Your password is being change. Please wait ...

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় আইন

Act - ৫ Year - ২০১৯ Date - ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রসর বিশ্বের সহিত সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অ্যাভিয়েশন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন

যেহেতু অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রসর বিশ্বের সহিত সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অ্যাভিয়েশন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৯ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

২। সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(১) “অনুষদ” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ;

(২) “অর্থ কমিটি” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটি;

(৩) “অঙ্গীভূত ইনস্টিটিউট”, “একাডেমি” বা “প্রতিষ্ঠান” অর্থ এই আইন, সংবিধি, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি বা প্রবিধান অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অঙ্গীভূত ও স্বীকৃত ইনস্টিটিউট, একাডেমি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান;

(৪) “অ্যাভিয়েশন” অর্থ বিমান চালনা ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়াদি; 

(৫) “ইনস্টিটিউট”, “একাডেমি” বা “প্রতিষ্ঠান” অর্থ এই আইন, সংবিধি বা বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী স্বীকৃত ও অধিভুক্ত, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পরিচালনাধীন স্নাতক, স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কোনো ইনস্টিটিউট, একাডেমি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সিভিল অ্যাভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার, বিমান বাংলাদেশ ট্রেনিং সেন্টার অথবা বেসরকারি অ্যাভিয়েশন ইনস্টিটিউট ও ট্রেনিং সেন্টার;

(৬) “একাডেমিক কাউন্সিল” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল; 

(৭) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ২১ এ উল্লিখিত কোনো কর্তৃপক্ষ;

(৮) “কর্মচারী” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী এবং, ক্ষেত্রমত, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৯) “‘কমিটি” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত যে কোনো কমিটি;

(১০) “কেন্দ্র” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র;

(১১) “চ্যান্সেলর” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর;

(১২) “ট্রেজারার” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার;

(১৩) “ডিন” অর্থ অনুষদের ডিন;

(১৪) “তপশিলি ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O. 127 of 1972) এর Article (2)(j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank; 

(১৫) “‘নির্ধারিত” অর্থ সংবিধি, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি বা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত; 

(১৬) “পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি;

(১৭) “পরিচালক” অর্থ কোনো বিভাগ (প্রশাসনিক) বা ইনস্টিটিউটের প্রধান;

(১৮) “পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক;

(১৯) “প্রক্টর” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর;

(২০) “প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর;

(২১) “প্রভোস্ট” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হলের প্রধান;

(২২) “বিভাগ” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগ;

(২৩) “বিভাগীয় চেয়ারম্যান” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগের একাডেমিক প্রধান;

(২৪) “বিশ্ববিদ্যালয়” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়;

(২৫) “বাছাই কমিটি” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে সুপারিশ প্রদানের জন্য গঠিত বাছাই কমিটি;

(২৬) “ভাইস-চ্যান্সেলর” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর;

(২৭) “মঞ্জুরী কমিশন” বা “বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন” অর্থ University Grants Commission of Bangladesh Order, 1973 (P.O. No. 10 of 1973) এর অধীন গঠিত University Grants Commission of Bangladesh;

(২৮) “মঞ্জুরী কমিশন আদেশ” অর্থ University Grants Commission of Bangladesh Order, 1973 (P.O. No. 10 of 1973);

(২৯) “‘রেজিস্ট্রার” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার;

(৩০) “রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট” অর্থ এই আইনের বিধান অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট;

(৩১) “শিক্ষক” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক এবং প্রভাষক অথবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক শিক্ষক হিসাবে স্বীকৃত অন্য কোনো ব্যক্তি;

(৩২) “শিক্ষার্থী” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তিকৃত কোনো শিক্ষার্থী;

(৩৩) “সরকার” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অথবা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ;

(৩৪) “সিনেট” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট;

(৩৫) “সিন্ডিকেট” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট;

(৩৬) “সংবিধি”, “বিশ্ববিদ্যালয় বিধি” ও “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত, যথাক্রমে, সংবিধি, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি ও প্রবিধান;

