Your password is being change. Please wait ...

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) অধ্যাদেশ

Act - ১৬ Year - ২০০৮ Date - ১৪ মে, ২০০৮

সিটি কর্পোরেশন সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও অধ্যাদেশসমুহ একীভুত, অভিন্ন এবং সমন্বিতকরণকল্পে প্রণীত

অধ্যাদেশ যেহেতু সিটি কর্পোরেশন সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও অধ্যাদেশসমুহ একীভূত, অভিন্ন এবং সমন্বিত করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে; সেহেতু সিটি কর্পোরেশন সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও অধ্যাদেশসমুহ রহিত করিয়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেনঃ-

১৷ সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১৷ (১) এই অধ্যাদেশ স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) অধ্যাদেশ, ২০০৮ নামে অভিহিত হইবে৷ (২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে৷

২৷ সংজ্ঞা

২৷ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে,- (১) “আইন প্রয়োগকারী সংস্থা” অর্থ পুলিশ বাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান, আনসার বাহিনী, ব্যাটালিয়ান আনসার, বাংলাদেশ রাইফেলস্, কোস্টগার্ড বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহ; (২) “আদর্শ কর তফসিল” অর্থ ধারা ৮৫ এর অধীন প্রণীত আদর্শ কর তফসিল; (৩) “আর্থিক প্রতিষ্ঠান ” অর্থ আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ২৭ নং আইন) এর ধারা ২ এবং অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৮ নং আইন) এর ধারা ২ এ সংজ্ঞায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান; (৪) “আবর্জনা” অর্থ জঞ্জাল, উচ্ছিষ্ট, বিষ্ঠা-ময়লাদি, জীব-জন্তুর মৃতদেহ, নর্দমার তলানি, পয়ঃপ্রণালীর থিতানো বস্তু, ময়লারস্তুপ, বর্জ্য এবং অন্য যে কোন দূষিত পদার্থ বা আপত্তিকর দ্রব্য; (৫) “ইমারত” অর্থে কোন দোকান, বাড়িঘর, কুঁড়েঘর, বৈঠকঘর, চালা, আস্তাবল বা যে কোন প্রয়োজনে যে কোন দ্রব্যাদি সহযোগে নির্মিত কোন ঘেরা, দেয়াল, পানি-সংরক্ষণাগার, বারান্দা, প্লাটফরম, মেঝে ও সিঁড়িও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (৬) “ইমারত নির্মাণ” অর্থ কোন নূতন ইমারত নির্মাণ; (৭) “ইমারত পুনঃনির্মাণ” অর্থ নির্দেশিতভাবে একটি ইমারতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন; (৮) “ইমারত রেখা” অর্থ এইরূপ রেখা যাহার বাহিরে বিদ্যমান কিংবা প্রস্তাবিত রাস্তার দিকে ইমারতের বহির্মুখ বা বহির্দেয়ালের কোন অংশ প্রক্ষিপ্ত হইবে না; (৯) “উপ-আইন” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত উপ-আইন; (১০) “উপ-কর” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন আরোপিত উপ-কর; (১১) “উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ” অর্থ শহর উন্নয়নের কার্যাবলী সম্পাদনের দায়িত্বে নিয়োজিত কোন সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ; (১২) “ওয়াটার ওয়ার্কস” অর্থে কোন হ্রদ, জলপ্রবাহ, ঝর্ণা, কূপ, পাম্প, সংরক্ষিত-জলাধার, পুকুর, নল, জলকপাট, পাইপ, কালভার্ট এবং পানি সরবরাহ বা ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত অন্যান্য যন্ত্রপাতিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (১৩) “ওয়ার্ড” অর্থ একজন কাউন্সিলর নির্বাচনের উদ্দেশ্যে সীমানা-নির্ধারিত একটি ওয়ার্ড; (১৪) “সিটি কর্পোরেশন” বা “কর্পোরেশন” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন গঠিত কোন সিটি কর্পোরেশন; (১৫) “কনজারভেন্সী” অর্থ আবর্জনা অপসারণ ও হস্তান্তর; (১৬) “কর্মকর্তা ” অর্থ কর্পোরেশনের কোন কর্মকর্তা; এবং কোন কর্মচারীও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (১৭) “কমিশন ” অর্থ স্থানীয় সরকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০০৮ এর অধীন গঠিত স্থানীয় সরকার কমিশন; (১৮) “কর” অর্থ কোন কর, উপ-কর, রেইট, টোল, ফি, শুল্ক অথবা এই অধ্যাদেশের অধীন আরোপযোগ্য কোন করও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (১৯) “কাউন্সিলর” অর্থ সিটি কর্পোরেশনের কোন কাউন্সিলর; (২০) “কারখানা” অর্থ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ এর ৪২ নং আইন) এর ধারা ২(৭) এ সংজ্ঞায়িত “কারখানা”; (২১) “খাজনা” অর্থ আইনসম্মত উপায়ে কোন ইমারত বা জমি অধিকারে রাখিবার কারণে উহার দখলদার বা ভাড়াটিয়া বা লীজ গ্রহীতা কর্তৃক আইনতঃ প্রদেয় অর্থ কিংবা দ্রব্য; (২২) “খাদ্য” অর্থ ঔষধ এবং পানীয় ব্যতীত মানুষের পানাহারের নিমিত্ত ব্যবহৃত সকল প্রকার দ্রব্য; (২৩) “গণস্থান” অর্থ কোন ভবন, আঙ্গিণা অথবা স্থান যেখানে সাধারণ জনগণের প্রবেশাধিকার রহিয়াছে; (২৪) “জনপথ” অর্থ সর্বসাধারণের ব্যবহার্য পথ, রাস্তা ও সড়ক; (২৫) “জমি” অর্থ নির্মাণাধীন বা নির্মিত অথবা জলমগ্ন যে কোন জমি; (২৬) “টোল” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন আরোপিত টোল; (২৭) “ড্রাগ” বা “ঔষধ” অর্থ অভ্যন্তরীণ অথবা বাহ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত যে কোন দ্রব্য এবং ঔষধের মিশ্রণে অথবা প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত যে কোন দ্রব্যও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (২৮) “ড্রেন” অর্থে ভূ-নিম্নস্থ নর্দমা, রাস্তা বা বাড়ি-ঘরের নর্দমা, সুড়ঙ্গ, কালভার্ট, পরিখা, নালা, বৃষ্টির পানি ও নোংরা পানি বহনের জন্য অন্য যে কোন প্রকার ব্যবস্থাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (২৯) “তফসিল” অর্থ এই অধ্যাদেশের কোন তফসিল; (৩০) “তহবিল” অর্থ ধারা ৭০ এর অধীন গঠিত সিটি কর্পোরেশন তহবিল; (৩১) “দখলদার” অর্থে সাময়িকভাবে জমি বা ইমারত বা উহার অংশের জন্য উহার মালিককে ভাড়া প্রদান করেন বা তাহা প্রদানের জন্য দায়ী থাকেন এমন ব্যক্তিও অন্তর্ভুক্ত হইবেন; (৩২) “দুগ্ধখামার” অর্থ কোন খামার, গরুর ছাউনি, গোয়ালঘর, দুধ সংরক্ষণাগার, দুধের দোকান, অথবা এমন কোন স্থান যেখান হইতে দুধ অথবা দুগ্ধজাত দ্রব্য বিক্রয়ের জন্য সরবরাহ করা হয়; (৩৩) “নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ” অর্থ সরকার বা এই অধ্যাদেশের কোন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার কর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত যে কোন সরকারি কর্মকর্তা; (৩৪) “নির্বাচন কমিশন” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত নির্বাচন কমিশন; (৩৫) “নির্বাচনী আপিল ট্রাইবুন্যাল” অর্থ এই অধ্যাদেশের ধারা ৩৮ এর অধীন গঠিত নির্বাচনী আপিল ট্রাইবুন্যাল; (৩৬) “নির্বাচনী ট্রাইবুন্যাল ” অর্থ এই অধ্যাদেশের ধারা ৩৮ এর অধীন গঠিত নির্বাচনী ট্রাইবুন্যাল; (৩৭) “নির্বাচন পর্যবেক্ষক” অর্থ কোন ব্যক্তি বা সংস্থা যাহাকে নির্বাচন কমিশন বা এতদুদ্দেশ্যে তদকর্তৃক অনুমোদিত কোন ব্যক্তি কর্তৃক এই অধ্যাদেশের অধীন কোন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য লিখিতভাবে অনুমতি দেওয়া হইয়াছে; (৩৮) “নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ” অর্থ দণ্ডবিধিতে সংজ্ঞায়িত চাঁদাবাজি, চুরি, সম্পত্তি আত্মসাৎ, বিশ্বাস ভংগ, ধর্ষণ, হত্যা, খুন এবং Prevention of Corruption Act, 1947 (Act. II of 1947) এ সংজ্ঞায়িত "Criminal misconduct"ও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (৩৯) “পুলিশ কর্মকর্তা” অর্থ পুলিশ বাহিনীর সাব-ইন্সপেক্টর ও তদূর্ধ্ব পদ-মর্যাদাসম্পন্ন কোন পুলিশ কর্মকর্তা; (৪০) “প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা” অর্থ সিটি কর্পোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা; (৪১) “প্রবিধান” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত প্রবিধান; (৪২) “ফিস” অর্থ এই অধ্যাদেশর অধীন ধার্যকৃত ফিস; (৪৩) “বিধি” অর্থ এই অধ্যাদেশর অধীন প্রণীত বিধি; (৪৪) “ব্যাংক” অর্থ - (ক) ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এর ধারা ৫(ণ) এ সংজ্ঞায়িত ব্যাংক কোম্পানী ; (খ) The Bangladesh Shilpa Rin Sangstha Order, 1972 (P.O No. 128 of 1972) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা ; (গ) The Bangladesh Shilpa Bank Order, 1972 (P.O No. 129 of 1972) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ; (ঘ) The Bangladesh House Building Finance Corporation Order, 1973 (P.O No. 7 of 1973) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন; (ঙ) The Bangaladesh Krishi Bank Order, 1973 (P.O. No. 27 of 1973) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক; (চ) The Investment Corporation of Bangladesh Ordinance, 1976 (Ordinance No. XL of 1976) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত ইনভেষ্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ; (ছ) The Rajshahi Krishi Unnayan Bank Ordinance, 1986 (Ordinance No. LVIII of 1986) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক; বা (জ) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Basic Bank Limited (Bangladesh Small Industries and Commerce Bank Limited); (৪৫) “ভাড়া” অর্থ কোন দালান বা ভূমি দখল বাবদ ভাড়াটিয়া বা ইজারাগ্রহীতা কর্তৃক আইনসঙ্গতভাবে পরিশোধ্য কোন অর্থ বা বস্তু; [(৪৬) "লাভজনক পদ (Office of profit)" অর্থ প্রজাতন্ত্র কিংবা সরকারি সংবিধিবদ্ধ কতৃর্পক্ষ বা সরকারি মালিকানাধীন শতকরা পঞ্চাশ ভাগ বা তদুর্দ্ধ শেয়ারভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানীতে সাবর্ক্ষণিক বেতনভুক্ত পদ বা অবস্থান;] (৪৭) “মালিক” অর্থে আপাততঃ জমি ও ইমারতের ভাড়া অথবা উহাদের যে কোন একটির ভাড়া নিজ দায়িত্বে অথবা কোন ব্যক্তির অথবা সমাজের অথবা কোন ধর্মীয় অথবা দাতব্য কাজের প্রতিনিধি অথবা ট্রাস্টি হিসাবে সংগ্রহ করিতেছেন অথবা যদি জমি অথবা ইমারত ভাড়াটিয়ার নিকট ভাড়া প্রদান করিলে যিনি তাহা সংগ্রহ করিতেন এইরূপ বক্তি অন্তর্ভুক্ত হইবেন; (৪৮) “মেয়র” অর্থ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র; (৪৯) “যানবাহন” অর্থ রাস্তায় ব্যবহারযোগ্য চাকাযুক্ত পরিবহন; (৫০) “সচিব” অর্থ সিটি কর্পোরেশনের সচিব; (৫১) “সংক্রামক ব্যাধি” অর্থ এমন ব্যাধি যাহা একজন ব্যক্তি হইতে অন্য ব্যক্তিকে সংক্রমিত করে এবং সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রকাশিত অন্য যে কোন ব্যাধিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (৫২) “সরকার ” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার; (৫৩) “সরকারি রাস্তা” অর্থ সরকার কিংবা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান অথবা অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রক্ষণাবেক্ষণাধীন জনগণের চলাচলের জন্য যে কোন রাস্তা; (৫৪) “সড়ক রেখা” অর্থ রাস্তা ধারণের ভূমি এবং রাস্তার অংশ বিশেষ গঠনের ভূমিকে পাশ্ববর্তী ভূমি হইতে বিভক্তকারী রেখাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (৫৫) “সুয়ারেজ” অর্থ একটি ড্রেনের মাধ্যমে বাহিত পয়ঃনিষ্কাশন, দূষিত পানি, বৃষ্টির পানি এবং নর্দমা বাহিত যে কোন দূষিত বা নোংরা দ্রব্যাদি; (৫৬) “সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২(১) এ সংজ্ঞায়িত কোন সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ; (৫৭) “স্থায়ী কমিটি” অর্থ এই অধ্যাদেশের ধারা ৫০ এর অধীন গঠিত স্থায়ী কমিটি৷

৩৷ সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা

৩৷ (১) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশ বলবৎ হইবার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান সকল সিটি কর্পোরেশনএই অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত যথাক্রমে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন হিসাবে গণ্য হইবে৷ (২) প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকাসমূহের বিবরণ প্রথম তফসিলভুক্ত হইবে৷ (৩) সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নূতন সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে৷ (৪) নূতন সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে, নির্ধারিত মানদণ্ডে, অন্যান্যের মধ্যে, নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহও অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথাঃ (ক) বিদ্যমান পৌর-এলাকার জনসংখ্যা; (খ) জনসংখ্যার ঘনত্ব; (গ) স্থানীয় আয়ের উৎস; (ঘ) এলাকার অর্থনৈতিক গুরুত্ব; (ঙ) অবকাঠামোগত সুবিধাদি ও সম্প্রসারণের সুযোগ; (চ) বিদ্যমান পৌরসভার বার্ষিক আয়; এবং (ছ) জনমত৷ (৫) যে এলাকা লইয়া নূতন সিটি কর্পোরেশন গঠিত হইবে সেই এলাকার নামেই উক্ত সিটি কর্পোরেশনের নামকরণ হইবে৷ (৬) সিটি কর্পোরেশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই অধ্যাদেশ ও বিধি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে৷ (৭) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন একটি প্রশাসনিক এককাংশ বা ইউনিট হিসাবে গণ্য হইবে৷

৪৷ সিটি কর্পোরেশনের এলাকা সম্প্রসারণ বা সংকোচন

৪৷ (১) সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা সিটি কর্পোরেশন সংলগ্ন কোন এলাকাকে কর্পোরেশনের সীমানার অন্তর্ভুক্ত অথবা কর্পোরেশনের কোন এলাকাকে উহার সীমানা-বহির্ভূত করিতে পারিবে৷ (২) কোন এলাকা সিটি কর্পোরেশনের এলাকার অন্তর্ভুক্ত করা হইলে, এই অধ্যাদেশ, বিধি, প্রবিধান এবং এই অধ্যাদেশের অধীন প্রদত্ত সকল আদেশ, নির্দেশ ও ক্ষমতা উক্ত এলাকায় প্রযোজ্য হইবে৷ (৩) কোন এলাকা সিটি কর্পোরেশনের এলাকার বহির্ভূত করা হইলে, এই অধ্যাদেশ, বিধি, প্রবিধান এবং এই অধ্যাদেশের অধীন প্রদত্ত সকল আদেশ, নির্দেশ ও ক্ষমতা উক্ত এলাকায় আর প্রযোজ্য হইবে না৷ (৪) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রয়োজনবোধে, এই অধ্যাদেশের প্রথম তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে ৷

৫৷ সিটি কর্পোরেশন গঠন

৫৷ (১) প্রত্যেক সিটি কর্পোরেশন নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত হইবে (ক) মেয়র; (খ) সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত সংখ্যক কাউন্সিলর; এবং (গ) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী কেবল মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত নির্ধারিত সংখ্যক কাউন্সিলর৷ (২) উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন নির্ধারিত সংখ্যক কাউন্সিলরের এক-তৃতীয়াংশের সমসংখ্যক আসন, অতঃপর সংরক্ষিত আসন বলিয়া উল্লিখিত, মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, সংরক্ষিত আসন বহির্ভূত আসনে মহিলা প্রার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণকে বারিত করিবে না৷ ব্যাখ্যা৷- এই উপ-ধারার অধীন সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে, যদি উক্ত সংখ্যার ভগ্নাংশ থাকে এবং উক্ত ভগ্নাংশ অর্ধেক বা তদূর্ধ্ব হয়, তবে উহাকে পূর্ণ সংখ্যা বলিয়া গণ্য করিতে হইবে এবং যদি উক্ত ভগ্নাংশ অর্ধেক এর কম হয়, তবে উহাকে উপেক্ষা করিতে হইবে৷ (৩) মেয়রের পদসহ কর্পোরেশনের শতকরা পঁচাত্তর ভাগ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইলে এবং নির্বাচিত কাউন্সিলরগণের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হইলে, কর্পোরেশন, এই অধ্যাদেশের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, যথাযথভাবে গঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷ ব্যাখ্যা৷- এই উপ-ধারায় 'কাউন্সিলর' অর্থে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত কাউন্সিলরও বুঝাইবে৷ (৪) মেয়র পদাধিকারবলে একজন কাউন্সিলর বলিয়া গণ্য হইবেন৷

