখিত বিধানের কারণে বিতর্কিত করা যায় নাই, এবং আপীল আদালত ঐরূপ বিষয় বিবেচনায় গ্রহণ করিয়া ন্যায়বিচারের স্বার্থে উপযুক্ত যে কোন আদেশ প্রদান করিতে পারিবে৷

৪৪ক। আপীল বা রিভিশনের পর্যায়ে মধ্যস্থতা

১[ ৪৪ক। (১) ৭ম পরিচ্ছেদের অধীন আপীল বা রিভিশন কার্যক্রম অব্যাহত থাকার যে কোন পর্যায়ে পক্ষগণ মধ্যস্থতার মাধ্যমে আপীল বা রিভিশন মামলার বিষয়বস্তু নিষ্পত্তি করিয়া আদালতকে অবহিত করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে ধারা ২২ এর উপ-ধারা (২), (৩) ও (৪) এর বিধান অনুসরণ করিতে হইবে। (৩) আদালত উপ-ধারা (১) এর অধীন অবহিত হইলে এবং নিষ্পত্তির বিষয়ে সন্তুষ্ট হইলে, উক্ত আপীল বা রিভিশন মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করিয়া আদেশ প্রদান করিবে।]

৪৫৷ মামলায় আপোষ নিষ্পত্তি

৪৫৷ (১) ১[ ***] এই আইনের কোন কিছুই, বিচার কার্যক্রমের পরবর্তী যে কোন পর্যায়ে, কোন মামলার আপোষ নিষ্পত্তি করা হইতে পক্ষগণকে বারিত করিবে না৷ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে প্রদত্ত মামলার আপোষ নিষ্পত্তির সুযোগ এই আইনে মামলা নিষ্পত্তির জন্য ব্যবস্থিত অন্যান্য পদ্ধতি এবং নির্ধারিত সময়সীমার হানি বা ব্যত্যয় ঘটাইতে পারিবে না৷

৪৬৷ মামলা দায়ের সম্পর্কিত বিশেষ বিধান ও সময়সীমা

৪৬৷ (১) The Limitation Act, 1908 (Act No. IX of 1908) এ ভিন্নতর বিধান যাহাই থাকুক না কেন, কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পাদিত চুক্তি বা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঋণ গ্রহীতার নিকট হইতে ঋণ পরিশোধ সূচী (Repayment schedule) অনুযায়ী ঋণ পরিশোধ শুরু হইবার পরবর্তী- (ক) প্রথম এক বত্সরে প্রাপ্য অর্থের অন্যুন ১০%, অথবা (খ) প্রথম দুই বত্সরে প্রাপ্য অর্থের অন্যুন ১৫%, অথবা (গ) প্রথম তিন বত্সরে প্রাপ্য অর্থের অন্যুন ২৫% পরিমাণ অর্থ আদায় না হইলে, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, উহার পরবর্তী এক বত্সরের মধ্যে মামলা দায়ের করিবে৷ (২) আর্থিক প্রতিষ্ঠান উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত মেয়াদের মধ্যেই ঋণ পরিশোধের তফসিল পুনঃ তফসিল (Reschedule) করিয়া থাকিলে, উক্ত উপ-ধারা (১) এর বিধান, তদ্‌অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাপেক্ষে (Mutatis Mutandis), নতুনভাবে কার্যকর হইবে৷ (৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ঋণ পরিশোধ সূচী (Repayment schedule) অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সাকুল্য মেয়াদ ৩ (তিন) বত্সর অপেক্ষা কম হইবার ক্ষেত্রে, উক্ত নির্ধারিত সাকুল্য মেয়াদের মধ্যে আদায়ের পরিমাণ ২০% অপেক্ষা কম হইলে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান উপ-ধারা (৪) এর বিধান সাপেক্ষে, উহার পরবর্তী ১ (এক) বত্সরের মধ্যে মামলা দায়ের করিবে৷ (৪) আর্থিক প্রতিষ্ঠান উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত মেয়াদের মধ্যেই ঋণ পরিশোধের তফসিল পুনঃতফসিল (Reschedule) করিয়া থাকিলে, উক্ত উপ-ধারা (৩) এর বিধান, তদ্‌অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাপেক্ষে (Mutatis Mutandis), নতুনভাবে কার্যকর হইবে৷ (৫) উপ-ধারা (১) বা, ক্ষেত্রমত, (২) এবং (৩) বা, ক্ষেত্রমত, (৪) এ উল্লিখিত মেয়াদান্তে কোন মামলা দায়ের করা হইলে, আদালত অবিলম্বে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে; এবং কোন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে মেয়াদের মধ্যে উক্ত মামলা দায়ের না হইলে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ অনুরূপ দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে এবং এই উপ-ধারার অধীন অবহিত হইবার ৯০ (নব্বই) দিবসের মধ্যে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে সরকার এবং আদালতকে অবহিত করিবে৷ (৬) এই ধারার বিধান, এই আইন বলবত্ হইবার এক বত্সর পর কার্যকর হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার বিধান কার্যকর হইবার পূর্বেও কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই ধারার বিধানকে কার্যকর করিতে পারিবে৷

