Your password is being change. Please wait ...

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন

Act - ৩০ Year - ২০১৮ Date - ২৯ জুলাই, ২০১৮

বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও সনদের সহিত সঙ্গতিপূর্ণক্রমে প্রবাসী ও তাহাদের উপর নির্ভরশীলদের সুরক্ষা ও কল্যাণ সাধনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রতিষ্ঠা এবং এতদ্‌সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন  

যেহেতু বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও সনদের সহিত সঙ্গতিপূর্ণক্রমে প্রবাসী ও তাহাদের উপর নির্ভরশীলদের সুরক্ষা ও কল্যাণ সাধনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রতিষ্ঠা এবং এতদ্‌সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; 

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে। 

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

২। সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে - 

(১) ‘‘অভিবাসী’’ অর্থ বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যিনি কোনো কাজ বা পেশায় নিযুক্ত হইবার উদ্দেশ্যে বিদেশে গমন করিয়াছেন এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রে অবস্থান করিতেছেন;

(২) ‘‘অভিবাসী কর্মী’’ অর্থ বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যিনি অন্য কোনো রাষ্ট্রে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে-

(ক) কর্মের উদ্দেশ্যে যাইবার প্রস্তুতি গ্রহণ করিয়াছেন বা গমন করিতেছেন বা করিয়াছেন;

(খ) কোনো কর্মে নিযুক্ত রহিয়াছেন; এবং

(গ) কোনো কর্মে নিযুক্ত থাকিবার পর বা নিযুক্ত না হইয়া বাংলাদেশে ফেরত আসিয়াছেন;

(৩) ‘‘তহবিল’’ অর্থ ধারা ১৪ এর অধীন গঠিত তহবিল;

(৪) ‘‘নির্ভরশীল’’ অর্থ অভিবাসীর স্ত্রী বা স্বামী এবং মাতা, পিতা, ক্ষেত্রমত, সন্তান, ভাই, বোন বা যাহারা উক্ত ব্যক্তির উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল;

(৫) ‘‘পরিচালনা পরিষদ’’ অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত পরিচালনা পরিষদ;

(৬) ‘‘প্রবাসী’’ অর্থ অভিবাসী ও অভিবাসী কর্মী;

(৭) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(৮) ‘‘বহির্গমন’’ অর্থ কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের দেশের বাহিরে গমন;

(৯) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(১০) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড;

(১১) ‘‘ব্যুরো’’ অর্থ Ministry of Health, Population Control and Labour এর স্মারক No. VIII/E-4/76/296, Dated 3-4-1976 দ্বারা প্রতিষ্ঠিত জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো;

(১২) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ বোর্ডের মহাপরিচালক;

(১৩) ‘‘রিক্রুটিং এজেন্ট’’ অর্থ বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৪৮ নং আইন) এর ধারা ৯ এর অধীন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি; এবং 

(১৪) ‘‘সভাপতি’’ অর্থ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি।

৩। আইনের প্রাধান্য

৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

৪। বোর্ড প্রতিষ্ঠা

৪। (১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড নামে একটি বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হইবে।

(২) বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং বোর্ড ইহার নিজ নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

৫। বোর্ডের কার্যালয়

৫। (১) বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।

(২) বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।

৬। সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন

৬। (১) বোর্ডের সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন পরিচালনা পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং পরিচালনা পরিষদের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে উক্ত ক্ষমতা মহাপরিচালক কর্তৃক প্রযুক্ত হইবে।

(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে প্রয়োজন ও সমীচীন মনে করিলে মহাপরিচালক, পরিচালনা পরিষদের অনুমতি সাপেক্ষে, তাহার যে কোনো ক্ষমতা ও দায়িত্ব অধীনস্থ কোনো কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবেন।

৭। পরিচালনা পরিষদ

৭। (১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ গঠিত হইবে, যথা :-

(ক) সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) মহাপরিচালক, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো;

(গ) অর্থ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ঘ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন মহাপরিচালক পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ঙ) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(চ) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ছ) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(জ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষাসেবা বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ঝ) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উহার অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ঞ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ ওভারসীজ এমপ্লয়মেন্ট এন্ড সার্ভিসেস লিমিটেড; 