৬৷ সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ

৬৷ কর্পোরেশনের মেয়াদ উহা গঠিত হইবার পর উহার প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হইবার তারিখ হইতে পাঁচ বৎসর হইবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও, উহা পুনর্গঠিত সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করিয়া যাইবে৷

৭৷ মেয়র ও কাউন্সিলরগণের শপথ বা ঘোষণা

৭৷ (১) মেয়র বা কোন কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত ব্যক্তি তাহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে নির্ধারিত পদ্ধতি ও সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় তফসিলে বর্ণিত ছকে সরকার কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তির সম্মুখে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা প্রদান করিবেন এবং শপথ বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিবেন৷ (২) মেয়র বা কাউন্সিলরগণের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে সরকার বা তদকর্তৃক মনোনীত কর্তৃপক্ষ মেয়র ও সকল কাউন্সিলরকে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা প্রদানের ব্যবস্থা করিবেন৷ (৩) মেয়র বা কাউন্সিলর নির্বাচিত হইবার পর কোন ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের কোন স্তরের কমিটি, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, এর পদাধিকারী হইলে শপথ গ্রহণের পূর্বে উক্ত পদ ত্যাগ করিবেন৷

৮৷ সম্পত্তি সম্পর্কিত ঘোষণা

৮৷ (১) মেয়র এবং প্রত্যেক কাউন্সিলরকে, শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা প্রদানের সময় ট্যাক্স পেয়ার্‌স আইডেন্টিফিকেশন নম্বরসহ (যদি থাকে) সংশ্লিষ্ট কর অফিসে দাখিলকৃত ও গৃহীত তাহার এবং তাহার পরিবারের সদস্যদের দেশে ও বিদেশে অবস্থিত স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তির সর্বশেষ বিবরণ, একটি হলফনামার মাধ্যমে সরকার কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার নিকট দাখিল করিতে হইবে৷ (২) সংশ্লিষ্ট কর অফিসে দাখিলকৃত ও গৃহীত ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (যদি থাকে) সম্বলিত সম্পদের সর্বশেষ হিসাব দাখিল করিতে না পারিলে বা করা না হইলে, মেয়র এবং প্রত্যেক কাউন্সিলর শপথ গ্রহণের সময় তাহার এবং তাহার পরিবারের যে কোন সদস্যের স্বত্ব, দখল বা স্বার্থ আছে এই প্রকার যাবতীয় স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তির একটি লিখিত বিবরণ হলফনামার মাধ্যমে সরকার কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার নিকট দাখিল করিবেন৷ (৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত হলফনামা এবং উপ-ধারা (২) এর অধীন দাখিলকৃত লিখিত বিবরণ অসত্য প্রমাণিত হইলে, উহা অসদাচরণ গণ্য হইবে এবং অসদাচরণের অভিযোগে ক্ষেত্রমত, মেয়র বা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে৷ ব্যাখ্যা৷- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘‘পরিবারের সদস্য’’ বলিতে সংশ্লিষ্ট মেয়র বা কাউন্সিলরে স্ত্রী বা স্বামী এবং তাহার সহিত বসবাসকারী এবং তাহার উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, সৎপুত্র, সৎকন্যা, ভ্রাতা ও ভগ্নিকে বুঝাইবে৷

৯৷ মেয়র এবং কাউন্সিলরগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা

৯৷ (১) কোন ব্যক্তি মেয়র বা কাউন্সিলর নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন, যদি- (ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন; (খ) তাহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হয়; (গ) মেয়রের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনেরশন যে কোন ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় তাহার নাম লিপিবদ্ধ থাকে;৷ (ঘ) সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলরসহ অন্যান্য কাউন্সিলরদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় তাহার নাম লিপিবদ্ধ থাকে৷ (২) কোন ব্যক্তি মেয়র বা কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হইবার জন্য এবং উক্তরূপ মেয়র বা কাউন্সিলর পদে থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি- (ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন বা হারান; (খ) তিনি কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষিত হন; (গ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হন এবং দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন; (ঘ) কোন ফৌজদারী বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যুন দুই বৎসর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে; (ঙ) প্রজাতন্ত্রের বা সিটি কর্পোরেশনের বা কোন সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন লাভজনক পদে সার্বক্ষণিক অধিষ্ঠিত থাকেন; (চ) কোন বিদেশী রাষ্ট্র হইতে অনুদান বা তহবিল গ্রহণ করে এইরূপ একটি বেসরকারি সংস্থার প্রধান কার্যনির্বাহীর পদ হইতে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণ বা পদচ্যুতির পর তিন বৎসর অতিবাহিত না হইয়া থাকে; (ছ) কোন সমবায় সমিতি এবং সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ব্যতীত, সরকারকে পণ্য সরবরাহ করিবার জন্য বা সরকার কর্তৃক গৃহীত কোন চুক্তির বাস্তবায়ন বা সেবা কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য, তিনি তাহার নিজ নামে বা তাহার ট্রাস্টি হিসাবে কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের নামে বা তাহার সুবিধার্থে বা তাহার উপলক্ষ্যে বা কোন হিন্দু যৌথ পরিবারের সদস্য হিসাবে তাহার কোন অংশ বা স্বার্থ আছে এইরূপ চুক্তিতে আবদ্ধ হইয়া থাকেন; ব্যাখ্যা৷- উপরি-উক্ত দফা (ছ) এর অধীন আরোপিত অযোগ্যতা কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না যেক্ষেত্রে- (১) চুক্তিটিতে অংশ বা স্বার্থ তাহার উপর উত্তরাধিকারসূত্রে বা উইলসূত্রে প্রাপক, নির্বাহক বা ব্যবস্থাপক হিসাবে হস্তান্তরিত হয়, যদি না উহা হস্তান্তরিত হইবার পর ছয় মাস অথবা কোন বিশেষ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বর্ধিত সময় অতিবাহিত হয়; অথবা (২) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোন পাবলিক কোম্পানীর দ্বারা বা পক্ষে চুক্তিটি সম্পাদিত হইয়াছে যাহার তিনি একজন শেয়ার হোল্ডার মাত্র, তবে উহার অধীন তিনি কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত পরিচালকও নহেন বা ম্যানেজিং এজেন্টও নহেন; অথবা (৩) তিনি কোন যৌথ হিন্দু পরিবারের সদস্য এবং চুক্তিটি তাহার অংশ বা স্বার্থ নাই এইরূপ কোন স্বতন্ত্র ব্যবসা পরিচালনাকালে পরিবারের অন্য কোন সদস্য কর্তৃক সম্পাদিত হইয়াছে৷ (জ) বা তাহার পরিবারের কোন সদস্য সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের কার্য সম্পাদনের বা মালামাল সরবরাহের জন্য ঠিকাদার হন বা ইহার জন্য নিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন বা সিটি কর্পোরেশনের কোন বিষয়ে তাহার কোন প্রকার আর্থিক স্বার্থ থাকে বা তিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অত্যাবশ্যক কোন দ্রব্যের ডিলার হন ; (ঝ) বসবাসের নিমিত্ত গৃহ-নির্মাণের জন্য কোন ব্যাংক হইতে গৃহীত ঋণ ব্যতীত, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখে পূর্ববর্তী এক বৎসরের মধ্যে তদ্‌কর্তৃক কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত কোন ঋণ বা উহার কোন কিস্তি পরিশোধে খেলাপী হইয়া থাকেন; (ঞ) এমন কোন কোম্পানীর পরিচালক বা ফার্মের অংশীদার হন, যাহা কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত কোন ঋণ বা উহার কোন কিস্তি পরিশোধে, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখের পূর্ববর্তী এক বৎসরের মধ্যে, খেলাপী হইয়াছে; ব্যাখ্যাঃ উপরি-উক্ত দফা (ঝ) ও (ঞ) এর উদ্দেশ্য সাধনকল্পে “ঋণ খেলাপী ” অর্থে ঋণ গ্রহীতা ছাড়াও বন্ধকদাতা বা জামিনদার, যিনি বা যাহাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোম্পানী বা ফার্ম Banker's Book of Account এ ঋণ খেলাপী হিসাবে চিহ্নিত আছে তাহাদেরকেও বুঝাইবে; (ট) ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত কোন ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী রাখেন; (ঠ) কর্পোরেশনের নিকট হইতে গৃহীত কোন ঋণ তাহার নিকট অনাদায়ী রাখেন বা কর্পোরেশনের নিকট তাহার কোন আর্থিক দায়-দেনা থাকে; (ড) কর্পোরেশন কিংবা সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত নিরীক্ষকের প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়যোগ্য অর্থ কর্পোরেশনকে পরিশোধ না করেন; (ঢ) অন্য কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা জাতীয় সংসদের সদস্য হন; (ণ) কোন সরকারি বা আধাসরকারি দপ্তর, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, সমবায় সমিতি, ইত্যাদি হইতে নৈতিক স্খলন, দুর্নীতি. অসদাচরণ ইত্যাদি অপরাধে চাকুরিচ্যুত হইয়া পাঁচ বৎসর অতিক্রান্ত না করেন; (ত) সরকার কর্তৃক অনুদানপ্রাপ্ত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোন সংস্থার সার্বক্ষণিক বা খণ্ডকালীন পদে চাকুরিরত থাকেন ; (থ) সিটি কর্পোরেশনের তহবিল তসরুফের কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত হন; (দ) বিগত পাঁচ বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে দণ্ডবিধির ১৮৯ ও ১৯২ ধারা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হইয়া সাজাপ্রাপ্ত হন; (ধ) বিগত পাঁচ বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে দণ্ডবিধি ২১৩, ৩৩২, ৩৩৩ ও ৩৫৩ ধারা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হইয়া সাজাপ্রাপ্ত ও অপসারিত হন; (ন) কোন আদালত কর্তৃক ফেরারী আসামী হিসাবে ঘোষিত হন; (প) জাতীয় বা আর্ন্তজাতিক আদালত বা ট্রাইবুন্যাল কর্তৃক যুদ্ধাপরাধী হিসাবে দোষী সাব্যস্ত হন৷ (৩) প্রত্যেক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় এই মর্মে একটি হলফনামা দাখিল করিবেন যে, উপ-ধারা (২) অনুযায়ী তিনি মেয়র বা কাউন্সিলর নির্বাচনের অযোগ্য নহেন৷

১০৷ একাধিক পদে প্রার্থিতায় বাধা

১০৷ (১) কোন ব্যক্তি একই সাথে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হইতে পারিবেন না ৷ (২) যদি কোন ব্যক্তি একই সাথে কোন কর্পোরেশনের একাধিক পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, তাহা হইলে তাহার সকল মনোনয়নপত্র বাতিল হইবে৷ (৩) সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদকালে মেয়র পদ শূন্য হইলে, কোন কাউন্সিলর, স্বীয়পদ ত্যাগ করিয়া মেয়রের পদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতে পারিবেন৷

১১৷ মেয়র ও কাউন্সিলরগণের পদত্যাগ

১১৷ (১) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে মেয়র স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷ (২) কোন কাউন্সিলর মেয়রের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন৷ (৩) সরকার, বা ক্ষেত্রমত, মেয়র কর্তৃক সংশ্লিষ্ট পদত্যাগপত্র প্রাপ্তির তারিখ হইতে পদত্যাগ কার্যকর হইবে৷

১২৷ মেয়র ও কাউন্সিলরগণের সাময়িক বরখাস্তকরণ৷

১২৷ (১) যেক্ষেত্রে কোন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অথবা কাউন্সিলরের অপসারণের জন্য ধারা ১৩ এর অধীন কার্যক্রম আরম্ভ করা হইয়াছে অথবা তাহার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় অভিযোগপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, লিখিত আদেশের মাধ্যমে, ক্ষেত্রমত, মেয়র বা কোন কাউন্সিলরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করিতে পারিবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সিটি কর্পোরেশনের কোন মেয়রকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ প্রদান করা হইলে উক্ত আদেশপ্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত মেয়র, তাহার দায়িত্ব পালনকারী জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে মেয়রের প্যানেলের সদস্যের নিকট স্বীয় দায়িত্ব হস্তান্তর করিবেন এবং উক্ত মেয়রের বিরুদ্ধে আনীত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা উক্ত মেয়র অপসারিত হইলে, তাহার পরিবর্তে নূতন মেয়র নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত মেয়রের দায়িত্ব পালন করিবেন৷ (৩) উপধারা (১) এর অধীন কর্পোরেশনের কোন কাউন্সিলরকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ প্রদান করা হইলে উক্ত আদেশপ্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত কাউন্সিলর, মেয়র কর্তৃক মনোনীত পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের একজন কাউন্সিলরের নিকট স্বীয় দায়িত্ব হস্তান্তর করিবেন এবং উক্ত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আনীত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা উক্ত কাউন্সিলর অপসারিত হইলে, তাহার পরিবর্তে নূতন কাউন্সিলর নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর, সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করিবেন৷

১৩৷ মেয়র এবং কাউন্সিলরগণের অপসারণ

১৩৷ (১) মেয়র অথবা কাউন্সিলর তাহার স্বীয় পদ হইতে অপসারণযোগ্য হইবেন, যদি তিনি- (ক) যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে সিটি কর্পোরেশনের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন; অথবা (খ) নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হন; (গ) দায়িত্ব পালন করিতে অস্বীকার করেন অথবা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন; (ঘ)অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন; (ঙ)ধারা ৯ (৩) অনুযায়ী নির্বাচনের অযোগ্য ছিলেন মর্মে নির্বাচনের অনুষ্ঠানের তিন মাসের মধ্যে প্রমাণিত হয়; (চ) বার্ষিক ১২টি মাসিক সভার পরিবর্তে ন্যুনতম ৯টি সভা গ্রহণযোগ্য কারণ ব্যতীত অনুষ্ঠান করিতে, বা ক্ষেত্রমত, উক্ত সভাসমূহে উপস্থিত থাকিতে ব্যর্থ হন৷ ব্যাখ্যা৷- এই উপ-ধারায় বর্ণিত ‘অসদাচরণ’ বলিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, এই অধ্যাশে অনুযায়ী বিধি-নিষেধ পরিপন্থী কার্যকলাপ, দুর্র্নীতি, অসদুপায়ে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ, পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি, ইচ্ছাকৃত অপশাসন, নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল না করা বা অসত্য তথ্য প্রদান করাকে বুঝাইবে৷ (২) বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেটে আদেশ দ্বারা, উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কারণে মেয়র বা কোন কাউন্সিলরকে অপসারণ করিতে পারিবে৷ (৩) অপসারণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করিবার পূর্বে বিধি মোতাবেক তদন্ত ও অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হইবে৷ (৪) সিটি কর্পোরেশনের কোন মেয়র বা কাউন্সিলরকে উপ-ধারা (২) অনুযায়ী তাহার পদ হইতে অপসারণ করা হইলে, ঐ আদেশের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে তিনি কমিশনের নিকট আপিল করিতে পারিবেন এবং কমিশন কর্তৃক উক্ত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অপসারণ আদেশটি স্থগিত রাখিতে পারিবেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ প্রদানের পর উক্ত অপসারণ আদেশটি পরিবর্তন, বাতিল বা বহাল রাখিতে পারিবেন৷ (৫) কমিশন কর্তৃক উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে৷ (৬) এই অধ্যাদেশের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অপসারিত কোন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের কার্যকালের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না৷

