Your password is being change. Please wait ...

বাংলাদেশ পশু ও পশুজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ আইন

Volume - 36 Act - ৬ Year - ২০০৫ Date - ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫

পশু রোগের প্রাদুর্ভাব ও বিস্তার রোধকল্পে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার প্রয়োজনে পশু ও পশুজাত পণ্যের সঙ্গনিরোধ, আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে প্রণীত আইন৷

যেহেতু পশু রোগের প্রাদুর্ভাব ও বিস্তার রোধকল্পে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার প্রয়োজনে পশু ও পশুজাত পণ্যের সঙ্গনিরোধ, আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

১৷ সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন

১৷ (১) এই আইন বাংলাদেশ পশু ও পশুজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ আইন, ২০০৫ নামে অভিহিত হইবে৷ (২) এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হইবে৷

২৷ সংজ্ঞা

২৷ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে, এই আইনে- (ক) “আমদানি” অর্থ কোন পশু বা পশুজাত পণ্য জল, স্থল ও আকাশপথে বাংলাদেশে আনয়ন; (খ) “উপযুক্ততা সনদ” অর্থ কোন পশুজাত পণ্য মানুষ বা পশুর খাদ্য বা ব্যবহারের উপযুক্ততা সম্পর্কে সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা কর্তৃক ইস্যুকৃত উপযুক্ততা সনদ; (গ) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত; (ঘ) “পশু” অর্থে নিম্নবর্ণিত সকল ধরনের পশু অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথাঃ- (অ) মানুষ ব্যতীত সকল স্তন্যপায়ী প্রাণী; (আ) পাখি; (ই) সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী; (ঈ) মত্স্য ব্যতীত অন্যান্য জলজ প্রাণী; এবং (উ) সরকার কর্তৃক সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষিত অন্য কোন পশু৷ (ঙ) “পশুজাত পণ্য” অর্থ পশু বা পশুর মৃতদেহ হইতে, আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে, সংগৃহীত বা প্রস্তুতকৃত যে কোন পণ্য এবং পশুর মাংস, রক্ত, হাড়, মজ্জা, দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্য, ডিম, চর্বি, পশু হইতে উত্পাদিত খাদ্য সামগ্রী, বীর্য, ভ্রূণ, শিরা-উপশিরা, লোম, চামড়া, নাড়ি-ভুঁড়ি, এবং সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ঘোষিত পশুদেহের অন্য যে কোন অংশ বা পশুজাত পণ্যও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে৷ (চ) “ফৌজদারী কার্যবিধি” অর্থ The Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898); (ছ) “মহাপরিচালক” অর্থ পশু সম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক; (জ) “মৃতদেহ” অর্থ কোন পশুর মৃতদেহ এবং ইহার যে কোন অংশও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (ঝ) “স্বাস্থ্যসনদ” অর্থ পশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা কর্তৃক ইস্যুকৃত স্বাস্থ্য সনদ; (ঞ) “রপ্তানি” অর্থ কোন পশু বা পশুজাত পণ্য জল, স্থল ও আকাশপথে বাংলাদেশ হইতে বিদেশে প্রেরণ; (ট) “রোগাক্রান্ত” অর্থ কোন সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত বা সরকার কর্তৃক, সময় সময়, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ঘোষিত অন্য কোন রোগে আক্রান্ত; (ঠ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি; (ড) “সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা” অর্থ এই আইনের অধীন নিযুক্ত সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা; এবং (ঢ) “সঙ্গনিরোধ” অর্থ পশু রোগের প্রাদুর্ভাব বা বিস্তার রোধকল্পে পশু বা পশুজাত পণ্য স্বতন্ত্রীকরণ (isolation) এবং পরীক্ষার জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন স্থান বা আঙ্গিনায় আমদানি বা রপ্তানির উদ্দেশ্যে উক্ত পশু বা পশুজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অন্তরীণ রাখা৷

৩৷ পশু ও পশুজাত পণ্যের সঙ্গনিরোধ, আমদানি ও রপ্তানি নিষিদ্ধ, ইত্যাদি

৩৷ The Imports and Exports (Control) Act, 1950 (XXXIX of 1950) এর অধীন সরকার কর্তৃক, সময় সময় জারীকৃত আমদানি বা রপ্তানি নীতি আদেশে বিধৃত শর্তে কোন পশু বা মানুষের রোগের কারণ হইতে পারে এইরূপ কোন পশু বা পশুজাত পণ্যের সঙ্গনিরোধ, আমদানি বা রপ্তানি নিষিদ্ধ, সীমিত বা অন্য কোনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাইবে৷