৪৭৷ দাবী আরোপে সীমাবদ্ধতা

৪৭৷ (১) বর্তমানে প্রচলিত অন্য কোন আইন বা পক্ষগণের মধ্যে সম্পাদিত সংশ্লিষ্ট চুক্তিতে যাহাই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে, কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোন ঋণ গ্রহীতাকে প্রদত্ত আসল ঋণের উপর দায় এমনভাবে আরোপ করিয়া আদালতে মামলা দায়ের করিবে না, যাহাতে আদালতে উত্থাপিত উক্ত সমুদয় দাবী আসল ঋণ অপেক্ষা ২০০% (১০০+২০০ = ৩০০ টাকা) এর অধিক হয়৷ (২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত মতে আসল ঋণ অপেক্ষা ২০০% এর অধিক অনুরূপ দাবী আদালত কর্তৃক গ্রহণযোগ্য হইবে না৷ (৩) এই ধারার বিধানটি এই আইন বলবত্ হইবার এক বত্সর পর কার্যকর হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ইচ্ছা করিলে, এই ধারা কার্যকর হইবার পূর্বেই, এই ধারার বিধান অনুসরণ করিতে পারিবে৷

৪৮৷ দিবসের গণনা

৪৮৷ এই আইনের অধীন দিবস গণনার ক্ষেত্রে কেবলমাত্র বিচারকের কার্যদিবস গণনা করা হইবে এবং সাময়িকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকের কার্য দিবসও অনুরূপ গণনার অন্তর্ভুক্ত হইবে৷

৪৯৷ ঋণের কিস্তি

৪৯৷ (১) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে অর্থ ঋণ আদালত, বিবাদী-দায়িকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বা স্বীয় উদ্যোগে উপযুক্ত মনে করিলে, ডিক্রীকৃত টাকা ১ (এক) বত্সরে ৪ (চার) টি সম কিস্তিতে পরিশোধের জন্য দায়িককে সুযোগ প্রদান করিতে পারিবে৷ (২) বাদী-ডিক্রীদার সম্মত থাকিলে, উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, ডিক্রীকৃত টাকা ৩ (তিন) বত্সরে ১২ (বার) িট সমকিস্তিতে পরিশোধের জন্য আদালত, দায়িককে সুযোগ প্রদান করিতে পারিবে৷ (৩) উপ-ধারা (১) বা (২) এ উল্লিখিত কোন একটি কিস্তি বকেয়া হওয়া মাত্রই সমুদয় বকেয়া তখনই পরিশোধিতব্য হইবে এবং তদ্‌উদ্দেশ্যে জারী কার্যক্রম যথাবিধি অনুসৃত হইবে৷