১৪৷ অনাস্থা প্রস্তাব

১৪৷ (১) এই অধ্যাদেশের কোন বিধান বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে কর্পোরেশনের মেয়র বা কোন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়ন করা যাইবে৷ (২) নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট মেয়র, বা ক্ষেত্রমত, কোন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়নের ক্ষেত্রে, কর্পোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলরগণের মোট সংখ্যার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করিয়া একটি প্রস্তাবের নোটিশ, একজন কাউন্সিলরকে ব্যক্তিগতভাবে দাখিল করিতে হইবে৷ (৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ অনাস্থা প্রস্তাব প্রাপ্তির পর এক মাসের মধ্যে অভিযোগসমূহ প্রাথমিকভাবে তদন্ত করিবেন এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হইলে সংশ্লিষ্ট মেয়র, বা ক্ষেত্রমত, কাউন্সিলরকে, দশ কার্য দিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য, নোটিশ প্রদান করিবেন৷ (৪) উক্ত কারণ দর্শানোর নোটৈশের জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত না হইলে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ উক্ত জবাব প্রাপ্তির অনধিক পনের কার্যদিবসের মধ্যে অনাস্থা প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য নির্বাচিত কাউন্সিলরগণের একটি সভা আহবান করিয়া সকল নির্বাচিত কাউন্সিলরগণের নিকট সভার নোটিশ প্রেরণ করিবেন৷ (৫) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত সভায়, মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ক্ষেত্রে, জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে মেয়রের প্যানেলের উপস্থিত সদস্য এবং কোন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ক্ষেত্রে, কর্পোরেশনের মেয়র সভাপতিত্ব করিবেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, মেয়র বা স্থায়ী কমিটির সভাপতি অনুপস্থিত থাকিলে বা অন্য কোন কারণে তাহাকে পাওয়া না গেলে, উপস্থিত কাউন্সিলরগণের মধ্যে একজন কাউন্সিলর ঐকমত্যের ভিত্তিতে উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করিবেন৷ (৬) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ উক্ত সভায় একজন পর্যবেক্ষক হিসাবে উপস্থিত থাকিবেন৷ (৭) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত সভা নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোন কারণ ছাড়া স্থগিত করা যাইবে না এবং মোট নির্বাচিত সদস্য সংখ্যার অর্ধেক সদস্য সমন্বয়ে সভার কোরাম গঠিত হইবে৷ (৮) সভার শুরুতে সভাপতি অনাস্থা প্রস্তাবটি সভায় পাঠ করিয়া শুনাইবেন এবং উন্মুক্ত আলোচনা আহ্বান করিবেন৷ (৯) সভা শুরু হইবার তিন ঘণ্টার মধ্যে বিতর্ক বা উন্মুক্ত আলোচনা শেষ না হইলে, গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনাস্থা প্রস্তাবটির উপর ভোট গ্রহণ করিতে হইবে৷ (১০) সভার ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতি একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিতে পারিবেন৷ (১১) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ সভা শেষ হইবার পর পরই অনাস্থা প্রস্তাবের অনুলিপি এবং ভোটের ফলাফলসহ সভার কার্যবিবরণী কমিশন ও সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন৷ (১২) অনাস্থা প্রস্তাবটি মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত হইলে, সংশ্লিষ্ট মেয়র, বা ক্ষেত্রমত, কাউন্সিলরের আসনটি সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শূন্য বলিয়া ঘোষণা করিবে৷ (১৩) অনাস্থা প্রস্তাবটি মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অথবা কোরামের অভাবে সভা অনুষ্ঠিত না হইলে, সভা অনুষ্ঠানের তারিখের পর ছয় মাস অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত, উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ পুনরায় প্রদান করা যাইবে না৷ (১৪) দায়িত্বভার গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, বা ক্ষেত্রমত, কোন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়ন করা যাইবে না৷

১৫৷ মেয়র ও কাউন্সিলরগণের পদ শূন্য হওয়া

১৫৷ মেয়র ও কাউন্সিলরের পদ শূন্য হইবে, যদি তিনি- (ক) ধারা ৯(২) এর অধীন মেয়র বা কাউন্সিলর হইবার অযোগ্য হইয়া পড়েন; বা (খ) ধারা ৭ এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা প্রদান করিতে বা ধারা ৮ এর অধীন হলফনামা দাখিল করিতে ব্যর্থ হন; বা (গ) ধারা ১১ এর অধীন পদত্যাগ করেন; বা (ঘ) ধারা ১৩ এর অধীন তাহার পদ হইতে অপসারিত হন; বা (ঙ) মৃত্যুবরণ করেন৷

১৬৷ আকস্মিক পদ শূন্যতা

১৬৷ সিটি কর্পোরেশনে মেয়াদ শেষ হইবার একশত আশি দিন পূর্বে মেয়র বা কোন কাউন্সিলরের পদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হইবার নব্বই দিনের মধ্যে ইহা পূরণ করিতে হইবে এবং যিনি উক্ত পদে নির্বাচিত হইবেন তিনি সিটি কর্পোরেশনের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য উক্ত পদে বহাল থাকিবেন৷

১৭৷ মেয়র ও কাউন্সিলরগণের অনুপস্থিতির ছুটি

১৭৷ (১) সরকার কোন মেয়রকে এবং মেয়র কোন কাউন্সিলরকে এক বৎসরে সর্বোচ্চ তিন মাস ছুটি মঞ্জুর করিতে পারিবেন৷ (২) কোন কাউন্সিলর ছুটিতে থাকিলে বা অন্য কোন কারণে অনুপস্থিত থাকিলে উক্ত ছুটি বা অনুপস্থিতকালীন সময়ের জন্য মেয়র পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের একজন কাউন্সিলরকে দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবেন৷ (৩) মেয়র বা কাউন্সিলরের উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ছুটির অতিরিক্ত ছুটির প্রয়োজন হইলে সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে৷

১৮৷ মেয়র ও কাউন্সিলরগণের সম্মানী ও অন্যান্য সুবিধা

১৮৷ মেয়র ও কাউন্সিলরগণ সরকারের অনুমোদনক্রমে কর্পোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত হারে সিটি কর্পোরেশনের তহবিল হইতে মাসিক সম্মানীভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্য হইবেন৷

১৯৷ মেয়র ও কাউন্সিলর কর্তৃক রেকর্ডপত্র দেখিবার অধিকার

১৯৷ (১) প্রত্যেক কাউন্সিলর নির্ধারিত পদ্ধতিতে কর্পোরেশনের মেয়র অথবা সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির সভাপতির নিকট কর্পোরেশন বা স্থায়ী কমিটির প্রশাসনিক এখতিয়ারভুক্ত বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন বা ব্যাখ্যা দাবী করিতে পারিবেন৷ (২) কর্পোরেশনের মেয়র বরাবরে নোটিশ প্রদান করিয়া কর্পোরেশনের যে কোন কাউন্সিলর অফিস চলাকালীন সময়ে গোপনীয় নথিপত্র ব্যতীত অন্যান্য রেকর্ড ও নথিপত্র দেখিতে পারিবেন৷ (৩) কর্পোরেশনের মেয়র ও প্রত্যেক কাউন্সিলর কর্পোরেশন কর্তৃক অন্য কোন কর্তৃপক্ষ দ্বারা বাস্তবায়িত কোন কাজ বা প্রকল্পের ত্রুটি বিচ্যুতি সম্পর্কে কর্পোরেশনের মনোযোগ আকর্ষণ করিতে পারিবেন৷

২০৷ মেয়রের প্যানেল

২০৷ (১) কাউন্সিলরগণ তাহাদের নিজেদের মধ্য হইতে কর্পোরেশন গঠিত হইবার পর প্রথম অনুষ্ঠিত সভার এক মাসের মধ্যে অগ্রাধিকারক্রমে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি মেয়রের প্যানেল নির্বাচিত করিবেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, নির্বাচিত তিন জনের মেয়রের প্যানেলের মধ্যে একজন সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলরগণের মধ্যে হইতে নির্বাচিত হইবেন৷ (২) এই অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী মেয়রের প্যানেলভুক্ত কোন সদস্য অযোগ্য হইলে অথবা ব্যক্তিগত কারণে দায়িত্ব পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করিলে কর্পোরেশনের সিদ্ধান্তক্রমে নূতন মেয়রের প্যানেল গঠন করা যাইবে৷ (৩) উপ-ধারা (১) ও (২) অনুযায়ী মেয়রের প্যানেল নির্বাচিত না হইলে সরকার, মেয়রের প্যানেল মনোনীত করিবে৷

২১৷ কাউন্সিলর কর্তৃক মেয়রের দায়িত্ব পালন

২১৷ (১) অনুপস্থিতি কিংবা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোন কারণে মেয়র দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে তিনি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত এই অধ্যাদেশের ধারা ২০ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে মেয়রের প্যানেলের কোন সদস্য মেয়রের সকল দায়িত্ব পালন করিবেন৷ (২) পদত্যাগ, অপসারণ অথবা মৃত্যুজনিত কারণে মেয়রের পদ শূন্য হইলে শূন্য পদে নব নির্বাচিত মেয়র কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে মেয়রের প্যানেলের কোন সদস্য মেয়রের সকল দায়িত্ব পালন করিবেন৷

২২৷ সদস্যপদ পুনর্বহাল

২২৷ মেয়র বা কাউন্সিলর এই অধ্যাদেশের বিধানমতে অযোগ্য ঘোষিত হইয়া অথবা অপসারিত হইয়া সদস্যপদ হারাইবার পর আপিল, বা উপযুক্ত আদালতের আদেশে তাহার উক্তরূপ অযোগ্যতার ঘোষণা বাতিল বা অপসারণ আদেশ রদ হইলে, তিনি কর্পোরেশনের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য স্বপদে বহাল হইবেন৷

২৩৷ দায়িত্ব হস্তান্তর

২৩৷ নির্বাচনের পর নির্বাচিত মেয়র, প্যানেল মেয়র বা অন্য কোন কাউন্সিলর মেয়রের দায়িত্ব পালন করিতে থাকিলে, পূর্ববর্তী মেয়র, প্যানেল মেয়র বা মেয়রের দায়িত্ব প্রাপ্ত কাউন্সিলর, তাহার দখলে বা নিয়ন্ত্রণে থাকা কর্পোরেশনের সকল নগদ অর্থ, পরিসম্পদ, দলিল দস্তাবেজ, রেজিস্টার ও সীলমোহর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কর্মকর্তা কর্তৃক স্থিরীকৃত তারিখ, সময় ও স্থানে নূতন নির্বাচিত মেয়র, বা ক্ষেত্রমত, মনোনীত প্যানেল মেয়র বা মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলরের নিকট কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বুঝাইয়া দিবেন৷

২৪৷ ব্যত্যয়ের দণ্ড

২৪৷ যদি কোন মেয়র বা মেয়রের দায়িত্ব প্রাপ্ত কোন কাউন্সিলর ধারা ২৩ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷

২৫৷ অবস্থা বিশেষে প্রশাসক নিয়োগ

২৫৷ (১) সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, এই অধ্যাদেশের ধারা ৩(৩) এর অধীন কোন পৌর-এলাকাকে সিটি কর্পোরেশন এলাকা ঘোষণা করিলে, সিটি কর্পোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত সিটি কর্পোরেশনের কার্যাবলী সম্পাদনের উদ্দেশ্যে একজন উপযুক্ত প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে৷ (২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, যথাযথ বলিয়া বিবেচিত হয় এমন সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত কমিটিকে প্রশাসকের কর্ম সম্পাদনে সহায়তা প্রদানের জন্য নিয়োগ করিতে পারিবে৷ (৩) প্রশাসক এবং কমিটির সদস্যবৃন্দ, যদি থাকে, যথাক্রমে মেয়র ও কাউন্সিলরের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবে৷

২৬৷ গেজেট নোটিফিকেশন

২৬৷ মেয়র বা কোন কাউন্সিলরের পদত্যাগ, অপসারণ বা অন্য কোন কারণে পদ শূন্য হইলে সরকার, উহা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করিবে৷

২৭৷ কর্পোরেশনকে ওয়ার্ডে বিভক্তিকরণ

২৭৷ (১) সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা কাউন্সিলর নির্বাচনের উদ্দেশ্যে কর্পোরেশনকে নির্ধারিত সংখ্যক ওয়ার্ডে বিভক্ত করিবার সুপারিশ করিবেন৷ (২) সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জনসংখ্যার সর্বশেষ পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে, প্রতিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডের সংখ্যা নির্ধারণ করিবে৷

২৮৷ সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ

২৮৷ সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, সীমানা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা, এবং, তাহাকে সহায়তা করিবার উদ্দেশ্যে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ করিবে৷

২৯৷ ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ৷

২৯৷ (১) ওয়ার্ডসমূহের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে, এলাকার অখণ্ডতা এবং, যতদূর সম্ভব, জনসংখ্যা বিন্যাসের প্রতি লক্ষ্য রাখিতে হইবে৷ (২) সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা ওয়ার্ডসমূহের সীমানা নির্ধারণকল্পে প্রয়োজনীয় তদন্ত অনুষ্ঠান করিতে ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করিতে এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিষয়ে প্রাপ্ত সকল আপত্তি ও পরামর্শ বিবেচনা করিতে পারিবেন; এবং কর্পোরেশনের কোন এলাকা কোন ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত হইবে তাহা উল্লেখ করিয়া একটি প্রাথমিক ওয়ার্ড তালিকা প্রকাশ করিবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তৎসম্পর্কে আপত্তি ও পরামর্শ দাখিল করিবার আহবান জানাইয়া একটি নোটিশও প্রকাশ করিবেন৷ (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রাপ্ত কোন আপত্তি বা পরামর্শ বা প্রাথমিক ওয়ার্ড তালিকায় পরিলক্ষিত ত্রুটি বা বিচ্যুতি নিষ্পত্তি করা হইবে৷ (৪) সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা তদ্‌কর্তৃক গৃহীত আপত্তি বা পরামর্শের ভিত্তিতে কোন ত্রুটি বা বিচ্যুতি দূরীকরণের প্রয়োজনে, উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রকাশিত প্রাথমিক ওয়ার্ড তালিকায় প্রয়োজনীয় সংশোধন বা পরিবর্তন করিতে পারিবেন৷ (৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন কৃত সংশোধন বা পরিবর্তনের পর, সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা প্রত্যেক ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এলাকাসমূহ উল্লেখ করিয়া ওয়ার্ডসমূহের একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করৈবেন৷

৩০৷ সংরক্ষিত আসনের ওয়ার্ড সীমানা নির্ধারণ

৩০৷ সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর নির্বাচনের উদ্দেশ্যে, সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা- (ক) ধারা ২৭ এর অধীন কর্পোরেশনকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ওয়ার্ডে বিভক্তিকরণের সঙ্গে সঙ্গে ঐ সকল ওয়ার্ডকে এইরূপ সমন্বিত ওয়ার্ডরূপে চিহ্নিত করিবেন যেন এইরূপ সমন্বিত ওয়ার্ডের সংখ্যা সংরক্ষিত আসন সংখ্যার সমান হয়৷ (খ) সমন্বিত ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ধারা ২৯ এ বর্ণিত পদ্ধতি যথাসম্ভব অনুসরণ করিবেন৷

৩১৷ ভোটার তালিকা

৩১৷ (১) প্রত্যেক ওয়ার্ডের জন্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত একটি ভোটার তালিকা থাকিবে৷ (২) কোন ব্যক্তি কোন ওয়ার্ডের ভোটার তালিকাভুক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি তিনি- (ক) বাংলাদেশের নাগরিক হন; (খ) আঠার বৎসরের কম বয়স্ক না হন; (গ) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রিকৃতস্থ বলিয়া ঘোষিত না হন; এবং (ঘ) সেই ওয়ার্ডের বাসিন্দা হন বা বাসিন্দা বলিয়া গণ্য হন৷

৩২৷ ভোটাধিকার

৩২৷যাহার নাম কর্পোরেশনের কোন ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় লিপিবদ্ধ থাকিবে, তিনি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ভোট প্রদান করিতে পারিবেন৷

৩৩৷ মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচন

৩৩৷ (১) ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত প্রত্যেক কর্পোরেশনের মেয়র এবং ধারা ২৭ এর অধীন বিভক্ত প্রত্যেক ওয়ার্ড হইতে একজন করিয়া কাউন্সিলর এই অধ্যাদেশ ও তদধীন প্রণীত বিধি অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত হইবেন৷ (২) ধারা ৩০ এর দফা (ক) এর অধীন প্রত্যেক সমন্বিত ওয়ার্ড হইতে একজন করিয়া মহিলা কাউন্সিলর এই অধ্যাদেশ ও তদধীন প্রণীত বিধি অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত হইবেন৷

৩৪৷ নির্বাচনের সময়, ইত্যাদি

৩৪৷ (১) নিম্নবর্ণিত সময়ে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে, যথাঃ- (ক) এই অধ্যাদেশের অধীন কর্পোরেশন প্রথমবার গঠনের ক্ষেত্রে, এই অধ্যাদেশ বলবৎ হইবার পর একশত আশি দিনের মধ্যে; (খ) কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হইবার ক্ষেত্রে, উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্ববর্তী একশত আশি দিনের মধ্যে; (গ) কর্পোরেশনের গঠন বাতিলের ক্ষেত্রে, বাতিলাদেশ জারির পরবর্তী একশত আশি দিনের মধ্যে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন নির্বাচিত মেয়র অথবা কাউন্সিলর, কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যভার গ্রহণ করিতে পারিবেন না৷