(ট) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক মনোনীত উহার সংশ্লিষ্ট নির্বাহী পরিচালক পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি;

(ঠ) সভাপতি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সীস;

(ড) সরকার কর্তৃক মনোনীত বিদেশ হইতে প্রত্যাগত ৩ (তিন) জন অভিবাসী কর্মী, যাহাদের মধ্যে একজন নারী হইবেন;

(ঢ) মহাপরিচালক, যিনি উহার সদস্য সচিবও হইবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ড) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে যে কোনো সময়, কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, উক্তরূপ মনোনীত কোনো সদস্যকে সদস্য পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে এবং মনোনীত কোনো সদস্যও সরকারের উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করিতে পারিবেন।

৮। বোর্ডের কার্যাবলি

৮। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ডের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা :-

(১) প্রবাসীদের কল্যাণার্থে প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন;

(২) যুদ্ধাবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি লে-অফ বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুরবস্থা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতির কারণে অভিবাসী কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং, ক্ষেত্র বিশেষে, দেশে প্রত্যাবর্তনে সহায়তা প্রদান;

(৩) দেশে প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সুরক্ষা ও পুনর্বাসন;

(৪) অভিবাসী কর্মীদের বিদেশ গমনের জন্য প্রাক-বহির্গমন ব্রিফিং সেন্টার স্থাপন, পরিচালনা ও ব্রিফিং প্রদান;

(৫) অভিবাসী কর্মীদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বিমানবন্দরে এবং প্রয়োজনে অন্যান্য বহির্গমন ও প্রত্যাগমন স্থানে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক স্থাপন ও পরিচালনা;

(৬) বিদেশে কর্মরত কোনো অভিবাসী কর্মী নির্যাতনের শিকার, দুর্ঘটনায় আহত, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে বিপদগ্রস্ত হইলে তাহাদেরকে উদ্ধার, দেশে আনয়ন এবং, প্রয়োজনে, আইনগত ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান;

(৭) প্রবাসীদের মৃতদেহ দেশে আনয়ন এবং, প্রয়োজনে, দাফন-কাফন বা অন্তোষ্টিক্রিয়া বাবদ আর্থিক সহায়তা প্রদান;

(৮) বিদেশে মৃত্যুবরণকারী অভিবাসী কর্মীর মৃত্যু ও পেশাগত কারণে অসুস্থতাজনিত ক্ষতিপূরণ, বকেয়া বেতন, ইন্সুরেন্স ও সার্ভিস বেনিফিট আদায়ে সহায়তা এবং নির্ভরশীলদের আর্থিক অনুদান প্রদান;

(৯) প্রবাসীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের ও নির্ভরশীলদের কল্যাণার্থে সহায়তা প্রদান;

(১০) বোর্ডের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন;

(১১) বোর্ডের তহবিলের অর্থ ঝুঁকিমুক্ত ও লাভজনক খাতে বিনিয়োগ; এবং

(১২) সরকার কর্তৃক প্রবাসীদের জন্য নির্ধারিত অন্যান্য কল্যাণমূলক দায়িত্ব পালন।

৯। নারী অভিবাসী কর্মীদের কল্যাণে বিশেষ দায়িত্ব

৯। নারী অভিবাসী কর্মীদের কল্যাণে বোর্ডের বিশেষ দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা :-

(ক) বিদেশে কর্মরত কোনো নারী অভিবাসী কর্মী নির্যাতনের শিকার, দুর্ঘটনায় আহত, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে বিপদগ্রস্ত হইলে তাহাদেরকে উদ্ধার, দেশে আনয়ন, আইনগত ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং ক্ষতিপূরণ আদায় ও, প্রয়োজনে, এতদুদ্দেশ্যে দেশে-বিদেশ হেল্প-ডেস্ক ও সেইফ হোম পরিচালনা; এবং

(খ) দেশে প্রত্যাগত নারী অভিবাসী কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।