৫০৷ সুদ, মুনাফা সম্পর্কিত বিধান

৫০। (১) ধারা ৪৭ এর বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন কোন আদালত, ঋণ প্রদানের দিবস হইতে মামলা দায়েরের দিবস পর্যন্ত সময়কালে কোন ঋণের উপর আর্থিক প্রতিষ্ঠান কতর্ৃক আইনানুগভাবে ধার্যকৃত সুদ, বা, ক্ষেত্রমত, মুনাফা বা ভাড়া হ্রাস, মাফ বা নামঞ্জুর করিতে পারিবে না। (২) অর্থ ঋণ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রীর বিরুদ্ধে বিবাদী-দায়িক পক্ষ কোন আপীল, রিভিশন, আপীল বিভাগে আপীল বা অন্য কোনরূপ দরখাস্ত কোন উচ্চতর আদালতে দায়ের না করিলে, মামলা দায়েরের দিবস হইতে ডিক্রীর টাকা আদায় হইবার দিবস পর্যন্ত সময়ের জন্য ডিক্রীকৃত টাকার উপর ১[ ১২% (বার শতাংশ)] বার্ষিক সরল হারে, কোন আপীল, রিভিশন বা অন্য কোন দরখাস্ত কোন উচ্চতর আদালতে দায়ের করিলে পূর্বোক্ত সময়কালের জন্য ২[ ১৬% (ষোল শতাংশ)] বার্ষিক সরল হারে, এবং আপীল বা উচ্চতর আদালতের ডিক্রী বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে আপীল করিলে, পূর্বোক্ত সময়কালের জন্য ১৮% (আঠার শতাংশ) বার্ষিক সরল হারে, উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, সুদ, বা, ক্ষেত্রমত, মুনাফা আরোপিত হইবে। (৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান সত্ত্বেও উচ্চতর আদালত আপীল, রিভিশন, আপীল বিভাগে আপীল বা অন্য কোন দরখাস্তে আপীলকৃত বা বিতর্কিত ডিক্রী বা আদেশের গুণগত পরিবর্তন করিয়া কোন আদেশ বা ডিক্রী প্রদান করিলে, উক্ত আদালত, উপরি-উলি্লখিত সংশ্লিষ্ট বর্ধিত সুদ বা মুনাফার হার আপীল বা দরখাস্তকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না মর্মে আদেশ প্রদান করিতে পারিবে। ৩[ (৪) এই ধারার পূববর্তী উপ-ধারাসমূহে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৪১ ও ৪২ এর বিধান অনুযায়ী বিবাদী-দায়িক কতৃর্ক নির্ধারিত পরিমাণ টাকা বা, ক্ষেত্রমত, জামানত জমা করিয়া উচ্চতর আদালতে আপীল বা রিভিশন দায়ের করিবার সুযোগ থাকা সত্বেও যদি কোন বিবাদী-দায়িক অনুরূপ নির্ধারিত পরিমাণ টাকা বা, ক্ষেত্রমত, জামানত জমা না করিয়া নিম্ন আদালতের আদেশ বা ডিক্রীকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তর্কিত করিয়া হাইকোর্ট বিভাগে রীট আবেদন দায়ের করেন এবং উক্ত রীট আবেদন হাইকোর্ট বিভাগ বা আপীল বিভাগ কতৃর্ক খারিজ হয়, তাহা হইলে উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়ের জন্য ২৫% বার্ষিক সরল হারে সুদ বা, ক্ষেত্রমত, মুনাফা আরোপিত হইবে।]

৫১৷ বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম

৫১৷ অর্থ ঋণ আদালতের কার্যক্রম The Penal Code, 1860 এর ১৯৩ ও ২২৮ ধারা অনুসারে বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম হিসাবে গণ্য হইবে৷