৩৫৷ নির্বাচন পরিচালনা

[৩৫।(১) নিবার্চন কমিশন তদকতৃর্ক প্রণীত বিধি অনুসারে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর নিবার্চনের আয়োজন, পরিচালনা ও সম্পাদনা করিবে; এবং অনুরূপ বিধিতে নিম্নরূপ সকল বা যে কোন বিষয়ের বিধান করা যাইবে, যথাঃ- (ক) নিবার্চন পরিচালনার উদ্দেশ্যে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার নিয়োগ এবং তাহাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব; (খ) প্রার্থী মনোনয়ন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে হলফনামা দাখিল, মনোনয়নের ক্ষেত্রে আপত্তি এবং মনোনয়নপত্র বাছাই; (গ) প্রার্থীগণ কতৃর্ক প্রদেয় জামানত এমং উক্ত জামানত ফেরৎ প্রদান বা বাজেয়াপ্তকরণ; (ঘ) প্রার্থীপদ প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দ; (ঙ) প্রার্থীর এজেন্ট নিয়োগ; (চ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে নিবার্চন পদ্ধতি; (ছ) ভোট গ্রহণের তারিখ, সময় ও স্থান এবং নিবার্চন পরিচালনা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়; (জ) ভোট প্রদানের পদ্ধতি; (ঝ) ভোট বাছাই ও গণনা, ফলাফল ঘোষণা এবং সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় পদ্ধতি; (ঞ) ব্যালট পেপার এবং নিবার্চন সংক্রান্ত অন্যান্য কাগজপত্রের হেফাজত ও বিলিবন্টন; (ট) যে অবস্থায় ভোট গ্রহণ স্থগিত এবং পুনরায় ভোট গ্রহণ করা যায়; (ঠ) প্রার্থীর নিবার্চনী ব্যয় এবং এতদসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়; (ড) ভোটগ্রহণের দিন নিবার্চন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনরত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যের গ্রেফতার করিবার ক্ষমতা; (ঢ) নিবার্চনে দুর্নীতিমূলক বা অবৈধ কাযর্কলাপ ও অন্যান্য নিবার্চনী অপরাধ ও উহার দন্ড এবং প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের আচরণ বিধি ভঙ্গের দন্ড; (ণ) নিবার্চনী বিরোধ এবং উহার বিচার ও নিষ্পত্তি; (ত) অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ, ম্যাজিষ্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ, মামলার মেয়াদ সংক্রান্ত বিষয়াদি; (থ) গাড়ি হুকুম দখলের ক্ষমতা, নিবার্চন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বদলী, কতিপয় ক্ষেত্রে নিবার্চন কমিশনের ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখিরার ক্ষমতা এবং নিবার্চন পযবের্ক্ষক নিয়োগে নিবার্চন কমিশনের ক্ষমতা; এবং (দ) নিবার্চন সম্পর্কিত আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়। (২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঢ) এর ক্ষেত্রে বিধিতে কারাদন্ড, অর্থদন্ড বা উভয়বিধ দন্ড বা, ক্ষেত্রমত, প্রার্থিতা বাতিল সংক্রান্ত বিধান করা যাইবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, নিবার্চনী অপরাধের জন্য কারাদন্ডের মেয়াদ অন্যূন ছয় মাস এবং অনধিক সাত বৎসর এবং আচরণ বিধির কোন বিধান লংঘনের জন্য কারাদন্ডের মেয়াদ অনধিক ছয় মাস অথবা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকার অর্থ দন্ড বা উভয়বিধ দন্ডের বিধান করা যাইবে।]

৩৬৷ মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ

৩৬৷ মেয়র এবং কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত সকল ব্যক্তির নাম নির্বাচনের পর, নির্বাচন কমিশন, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারি গেজেটে প্রকাশ করিবে৷

৩৭৷ নির্বাচনী দরখাস্ত দাখিল

৩৭৷ (১) এই অধ্যাদেশের অধীন অনুষ্ঠিত কোন নির্বাচন বা গৃহীত নির্বাচনী কার্যক্রমের বিষয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ব্যতীত, কোন আদালত বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের নিকট কোন আপত্তি উত্থাপন করা যাইবে না৷ (২) কোন নির্বাচনের প্রার্থী ব্যতীত, অন্য কোন ব্যক্তি উক্ত নির্বাচন বা নির্বাচনী কার্যক্রম বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন ও প্রতিকার প্রার্থনা করিয়া নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করিতে পারিবেন না৷ (৩) এই অধ্যাদেশের ধারা ৩৮ এর অধীন গঠিত নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের নিকট নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্বাচনী অভিযোগপত্র পেশ করিতে হইবে৷ (৪) কোন আদালত - (ক) কর্পোরেশনের কোন মেয়র বা কাউন্সিলরের নির্বাচন মুলতবী রাখিতে; (খ) এই অধ্যাদেশের অধীন নির্বাচিত কোন কর্পোরেশনের মেয়র বা কাউন্সিলরকে তাহার দায়িত্ব গ্রহণে বিরত রাখিতে ; (গ) এই অধ্যাদেশের অধীন নির্বাচিত কোন কর্পোরেশনের মেয়র বা কাউন্সিলরকে তাহার কার্যালয়ে প্রবেশ করা হইতে বিরত রাখিতে - নিষেধাজ্ঞা জারি করিতে পারিবে না৷

৩৮৷ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন

৩৮৷ (১) এই অধ্যাদেশের অধীন নির্বাচন সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশন একজন উপযুক্ত পদমর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল এবং একজন উপযুক্ত পদমর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও একজন উপযুক্ত পদমর্যাদার নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করিবে৷ [(২) নিবার্চনী ফলাফল গেজেটে প্রকাশের ত্রিশ দিনের মধ্যে উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত নিবার্চনী ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা যাইবে এবং নিবার্চনী ট্রাইব্যুনাল কর্পোরেশনের নিবার্চন সংক্রান্ত যে কোন মামলা উহা দায়ের করিবার একশত আশি দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিবে। (৩) নিবার্চনী ট্রাইব্যুনাল কতৃর্ক মামলার রায় ঘোষণার ত্রিশ দিনের মধ্যে উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত নিবার্চনী আপীল ট্রাইব্যুনালে আপীল দায়ের করা যাইবে এবং নিবার্চনী আপীল ট্রাইব্যুনাল কর্পোরেশনের নিবার্চন সংক্রান্ত যে কোন আপীল দায়ের করিবার একশত আশি দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিবে।] (৪) নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে৷

৩৯৷ নির্বাচনী দরখাস্ত স্থানান্তর

৩৯৷ নির্বাচন কমিশন নিজ উদ্যোগে, অথবা এতদুদ্দেশ্যে কোন এক পক্ষের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে, মামলার যে কোন পর্যায়ে কোন নির্বাচনী দরখাস্ত বা নির্বাচনী আপিল এক ট্রাইব্যুনাল হইতে অন্য কোন নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে, বা ক্ষেত্রমত, নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করিতে পারিবে; এবং যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে বা নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে নির্বাচনী দরখাস্ত , বা ক্ষেত্রমত, নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে নির্বাচনী দরখাস্ত , অথবা নির্বাচনী আপিল দরখাস্ত স্থানান্তর করা হয়, সেই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল বা নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে, উক্ত দরখাস্ত, বা ক্ষেত্রমত, আপিল যে পর্যায়ে স্থানান্তর করা হইয়াছে, সেই পর্যায় হইতে উহার বিচারকার্য চলিতে থাকিবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, নির্বাচনী দরখাস্ত বা নির্বাচনী আপিল যে ট্রাইব্যুনাল বা নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হইয়াছে সেই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল অথবা নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল, উপযুক্ত মনে করিলে, ইতঃপূর্বে পরীক্ষিত কোন সাক্ষীকে পুনরায় তলব বা পরীক্ষা করিতে পারিবে৷

৪০৷ নির্বাচনী দরখাস্ত, আপিল, ইত্যাদি নিষ্পত্তি

৪০৷ নির্বাচনী দরখাস্ত ও আপিল দায়েরের পদ্ধতি, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্বাচন বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালসমূহের এখতিয়ার ও ক্ষমতা, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে প্রদেয় প্রতিকার এবং আনুষঙ্গিক সকল বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷

৪১৷ কর্পোরেশনের দায়িত্ব ও কার্যাবলী

৪১৷ (১) কর্পোরেশনের দায়িত্ব ও কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ- (ক) কর্পোরেশনের তহবিলের সংগতি অনুযায়ী তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত দায়িত্ব ও কার্যাবলী সম্পাদন করা; (খ) বিধি এবং সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অন্যান্য দায়িত্ব ও কার্যাবলী সম্পাদন করা; (গ) সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অন্য কোন দায়িত্ব বা কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করিলে উহা সম্পাদন করা৷ (২) মেয়র, স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং কাউন্সিলরগণ এই অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে, কর্পোরেশনের কার্য পরিচালনা করিবেন এবং কর্পোরেশনের নিকট যৌথভাবে দায়ী থাকিবেন৷ (৩) সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরগণের দায়িত্ব ও কার্যাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷

৪২৷ সরকারের নিকট কর্পোরেশনের কার্যক্রম হস্তান্তর, ইত্যাদি

৪২৷ এই অধ্যাদেশ অথবা আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার প্রয়োজনবোধে তদ্‌কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে - (ক) কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠান বা কার্যক্রম, সরকারের ব্যবস্থাপনায় বা নিয়ন্ত্রণে; এবং (খ) সরকার কর্তৃক পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠান বা কার্যক্রম কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় বা নিয়ন্ত্রণে- হস্তান্তর করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে৷

৪৩৷ কর্পোরেশননের বার্ষিক প্রশাসনিক প্রতিবেদন

৪৩৷ (১) কর্পোরেশন প্রত্যেক বৎসর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে কর্পোরেশনের কার্যক্রমের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে এবং পরবর্তী অর্থ বৎসরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উহা প্রকাশ করিবে; এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করিতে না পারিলে সরকার কর্পোরেশনের অনুকূলে অনুদান প্রদান স্থগিত রাখিতে পারিবে৷ (২) কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মেয়রের সহিত পরামর্শক্রমে, প্রশাসনিক প্রতিবেদনের খসড়া প্রস্তুত করিবে এবং উহা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কর্পোরেশনের সভায় উপস্থাপন করিবে৷ (৩) কমিশন কর্তৃক ক্ষমতাপ্রদত্ত কর্মকর্তা প্রত্যেক বৎসরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কর্পোরেশনের প্রশাসনিক প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ সমন্বিত আকারে সরকারের নিকট উপস্থাপন করিবে৷ (৪) সরকার উপ-ধারা (৩) অনুসারে প্রাপ্ত সমন্বিত বার্ষিক প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির নিকট উপস্থাপন করিবে৷

৪৪৷ নাগরিক সনদ প্রকাশ

৪৪৷ (১) কর্পোরেশন “নাগরিক সনদ” শীর্ষক দলিলের মাধ্যমে নাগরিক সেবা প্রদানের বিবরণ, সেবা প্রদানের শর্তসমূহ এবং সেবা প্রদানের নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিতকরণের বিবরণ প্রকাশ করিবে৷ (২) নাগরিক সনদ প্রতি বৎসরের অন্যূন একবার হালনাগাদ করিতে হইবে৷ (৩) সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, কর্পোরেশনের জন্য আদর্শ নাগরিক সনদ সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রণয়ন করিতে পারিবে৷ (৪) প্রতিটি কর্পোরেশন সরকার ও কমিশনের অবগতিতে সংশ্লিষ্ট নাগরিক সনদের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিবর্ধন করৈতে পারিবে৷ (৫) নাগরিক সনদে নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথাঃ- (ক) প্রতিটি সেবার নির্ভুল ও স্বচ্ছ বিবরণ; (খ) সেবা প্রদানের মূল্য; (গ) সেবা গ্রহণ ও দাবী করা সংক্রান্ত যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া; (ঘ) সেবা প্রদানের নির্দিষ্ট সময়সীমা; (ঙ) নাগরিকদের সেবা সংক্রান্ত দায়িত্ব; (চ) সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা; (ছ) সেবা প্রদান সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া; এবং (জ) সনদে উল্লিখিত অঙ্গীকার লংঘনের ফলাফল৷

৪৫৷ উন্নততর তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার

৪৫৷ (১) প্রত্যেক কর্পোরেশন- (ক) নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে উন্নততর তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করিবে; (খ) উপরি-উক্ত উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, সরকার আর্থিক ও কারিগরী সাহায্যসহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করিবে; এবং (গ) তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বীয় প্রতিষ্ঠানের নাগরিক সনদে বর্ণিত আধুনিক সেবা সংক্রান্ত বিষয় ব্যতীত, সরকারিভাবে প্রদত্ত সকল সেবার বিবরণ নাগরিকদের জ্ঞাত করিবার ব্যবস্থা করিবে৷

৪৬৷ নির্বাহী ক্ষমতা ও কার্য পরিচালনা

৪৬৷ (১) এই অধ্যাদেশ এবং তদধীন প্রণীত বিধিতে ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকিলে, দৈনন্দিন কার্যাবলীসহ কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে সম্পাদনের দায়িত্ব মেয়র, ও ক্ষেত্রমত, অন্যান্য কর্মকর্তাগণের উপর বর্তাইবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্পোরেশনের দৈনন্দিন নির্বাহী ক্ষমতা মেয়রের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী দ্বারা প্রযুক্ত হইবে৷ (৩) কর্পোরেশনের নির্বাহী বা অন্য কোন কার্য কর্পোরেশনের নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে৷ (৪) কর্পোরেশনের দৈনন্দিন সেবা প্রদানমূলক দায়িত্ব ত্বরান্বিত করিবার উদ্দেশ্যে উপ-ধারা (২) এর অধীন নির্বাহী ক্ষমতা অর্পণের প্রস্তাব কর্পোরেশনের সভায় অনুমোদিত হইবে এবং প্রয়োজনবোধে, সময়ে সময়ে, উহা সংশোধনের এখতিয়ার কর্পোরেশনের থাকিবে৷ (৫) কর্পোরেশন কার্যবণ্টন এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সম্পর্কে প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷

৪৭৷ সিটি কর্পোরেশনের এলাকাকে অঞ্চলে বিভক্তিকরণ

৪৭৷ (১) কর্পোরেশনের দৈনন্দিন এবং অন্যান্য সেবামূলক কার্য পরিচালনা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, কর্পোরেশনের এলাকা, প্রয়োজন অনুযায়ী, অঞ্চলে বিভক্ত করিতে পারিবে৷ (২) প্রত্যেক অঞ্চলে একটি করিয়া আঞ্চলিক কার্যালয় থাকিবে এবং অঞ্চলভুক্ত ওয়ার্ডসমূহের সকল নির্বাচিত কাউন্সিলরগণের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আঞ্চলিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে৷ (৩) আঞ্চলিক কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কাউন্সিলরগণের মধ্য হইতে ঘুর্ণায়মান পদ্ধতিতে একজন কাউন্সিলর সভাপতির দায়িত্ব পালন করিবেন৷

৪৮৷ কার্য সম্পাদন

৪৮৷ কর্পোরেশনের সকল কার্য নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে উহার বা উহার স্থায়ী কমিটিসমূহের সভায় অথবা মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্তৃক সম্পাদিত হইবে৷