(৩৭) “হল” অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘবদ্ধ জীবন এবং সহশিক্ষাক্রমিক শিক্ষাদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় ও পরিচালনাধীন আবাসন।

৩। আইনের প্রাধান্য

৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

৪। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন

৪। (১) এই আইনের বিধান অনুযায়ী, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বা অনুমোদিত স্থানে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় (Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman Aviation and Aerospace University) নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হইবে।

(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর, ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যগণের সমন্বয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠিত হইবে। 

(৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধান সাপেক্ষে ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উক্ত নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে মামলা দায়ের করা যাইবে।

৫। অধিভুক্ত এবং অঙ্গীভূত ইনস্টিটিউট, একাডেমি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা

৫। (১) অধিভুক্ত এবং অঙ্গীভূত ইনস্টিটিউট, একাডেমি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের একাডেমিক কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকিকরণ, ব্যবস্হাপনা, উন্নয়ন, ইত্যাদি সংক্রান্ত বিষয়াদি সন্তোষজনক মান বজায় রাখা সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রাধীনে পরিচালিত হইবে।

(২) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রশাসনিক আদেশ জারির মাধ্যমে নিম্নবর্ণিত একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কলেজ, সেন্টার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কলেজ, সেন্টার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হইবে, যথা :-

(ক) বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পরিচালনাধীন নিম্নবর্ণিত একাডেমি, ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠানসমূহ, যথা :-

(অ) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি;

(আ) ফ্লাইং ইন্সট্রাকটর স্কুল;

(ই) ফ্লাইট সেফটি ইনস্টিটিউট;

(ঈ) কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট;

(উ) অ্যারো মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট;

(ঊ) অফিসার্স ট্রেনিং স্কুল; এবং

(ঋ) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক, সময়ে সময়ে, স্বীকৃত এবং অনুমোদিত বিমান বাহিনীর অন্য কোনো ইনস্টিটিউট, একাডেমি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান;

(খ) সিভিল অ্যাভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার এবং বিমান বাংলাদেশ ট্রেনিং সেন্টারসহ অ্যাভিয়েশন শিক্ষা সংক্রান্ত সরকারি ও বেসরকারি ইনস্টিটিউট, কলেজ, একাডেমি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; এবং

(গ) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক, সময় সময়, স্বীকৃত বা অনুমোদিত অন্য কোনো একাডেমি, ইনস্টিটিউট বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রশাসনিক আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গে উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানসমূহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(৪) এই ধারায় উল্লিখিত বিষয়াদি সম্পর্কিত আনুষঙ্গিক বিধান সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা

৬। এই আইন এবং মঞ্জুরী কমিশন আদেশের বিধান সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা থাকিবে, যথা:-

(ক) অ্যাভিয়েশন, অ্যাভিয়েশন সংক্রান্ত প্রকৌশল, অ্যাভিয়েশন ব্যবস্থাপনা ও যুদ্ধ কৌশল, নিরাপত্তা, ইত্যাদি বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদান, গবেষণা, জ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন ও জ্ঞান বিতরণের ব্যবস্থা করা;

(খ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিজনেস স্টাডিজ, অ্যারোস্পেস ও অ্যাভিয়েশন স্টাডিজ, ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ও অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এবং আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গবেষণা জ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন ও জ্ঞান বিতরণের ব্যবস্থা করা;

(গ) অঙ্গীভূত ও অধিভুক্ত ইনস্টিটিউট, একাডেমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করা;

(ঘ) বিভাগ এবং ইনস্টিটিউটে শিক্ষাদানের জন্য পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করা;

(ঙ) বিভাগ, অনুষদ ও ইনস্টিটিউটের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা;

(চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পাঠ্যক্রমে অধ্যয়ন সম্পূর্ণ করিয়াছেন এবং সংবিধির শর্তানুযায়ী গবেষণা কার্য সম্পূর্ণ করিয়াছেন এইরূপ ব্যক্তিদের পরীক্ষা গ্রহণ করা এবং ডিগ্রি ও অন্যান্য একাডেমিক সম্মান প্রদান করা;

(ছ) বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির ব্যবস্থা করা;

(জ) সংবিধিতে বিধৃত পদ্ধতিতে সম্মানসূচক ডিগ্রি বা অন্য কোনো সম্মান প্রদান করা;

(ঝ) অনুষদ বা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী নহেন এইরূপ ব্যক্তিবর্গকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত ডিগ্রি, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট প্রদানের উদ্দেশ্যে বক্তৃতামালা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং সংবিধির শর্ত অনুযায়ী ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রদান করা;

(ঞ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে তৎকর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় দেশে-বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহিত শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ করা;

(ট) চ্যান্সেলরের পূর্বানুমোদনক্রমে এবং মঞ্জুরী কমিশন ও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক, সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ও ইমেরিটাস অধ্যাপকের পদসহ শিক্ষক, গবেষক এবং কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করা এবং সংশ্লিষ্ট বাছাই কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত ব্যক্তিগণকে সেই সকল পদে নিয়োগ প্রদান করা;

(ঠ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বসবাসের জন্য হল স্থাপন করা এবং উহার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিদর্শনের ব্যবস্হা করা;

(ড) মেধার স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে সংবিধি, বিধি ও প্রবিধানের বিধান অনুযায়ী ফেলোশিপ, স্কলারশিপ, পুরস্কার ও পদক প্রবর্তন ও বিতরণ করা;

(ঢ) শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নের জন্য চ্যান্সেলরের পূর্বানুমোদন এবং মঞ্জুরী কমিশন হইতে বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে, একাডেমিক জাদুঘর, গবেষণাগার, অনুষদ এবং ইনস্টিটিউট স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করা;

(ণ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নৈতিক শৃঙ্খলা তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করা এবং সহ-শিক্ষাক্রম কার্যাবলির উন্নয়নের ব্যবস্থা করা;

(ত) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তক্রমে বিভিন্ন বিষয়ে ফিস নির্ধারণ ও আদায় করা;

(থ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের জন্য মঞ্জুরী কমিশন ও সরকারের অনুমোদনক্রমে দেশি ও বিদেশি ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে অনুদান চাঁদা ও বৃত্তি সাহায্য গ্রহণ করা;

(দ) বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য সরকারের অনুমোদনক্রমে চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া, চুক্তি বাস্তবায়ন করা, চুক্তির শর্ত পরিবর্তন বা চুক্তি বাতিল করা;

(ধ) শিক্ষা ও গবেষণার উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য পুস্তক ও জার্নাল প্রকাশ করা;

(ন) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

(প) উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স ও অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অথবা শিল্প কারখানার সহিত যৌথ সহযোগিতায় বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা;

(ফ) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাজ সম্পৃক্ততা কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করা;

(ব) উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে বিশ্বমান পর্যায়ে উন্নীত করিবার লক্ষ্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের সহিত কার্যকর ও ফলপ্রসূ যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা;

(ভ) উচ্চশিক্ষার গুণগতমান সুষমকরণ ও উন্নয়নকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ, সুষম ছাত্র শিক্ষক আনুপাতিক হার সংরক্ষণ, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ও পরীক্ষাগারের ব্যবস্থাকরণ, উপযুক্ত ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি ও উপকরণের ব্যবস্থা করা;

(ম) আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতির আধুনিকায়নের জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করা;

(য) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাডেমিক দক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা;

(র) উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মান সুষমকরণ ও উন্নয়নের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপ, সিম্পোজিয়াম, ইত্যাদি আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