৫২৷ অর্থ ঋণ আদালতের অবমাননা

৫২৷ (১) একজন ব্যক্তি অর্থ ঋণ আদালত অবমাননার জন্য দায়ী হইবেন, যদি তিনি আইনসংগত ওজর ব্যতিরেকে- (ক) আদালতের প্রতি কোনরূপ অবজ্ঞা প্রদর্শন করেন; (খ) আদালতের বিচার কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটান; (গ) আদালত কর্তৃক আদিষ্ট হইয়া এমন কোন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করিতে অস্বীকার করেন, যে উত্তর প্রদান করিতে তিনি আইনতঃ বাধ্য; অথবা (ঘ) আদালত কর্তৃক আদিষ্ট হইয়া শপথ গ্রহণপূর্বক কোন সত্য ঘটনা বিবৃত করিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন৷ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে আদালত অবমাননার জন্য কোন ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হইলে আদালত অবিলম্বে উক্ত ব্যক্তিকে এইরূপ আদালত অবমাননার দায়ে অনুর্ধ্ব ১০০০ (এক হাজার) টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অনাদায়ে অনুর্ধ্ব ১০ (দশ) দিবস বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবে৷

৫৩৷ বিশেষ ক্ষেত্রে জেলা জজ

৫৩৷ দুই বা ততোধিক জেলার জন্য একটি অর্থ ঋণ আদালত প্রতিষ্ঠিত হইয়া থাকিলে, উক্ত আদালতটি যে জেলায় অবস্থিত হইবে, উক্ত জেলার জেলা জজ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে জেলা জজ হিসাবে গণ্য হইবেন৷

৫৪৷ আদালতের সীলমোহর

৫৪৷ যুগ্ম-জেলা জজের সমন্বয়ে গঠিত অর্থ ঋণ আদালত জেলা জজ কর্তৃক নির্ধারিত ও নির্দেশিত সীলমোহর ব্যবহার করিবে৷

৫৫৷ আদালতের নিয়ন্ত্রণ

৫৫৷ যুগ্ম-জেলা জজের সমন্বয়ে গঠিত অর্থ ঋণ আদালত জেলা জজের প্রত্যক্ষ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে এবং হাইকোর্ট বিভাগের পরোক্ষ তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে ন্যাস্ত থাকিবে৷

৫৬৷ জামানতের অর্থ ব্যবহার, ফেরত, ইত্যাদি

৫৬৷ (১) মামলা নিষ্পত্তি হইবার পর আদালত, বিবাদী-দায়িক কর্তৃক ধারা ১৯(৩), ৪১(২) অথবা ৪২ এর অধীনে ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা নগদায়নযোগ্য বিনিমেয় দলিল আকারে প্রদত্ত জামানত অর্থ ডিক্রীর দাবী পূরণার্থে যতদূর সম্ভব ব্যবহার করিবে, এবং ডিক্রীর দাবী পূরণের পর কোন অর্থ অবশিষ্ট থাকিলে উহা দায়িককে ফেরত প্রদান করিবে৷ (২) উচ্চতর আদালতের সিদ্ধান্ত বিবাদীর অনুকূলে প্রদত্ত হইবার কারণে, উপ-ধারা (১) এর অধীন ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা নগদায়নযোগ্য বিনিমেয় দলিল আকারে প্রদত্ত জামানত বা অনুরূপ জামানতের অর্থ বিবাদীকে ফেরত প্রদান করা আবশ্যক হইলে, আদালত, অনতিবিলম্বে তত্মর্মে আদেশ প্রদান করিবে৷ (৩) বিবাদী, উচ্চতর আদালতের রায় বা আদেশের কারণে, তাহার কর্তৃক ইতোমধ্যে নগদে আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধিত অথবা ধারা ১৯(৩), ৪১(২) বা ৪২ এর অধীনে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে জমাকৃত অর্থ, বা উহার অংশ বিশেষ, ফেরত পাইতে আইনতঃ অধিকারী হইলে, অনুরূপ উচ্চতর আদালত, বিবাদী যাহাতে ৬০ (ষাট) দিবসের মধ্যে উহা ফেরত পাইতে পারেন, তত্মর্মে আদেশ প্রদান করিবে৷