৪৯৷ কর্পোরেশনের সভা

৪৯৷ (১) মেয়র ও অন্যান্য কাউন্সিলরগণের শপথ গ্রহণের ত্রিশ দিনের মধ্যে, অথবা কর্পোরেশন পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে, বিদ্যমান কর্পোরেশনের মেয়াদ উত্তীর্ণের ত্রিশ দিনের মধ্যে, যাহা পরে হয়, কর্পোরেশন উহার প্রথম সভা অনুষ্ঠান করিবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সভা সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার জারীকৃত নোটিশে অনুষ্ঠিত হইবে৷ (৩) কর্পোরেশন প্রতিমাসের প্রথম সপ্তাহে যে কোন কার্য দিবসে অন্যূন একবার সভায় মিলিত হইবে এবং সভার তারিখ অব্যবহিত পূর্ববর্তী সভায় নির্ধারিত হইবে৷ (৪) কর্পোরেশনের কোন সভায় পরবর্তী সভার তারিখ ও সময় নির্ধারিত না হইয়া থাকিলে, অথবা অব্যবহিত পূর্ববর্তী সভায় নির্ধারিত কোন সভার তারিখ ও সময়ে কর্পোরেশনের সভা অনুষ্ঠিত না হইলে সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশনের মেয়র স্বীয় বিবেচনা অনুযায়ী কর্পোরেশনের সভা আহ্বান করিবেন৷ (৫) কর্পোরেশনের ৫০% সদস্য তলবী সভা আহবানের জন্য মেয়রের বরাবরে লিখিত অনুরোধ জানাইলে তিনি পনের দিবসের মধ্যে অনুষ্ঠেয় একটি সভার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করিয়া সভা অনুষ্ঠানের কমপক্ষে সাত দিবস পূর্বে কর্পোরেশনের কাউন্সিলরগণকে নোটিশ প্রদান করিবেন৷ (৬) মেয়র উপ-ধারা (৫) এর অধীন তলবী সভা আহবান করিতে ব্যর্থ হইলে পূর্বোক্ত কাউন্সিলরগণ দশ দিবসের মধ্যে অনুষ্ঠেয় সভা আহবান করিয়া অন্যুন সাত দিবস পূর্বে কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরগণকে নোটিশ প্রদান করিবেন এবং এইরূপ সভা কর্পোরেশনের কার্যালয়ে স্থিরীকৃত তারিখে অফিস চলাকালীন সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে৷ (৭) তলবী সভায় নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত একজন পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকিতে পারিবেন এবং উক্তরূপ তলবী সভা পরিচালনা ও সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত প্রতিবেদন সভা অনুষ্ঠানের সাত দিবসের মধ্যে দাখিল করিতে হইবে৷ (৮) মেয়র অথবা তাহার অনুপস্থিতিতে তাহার দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি, প্রয়োজন মনে করিলে, যে কোন সময় কর্পোরেশনের সভা আহবান করিতে পারিবেন৷ (৯) কাউন্সিলরগণের মোট সংখ্যার অন্যুন এক-তৃতীয়াংশের উপস্থিতিতে কর্পোরেশনের সভার কোরাম গঠিত হইবে৷ (১০) এই অধ্যাদেশে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, কর্পোরেশনের সভায় সকল সিদ্ধান্ত উপস্থিত কাউন্সিলরগণের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হইবে৷ (১১) প্রত্যেক কাউন্সিলরের একটি করিয়া ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতির একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট থাকিবে৷ (১২) কর্পোরেশনের সভায় মেয়র, অথবা তাহার অনুপস্থিতিতে, ধারা ২১ এর অধীন তাহার দায়িত্বপালনকারী কাউন্সিলর, অথবা উভয়ের অনুপস্থিতিতে, উপস্থিত কাউন্সিলরগণ কর্তৃক নির্বাচিত কোন কাউন্সিলর সভাপতিত্ব করিবেন৷ (১৩) কোন প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হইয়াছে বা হয় নাই তাহা সভাপতি উক্ত সভায় স্পষ্ট করিয়া জানাইয়া দিবেন৷ (১৪) সভার আলোচ্যসূচিতে কারিগরি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোন বিশেষজ্ঞের মতামত প্রয়োজন হইলে কর্পোরেশন উক্ত বিষয় বা বিষয়সমূহে মতামত প্রদানের জন্য এক বা একাধিক বিশেষজ্ঞকে সভায় আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে৷ (১৫) নিম্নবর্ণিত সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশনের আমন্ত্রণে উহার সভায় যোগদান করিবেন এবং সভার আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করতঃ বক্তব্য প্রদান করিতে পারিবেন, তবে তাহাদের কোন ভোটাধিকার থাকিবে নাঃ (অ) ঢাকা সিটি কর্পোরেশন- (ক) বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা বিভাগ, ঢাকা; (খ) চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; (গ) চেয়ারম্যান, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ; (ঘ) প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর; (ঙ) প্রধান প্রকৌশলী, স্থাপত্য অধিদপ্তর; (চ) প্রধান প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর; (ছ) প্রধান প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর; (জ) প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর; (ঝ) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড ; (ঞ) মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; (ট) মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার; (ঠ) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড; (ড) চেয়ারম্যান ঢাকা বিদ্যুত্ বিতরণ কর্তৃপক্ষ; (ঢ) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড; (ণ) চেয়ারম্যান ঢাকা বিদ্যুত্ বিতরণ কোম্পানী; (ত) মহাপরিচালক,ফায়ার-সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স; (থ) জেলা প্রশাসক, ঢাকা; (দ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ; (ধ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তিতাস গ্যাস৷ (আ) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন- (ক) বিভাগীয় কমিশনার, চট্রগ্রাম বিভাগ, চট্রগ্রাম; (খ) মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার; (গ) চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ; (ঘ) চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; (ঙ) জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম; (চ) মহাব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড ; (ছ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর; (জ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর; (ঝ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর; (ঞ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর; (ট) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড; (ঠ) পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; (ড) নির্বাহী প্রকৌশলী, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ; (ঢ) প্রতিনিধি, ফায়ার-সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স৷ (ই) রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন- (ক) বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী বিভাগ, রাজশাহী; (খ) মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার; (গ) জেলা প্রশাসক, রাজশাহী; (ঘ) মহাব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড; (ঙ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর; (চ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর,; (ছ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর; (জ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর; (ঝ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড; (ঞ) পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; (ট) চেয়ারম্যান, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; (ঠ) নির্বাহী প্রকৌশলী, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ; (ড) প্রতিনিধি, ফায়ার-সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স৷ (ঈ) খুলনা সিটি কর্পোরেশন- (ক) বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা বিভাগ, খুলনা; (খ) মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার; (গ) জেলা প্রশাসক, খুলনা; (ঘ) মহা ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড; (ঙ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর; (চ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর; (ছ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর; (জ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর; (ঝ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড; (ঞ) পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; (ট) চেয়ারম্যান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; (ঠ) নির্বাহী প্রকৌশলী, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ; (ড) প্রতিনিধি, ফায়ার-সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স৷ (উ) বরিশাল সিটি কর্পোরেশন- (ক) বিভাগীয় কমিশনার,বরিশাল বিভাগ, বরিশাল; (খ) মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার; (গ) জেলা প্রশাসক, বরিশাল; (ঘ) মহাব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড; (ঙ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর; (চ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর; (ছ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর; (জ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর; (ঝ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড; (ঞ) পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; (ট) নির্বাহী প্রকৌশলী, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ; (ঠ) প্রতিনিধি, ফায়ার-সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স৷ (ঊ) সিলেট সিটি কর্পোরেশন- (ক) বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট বিভাগ, সিলেট; (খ) মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার; (গ) জেলা প্রশাসক, সিলেট; (ঘ) মহাব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড; (ঙ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর; (চ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর; (ছ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর; (জ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর; (ঝ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড; (ঞ) পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; (ট) নির্বাহী প্রকৌশলী, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ; (ঠ) প্রতিনিধি ফায়ার-সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স৷ (১৬) নূতন সিটি কর্পোরেশন গঠনের ক্ষেত্রে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সরকারি কর্মকর্তাগণ উক্ত সিটি কর্পোরেশনের আমন্ত্রণে উহার সভায় যোগদান করিবেন এবং সভার আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করতঃ বক্তব্য প্রদান করিতে পারিবেন, তবে তাহাদের ভোটাধিকার থাকিবে না৷

৫০৷ স্থায়ী কমিটি গঠন

৫০৷ (১) কর্পোরেশন প্রত্যেক বৎসর উহার প্রথম সভায়, অথবা যথাশ্রীঘ্র সম্ভব, তৎপরবর্তী কোন সভায় নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির প্রত্যেকটি সম্পর্কে একটি করিয়া স্থায়ী কমিটি গঠন করিবে যাহার মেয়াদ দুই বৎসর ছয় মাস হইবে এবং দুই বৎসর ছয় মাস পর নূতন করিয়া কমিটি গঠন করিতে হইবে, যথাঃ- (ক) অর্থ ও সংস্থাপন; (খ) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা; (গ) শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্যরক্ষা ব্যবস্থা; (ঘ) নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন; (ঙ) হিসাব নিরীক্ষা ও রক্ষণ; (চ) নগর অবকাঠামো নির্মাণ ও সংরক্ষণ; (ছ) পানি ও বিদ্যুত্; (জ) সমাজকল্যাণ ও কমিউনিটি সেন্টার; (ঝ) পরিবেশ উন্নয়ন কমিটি; (ঞ) ক্রীড়া ও সংস্কৃতি কমিটি; (ট) জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কমিটি৷ (২) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কর্পোরেশন প্রয়োজনবোধে অন্য কোন বিষয়ের জন্যও স্থায়ী কমিটি গঠন করিতে পারিবে৷ (৩) কর্পোরেশন প্রত্যেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করিবে এবং স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সদস্যগণ কাউন্সিলরগণের মধ্য হইতে কর্েপারেশনের সভায় নির্বাচিত হইবে, তবে কোন কাউন্সিলর একই সময়ে দুইটির অধিক স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং একটির অধিক স্থায়ী কমিটির সভাপতি হইবেন না৷ (৪) মেয়র পদাধিকারবলে সকল স্থায়ী কমিটির সদস্য হইবেন৷ (৫) স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেয়রের উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে সভাপতির পদ হইতে পদত্যাগ করিতে পারিবেন এবং মেয়র কর্তৃক পদত্যাগপত্র প্রাপ্তির তারিখ হইতে পদত্যাগ কার্যকর হইবে৷ (৬) কোন স্থায়ী কমিটির সভাপতি অথবা অন্য কোন সদস্যের পদ আকস্মিকভাবে শূন্য হইলে, তাহা উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত পদ্ধতিতে, নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করা হইবে এবং নবনির্বাচিত ব্যক্তি তাহার পূর্বসুরীর অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য তাহার পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন৷ (৭) কোন স্থায়ী কমিটি উহার উত্তরাধিকারী স্থায়ী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করিবে৷ (৮) কোন স্থায়ী কমিটির সভাপতি বা সদস্যের অনিবার্য কারণবশত দুই মাসের অধিক অনুপস্থিত থাকিবার সম্ভাবনা থাকিলে, পরিষদের সভায় অন্য কোন কাউন্সিলরকে উক্ত স্থায়ী কমিটির সংশ্লিষ্ট পদের দায়িত্ব প্রদানের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে৷ (৯) স্থায়ী কমিটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞকে আমন্ত্রণ জানাইয়া পরামর্শ গ্রহণ করিতে পারিবে৷

৫১৷ স্থায়ী কমিটির কার্যাবলী

৫১৷ (১) স্থায়ী কমিটির কার্যাবলী প্রবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, প্রবিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত কর্পোরেশনের সাধারণ সভায় স্থায়ী কমিটির কার্যাবলী নির্ধারণ করিবে৷ (২) স্থায়ী কমিটির সুপারিশ কর্পোরেশনের পরবর্তী সভায় বিবেচিত হইবে৷ (৩) স্থায়ী কমিটির সকল কার্যধারা কর্পোরেশনের সাধারণ সভার অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত হইবে৷

৫২৷ অন্যান্য কমিটি গঠন

৫২৷ কর্পোরেশন প্রয়োজনবোধে কাউন্সিলরগণের মধ্য হইতে অন্যান্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কমিটি গঠন করিতে পারিবে৷

৫৩৷ যে কোন ব্যক্তিকে কর্পোরেশনের কাজে সম্পৃক্তকরণ

৫৩৷ (১) কর্পোরেশন বা উহার কোন স্থায়ী কমিটি কিংবা কমিটি উহার যে কোন দায়িত্ব পালনের জন্য কোন ব্যক্তির সাহায্য বা পরামর্শের প্রয়োজনবোধ করিলে, উক্ত ব্যক্তিকে উহার কাজের সহিত সম্পৃক্ত করিতে পারিবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কর্পোরেশন বা কোন কমিটির সহিত সম্পৃক্ত ব্যক্তি উহার সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে তাহার ভোটাধিকার থাকিবে না৷

৫৪৷ কর্পোরেশনের সভায় জনসাধারণের প্রবেশাধিকার

৫৪৷ (১) সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলরগণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্পোরেশনের কোন সভা একান্তে অনুষ্ঠিত না হইলে উহার প্রত্যেক সভা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকিবে৷ (২) কর্পোরেশন প্রবিধান দ্বারা উহার সভায় জনসাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে৷

৫৫৷ কাউন্সিলরগণের ভোটদানের উপর বাধা-নিষেধ

৫৫৷ কর্পোরেশন বা উহার কোন কমিটির সভায়, কোন কাউন্সিলরের আচরণ সম্পর্কিত কোন বিষয়ের আলোচনায় অথবা তাহার আর্থিক স্বার্থ রহিয়াছে এইরূপ কোন বিষয়ে অথবা তাহার ব্যবস্থাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন আছে এইরূপ কোন সম্পত্তি বিষয়ক আলোচনায় উক্ত কাউন্সিলর অংশগ্রহণ বা ভোট দান করিবেন না৷

৫৬৷ সভার কার্য পদ্ধতি ও কার্য পরিচালনা

৫৬৷ এই অধ্যাদেশের বিধান সাপেক্ষে কর্পোরেশন উহার সভা এবং উহার স্থায়ী কমিটি কিংবা অন্যান্য কমিটির সভার কার্যপদ্ধতি ও কার্য পরিচালনার জন্য প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে; অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে নিযুক্ত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত হইবে- (ক) বাজেটের প্রাক্কলন স্থায়ী কমিটি কর্তৃক মতামত প্রদানের পর বাজেট সভায় অনুমোদিত হইবে; (খ) ধারা ৫৯ বর্ণিত যে কোন চুক্তি বিষয়ক সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করিবার পূর্বে সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির মতামত গ্রহণ করিতে হইবে৷

৫৭৷ সভার কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধকরণ

৫৭৷ (১) কর্পোরেশন এবং বিভিন্ন কমিটির কার্যবিবরণীতে উপস্থিত কাউন্সিলরগণের নাম উল্লেখ করিতে হইবে এবং পরবর্তী সভায় প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ, যদি থাকে, উহা অনুমোদিত হইতে হইবে এবং উক্ত কার্যবিবরণী একটি বাঁধাই করা বহিতে সংরক্ষণ করিতে হইবে৷ (২) অনুমোদনের ১৪ দিনের মধ্যে সভার কার্যবিবরণী কমিশন ও সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷ (৩) সিটি কর্পোরেশনের প্রত্যেকটি সভার কার্যবিবরণী কাউন্সিলরদের মধ্যে যথাসময়ে বিতরণ করিতে হইবে এবং যথাসম্ভব ওয়েবসাইটে প্রদান করিতে হইবে৷ (৪) কার্যবিবরণীর অবিকল নকল নির্ধারিত ফি এর বিনিময়ে প্রদান করা যাইবে৷

৫৮৷ কার্যাবলী ও কার্যধারা বৈধকরণ

৫৮৷ (১) কোন পদ শূন্য ছিল অথবা কর্পোরেশন গঠন প্রক্রিয়ায় কোন ত্রুটি ছিল অথবা সভায় অংশগ্রহণ বা ভোট দানের যোগ্যতা ছিল না এইরূপ ব্যক্তি সভায় অংশগ্রহণ করিয়াছিল, কেবলমাত্র এই কারণে সিটি কর্পোরেশনের কোন কার্য বা সভার কার্যবিবরণী বেআইনী হইবে না৷ (২) এই অধ্যাদেশের অধীনে কৃত কোন কার্য বা গৃহীত কোন কার্যধারা সম্পর্কে কেবলমাত্র- (ক) কর্পোরেশন বা উহার কোন কমিটিতে কোন পদ শূন্যতার কারণে; অথবা (খ) কোন মামুলি ত্রুটি বা অনিয়মের কারণে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা চলিবে না৷ (৩) কর্পোরেশন অথবা উহার কোন কমিটির সভার কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধ ও স্বাক্ষরিত হইলে উক্ত সভা যথাযথভাবে আহবান করা হইয়াছে এবং পরিচালিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷

৫৯৷ চুক্তি

৫৯৷ (১) সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বা উহার পক্ষে সম্পাদিত সকল চুক্তি- (ক) কর্পোরেশনের সভায় অনুমোদিত হইবার পর চূড়ান্ত করিতে হইবে; (খ) কর্পোরেশনের নামে সম্পাদিত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশিত হইতে হইবে৷ (২) কোন চুক্তি সম্পাদনের অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিত কর্পোরেশনের সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চুক্তিটি সম্পর্কে সভাকে অবহিত করিবেন৷

৬০৷ পূর্ত কাজ

৬০৷ সরকার বিধি দ্বারা কর্পোরেশন কর্তৃক সম্পাদিতব্য সকল পূর্ত কাজের পরিকল্পনা, প্রাক্কলন, অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের বিধান করিবে৷

৬১৷ নথিপত্র, প্রতিবেদন, ইত্যাদি

৬১৷ কর্পোরেশন (ক) ইহার কার্যাবলীর সমুদয় নথিপত্র নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিবে; (খ) প্রতিবেদন এবং বিবরণী প্রণয়ন ও প্রকাশ করিবে; (গ) সরকার বা কমিশন সময় সময় যেইরূপ নির্ধারণ করিবে সেইরূপ তথ্যাবলী প্রকাশ করিবে৷

৬২৷ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা

৬২৷ (১) কর্পোরেশনের একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকিবেন এবং তিনি সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট শর্তে নিযুক্ত হইবেন৷ (২) এই অধ্যাদেশ ও বিধিতে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্পোরেশনের সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং প্রশাসন পরিচালনার জন্য দায়ী থাকিবেন৷ (৩) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীয় ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মেয়রের নিকট দায়ী থাকিবেন৷ (৪) কর্পোরেশনের বিশেষ সভায় উপস্থিত কাউন্সিলরগণের মোট সংখ্যার তিন-পঞ্চমাংশের ভোটে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের জন্য প্রস্তাব গৃহীত হইলে সরকার তাহাকে তাহার পদ হইতে প্রত্যাহার করিবে৷

৬৩৷ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিশেষ ক্ষমতা

৬৩৷ কোন দুর্ঘটনাবশতঃ বা দুর্ঘটনার সম্ভাবনার কারণে অথবা অদৃষ্টপূর্ব কোন ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে, কর্পোরেশনের সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হইলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে অথবা জনজীবন বিপন্ন হইলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাথে সাথে উহা মেয়রকে জানাইবেন এবং যুক্তিসংগত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যোগাযোগ সম্ভব না হইলে তিনি তাহার বিবেচনামতে উপযুক্ত ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন ও তৎসম্পর্কে অবিলম্বে কর্পোরেশন কিংবা সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির নিকট প্রতিবেদন পেশ করিবেন এবং উক্ত প্রতিবেদনে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের কারণ এবং তজ্জন্য যদি খরচ হইয়া থাকে বা হইতে পারে তাহাও উল্লেখ করিবেন৷

৬৪৷ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সভা সম্পর্কিত অধিকার

৬৪৷ (১) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্পোরেশন বা উহার যে কোন কমিটির সভায় উপস্থিত থাকিতে এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন৷ (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতির অনুমতিক্রমে কোন বিষয়ে বিবৃতি বা ব্যাখ্যা প্রদান এবং কোন বিষয়ের আইনগত অবস্থা সম্পর্কে সভাকে অবহিত করিবেন৷ (৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভোট দান বা প্রস্তাব উত্থাপন করিতে পারিবেন না৷ (৪) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্পোরেশনের সভার কার্যবিবরণী হেফাজতের জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী থাকিবেন৷

৬৫৷ সচিব

৬৫৷ (১) কর্পোরেশনের একজন সচিব থাকিবেন এবং তিনি সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট শর্তে নিযুক্ত হইবেন৷ (২) এই অধ্যাদেশ ও বিধিতে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে সচিব কর্পোরেশনের সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং নৈমিত্তিক প্রশাসন পরিচালনায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহায়তা করিবেন৷ (৩) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ শূন্য হইলে, কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোন কারণে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সচিব প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করিবেন৷