৪৷ ধারা ৩ এর অধীন জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের কার্যকরতা

৪৷ ধারা ৩ এর অধীন জারীকৃত প্রজ্ঞাপন এইরূপে কার্যকর হইবে যেন উহা The Customs Act, 1969 (IV of 1969), অতঃপর এই ধারায় উক্ত Act বলিয়া উল্লিখিত, এর ধারা-১৬ এর অধীন জারী করা হইয়াছে, এবং উক্ত Act এর অধীন কোন পণ্য আমদানি বা রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক কর্মকর্তাদের, সময় সময়, বাধা-নিষেধ আরোপ করিবার যেই ক্ষমতা রহিয়াছে সেই একই ক্ষমতা উক্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত পশু বা পশুজাত পণ্যের আমদানি বা রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাইবে, এবং উক্ত Act এর বিধানাবলী একইরূপে এই আইনের ক্ষেত্রেও বলবত্ থাকিবে৷

৫৷ আগমন বা বহির্গমন স্থান নির্ধারণ

৫৷ এই আইনের অধীন সঙ্গনিরোধের উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, পশু বা পশুজাত পণ্য আমদানি বা রপ্তানির ক্ষেত্রে আগমন বা বহির্গমন স্থান এবং উহার সীমা নির্ধারণ করিবে৷

৬৷ সঙ্গনিরোধের জন্য পশু এবং পশুজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণ

৬৷ সঙ্গনিরোধের জন্য আটক সকল পশু এবং পশুজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণে থাকিবে, এবং তিনি, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উক্ত পশু এবং পশুজাত পণ্যের সঙ্গনিরোধ সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷

৭৷ সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তার ক্ষমতা ও কার্যাবলী

৭৷ এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তার ক্ষমতা ও কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা:- (ক) সঙ্গনিরোধের জন্য পশু বা পশুজাত পণ্য আটক; (খ) সঙ্গনিরোধের জন্য আটক পশু ও পশুজাত পণ্য পরিদর্শন; (গ) সঙ্গনিরোধের সময়সীমা নির্ধারণ; (ঘ) সঙ্গনিরোধাবস্থা হইতে পশু ও পশুজাত পণ্য মুক্তকরণ; (ঙ) নির্ধারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্নের জন্য যথাযথ আদেশ দান; (চ) সঙ্গনিরোধের জন্য আটক পশুর স্বাস্থ্যসনদ ইস্যুকরণ; (ছ) নির্ধারিত পরীক্ষা সম্পন্নের পর রোগাক্রান্ত বলিয়া সনাক্তকৃত পশু বা সংক্রমিত পশুজাত পণ্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে ধ্বংসকরণ বা অন্যকোনভাবে নিষ্পত্তির আদেশ দান; (জ) রোগাক্রান্ত পশু ও পশুজাত পণ্যের সংস্পর্শে আসিয়াছে এমন পশুর গাত্রাবরণ, মলমূত্র, সরঞ্জামাদি, ঘাস, খড় ও খাঁচা অপসারণের আদেশ দান; (ঝ) পশু ও পশুজাত পণ্য পরিবহনের কার্যে ব্যবহৃত কোন যানবাহন বা আঙ্গিনা জীবাণুমুক্তকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ; (ঞ) ভ্রমণের অযোগ্য পশু রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ; (ট) আমদানি বা রপ্তানির উদ্দেশ্যে পরিবহনকালে ভ্রমণ বিরতির সময় পশু বা পশুজাত পণ্য পরিদর্শন ও তত্সংক্রান্ত সনদপত্র প্রদান; (ঠ) সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত পশু বা পশুজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে উক্ত পশু বা পশুজাত পণ্য আমদানিকারকের নিজ খরচে উহা ফেরত প্রদান বা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তির আদেশ দান; এবং (ড) উপরি-উক্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে সস্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্য যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ৷

৮৷ সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি

৮৷ (১) এই আইনের অধীন প্রদত্ত কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সরকার পশু সম্পদ অধিদপ্তরের অধীন প্রয়োজনীয় সংখ্যক সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিযুক্ত সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে৷ (৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পশুসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা ও কর্মচারী হিসাবে দায়িত্ব পালন ও কার্যসম্পাদন করিবে৷

৯৷ আমদানিকারক কর্তৃক আমদানির বিষয়ে অবহিতকরণ

৯৷ প্রত্যেক আমদানিকারক কোন পশু ও পশুজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে উক্ত আমদানির অন্যুন ১৫ (পনের) দিন পূর্বে উক্ত আমদানিতব্য পশু বা পশুজাত পণ্য সম্পর্কে সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তাকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে অবহিত করিবে৷