(ল) জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ, জন্মস্থান অথবা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করিবার কার্যে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দরিদ্র, মেধাবী এবং আর্থিক সাহায্য প্রার্থীদের বৃত্তি বা শিক্ষা সাহায্য প্রদানের উদ্দেশ্যে এক অথবা একাধিক ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা;

(শ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটির সদস্যগণের সম্মানি নির্ধারণ ও সভা অনুষ্ঠানের জন্য সম্মানি প্রদান করা;

(ষ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষক, চুক্তিভিত্তিক ও খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বেতন বা পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা; এবং

(স) বিশ্ববিদ্যালয়ের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন ও বাস্তবায়নকল্পে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্য সম্পাদন করা।

৭। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত

৭। এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জন্মস্থান অথবা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নির্বিশেষে সকল শ্রেণির দেশি ও বিদেশি উপযুক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি, জ্ঞান অর্জন এবং সাফল্যের সহিত ডিগ্রি, ডিপ্লোমা অথবা সনদ কোর্স সমাপনান্তে সনদ প্রাপ্তির জন্য উন্মুক্ত থাকিবে।

৮। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদান

৮। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্বীকৃত শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় অথবা ইনস্টিটিউট কর্তৃক পরিচালিত হইবে।

(২) এই আইন ও সংবিধির বিধান দ্বারা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে শিক্ষকগণ শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনা করিবেন।

(৩) শিক্ষাদানের দায়িত্ব কোন্ কর্তৃপক্ষের উপর থাকিবে তাহা সংবিধি দ্বারা নির্ধারণ করা হইবে।

(৪) শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি এই আইন ও সংবিধির বিধান অনুযায়ী নির্ধারণ করা হইবে।

৯। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের দায়িত্ব

৯। (১) মঞ্জুরী কমিশন এক বা একাধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি দ্বারা উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও গুণগতমান নিশ্চিতকরণের বিষয়ে দিক্‌ নির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও উহার ভবন, হল, গ্রন্থাগার, গবেষণাগার, যন্ত্রপাতি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত পরীক্ষা, শিক্ষাদান এবং অন্যান্য কার্যক্রম যে কোনো সময় পরিদর্শন করাইতে পারিবে।

(২) মঞ্জুরী কমিশন অনুরূপ পরিদর্শন অথবা মূল্যায়ন সম্পর্কে উহার অভিমতসহ একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভাইস-চ্যান্সেলরকে নির্দেশনা প্রদান করিবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন মঞ্জুরী কমিশনের নিকট প্রেরণ করিবে। 

(৩) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত রেজিস্টার ও নথিপত্র সংরক্ষণ করিবে এবং মঞ্জুরী কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী পরিসংখ্যান এবং অন্যবিধ প্রতিবেদন ও তথ্য মঞ্জুরী কমিশনে সরবরাহ করিবে। 

(৪) প্রাপ্ত তথ্য ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মঞ্জুরী কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, মতামত বা নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রাপ্ত মতামত, পরামর্শ বা নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক মঞ্জুরী কমিশনকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে।

(৫) মঞ্জুরী কমিশন উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন নিরূপণ করিবে এবং উহার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করিবে।

(৬) মঞ্জুরী কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ও অন্যান্য আর্থিক প্রয়োজন পরীক্ষা করিয়া সুপারিশসহ সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।

(৭) মঞ্জুরী কমিশন সরকার কিংবা দেশের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কিংবা প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া কিংবা অন্য কোনো উৎস হইতে প্রাপ্ত গোপন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কিংবা যৌক্তিক কোনো কারণে মঞ্জুরী কমিশনের নিকট আবশ্যক বলিয়া বিবেচিত হইলে যে কোনো সময় নোটিশ প্রদান করিয়া কিংবা নোটিশ ব্যতীত আকস্মিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো বিভাগ, শাখা, কার্যালয়, শিক্ষক, কর্মচারী কিংবা কর্তৃপক্ষের বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদন্ত করিতে অথবা তৎকর্তৃক নিযুক্ত বা মনোনীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিদর্শন ও তদন্ত করাইতে পারিবে।