৬৬৷ কর্পোরেশননের কর্মকর্তা ও কর্মচারী

৬৬৷ কর্পোরেশনের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত বিধি প্রণয়ন করিবে৷

৬৭৷ শ্রমিক নিয়োজিত করা

৬৭৷ কর্পোরেশন, বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে এবং সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, তাৎক্ষণিক কোন জরুরী কার্য সম্পাদনের জন্য দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োজিত করিতে পারিবে৷

৬৮৷ কর্মকর্তা ও কর্মচারী বদলী

৬৮৷ সরকার কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালনের স্বার্থে কিংবা প্রশাসনিক প্রয়োজনে এক কর্পোরেশন হইতে অন্য কর্পোরেশনে বদলী করিতে পারিবে৷

৬৯৷ কর্পোরেশনের নির্বাচিত জন প্রতিনিধি ও কর্মকর্তা বা কর্মচারীগণের সম্পর্ক

৬৯৷ (১) সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের অধিকার ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে নির্বাচিত জন প্রতিনিধি এবং কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন বা কর্পোরেশনে ন্যস্তকৃত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ বিষয়ক একটি আচরণ বিধি (Code of Conduct) প্রণয়ন করিবে৷ (২) কর্পোরেশনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন বা কর্পোরেশনে ন্যস্তকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ পারসরিক সম্মান প্রদর্শন করিবেন এবং যে কোন প্রকার অশোভন আচরণ পরিহার করিবেন৷ (৩) কমিশন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধদের আচরণ-বিধি বহির্ভূত যে কোন অভিযোগ বিবেচনা করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ করিতে পারিবে ৷

৭০৷ কর্পোরেশনের তহবিল

৭০৷ (১) সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের নামে একটি তহবিল থাকিবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন তহবিলে নিম্নলিখিত অর্থ জমা হইবে, যথাঃ- (ক) কর্পোরেশন কর্তৃক ধার্যকৃত কর, উপ-কর, রেইট, টোল, ফিস এবং অন্যান্য দাবী বাবদ প্রাপ্ত অর্থ; (খ) কর্পোরেশনের উপর ন্যস্ত এবং তৎকতৃক পরিচালিত সকল সম্পত্তি হইতে প্রাপ্ত আয় বা মুনাফা; (গ) সরকার বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে প্রাপ্ত অনুদান; (ঘ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃক প্রদত্ত দান; (ঙ) কর্পোরেশনের উপর ন্যস্ত সকল ট্রাষ্ট হইতে প্রাপ্ত আয়; (চ) কর্পোরেশনের অর্থ বিনিয়োগ হইতে প্রাপ্ত মুনাফা; (ছ) অন্যান্য উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ; (জ) এই অধ্যাদেশের অধীন প্রাপ্ত অর্থদণ্ডের অর্থ।

৭১৷ তহবিল সংরক্ষণ, বিনিয়োগ, ইত্যাদি৷

৭১৷ (১) তহবিলে জমাকৃত অর্থ কোন সরকারি ট্রেজারীর কার্য পরিচালনাকারী কোন ব্যাংকে অথবা সরকার কর্তৃক নির্দেশিত অন্য কোন প্রকারে জমা রাখা হইবে৷ (২) কর্পোরেশন উহার তহবিলের কোন অংশ বিনিয়োগ করিতে পারিবে৷ (৩) কর্পোরেশন সরকারের নির্দেশক্রমে কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে পৃথক তহবিল গঠন করিতে পারিবে৷

৭২৷ তহবিলের প্রয়োগ

৭২৷ তহবিলের অর্থ নিম্নলিখিত খাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ব্যয় করা যাইবে, যথাঃ - (ক) কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের বেতন ও ভাতা প্রদান; (খ) এই অধ্যাদেশের অধীন তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়; (গ) এই অধ্যাদেশ বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইন বা অধ্যাদেশ দ্বারা ন্যস্ত কর্পোরেশনের দায়িত্ব সম্পাদন এবং কর্তব্য পালনের জন্য ব্যয়; (ঘ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ঘোষিত তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়৷

৭৩৷ তহবিলের উপর দায়

৭৩৷ (১) তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয় নিম্নরূপ হইবে, যথাঃ- (ক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং সিটি কর্পোরেশনের চাকরিতে নিয়োজিত সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রদেয় অর্থ; (খ) নির্বাচন পরিচালনার হিসাব নিরীক্ষা বা অন্য কোন বিষয়ের জন্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদেয় অর্থ; (গ) কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত কোন রায়, ডিক্রি বা রোয়েদাদ কার্যকর করিবার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোন অর্থ; (ঘ) সরকার কর্তৃক দায়যুক্ত বলিয়া ঘোষিত অন্য যে কোন ব্যয়৷ (২) তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়ের খাতে যদি কোন অর্থ অপরিশোধিত থাকে, তাহা হইলে যে ব্যক্তির হেফাজতে উক্ত তহবিল থাকিবে সেই ব্যক্তিকে সরকার, আদেশ দ্বারা, উক্ত তহবিল হইতে যতদূর সম্ভব ঐ অর্থ পরিশোধ করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে৷

৭৪৷ বাজেট মঞ্জুরী বহির্ভূত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বাধা

৭৪৷ কর্পোরেশনের চলতি বাজেটে কোন ব্যয় অনুমোদিত না থাকিলে এবং উহাতে পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত না থাকিলে, উহা হইতে কোন অর্থ ব্যয় করা যাইবে নাঃ তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৭৬ অনুযায়ী ব্যয়িত অর্থের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না৷

৭৫৷ কর্পোরেশন তহবিল হইতে জনস্বার্থে অর্থ ব্যয়

৭৫৷ (১) বিশেষ উদ্দেশ্যে সরকারের অর্থ বরাদ্দের প্রেক্ষিতে, মেয়র, জনস্বার্থে যে কোন জরুরী কার্য সম্পাদন করিতে পারিবেন; এবং তিনি কর্পোরেশনের নিয়মিত কার্যে কোন প্রকার বাঁধার সৃষ্টি না করিয়া, যতদূর সম্ভব, উক্ত কার্য সম্পাদনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ কর্পোরেশনের তহবিল হইতে ব্যয় করিতে পরিবেন৷ (২) অনুরূপভাবে সম্পাদিত কার্যের খরচ সরকার বহন করিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অর্থ কর্পোরেশন তহবিলে জমা হইবে৷ (৩) মেয়র এই ধারার অধীন গৃহীত যাবতীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে কর্পোরেশনকে অবহিত করিবেন৷ (৪) সরকার কোন কর্পোরেশন এলাকায় পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার দায়িত্ব পালনার্থে পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন আইন, ১৯৯৬ (১৯৯৬ সনের ৬ নং আইন) এর অধীন ’পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ’ প্রতিষ্ঠা করিলে উক্তরূপ প্রতিষ্ঠিত পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে কার্য পরিচালনার জন্য কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় অর্থ অনুদান হিসাবে প্রদান করিতে পারিবে৷

৭৬৷ বাজেট

৭৬৷ (১) কর্পোরেশন প্রতি বৎসর পহেলা জুনের পূর্বে উহার পরবর্তী আসন্ন অর্থ বৎসরের প্রাক্কলিত আয়-ব্যয়ের একটি বিবরণ নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রস্তুত ও অনুমোদন করিবে, যাহা অতঃপর বাজেট বলিয়া অভিহিত হইবে, এবং কর্পোরেশন উহার একটি প্রতিলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে৷ (২) কর্পোরেশন পহেলা জুনের পূর্বে উহা উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত পদ্ধতিতে যদি উহার বাজেট প্রস্তুত ও অনুমোদন না করে, তাহা হইলে সরকার প্রয়োজনীয় বিবরণ প্রস্তুত ও প্রত্যয়ন করাইতে পারিবে, এবং অনুরূপভাবে প্রত্যয়িত বিবরণ কর্পোরেশনের অনুমোদিত বাজেট বলিয়া গণ্য হইবে৷ (৩) সরকার উপ-ধারা (১) অনুযায়ী বাজেটের প্রতিলিপি প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে আদেশ দ্বারা উহা পরিবর্তন করিতে পারিবে এবং অনুরূপভাবে পরিবর্তিত বাজেট কর্পোরেশনের অনুমোদিত বাজেট বলিয়া গণ্য হইবে৷ (৪) কোন অর্থ বৎসর শেষ হইবার পূর্বে উক্ত বৎসরের জন্য যে কোন সময়ে সংশোধিত বাজেট প্রস্তুত ও অনুমোদন করা যাইবে, এবং উক্ত সংশোধিত বাজেট, যথাসম্ভব, এই ধারার বিধান সাপেক্ষে হইবে৷

৭৭৷ হিসাব৷

৭৭৷ (১) কর্পোরেশনের আয় ও ব্যয়ের হিসাব নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিতে হইবে৷ (২) প্রতি অর্থ বৎসরের শেষে একটি বার্ষিক হিসাব-বিবরণী প্রস্তুত করিতে হইবে ও উহা পরবর্তী অর্থ বৎসরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত ছকে কমিশনের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং কমিশন মতামতসহ সমন্বিত প্রতিবেদন নির্ধারিত ছকে সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে৷ (৩) কর্পোরেশন উপ-ধারা (২) এর অধীনে প্রস্তুতকৃত বার্ষিক হিসাব বিবরণীর একটি প্রতিলিপি সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উহার কার্যালয়ের কোন প্রকাশ্য স্থানে টাংগাইয়া দিবে এবং উক্ত বিষয়ে জনসাধারণের নিকট হইতে প্রাপ্ত সকল আপত্তি ও পরামর্শ বিবেচনা করিবে৷

৭৮৷ হিসাব নিরীক্ষা

৭৮৷ (১) কর্পোরেশনের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিরীক্ষিত হইবে৷ (২) সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, নিরীক্ষা বিষয়ক ব্যবস্থাপনার বিধি প্রণয়ন করিবে, যাহাতে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথাঃ- (ক) নিরীক্ষা প্রতিবেদন সংক্রান্ত সময়সীমা; (খ) হিসাব পত্রের গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি বা অনিয়ম; (গ) অর্থ বা সম্পত্তির কোনরূপ ক্ষতি বা অপচয়; (ঘ) নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপর ব্যবস্থা গ্রহণের সময়সীমাসহ অন্যান্য করণীয় বিষয়াবলী; (ঙ) অবৈধভাবে অর্থ প্রদানকারী বা অর্থ প্রদান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট সুপারিশ; (চ) হিসাব পত্রের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা; (ছ) হিসাব পত্রের বিশেষ নিরীক্ষা৷ (৩) নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ কর্পোরেশনের হিসাব সংক্রান্ত যাবতীয় বহি ও অন্যান্য দলিল দেখিতে পারিবে এবং প্রয়োজনবোধে মেয়র, যেকোন কাউন্সিলর বা কর্পোরেশনের যেকোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবে৷ (৪) হিসাব নিরীক্ষার পর নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ সরকারের নিকট একটি নিরীক্ষা-প্রতিবেদন দাখিল করিবে এবং উহাতে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির উল্লেখ থাকিবে, যথাঃ- (ক) অর্থ আত্মসাৎ; (খ) কর্পোরেশনের তহবিলের লোকসান, অপচয় এবং অপপ্রয়োগ; (গ) হিসাব রক্ষণে অনিয়ম; (ঘ) নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের মতে যাহারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উক্ত আত্মসাৎ, লোকসান, অপচয়, অপপ্রয়োগ ও অনিয়মের জন্য দায়ী তাহাদের নাম৷

৭৯৷ ঋণ

৭৯৷ (১) কর্পোরেশন, সরকারের অনুমোদনক্রমে, এই অধ্যাদেশ, Local Authorities Loans Act, 1914 (IX of 1914) এবং আপাততঃ বলবৎ বিধি, প্রবিধান বা অন্য কোন বিধি-বিধান সাপেক্ষে, কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে এবং সরকারের সন্তুষ্টি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিস্তিতে উক্ত ঋণ পরিশোধের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে৷ (২) কর্পোরেশন উপ-ধারা (১) এর অধীন সংগৃহীত ঋণ পরিশোধের জন্য স্বীয় উদ্যোগে বা সরকারের নির্দেশক্রমে পৃথক তহবিল গঠন ও সংরক্ষণ করিতে পারিবে এবং সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, কর্পোরেশনের নির্দিষ্ট কোন খাতের আয় সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কোন ঋণ পরিশোধের জন্য নির্দিষ্ট রাখিতে এবং প্রয়োগ করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পরিবে৷

৮০৷ কর্পোরেশনের সম্পত্তি

৮০৷ (১) সরকার বিধি দ্বারা- (ক) কর্পোরেশনের মালিকানাধীন বা উহার উপর ন্যস্ত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য বিধান করিতে পারিবে; (খ) উক্ত সম্পত্তির হস্তান্তর নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে; (গ) এই অধ্যাদেশ কার্যকর করিবার উদ্দেশ্যে কর্পোরেশনের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাবর সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে অধিগ্রহণ করিতে পারিবে৷ (২) কর্পোরেশন- (ক) উহার মালিকানাধীন বা উহার উপর বা উহার তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত যে কোন সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ, পরিদর্শন ও উন্নয়ন করিতে পারিবে; (খ) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে উক্ত সম্পত্তি কাজে লাগাইতে পারিবে; (গ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, দান, বিক্রয়, বন্ধক, ইজারা বা বিনিময়ের মাধ্যমে বা অন্য কোন পন্থায় যে কোন সম্পত্তি অর্জন বা হস্তান্তর করিতে পারিবে; (ঘ) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকারের অনুমোদনক্রমে, কর্পোরেশনের সীমানার বাহিরেও সম্পত্তি অর্জনের আবশ্যক হইলে কর্পোরেশনের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়া সম্পত্তি অর্জন করিতে পারিবে৷ (৩) সরকার, কোন কর্পোরেশনকে উহার স্থানীয় ক্ষেত্রাধিকারের মধ্যে অবস্থিত কোন সরকারি সম্পত্তি হস্তান্তর করিয়া দিতে পারিবে ও ঐরূপ সম্পত্তি উক্ত কর্পোরেশনে বর্তাইবে এবং তদনুসারে উহার নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকিবে৷ (৪) কর্পোরেশন যথাযথ জরিপের মাধ্যমে উহার নিয়ন্ত্রণাধীন সকল সম্পত্তির বিবরণাদি প্রস্তুত করিয়া প্রতি বৎসর হালনাগাদ করিবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সম্পদের বিবরণী, মানচিত্র প্রস্তুত করিয়া উহার একটি প্রতিলিপি সরকার ও কমিশনের নিকট প্রেরণ করিবে৷ (৫) এই অধ্যাদেশ বা বিধির দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি উপেক্ষা বা লংঘন করিয়া যদি সম্পত্তি অর্জন, দখল ও নিষ্পত্তি করা হয়, তাহা হইলে উহা অবৈধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রদানকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ আইনতঃ দায়ী থাকিবে৷

৮১৷ কর্পোরেশনের নিকট দায়

৮১৷ মেয়র বা কাউন্সিলর বা কপোরেশনের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী অথবা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বা কর্পোরেশনের পক্ষে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রত্যক্ষ গাফিলতি বা অসদাচরণের কারণে কর্পোরেশনের কোন অর্থ বা সম্পদের লোকসান, অপচয় বা অপপ্রয়োগ হইলে, তিনি উহার জন্য দায়ী থাকিবেন, এবং যে পরিমাণ অর্থ বা সম্পদের জন্য তাহাকে দায়ী করা হইবে, সেই পরিমাণ অর্থ বা সম্পদ সরকারি দাবি (চঁনষরপ উবসধহফ) হিসাবে তাহার নিকট হইতে আদায়যোগ্য হইবে৷

৮২৷ কমিশনের অর্থ বিষয়ক সুপারিশ বাস্তবায়ন

৮২৷ অর্থ বিষয়ক নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকার, কমিশনের সুপারিশ বিবেচনা করিবে, যথাঃ- (ক) সরকারের বিভিন্ন উৎস হইতে প্রদত্ত কর বা ফিস ইত্যাদি প্রদানের হার বৃদ্ধি; (খ) সরকারি কোষাগার হইতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে আর্থিক অনুদান; (গ) কর্পোরেশনের আয়ের উৎস ও পরিমাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত ব্যবস্থা৷

৮৩৷ কর আরোপ

৮৩৷ কর্পোরেশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রবিধান দ্বারা চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত সকল অথবা যে কোন কর, উপ-কর, রেইট, টোল ও ফিস ইত্যাদি আরোপ করিতে পারিবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, কর্পোরেশন কর্তৃক চতুর্থ তফসিল বহির্ভুত কর আরোপের ক্ষেত্রে সরকার, কমিশনের পরামর্শ গ্রহণক্রমে সিদ্ধান্ত লইবে৷

৮৪৷ প্রজ্ঞাপন ও কর বলবত্করণ

৮৪৷ (১) কর্পোরেশন কর্তৃক আরোপিত সমুদয় কর, উপ-কর, রেইট, টোল ও ফিস সরকারি গেজেটে প্রকাশ করিতে হইবে এবং সরকার ভিন্নরূপ নির্দেশ প্রদান না করিলে তাহা প্রাক-প্রকাশনা সাপেক্ষ হইবে৷ (২) কোন কর, উপ-কর, রেইট, টোল ও ফিস উহার অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যে তারিখ হইতে কার্যকর হইবে বলিয়া নির্দেশ দিবে সেই তারিখ হইতে কার্যকর হইবে৷