১০। পরিচালনা পরিষদের সভা

১০। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, পরিচালনা পরিষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) প্রতি ২ (দুই) মাসে পরিচালনা পরিষদের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

(৩) পরিচালনা পরিষদের সভার কোরামের জন্য অন্যূন ৯(নয়) জন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।

(৪) পরিচালনা পরিষদের সভায় উপস্থিত প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে প্রদত্ত ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতির নির্ণায়ক ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে।

(৫) পরিচালনা পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি সভায় তাহার মতামত ব্যক্ত করিতে পারিবেন, তবে তাহার ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে না।

(৬) কেবল কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা পরিচালনা পরিষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে পরিচালনা পরিষদের কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তদ্‌সম্পর্কে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।

১১। সভাপতির আপৎকালীন বিশেষ ক্ষমতা

১১। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোনো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে সভাপতি যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইলে বোর্ডের পরবর্তী সভায় উহার অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

১২। মহাপরিচালক

১২। (১) বোর্ডের একজন মহাপরিচালক থাকিবে, যিনি সরকারের যুগ্মসচিব বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন।

(২) মহাপরিচালক বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং তিনি-

(ক) পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিবেন; এবং

(খ) পরিচালনা পরিষদের সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন।

(৩) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা তিনি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কোন সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করিবেন।

১৩। কর্মচারী নিয়োগ

১৩। (১) বোর্ড উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।

(২) কর্মচারীদের নিয়োগ এবং চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

১৪। তহবিল

১৪। (১) বোর্ডের একটি তহবিল থাকিবে যাহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে অর্থ জমা হইবে, যথা :-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(খ) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ও আদায়কৃত ফি;

(গ) রিক্রুটিং এজেন্ট কর্তৃক জমাকৃত জামানতের উপর সুদ হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ;

(ঘ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে কোনো দেশি-বিদেশি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান হইতে প্রাপ্ত অনুদান;

(ঙ) বাংলাদেশ মিশন বা দূতাবাস কর্তৃক আদায়কৃত কল্যাণ ফি, সত্যায়ন ফি এবং কনস্যুলার ফি এর উপর ১০% হারে সারচার্জের অর্থ;

(চ) তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ হইতে প্রাপ্ত মুনাফা;

(ছ) বোর্ডের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, ইত্যাদি ইজারা, ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত আয়;

(জ) অন্য কোনো বৈধ উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

(২) তহবিলের সকল অর্থ কোনো তপশিলি ব্যাংকে বোর্ডের নামে জমা রাখিতে হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালনা করা হইবে।

ব্যাখ্যা : ‘‘তপশিলি ব্যাংক’’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972 (President's Order No. 127 of 1972) এর Article 2(j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank কে বুঝাইবে।

(৩) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিলের অর্থ ব্যয় করা যাইবে।

১৫। হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা

১৫। (১) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে বোর্ড উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।

(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক প্রতি বৎসর বোর্ডের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং বোর্ড উহার উপর মন্তব্য বা আপত্তি, যদি থাকে, সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বোর্ডের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং পরিচালনা পরিষদের যে কোনো সদস্য বা বোর্ডের যে কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (President's Order No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড একাউনটেন্ট দ্বারা বোর্ডের হিসাব নিরীক্ষা করিতে হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে বোর্ড এক বা একাধিক চার্টার্ড একাউনটেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে। 

(৫) বোর্ড, যথাশীঘ্র সম্ভব, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চিহ্নিত কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম প্রতিকার করিবার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।

১৬। প্রতিবেদন

১৬। (১) প্রতি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী ৪ (চার) মাসের মধ্যে বোর্ড উক্ত বৎসরের সম্পাদিত কার্যাবলির উপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে।

(২) সরকার, প্রয়োজনে, বোর্ডের নিকট হইতে যে কোনো সময় বোর্ডের যে কোনো বিষয়ের উপর প্রতিবেদন ও বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং বোর্ড উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিবে।

১৭। সহায়তা প্রদান

১৭। বোর্ড উহার কার্য সম্পাদনে কোনো ব্যক্তি, কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা চাহিলে উক্ত ব্যক্তি, কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান অনুরূপ সহায়তা প্রদান করিবে।