(৮) মঞ্জুরী কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক মঞ্জুরী কমিশনকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে।

১০। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী

১০। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নবর্ণিত কর্মচারী থাকিবে, যথা :-

(ক) ভাইস-চ্যান্সেলর;

(খ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর;

(গ) ট্রেজারার;

(ঘ) রেজিস্ট্রার 

(ঙ) ডিন; 

(চ) কলেজ পরিদর্শক;

(ছ) ইনস্টিটিউটের এবং বিভাগের (প্রশাসনিক) পরিচালক;

(জ) বিভাগীয় চেয়ারম্যান;

(ঝ) গ্রন্থাগারিক;

(ঞ) প্রভোস্ট;

(ট) প্রক্টর;

(ঠ) পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা);

(ড) পরিচালক (অর্থ ও হিসাব);

(ঢ) পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন);

(ণ) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক;

(ত) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী;

(থ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান চিকিৎসক;

(দ) পরিচালক (শরীরচর্চা ও শিক্ষা);

(ধ) সংবিধি দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী হিসাবে ঘোষিত অন্যান্য কর্মচারী।

১১। চ্যান্সেলর

১১। (১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হইবেন এবং তিনি একাডেমিক ডিগ্রি ও সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদানের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, চ্যান্সেলর ইচ্ছা করিলে, কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করিবার জন্য অন্য কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনীত করিতে পারিবেন।

(২) চ্যান্সেলর এই আইন ও সংবিধি দ্বারা অর্পিত ক্ষমতার অধিকারী হইবেন।

(৩) সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদানের প্রতিটি প্রস্তাবে চ্যান্সেলরের অনুমোদন থাকিতে হইবে।

(৪) চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো ঘটনার তদন্ত করাইতে পারিবেন এবং তদন্তের প্রতিবেদন চ্যান্সেলরের নিকট হইতে সিন্ডিকেটে পাঠানো হইলে সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন চ্যান্সেলরের নিকট প্রেরণ করিবে।

(৫) চ্যান্সেলরের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম গুরুতরভাবে বিঘ্নিত হইবার মত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করিতেছে, তাহা হইলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখিবার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আদেশ ও নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং অনুরূপ আদেশ ও নির্দেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক ও কর্মচারীরদের জন্য বাধ্যতামূলক হইবে এবং ভাইস-চ্যান্সেলর উক্ত আদেশ ও নির্দেশ কার্যকর করিবেন।

১২। ভাইস-চ্যান্সেলর

১২। (১) চ্যান্সেলর, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কর্মরত এয়ার ভাইস মার্শাল বা তদূর্ধ্ব পদবির কোনো কর্মচারী অথবা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল বা তদূর্ধ্ব পদবির কোনো কর্মচারীকে ৪ (চার) বৎসর মেয়াদের জন্য ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ করিবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি একাদিক্রমে ২ (দুই) মেয়াদের বেশি সময়ের জন্য ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ লাভের জন্য যোগ্য হইবেন না।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, চ্যান্সেলরের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে ভাইস-চ্যান্সেলর স্বপদে বহাল থাকিবেন।

(৩) মেয়াদ সমাপ্ত হইবার কারণে ভাইস-চ্যান্সেলর পদ শূন্য হইলে কিংবা ছুটি বা অন্য কোনো কারণে অনুপস্থিতির জন্য সাময়িকভাবে উক্ত পদ শূন্য হইলে কিংবা অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে ভাইস-চ্যান্সেলর তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে অথবা অপারগতা প্রকাশ করিলে, শূন্যপদে নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা ভাইস-চ্যান্সেলর পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, চ্যান্সেলরের ভিন্নরূপ সিদ্ধান্ত না থাকা সাপেক্ষে, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করিবেন, তবে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদ শূন্য থাকিলে ট্রেজারার ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করিবেন এবং ট্রেজারার পদ শূন্য থাকিলে জ্যেষ্ঠতম ডিন ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করিবেন।