৮৫৷ আদর্শ কর তফসিল

৮৫৷ সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, আদর্শ কর তফসিল প্রণয়ন করিবে এবং সিটি কর্পোরেশন, কর, উপ-কর, রেইট, টোল বা ফিস আরোপের ক্ষেত্রে উক্তরূপ প্রণীত আদর্শ কর তফসিল নমুনা হিসাবে অনুসরণ করিবে৷

৮৬৷ কর আরোপের ক্ষেত্রে নির্দেশাবলী

৮৬৷(১) সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, কর্পোরেশনকে - (ক) আরোপণীয় যে কোন কর, উপ-কর, রেইট, টোল অথবা ফিস আরোপ করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে; (খ) দফা (ক) এর অধীনে আরোপিত কোন কর ইত্যাদি হ্রাস বা বৃদ্ধি করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে; (গ) দফা (ক) এর অধীনে আরোপিত কোন কর ইত্যাদি হইতে কোন ব্যক্তি বা সম্পত্তিকে অব্যাহতি দিতে অথবা উহা স্থগিত রাখিতে বা প্রত্যাহার করিতে নির্দেশ দিতে পারিবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে প্রদত্ত কোন নির্দেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পালন করা না হইলে, সরকার স্বয়ং, আদেশ দ্বারা, উক্তরূপ নির্দেশ কার্যকর করিতে পারিবে৷

৮৭৷ কর সংক্রান্ত দায়

৮৭৷ (১) কোন ব্যক্তি বা জিনিসপত্রের উপর কর, উপ-কর, রেইট, টোল বা ফিস আরোপ করা যাইবে কিনা উহা নির্ধারণের প্রয়োজনে কর্পোরেশন নোটিশের মাধ্যমে, যে কোন ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করিতে বা এতদ্‌সংক্রান্ত দলিলপত্র, হিসাব বহি বা জিনিসপত্র দাখিল করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে৷ (২) এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্পোরেশনের যে কোন কর্মকর্তা, যথাযথ নোটিশ প্রদানের পর কোন কর ইত্যাদি আরোপযোগ্য কি না উহা যাচাই করিবার জন্য যে কোন ইমারত বা স্থানে প্রবেশ করিতে এবং যে কোন জিনিসপত্র পরিদর্শন করিতে পারিবেন৷

৮৮৷ কর সংগ্রহ ও আদায়

৮৮৷ (১) এই অধ্যাদেশের অধীনে আরোপিত কর, উপ-কর, রেইট, টোল ও ফিস নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হইবে৷ (২) এই অধ্যাদেশের অধীনে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক আরোপিত সকল কর, উপ-কর, রেইট, টোল এবং ফিস ও অন্যান্য অর্থ সরকারি দাবি হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে৷

৮৯৷ কর নিরূপণের বিরুদ্ধে আপত্তি

৮৯৷ এই অধ্যাদেশের অধীনে ধার্য কোন কর, উপ-কর, রেইট, টোল বা ফিস বা এতদ্‌সংক্রান্ত কোন সম্পত্তির মূল্যায়ন অথবা কোন ব্যক্তি কর্তৃক উহা প্রদানের দায়িত্ব সম্পর্কে কোন আপত্তি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে উত্থাপন করিতে হইবে৷

৯০৷ বেতনাদি হইতে কর কর্তন

৯০৷ কর্পোরেশন যদি কোন কর্ম বা বৃত্তির উপর কর আরোপ করে তাহা হইলে যে ব্যক্তি কর প্রদানের জন্য দায়ী সেই ব্যক্তির প্রাপ্য বেতন বা মঞ্জুরী হইতে উক্ত কর কর্তনের জন্য কর্পোরেশন তাহার নিয়োগকর্তাকে জানাইতে পারিবে এবং অনুরূপ অনুরোধ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা কর্পোরেশনের প্রাপ্য কর উক্ত ব্যক্তির বেতন বা মঞ্জুরী হইতে কর্তন করিবেন এবং তহবিলে জমা দিবেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ কর্তনকৃত অর্থ কোন ক্রমেই উক্ত ব্যক্তির বেতন বা মঞ্জুরীর পঁচিশ শতাংশের অধিক হইবে না৷

৯১৷ কর, ইত্যাদি আরোপণ পদ্ধতি

৯১৷ (১) কর্পোরেশন কর্তৃক আরোপিত সকল কর, উপ-কর, রেইট, টোল ও ফিস, ইত্যাদি নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে৷ (২) করদাতাগণের বাধ্যবাধকতার ব্যবস্থা এবং কর নির্ধারণ ও আদায়ের জন্য দায়িত্বসম্পন্ন কর্মকর্তাগণের বা অন্যান্য এজেন্সীর কর্তব্য ও ক্ষমতা সম্পর্কে বিধান করা যাইবে৷

৯২৷ কর্পোরেশনের বার্ষিক পরিচালনা প্রতিবেদন

৯২৷ (১) প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে কর্পোরেশন নির্ধারিত ফরমে পূর্ববর্তী বৎসরে সম্পাদিত উহার কার্যাবলীর উপর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন সরকার ও কমিশনের নিকট পেশ করিবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে উল্লিখিত প্রতিবেদনের প্রতিলিপি কর্পোরেশনের কার্যালয়ে বিক্রয়ের জন্য রাখিতে হইবে৷

৯৩৷ অপরাধ

৯৩৷ পঞ্চম তফসিলে বর্ণিত অপরাধসমূহ এই অধ্যাদেশের অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ হইবে৷

৯৪৷ দণ্ড

৯৪৷ এই অধ্যাদেশের অধীন যে সকল অপরাধের জন্য কোন দণ্ডের উল্লেখ উহাতে স্পষ্টভাবে নাই, তজ্জন্য অনধিক পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড প্রদান করা যাইবে, এবং এই অপরাধ যদি অনবরতভাবে ঘটিতে থাকে, তাহা হইলে প্রথম দিনের অপরাধের পর পরবর্তী প্রত্যেক দিনের জন্য অপরাধীকে অতিরিক্ত অনধিক পাঁচশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড প্রদান করা যাইবে৷

৯৫৷ অভিযোগ প্রত্যাহার

৯৫৷ মেয়রের অনুমোদনক্রমে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা এতদুদ্দেশ্যে কর্পোরেশন হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি, এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ প্রত্যাহার করিতে পারিবেন৷

৯৬৷ অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ

৯৬৷ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বা কর্পোরেশন হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোন আদালত, এই অধ্যাদেশের অধীন কোন অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিতে পারিবে না৷

৯৭৷ পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কর্তব্য

৯৭৷ এই অধ্যাদেশর অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আইনানুগ কর্তৃত্ব প্রয়োগে সহায়তা দান করা সকল পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে৷

৯৮৷ নথিপত্র, ইত্যাদি তলব

৯৮৷ সরকার বা কমিশন, যে কোন সময়, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট হইতে কোন নথিপত্র, চিঠিপত্র, পরিকল্পনা, দলিলপত্র, বিবরণ, বিবৃতি, পরিসংখ্যান, হিসাব এবং অন্য কোন তথ্য তলব করিতে পারিবে এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উহা সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবেন৷

৯৯৷ পরিদর্শন

৯৯৷ সরকার বা কমিশন, কর্পোরেশনের যে কোন কার্যালয় বা অফিস বা উহার যে কোন কার্য বা সম্পত্তি পরিদর্শন বা পরীক্ষার জন্য এবং তৎসম্পর্কে প্রতিবেদন পেশ করিবার জন্য যে কোন কর্মকর্তাকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদানপূর্বক প্রেরণ করিতে পারিবে এবং কর্পোরেশন বা উহার সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী ক্ষমতাপ্রাপ্ত উক্ত কর্মকর্তার চাহিদা মাফিক যুক্তিসঙ্গত সময়ে কর্পোরেশনের যে কোন অঙ্গন বা সম্পত্তিতে প্রবেশ করিবার বা উহা পরিদর্শন করিবার এবং যে কোন নথিপত্র, হিসাব-নিকাশ, দলিল-দস্তাবেজ বা অন্যান্য কাগজপত্র পরীক্ষা করিবার সুযোগ প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে৷

১০০৷ প্রশাসনিক ব্যাপারে সরকারের নির্দেশ

১০০৷ ধারা ৯৮ এর অধীনে প্রাপ্ত কোন কিছু এবং ধারা ৯৯ এর অধীনে প্রাপ্ত প্রতিবেদন অথবা কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার যদি মনে করে যে- (ক) কোন কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত কোন কার্য বে-আইনী বা নিয়ম বহির্ভূত বা ত্রুটিপূর্ণভাবে, অদক্ষভাবে, অপর্যাপ্তভাবে বা অনুপযুক্তভাবে পালন করা হইয়াছে, বা উহার উপর অর্পিত কোন দায়িত্ব পালন করা হয় নাই; অথবা (খ) কোন কর্পোরেশনের দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের ব্যবস্থা করা হয় নাই- তাহা হইলে সরকার, আদেশ দ্বারা, কর্পোরেশনকে উক্ত কার্য হইতে বিরত থাকিবার বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারের সন্তুষ্টি মোতাবেক উক্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন বা উক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের ব্যবস্থা করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে, এবং কর্পোরেশন উক্ত নির্দেশ পালন করিতে বাধ্য থাকিবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, সরকারের বিবেচনায় যদি উক্তরূপ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করিবার প্রয়োজন না হয় তাহা হইলে, সরকার উক্তরূপ আদেশ প্রদানের পূর্বে আদেশটি কেন দেয়া হইবেনা তাহার কারণ দর্শাইবার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশনকে সুযোগ দিবে৷

১০১৷ ধারা ১০০ এর অধীনে আদেশ কার্যকরীকরণ

১০১৷ ধারা ১০০ এর অধীনে প্রদত্ত আদেশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে উক্ত আদেশে উল্লিখিত কার্য যথাযথভাবে সম্পাদন করা না হইলে সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, অনুরূপ কার্য সম্পাদনের ব্যবস্থা করিতে পারিবে এবং তহবিল হইতে এই বাবদ সকল ব্যয় নির্বাহের নির্দেশ দিতে পারিবে৷

১০২৷ বে-আইনী কার্যক্রম বাতিল

১০২৷ সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত কোন কার্যক্রম এই অধ্যাদেশ বা বিধি বা প্রবিধান বা অন্য কোন আইন বা অধ্যাদেশের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিবেচনা করিলে অনুরূপ বিষয়ে কর্পোরেশনকে যথাযথ কারণ দর্শাইবার সুযোগ প্রদানপূর্বক, আদেশ দ্বারা উক্ত কার্যক্রম বাতিল করিতে পারিবে এবং উক্ত কার্যক্রম উক্ত আইন বা অধ্যাদেশ, বিধি বা প্রবিধানের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ করিবার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে৷

১০৩৷ কর্পোরেশনের কোন বিশেষ বিভাগ বা প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম সাময়িকভাবে স্থগিতকরণ

১০৩৷ (১) যদি প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং কমিশনের মতামত গ্রহণের পর, সরকার এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, কর্পোরেশন উহার কোন বিশেষ বিভাগ বা প্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করিতে অক্ষম, তাহা হইলে সরকার সরকারি গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা উক্ত বিভাগ বা প্রতিষ্ঠানের উপর কর্পোরেশনের কর্তৃত্ব, উক্ত আদেশে উল্লিখিত সময়ের জন্য স্থগিত রাখিতে পারিবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন স্থগিতকরণের পর সরকার, উক্ত বিভাগ বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার ভার নিজে গ্রহণ করিতে পারিবে অথবা উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, উহার পরিচালনার জন্য অন্য কোন ব্যবস্থাও গ্রহণ করিতে পারিবে; এবং কর্পোরেশনের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে তহবিলের হেফাজতকারী ব্যক্তিকে উক্ত বিভাগ বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ সরকারের হস্তে ন্যস্ত করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে৷

১০৪৷ কর্পোরেশনের রেকর্ড ইত্যাদি পরিদর্শনের ক্ষমতা

১০৪৷ (১) সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রদত্ত যে কোন সরকারি কর্মকর্তা কর্পোরেশনকে নিম্নরূপ নির্দেশ দিতে পারিবে, যথা:- (ক) কর্পোরেশনের হেফাজতে বা নিয়ন্ত্রণাধীন যে কোন রেকর্ড, রেজিস্টার বা অন্যান্য নথিপত্র উপস্থাপনঃ তবে শর্ত থাকে যে, প্রয়োজনে এ সকল রেকর্ড, রেজিস্টার বা নথিপত্রের ফটোকপি রাখিয়া মূল কপি নব্বই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশনে ফেরত দিতে হইবে; (খ) যে কোন রিটার্ন, প্লান, প্রাক্কলন, আয়-ব্যয় বিবরণী ইত্যাদি দাখিল; (গ) কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট যে কোন তথ্য বা প্রতিবেদন সরবরাহ; (ঘ) কর্পোরেশনের আয়ের উৎস হিসাবে কোন দাবি পরিত্যাগ বা কোন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করিয়া দেওয়ার পূর্বে সরকারের পূর্বানুমতি গ্রহণ৷ (২) সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত কোন সরকারি কর্মকর্তা যে কোন কর্পোরেশন এবং কর্পোরেশনের নথিপত্র, স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি, সমাপ্ত ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসহ যে কোন নিমার্ণ কাজ পরিদর্শন করিতে পারিবে৷ (৩) প্রত্যেক কর্পোরেশন, মেয়র ও কাউন্সিলরগণ এবং সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তা বা কর্মচারীগণ উপ-ধারা (১) অনুযায়ী নিযুক্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করিতে বাধ্য থাকিবেন৷

১০৫৷ কারিগরি তদারকি ও পরিদর্শন

১০৫৷ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে কোন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং তৎকর্তৃক মনোনীত কারিগরি কর্মকর্তাগণ কর্পোরেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন উক্ত বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ও নথিপত্র পরিদর্শন করিতে পারিবেন৷

১০৬৷ সরকারের দিক-নির্দেশনা প্রদান এবং তদন্ত করিবার ক্ষমতা

১০৬৷ (১) এই অধ্যাদেশে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার রাষ্ট্রীয় নীতিমালার সঙ্গে সংগতি রাখিয়া যে কোন সিটি কর্পোরেশনকে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা বা কর্মচারী ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন প্রকার প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রকল্পের উপকারভোগী নির্বাচন, কর্পোরেশন ও ওয়ার্ড সভার কার্যক্রম পরিচালনা, ইত্যাদি বিষয়ে দিক-নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে, এবং সিটি কর্পোরেশন বাধ্যতামূলকভাবে উক্তরূপ দিক-নির্দেশনা অনুসরণ করিবে৷ (২) কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন বা কোনরূপ আর্থিক অনিয়ম বা কর্পোরেশনের অন্য কোন অনিয়মের বিষয়ে প্রাপ্ত অভিযোগ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত এক বা একাধিক সরকারি কর্মকর্তা তদন্ত করিবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশন উক্ত তদন্ত কার্য পরিচালনায় সহযোগিতা করিবে৷ (৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী তদন্ত সম্পাদনের পর সরকার, প্রয়োজন মনে করিলে, এই অধ্যাদেশের বিধান সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তি, কর্মকর্তা, কর্মচারী বা কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে৷

১০৭৷ কর্পোরেশনের কর্মকর্তা বা কর্মচারীগণের বিরুদ্ধে গাফিলতির জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ

১০৭৷ যদি সরকারের নিকট এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, কোন কর্পোরেশনের কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই অধ্যাদেশ বা সরকারের অন্য কোন আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হইয়াছে, তাহা হইলে সরকার, লিখিত আদেশ দ্বারা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্তরূপ দায়িত্ব পালনের জন্য উক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে নির্দেশ দিতে পারিবে৷

১০৮৷ কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত, কার্যবিবরণী, ইত্যাদি বাতিল বা স্থগিতকরণ

১০৮৷ (১) সরকার স্বয়ং অথবা কর্পোরেশনের মেয়র বা কাউন্সিলর বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অন্য কোন ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্পোরেশনের যে কোন কার্যবিবরণী বা সিদ্ধান্ত বাতিল বা স্থগিত করিতে পারিবে, যদি উক্তরূপ সিদ্ধান্ত বা কার্যবিবরণী- (ক) আইন সংগতভাবে গৃহীত না হইয়া থাকে; (খ) এই অধ্যাদেশ বা অন্য কোন আইনের পরিপন্থী বা অপব্যবহারমূলক হইয়া থাকে; (গ) মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য, জননিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হুমকির সম্মুখীন অথবা দাঙ্গা বা ঝগড়া বিবাদের সৃষ্টি করে৷ (২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী কোন সিদ্ধান্ত বা কার্যবিবরণী বাতিল বা স্থগিত করিবার পূর্বে সরকার বিষয়টি কমিশনের নিকট প্রেরণ করিবে এবং কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশনকে যথাযথ শুনানির সুযোগ দিয়া সরকারের নিকট মতামতসহ একটি প্রতিবেদন দাখিল করিবে এবং সরকার উক্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশনের কার্যবিবরণী বা সিদ্ধান্ত বাতিল বা সংশোধন বা চূড়ান্ত করিবে৷ (৩) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী কর্পোরেশনের কোন সিদ্ধান্ত বা কার্যবিবরণী বাতিল বা সংশোধন করা প্রয়োজন মনে করিলে, সরকার সাময়িকভাবে উক্ত কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত স্থগিত করিতে পারিবে এবং উপ-ধারা (২) অনুযায়ী কমিশনের মতামত না পাওয়া পর্যন্ত উক্তরূপ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন স্থগিত রাখিবার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশনকে নির্দেশ দিতে পারিবে৷