৫৭৷ আদালতের সহজাত ক্ষমতা

৫৭৷ এই আইনের অধীন অভিপ্রেত ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে অথবা আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধকল্পে প্রয়োজনীয় যে কোন পরিপূরক আদেশ প্রদানে আদালতের সহজাত ক্ষমতা কোন কিছু দ্বারা সীমিত করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না৷

৫৮৷ বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৫৮৷ সরকার, এই আইনের বিধানসমূহকে কার্যকরী করার জন্য, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷

৫৯৷ আইনের ইংরেজী পাঠ

৫৯৷ (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনুদিত একটি পাঠ প্রকাশ করিবে, যাহা এই আইনের নির্ভরযোগ্য ইংরেজী পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লেখিত ইংরেজী পাঠ এবং এই আইনের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে৷

৬০৷ রহিতকরণ, হেফাজত ও ক্রান্তিকালীন বিধানাবলী

৬০৷ (১) অর্থ ঋণ আদালত আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সালের ৪নং আইন) এতদ্‌দ্বারা রহিত করা হইল৷ (২) এই আইন প্রবর্তনের পূর্বে হাইকোর্ট বিভাগে উপ-ধারা (১) দ্বারা রহিত আইনের অধীনে বিচারাধীন সকল আপীল, যাহা অর্থ ঋণ আদালতের আদেশ বা ডিক্রীর বিরুদ্ধে আনীত হইয়াছিল, উহাদের পূর্বের ন্যায় এমনভাবে নিষ্পত্তি করা হইবে যেন উক্ত আইন রহিত করা হয় নাই, তবে উহাদের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানসমূহ, যতদূর সম্ভব, এমনভাবে প্রযোজ্য হইবে, যেন উহারা এই আইনের অধীনেই দায়ের হইয়াছিল৷ (৩) অর্থ ঋণ আদালত আইন, ১৯৯০ এর রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত রহিত আইনের অধীনে অর্থ ঋণ আদালতে বিচারাধীন সকল মামলা অত্র আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত বা ঘোষিত অনুরূপ আদালতে বিচারাধীন মামলা হিসাবে বদলী হইবে এবং উহারা পূর্বের আদালতে যে পর্যায়ে বিচারাধীন ছিল সেই পর্যায় হইতে বিচারাধীন থাকিবে এবং ঐ সকল মামলার ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলী, যতদূর সম্ভব, এমনভাবে প্রযোজ্য হইবে, যেন উক্ত মামলাসমূহ এই আইনের অধীনেই দায়ের হইয়াছিল৷



Related Laws

অর্থ আইন

সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলী কার্যকরকরণ এবং কতিপয় আইন সংশোধনকল্পে প্রণীত…

অর্থ আইন

সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলী কার্যকরকরণ এবং কতিপয় আইন সংশোধনকল্পে প্রণীত…

অর্থ আইন, ২০১৬

যেহেতু সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলী কার্যকরকরণ এবং নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ…

অর্থ আইন

সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলী কার্যকরকরণ এবং কতিপয় আইন সংশোধনকল্পে প্রণীত…

অর্থ আইন

সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলী কার্যকরকরণ এবং কতিপয় আইন সংশোধনকল্পে প্রনীত…

Blogs

Xenical Alli Levitra Dosage 20mg Buy Propecia Online…
JustdewXT JustdewXT

forum cialis 20 mg cialis…
CharlesanWorgo CharlesanWorgo

how soon before sex should u take viagra generic…
ThomaserAgova ThomaserAgova

can cialis be taken with viagra cialis…
Jasonjuilt Jasonjuilt

cailis
JamesBup JamesBup