১৩। ভাইস-চ্যান্সেলরের ক্ষমতা ও দায়িত্ব

১৩। (১) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বক্ষণিক প্রধান একাডেমিক ও প্রশাসনিক নির্বাহী কর্মচারী হইবেন।

(২) ভাইস-চ্যান্সেলর তাহার দায়িত্ব পালনে চ্যান্সেলরের নিকট দায়ী থাকিবেন।

(৩) ভাইস-চ্যান্সেলর এই আইন, সংবিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় বিধির বিধানাবলি এবং মঞ্জুরী কমিশন ও সরকার কর্তৃক, সময় সময়, জারিকৃত আদেশ-নির্দেশ বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিবেন এবং এতদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।

(৪) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো কর্তৃপক্ষের সভায় উপস্থিত থাকিতে এবং ইহার কার্যাবলিতে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে তিনি উহার সদস্য না হইলে উহাতে কোনো ভোট প্রদান করিতে পারিবেন না।

(৫) ভাইস-চ্যান্সেলর সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সভা আহ্বান করিবেন।

(৬) ভাইস-চ্যান্সেলর সিন্ডিকেট, অর্থ কমিটি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(৭) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো অনুষদ, ইনস্টিটিউট অথবা বিভাগ পরিদর্শন করিতে ও প্রয়োজনীয় দিক্‌নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবেন।

(৮) ভাইস-চ্যান্সেলর, তৎবিবেচনায় প্রয়োজন মনে করিলে, তাহার যে কোনো ক্ষমতা ও দায়িত্ব, সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো শিক্ষক অথবা কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবেন।

(৯) ভাইস-চ্যান্সেলর, সিন্ডিকেটের পূর্বানুমোদনক্রমে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে এবং তাহাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(১০) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের উপর সাধারণ তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।

(১১) ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দায়ী থাকিবেন।

(১২) বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব হইলে এবং ভাইস-চ্যান্সেলরের বিবেচনায় তৎসম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজনীয় বিবেচিত হইলে, তিনি সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং যে কর্তৃপক্ষ সাধারণতঃ বিষয়টি সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবার অধিকারপ্রাপ্ত সেই কর্তৃপক্ষকে যথাশীঘ্র সম্ভব, তৎকর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করিবেন।

(১৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সহিত ভাইস-চ্যান্সেলর ঐকমত্য পোষণ না করিলে তিনি উক্ত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন স্থগিত রাখিয়া তাহার মতামতসহ সিদ্ধান্তটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পুনঃবিবেচনার জন্য ফেরত পাঠাইতে পারিবেন এবং যদি উক্ত কর্তৃপক্ষ পুনঃবিবেচনার পর ভাইস-চ্যান্সেলরের সহিত ঐকমত্য পোষণ না করেন, তাহা হইলে তিনি বিষয়টি সিদ্ধান্তের জন্য চ্যান্সেলরের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং উক্ত বিষয়ে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে, তবে সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে গৃহীত ‍একাডেমিক বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

(১৪) বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত বাজেট বাস্তবায়নে ভাইস-চ্যান্সেলর সার্বিক দায়িত্ব পালন করিবেন।

(১৫) এই আইন, সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধির বিধান দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য ক্ষমতাও ভাইস-চ্যান্সেলর প্রয়োগ করিবেন।

১৪। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর

১৪। (১) চ্যান্সেলর, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার কমডোর বা তদূর্ধ্ব পদবির কোনো কর্মচারীকে অথবা অ্যাভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ (পনেরো) বৎসরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপককে ৪ (চার) বৎসর মেয়াদের জন্য প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ করিবেন।

(২) চ্যান্সেলরের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর স্বপদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন।

(৩) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত এবং ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালন করিবেন।