১০৷ বাজেয়াপ্তযোগ্য পশু ও পশুজাত পণ্য, ইত্যাদি

১০৷ যদি আমদানিকৃত কোন পশু বা পশুজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা কর্তৃক সঙ্গনিরোধের সময় নির্ধারিত পরীক্ষা সম্পাদনের পর- (ক) উক্ত পশু রোগাক্রান্ত বলিয়া সনাক্ত হয়, এবং উক্ত রোগ চিকিত্সা সেবার মাধ্যমে রোগমুক্ত করা সম্ভব না হয়; বা (খ) উক্ত পশুজাত পণ্য সংক্রমিত বলিয়া সনাক্ত হয় এবং উহা মানুষের বা পশুর খাদ্য বা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়; তাহা হইলে রোগাক্রান্ত বলিয়া সনাক্তকৃত উক্ত পশু বা রোগাক্রান্ত পশুর সংস্পর্শে আসিয়াছে এইরূপ পশুর গাত্রাবরণ, মলমূত্র, সরঞ্জামাদি, ঘাস, খড়, খাঁচা বা অন্যান্য দ্রব্য বা উক্ত পশুজাত পণ্য বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে৷

১১৷ বাজেয়াপ্তকৃত পশু, ইত্যাদির নিষ্পত্তি বা বিলি-বন্দেজ

১১৷ ধারা ১০ এর অধীন বাজেয়াপ্তযোগ্য পশু ও পশুজাত পণ্য বা পশুর গাত্রাবরণ, মলমূত্র, সরঞ্জামাদি, ঘাস, খড় ও খাঁচা বাজেয়াপ্তির আদেশ প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে উহা সংশ্লিষ্ট জেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করিতে হইবে এবং তিনি, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উহা ব্যবহার, হস্তান্তর, ধ্বংস বা অপসারণের বা অন্য কোন পদ্ধতিতে উহা নিষ্পত্তি বা বিলি-বন্দেজের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷

১২৷ পশু বা পশুজাত পণ্যের রপ্তানির বিধান

১২৷ কোন পশু বা পশুজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সঙ্গনিরোধের জন্য পালনীয় শর্তাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷

১৩৷ বৈধ আমদানি লাইসেন্স ব্যতিরেকে আমদানিকৃত পশু বা পশুজাত পণ্য সম্পর্কিত বিধান

১৩৷ যদি বৈধ আমদানি লাইসেন্স এবং স্বাস্থ্য সনদ ব্যতিরেকে কোন পশু বা পশুজাত পণ্য আমদানি করা হয় এবং যদি উক্ত পশু সংক্রামক ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত না হয়, বা পশুজাত পণ্য যদি সংক্রমিত না হয়, তাহা হইলে সরকার, নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহা নিষ্পত্তি করিতে পারিবে৷

১৪৷ প্রশাসনিক আদেশের বিরুদ্ধে আপীল, ইত্যাদি

১৪৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, মহাপরিচালক বা সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ বা নির্দেশের দ্বারা যদি কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত বা সংক্ষুব্ধ হন, তাহা হইলে উক্ত ক্ষতিগ্রস্ত বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি অনুরূপ আদেশ বা নির্দেশ প্রদানের তারিখের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে প্রতিকার লাভের উদ্দেশ্যে- (ক) আদেশটি যদি মহাপরিচালক কর্তৃক প্রদান করা হইয়া থাকে, তাহা হইলে সরকারের নিকট; এবং (খ) আদেশটি যদি সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদান করা হইয়া থাকে, তাহা হইলে মহাপরিচালকের নিকট আপীল করিতে পারিবেন৷ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আপীল দাখিল হইলে, উহা দাখিলের অনধিক ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিতে হইবে৷

১৫৷ দায়মুক্তি

১৫৷ এই আইন বা বিধির অধীনে সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে তজ্জন্য সরকার, মহাপরিচালক, সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা বা তাহার অধীনস্থ কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না৷

১৬৷ অব্যাহতি

১৬৷ সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোন পশু শ্রেণী বা পশু বা পশুজাত পণ্যকে এই আইনের সকল বা যে কোন বিধানের কার্যকরতা হইতে, উক্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত শর্তে, অব্যাহতি দিতে পারিবে৷

১৭৷ কোম্পানী ইত্যাদি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন

১৭৷ কোন কোম্পানী কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানীর এমন প্রত্যেক পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন৷ ব্যাখ্যা-এই ধারায়- (ক) “কোম্পানী” বলিতে কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারী কারবার, সমিতি, সংঘ এবং সংগঠনও অন্তর্ভুক্ত; এবং (খ) বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে “পরিচালক” বলিতে উহার কোন অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্যকেও বুঝাইবে৷