১৮। অভিযোগ নিষ্পত্তি

১৮। পরিচালনা পরিষদের কোনো সদস্য অথবা বোর্ডের কর্মচারীর কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ অথবা দুর্নীতির কারণে কোনো প্রবাসী, নির্ভরশীল কোনো ব্যক্তি বা বোর্ডের কোনো সেবা গ্রহণকারী ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা সেবা হইতে বঞ্চিত হইলে অথবা অন্য কোনো কারণে সংক্ষুব্ধ হইলে সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অভিযোগ দায়ের, নিষ্পত্তি ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, আপিল দায়েরের মাধ্যমে উক্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

১৯। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

১৯। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

২০। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

২০। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

২১। রহিতকরণ ও হেফাজত

২১। (১) ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল বিধিমালা, ২০০২, অতঃপর উক্ত বিধিমালা বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত বিধির অধীনে-

(ক) কৃত কোনো কাজ বা গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, প্রণীত কোনো প্রবিধান, ইস্যুকৃত কোনো আদেশ, বিজ্ঞপ্তি বা প্রজ্ঞাপন, প্রদত্ত কোনো নোটিশ, প্রস্তুতকৃত বাজেট প্রাক্কলন, স্কিম বা প্রকল্প বা চলমান কোনো কার্যক্রম এই আইনের অধীন কৃত, গৃহীত, প্রণীত, ইস্যুকৃত, প্রদত্ত, প্রস্তুতকৃত বা চলমান বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) গঠিত পরিচালনা বোর্ড, অতঃপর পরিচালনা বোর্ড বলিয়া উল্লিখিত, এই আইনের অধীন পরিচালনা পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে এবং পরিচালনা বোর্ডের-

(অ) সকল ঋণ, দায়-দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে বা উহার সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি যথাক্রমে বোর্ডের ঋণ, দায়-দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে বা উহার সহিত সম্পাদিত চুক্তি বলিয়া গণ্য হইবে;

(আ) সকল স্থায়ী কর্মচারী বোর্ডের কর্মচারী হিসেবে গণ্য হইবেন এবং এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে তাহারা যে শর্তে চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন সেই একই শর্তে নিযুক্ত থাকিবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না বোর্ড কর্তৃক তাহাদের চাকরির শর্তাবলি পরিবর্তিত হয়; এবং

(ই) বিরুদ্ধে বা তৎকর্তৃক দায়েরকৃত মামলা বা আইনগত কার্যধারা বোর্ডের বিরুদ্ধে বা বোর্ড কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা বা আইনগত কার্যধারা বলিয়া গণ্য হইবে; 

(গ) গঠিত ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিলের সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা ও স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ ও জামানত, তহবিল, বিনিয়োগ, সকল দাবি, হিসাব বহি, রেজিস্টার, রেকর্ড এবং অন্যান্য দলিল বোর্ডের নিকট হস্তান্তরিত ও ন্যস্ত হইবে; এবং 

(ঘ) গঠিত ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিলের যে সকল স্থাবর সম্পত্তি ইতঃপূর্বে ব্যুরোর মহাপরিচালকের অনুকূলে অর্জিত হইয়াছে উহা বোর্ডের নিকট হস্তান্তরিত ও ন্যস্ত হইবে।

২২। ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

২২। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।

(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।



Related Laws

বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ আইন

বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ প্রতিষ্ঠা এবং এতদ্‌সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক…

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন

Bangladesh (Freedom Fighters) Welfare Trust Order, 1972 রহিতক্রমে পরিমার্জনপূর্বক যুগোপযোগী করিয়া উহা…

হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আইন

Hindu Religious Welfare Trust Ordinance, 1983 রহিতক্রমে উহা পরিমার্জনপূর্বক পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে…

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন

বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও সনদের সহিত…

খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আইন

Christian Religious Welfare Trust Ordinance, 1983 রহিতক্রমে উহা পরিমার্জনপূর্বক পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে…

Share your thoughts on this law