১৫। ট্রেজারার

১৫। (১) চ্যান্সেলর, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে ও মেয়াদে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার কমডোর পদবির কোনো কর্মচারী অথবা কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫(পনেরো) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিলেকশন গ্রেডভুক্ত কোনো অধ্যাপককে ট্রেজারার নিযুক্ত করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, চ্যান্সেলর, প্রয়োজনবোধে যে কোনো সময়, কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, ট্রেজারারকে তাহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।

(৩) ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন এবং হিসাব সংক্রান্ত সকল বিষয়ে ভাইস-চ্যান্সেলরকে পরামর্শ প্রদান করিবেন।

(৪) ট্রেজারার, সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও বিনিয়োগ তত্ত্বাবধান করিবেন এবং তিনি বার্ষিক বাজেট ও হিসাব-বিবরণী পেশ করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দায়ী থাকিবেন।

(৫) ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের সার্বিক তত্ত্বাবধান করিবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সংক্রান্ত নীতি সম্পর্কে ভাইস-চ্যান্সেলর, সংশ্লিষ্ট কমিটি, ইনস্টিটিউট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করিবেন।

(৬) যে খাতের জন্য অর্থ মঞ্জুর অথবা বরাদ্দ করা হইয়াছে সেই খাতেই যেন উহা ব্যয় হয় তাহা দেখিবার জন্য ট্রেজারার, সিন্ডিকেটের নিকট দায়ী থাকিবেন।

(৭) ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অর্থ সংক্রান্ত সকল চুক্তিতে স্বাক্ষর করিবেন।

(৮) ট্রেজারার এই আইন, সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য ক্ষমতাও প্রয়োগ করিবেন।

(৯) ছুটি, অসুস্থতা অথবা অন্য কোনো কারণে ট্রেজারারের পদ সাময়িকভাবে শূন্য হইলে ভাইস-চ্যান্সেলর অবিলম্বে চ্যান্সেলরকে তৎসম্পর্কে অবহিত করিবেন এবং চ্যান্সেলর ট্রেজারারের কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য যে প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন মনে করিবেন সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

১৬। রেজিস্ট্রার

১৬। (১) রেজিস্ট্রারের নিয়োগ পদ্ধতি, দায়িত্ব ও কর্তব্য সংবিধির বিধান ও ভাইস-চ্যান্সেলর দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রয়োজনবোধে যে কোনো সময় কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে রেজিস্ট্রারকে তাহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন। 

(৩) রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কর্মচারী হইবেন, এবং তিনি-

(ক) সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করিবেন;

(খ) ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক তাহার হেফাজতে ন্যস্ত সকল গোপনীয় প্রতিবেদন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রেকর্ডপত্র, দলিলপত্র ও সাধারণ সিলমোহর রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন;

(গ) সিন্ডিকেট কর্তৃক তাহার তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক হইবেন;

(ঘ) সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করিবেন;

(ঙ) নিয়োগ এবং তদ্‌বিষয়ক বিজ্ঞপ্তির জন্য দায়ী থাকিবেন;

(চ) বাছাই কমিটি গঠন করা, বাছাই কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে সিন্ডিকেটের অনুমোদন গ্রহণ এবং যোগদানপত্র ইস্যু করিবার জন্য দায়ী থাকিবেন;

(ছ) শিক্ষক এবং কর্মচারীদের পদোন্নতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন;

(জ) শিক্ষক এবং কর্মচারীদের ব্যক্তিগত নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন;

(ঝ) বাৎসরিক গোপনীয় প্রতিবেদন ফর্ম সংগ্রহ, রক্ষণ এবং বিতরণ করিবেন;

(ঞ) হাজিরা নিবন্ধন বহি এবং গমনাগমন নিবন্ধন বহি রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন;

(ট) শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য সার্ভিস বুক এর প্রচলন করিবেন এবং এন্ট্রিসমূহ নথিভুক্ত, লিপিবদ্ধকরণ ও হালনাগাদ নিশ্চিত করিবেন;