১৮৷ অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ

১৮৷ সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন মামলা বিচারার্থ গ্রহণ করিবেন না৷

১৯৷ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ বিচার, ইত্যাদি

১৯৷ এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে৷

২০৷ দণ্ড

২০৷ যদি কোন ব্যক্তি এই আইন বা বিধির কোন বিধান লংঘন করেন বা এই আইন বা বিধির অধীন প্রাপ্ত নোটিশ অনুযায়ী দায়িত্ব সম্পাদনে বা নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে তিনি অনুরূপ লংঘন বা ব্যর্থতার দায়ে অনূর্ধ্ব ২ (দুই) বত্সর কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷

২১৷ আপীল

২১৷ এই আইনের অধীন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত কোন রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে এখতিয়ার সম্পন্ন দায়রা আদালতে আপীল করা যাইবে৷

২২৷ ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ

২২৷ এই আইনের বিধানাবলীর সহিত অসংগতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপীল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফৌজদারী কার্যবিধি প্রযোজ্য হইবে৷

২৩৷ অপরাধের আমলঅযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা

২৩৷ এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ আমলঅযোগ্য (non-cognizable) ও জামিনযোগ্য (bailable) হইবে৷

২৪৷ বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

২৪৷ (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, উক্ত বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয়ে বিধি প্রণয়ন করা যাইতে পারে, যথা:- (ক) পশু ও পশুজাত পণ্য আমদানির পূর্বে, আমদানিকালে বা আমদানির পরে পালনীয় শর্তাবলী নির্ধারণ; (খ) পশু ও পশুজাত পণ্যের অবতরণ, পরিদর্শন, সঙ্গনিরোধ, বাজেয়াপ্তকরণ, আটক এবং পশুর চিকিত্সা সেবার পদ্ধতি নির্ধারণ; (গ) রোগ সনাক্তকরণের নিমিত্ত যথাযথ পরীক্ষা পদ্ধতি নির্ধারণ; (ঘ) পশু আমদানি বা রপ্তানির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসনদের জন্য ফরম ও ফিস নির্ধারণসহ স্বাস্থ্যসনদ প্রদানের প্রয়োজনে প্রদত্ত চিকিত্সা সেবা বা প্রতিষেধক টিকাদানের ফিস নির্ধারণ; (ঙ) পশুজাত পণ্যের আমদানি বা রপ্তানির ক্ষেত্রে উপযুক্ততার সনদের জন্য ফরম ও ফিস নির্ধারণ; (চ) আমদানি ও রপ্তানির উদ্দেশ্যে আগমন ও বহির্গমন স্থানের সীমা নির্ধারণ; (ছ) পশু ও পশুজাত পণ্যের সঙ্গনিরোধ ব্যয়ের হার ও উহা আদায়ের পদ্ধতি নির্ধারণ; (জ) সঙ্গনিরোধের সহিত সংশ্লিষ্ট সকল আঙ্গিনা, যানবাহন ও অন্যান্য স্থান পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্তকরণের পদ্ধতি নির্ধারণ; এবং (ঝ) আমদানিকৃত পশু সনাক্তকরণের পদ্ধতি নির্ধারণ৷

২৫৷ ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

২৫৷ এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিবে, যাহা এই আইনের অনুমোদিত ইংরেজী পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন ও উক্ত ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে৷

২৬৷ রহিতকরণ ও হেফাজত

২৬৷ (১) The Livestock Importation Act, 1898 (Act IX of 1898) এতদ্বারা রহিত করা হইল৷ (২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিতপূর্বে রহিতকৃত Act এর অধীন কোন কার্য বা কার্যধারা নিষ্পন্নাধীন থাকিলে, উক্ত কার্য বা কার্যধারা উক্ত Act এর বিধান অনুসারে এইরূপে নিষ্পত্তি করিতে হইবে, যেন এই আইন কার্যকর হয় নাই৷



Related Laws

বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন

ইপিজেডস্থ বা জোনস্থ শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের…

বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন

রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কার্যক্রম বা পাঠ্যক্রমের…

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন

Fisheries Research Institute Ordinance, 1984 রহিতক্রমে উহার বিধানাবলি বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার…

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন

Bangladesh Standards and Testing Institution Ordinance, 1985 রহিতক্রমে উহা নূতনভাবে প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন…

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইন

Technical Education Act, 1967 রহিতক্রমে যুগোপযোগী করিয়া নূতনভাবে প্রণয়নকল্পে প্রণীত…

Share your thoughts on this law