১০৯৷ কর্পোরেশনের গঠন বাতিল ও পুনঃনির্বাচন

১০৯৷ (১) সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশনকে এই মর্মে যুক্তিসংগত কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদানপূর্বক, নিম্নবর্ণিত অভিযোগ তদন্ত করিয়া কোন কর্পোরেশনকে দায়ী মর্মে অভিমত পোষণ করিলে, সরকারি গেজেটে আদেশ প্রকাশের মাধ্যমে উক্ত কর্পোরেশনের গঠনকে বাতিল করিতে পারিবে, যথাঃ সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশন- (ক) উহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ অথবা ক্রমাগতভাবে উহার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইতেছে; অথবা (খ) উহার প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ; অথবা (গ) সাধারণতঃ জনস্বার্থ বিরোধী কাজ করিতেছে; অথবা (ঘ) উহার ক্ষমতার সীমা লংঘন বা ক্ষমতার অপব্যবহার করিয়াছে বা করিতেছে; অথবা (ঙ) যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে, তৎকর্তৃক আরোপিত বাৎসরিক কর, উপ-কর, রেইট, টোল, ফি এবং অন্যান্য চার্জ এর শতকরা পঁচাত্তর ভাগ, আদায়ে ব্যর্থ হইয়াছে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আদেশ প্রকাশিত হইলে- (ক) মেয়র এবং কাউন্সিলরগণ তাহাদের পদে আর বহাল থাকিবেন না; (খ) বাতিল থাকাকালীন সময়ে কর্পোরেশনের যাবতীয় দায়িত্ব সরকার কর্তৃক নিযুক্ত একজন প্রশাসক পালন করিবেন; (গ) উক্ত সময়ে কর্পোরেশনের সকল তহবিল ও সম্পত্তি সরকারের উপর ন্যস্ত থাকিবে; এবং (ঘ) এই অধ্যাদেশের ধারা ৩৪ এর উপ-ধারা (১)(গ) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশনের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য পুনঃনির্বাচন অনুষ্ঠান করিতে হইবে৷

১১০৷ স্থায়ী আদেশ

১১০৷ সময় সময় জারিকৃত স্থায়ী আদেশ দ্বারা, সরকার- (ক) কর্পোরেশনের সঙ্গে অন্যান্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে; (খ) কর্পোরেশন এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের কার্যাবলীর মধ্যে কাজের সমন্বয় সাধন করিতে পারিবে; এবং (গ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্পোরেশন কর্তৃক অনুসরণীয় সাধারণ দিক-নির্দেশনার বিধান করিতে পারিবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, এ সকল বিষয়ে সরকার কমিশনের পরামর্শ গ্রহণ ।

১১১৷ তথ্যাদি প্রাপ্তির অধিকার

১১১৷ (১) যে কোন নাগরিকের কর্পোরেশন সংক্রান্ত যে কোন তথ্যাদি নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রাপ্তির অধিকার থাকিবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, জনস্বার্থে এবং স্থানীয় প্রশাসনিক নিরাপত্তার স্বার্থে গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা যে কোনো রেকর্ড বা নথিপত্র সংরক্ষিত রেকর্ড হিসাবে বিশেষ শ্রেণীভুক্ত করিতে পারিবে ও কোনো নাগরিকের উক্তরূপ বিশেষ শ্রেণীভুক্ত রেকর্ড ও নথিপত্রের তথ্যাদি জানিবার অধিকার থাকিবে না এবং কর্পোরেশন এইরূপ রেকর্ড প্রাপ্তি সংক্রান্ত যে কোন আবেদন অগ্রাহ্য করিতে পারিবে৷ (৩) সরকার, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, কর্পোরেশনকে নাগরিকগণের নিকট সরবরাহযোগ্য কর্পোরেশন-সংক্রান্ত তথ্যাদির একটি তালিকা প্রকাশের জন্য আদেশ দিতে পারিবে৷ (৪) তথ্য সরবরাহের পদ্ধতি, ইত্যাদি বিষয়ে কর্পোরেশন প্রবিধান করিতে পারিবে৷

১১২৷ টিউটোরিয়াল স্কুল, কোচিং সেন্টার, ইত্যাদি নিবন্ধিকরণ

১১২৷ (১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার তারিখে বা তৎপর কর্পোরেশন এলাকায় কর্পোরেশনের নিবন্ধন ব্যতীত বেসরকারিভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিতব্য টিউটোরিয়াল স্কুল বা কোচিং সেন্টার চালু করা যাইবে না৷ (২) কর্পোরেশন এলাকায় বেসরকারিভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিতব্য টিউটোরিয়াল স্কুল বা কোচিং সেন্টার নিবন্ধনের জন্য কর্পোরেশন কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত ফিস জমা দিয়া মেয়র বরাবরে আবেদন করিতে হইবে এবং মেয়র বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রদত্ত কোন কর্মকর্তা, প্রয়োজনীয় তদন্ত করিয়া সন্তুষ্ট হইলে, কর্পোরেশনের সভার অনুমোদক্রমে, সংশ্লিষ্ট টিউটোরিয়াল স্কুল বা কোচিং সেন্টারকে নিবন্ধন করিবেন এবং, ক্ষেত্রবিশেষে, উহাদের মাসিক টিউটোরিয়াল বা কোচিং ফিস ধার্য করিয়া দিবেন৷ (৩) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার তারিখে যে সকল টিউটোরিয়াল স্কুল বা কোচিং সেন্টার চালু থাকিবে সেই সকল প্রতিষ্ঠান কর্পোরেশন কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মেয়র বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রদত্ত কোন কর্মকর্তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে, নিবন্ধিত বলিয়া গণ্য হইবে৷

১১৩৷ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ইত্যাদির নিবন্ধিকরণ

১১৩৷ (১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার তারিখে বা তৎপর কর্পোরেশনের এলাকায় কর্পোরেশনের নিবন্ধন ব্যতীত কোন প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার, প্যারামেডিক্যাল ইনস্টিটিউট, ইত্যাদি পরিচালনা করা যাইবে না৷ (২) সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধি-বিধান বা আদেশ অনুসরণপূর্বক কর্পোরেশন, কর্পোরেশনের এলাকায় কোন প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, প্যারামেডিক্যাল ইনস্টিটিউট, ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার, ইত্যাদি নিবন্ধন করিবে এবং নিবন্ধন ফিস আদায় করিতে পারিবে৷ (৩) এই অধ্যাদেশ জারি হইবার সময় যে সকল প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার, প্যারামেডিক্যাল ইনস্টিটিউট, ইত্যাদি চালু থাকিবে সেই সকল প্রতিষ্ঠান সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত বলিয়া গণ্য হইবে এবং এইবাবদ কোন নিবন্ধন ফিস আদায় করা যাইবেনা৷

১১৪৷ নিবন্ধিকরণে ব্যর্থতার দণ্ড

১১৪৷ কোন ব্যক্তি কর্পোরেশনের নিবন্ধন ব্যতীত কোন টিউটোরিয়াল স্কুল, কোচিং সেন্টার, প্রাইভেট হাসপাতাল বা প্যারামেডিক্যাল ইনস্টিটিউট, ইত্যাদি স্থাপন বা পরিচালনা করিলে অথবা উক্তরূপ প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিল করিবার পরও তাহা পরিচালনা অব্যাহত রাখিলে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উক্ত অর্থদণ্ড আরোপের তারিখের পরেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতাল পরিচালনা বন্ধ না করিলে প্রতিদিনের জন্য পাঁচশত টাকা হারে অতিরিক্ত অর্থদণ্ড দণ্ডণীয় হইবেন এবং কর্পোরেশন সুবিধাভোগী জনগণের অবগতির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া উক্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ করিয়া দিতে পারিবে৷

১১৫৷ কর্পোরেশনের অধীন নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক নবায়ন

১১৫৷ কর্পোরেশন উহার এখতিয়ারাধীন এলাকায় নিবন্ধিত ও পরিচালিত টিউটোরিয়াল স্কুল, কোচিং সেন্টার, প্রাইভেট হাসপাতাল, প্যারামেডিক্যাল ইনস্টিটিউট, ক্লিনিক, ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার, ইত্যাদি প্রত্যেক বৎসর কর্পোরেশন কর্তৃক ধার্যকৃত ফিস জমা প্রদানপূর্বক নবায়ন করিবে৷

১১৬৷ পুনঃনিবন্ধিকরণ

১১৬৷ এই অধ্যাদেশের অধীন কোন টিউটোরিয়াল স্কুল, কোচিং সেন্টার, প্রাইভেট হাসপাতাল, প্যারামেডিক্যাল ইনস্টিটিউট, ইত্যাদির নিবন্ধন বাতিল হইয়া উহা ধারা ১১৪ অনুযায়ী অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইলে অর্থদণ্ড প্রদানের ছয়মাসের মধ্যে দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থদণ্ডসহ, কারণ উল্লেখপূর্বক, পুনঃনিবন্ধনের জন্য আবেদন করিতে পারিবে এবং উক্ত আবেদন তদন্তপূর্বক সন্তোষজনক বিবেচিত হইলে কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পুনঃনিবন্ধন করিতে পারিবে৷

১১৭৷ আপিল

১১৭৷ এই অধ্যাদেশ, বিধি বা প্রবিধান অনুসারে প্রদত্ত কর্পোরেশন, উহার মেয়র বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কোন আদেশ দ্বারা সংক্ষুদ্ধ কোন ব্যক্তি নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনের নিকট আপিল করিতে পারিবেন; এবং এই আপিলের উপর কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং ইহার বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না৷

১১৮৷ ক্ষমতা অর্পণ

১১৮৷ (১) সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশ বা বিধির অধীনে উহার যে কোন ক্ষমতা বিভাগীয় কমিশনার বা উহার অধীনস্থ অন্য কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে৷ (২) কর্পোরেশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উহার যে কোন কার্য উহার যে কোন স্থায়ী কমিটিকে বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে৷ (৩) কোন স্থায়ী কমিটি, কর্পোরেশনের পূর্বানুমোদনক্রমে, উপ-ধারা (২) এর অধীন উহার উপর অর্পিত কার্য ছাড়া, তাহার যে কোন কার্য কর্পোরেশনের অন্য কোন কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে৷

১১৯৷ প্রকাশ্য রেকর্ড

১১৯৷ এই অধ্যাদেশের অধীনে প্রস্তুতকৃত এবং সংরক্ষিত যাবতীয় রেকর্ড এবং রেজিস্টার, সাক্ষ্য আইন (Evidence Act, 1872) এ যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে, সেই অর্থে প্রকাশ্য রেকর্ড (চঁনষরপ ফড়পঁসবহঃ) বলিয়া গণ্য হইবে৷

১২০৷ মেয়র, কাউন্সিলর ইত্যাদি জনসেবক

১২০৷ মেয়র, প্রত্যেক কাউন্সিলর, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং সিটি কর্পোরেশনের কার্য সম্পাদনের জন্য যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য ব্যক্তি দণ্ড বিধি (Penal Code, 1860) এর ধারা ২১ এ যে অর্থে জনসেবক (Public servant) অভিব্যক্তিটি ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক (Public servant) বলিয়া গণ্য হইবে৷

১২১৷ বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

১২১৷ (১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে- (ক) সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, দফা (খ) এর বিধান সাপেক্ষে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে; (খ) নির্বাচন কমিশন, মেয়র ও কাউন্সিলরের নির্বাচন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আচরণ, নির্বাচন বিরোধ, নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ, উক্তরূপ অপরাধের দণ্ড, প্রয়োগ এবং এতদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া সরকার ষষ্ট তফসিলে বর্ণিত বিষয়সমূহের যে কোন অথবা সকল বিষয়ে এবং যে সকল বিষয় প্রাসঙ্গিক ও পরিপূরক সেই সকল বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণযন করিতে পারিবে৷

১২২৷ প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

১২২৷ (১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই অধ্যাদেশের বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷ (২) বিশেষ করিয়া, এবং পূর্ববর্তী ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, অনুরূপ প্রবিধানে সপ্তম তফসিলে উল্লিখিত সকল বা যে কোন বিষয়ে প্রবিধান প্রণয়ন করা যাইবে৷

১২৩৷ উপ-আইন প্রণয়নের ক্ষমতা

১২৩৷ (১) কর্পোরেশন, সরকারের নির্দেশক্রমে, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই অধ্যাদেশ বা বিধি বা প্রবিধানের সহিত অসামাঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ উপ-আইন প্রণয়ন করিতে পারিবে৷ (২) বিশেষ করিয়া, এবং পূর্ববর্তী ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া অনুরূপ উপ-আইনে অষ্টম তফসিলে বর্ণিত যে কোন অথবা সকল বিষয়ে এবং যে সকল বিষয়ে ইহা প্রাসঙ্গিক ও পরিপূরক সে সকল বিষয়ে বিধান করা যাইবে৷

১২৪৷ সরল বিশ্বাসে কৃত কার্য রক্ষণ

১২৪৷ এই অধ্যাদেশ, বিধি বা প্রবিধানের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কার্যের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হইলে বা ক্ষতিগ্রস্থ হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সরকার, কর্পোরেশন বা উহাদের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না৷

১২৫৷ রহিতকরণ ও হেফাজত

১২৫৷ (১) এই অধ্যাদেশ বলবৎ হইবার সঙ্গে সঙ্গে- (ক) Chittagong City Corporation Ordinance, 1982 (XXXV of 1982); (খ) Dhaka City Corporation Ordinance, 1983 (XL of 1983); (গ) Khulna City Corporation Ordinance, 1984 (LXXII of 1984); (ঘ) রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন আইন, ১৯৮৭ (১৯৮৭ সনের ৩৮ নং আইন); (ঙ) সিলেট সিটি কর্পোরেশন আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ১০ নং আইন) এবং (চ) বরিশাল সিটি কর্পোরেশন আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ১১ নং আইন), অতঃপর, একত্রে বিলুপ্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, রহিত বলিয়া গণ্য হইবে৷ (২) বিলুপ্ত আইন উক্তরূপে রহিত হইবার পর- (ক) বিদ্যমান সিটি কর্পোরেশনসমূহ এই অধ্যাদেশের অধীন গঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে; (খ) বিদ্যমান সিটি কর্পোরেশন সমূহের কমিশনারগণ ’কাউন্সিলর’ হিসাবে অভিহিত হইবেন৷ (৩) বিলুপ্ত আইনের অধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধান ও উপ-আইন, এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত যথাক্রমে বিধি, প্রবিধান ও উপ-আইন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত আইনের অধীন জারীকৃত সকল আদেশ, প্রজ্ঞাপন বা নোটিশ এবং প্রদত্ত সকল লাইসেন্স, অনুমতি, আরোপিত কর, চুক্তি, ইত্যাদি এই অধ্যাদেশের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত, প্রদত্ত, জারিকৃত বা মঞ্জুরীকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷

১২৬৷ অসুবিধা দূরীকরণ

১২৬৷ এই অধ্যাদেশের বিধানাবলী কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, উক্ত অসুবিধা দূরীকরণার্থ, আদেশ দ্বারা, প্রয়োজনীয় যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, এই অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী কর্পোরেশন গঠিত হইবার তারিখ হইতে দুই বৎসর অতিক্রান্ত হইবার পর উক্তরূপ কোন আদেশ দেওয়া যাইবে না৷

১২৭৷ অধ্যাদেশের ইংরেজী পাঠ

১২৭৷ (১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের ইংরেজীতে অনূদিত একটি পাঠ প্রকাশ করিবে, যাহা এই অধ্যাদেশের নির্ভরযোগ্য ইংরেজী পাঠ (Authentic English Text) হইবে৷ (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ইংরেজী পাঠ এবং এই অধ্যাদেশের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশ প্রাধান্য পাইবে৷



Related Laws

সরকারি চাকরি আইন

প্রজাতন্ত্রের কর্মবিভাগ সৃজন ও পুনর্গঠন, একীকরণ, সংযুক্তকরণ এবং প্রজাতন্ত্রের…

উদ্বৃত্ত সরকারি কর্মচারি আত্তীকরণ আইন

The Surplus Public Servants Absorption Ordinance, 1985 (Ordinance No. XXIV of 1985) রহিতক্রমে উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে…

বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন

বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও তাহাদের জীবন-মান উন্নয়নের স্বার্থে…

সরকারি যানবাহন (ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ) আইন

The Official Vehicles (Regulastion of use) Ordinance, 1986 রহিতক্রমে সরকারি যানবাহনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণকল্পে…

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২ রহিতক্রমে কতিপয় সংশোধনীসহ উহা পুনঃ…

Blogs

Order Propecia Online Australia Levitra…
BranExcemia BranExcemia

Where Can I Get Free Viagra Samples Cialis Free Sample…
Williswors Williswors

Kamagra Generique Buy…
KennExopsyTS KennExopsyTS

cialis soft tabs 40 mg generic…
Vladnog Vladnog

cheap generic viagra buy…
Volodyanog Volodyanog