(ঠ) স্টেশনারি ক্রয়ের নিয়মানুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ নিশ্চিত করিবেন;

(ড) ভান্ডারের নিবন্ধন বহিতে প্রয়োজনীয় এন্ট্রি এবং বিতরণ নিশ্চিত করিবেন;

(ঢ) সংশ্লিষ্ট সকলের প্রাপ্য ছুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন;

(ণ) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে গতিশীলতা আনয়নের জন্য সমন্বয়কারী হিসাবে কার্য করিবেন; 

(ত) ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবেশগত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন;

(থ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করিবেন;

(দ) নিবন্ধন কার্ড, মাইগ্রেশন কার্ড, বদলি সনদ, ইত্যাদি প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সকল নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন;

(ধ) ভর্তি সংক্রান্ত নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন;

(ন) মেকানিক্যাল ট্রান্সপোর্ট সেকশনের নির্বিঘ্ন কার্যকারিতা নিশ্চিত করিবেন;

(প) সংবিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় বিধির দ্বারা নির্ধারিত, সময় সময়, অর্পিত এবং ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবেন;

(ফ) ডিনের সহিত তাহার পরিকল্পনা, কার্যক্রম অথবা শিডিউল সম্পর্কে সংযোগ রক্ষা করিবেন;

(ব) বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উহার সকল অফিস সংক্রান্ত চিঠিপত্রের আদান প্রদান করিবেন; এবং

(ভ) বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অর্থ সংক্রান্ত চুক্তি ব্যতীত অন্যান্য সকল চুক্তিতে স্বাক্ষর করিবেন।

১৭। ডিন

১৭। (১) ভাইস-চ্যান্সেলর, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে অধ্যাপক অথবা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার কমডোর অথবা তদূর্ধ্ব পদবির কোনো কর্মচারীকে ধারা ৩০ এর বিধান অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ২ (দুই) বৎসর মেয়াদের জন্য ডিন হিসাবে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবেন।

(২) প্রত্যেক অনুষদে একজন করিয়া ডিন থাকিবেন এবং তিনি ভাইস-চ্যান্সেলরের সাধারণ নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে থাকিয়া এই আইন এবং অনুষদ সম্পর্কিত সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুসারে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য দায়ী থাকিবেন।

(৩) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রয়োজনবোধে যে কোনো সময়, কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, ডিনকে তাহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।

(৪) ডিন অনুষদ প্রধান হিসাবে, শিক্ষা সংক্রান্ত সকল বিষয় কার্যকর করিবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং, তিনি-

(ক) তাহার অধীন সকল বিভাগের কার্যক্রম যথাযথ কার্যকর করিবার জন্য দায়ী থাকিবেন;

(খ) তাহার বিভাগের মাধ্যমে অধিভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠানের সহিত যোগাযোগ রক্ষা করিবেন;

(গ) একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট ও ভাইস চ্যান্সেলরের নিকট হইতে প্রাপ্ত সকল আদেশ ও নির্দেশাবলি কার্যকর করিবার জন্য নিয়মিত বিরতির মাধ্যমে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করিবেন;

(ঘ) প্রয়োজনবোধে, পরীক্ষক, মডারেটর ও প্রশ্ন প্রণেতাদের পরিবর্তনের ব্যবস্থা করিতে পারিবেন;

(ঙ) অনুষদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের প্রধান হিসাবে নিয়োজিত থাকিবেন।

১৮। একাডেমি বা ইনস্টিটিউট পরিদর্শক

১৮। (১) ভাইস-চ্যান্সেলর, সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার কমোডর অথবা সমপদমর্যাদার কোনো অধ্যাপক বা অসামরিক সরকারি কর্মচারীকে একাডেমি বা ইনস্টিটিউট পরিদর্শক হিসাবে নিয়োগদান করিতে পারিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, একাডেমি বা ইনস্টিটিউট পরিদর্শক পদে নিযুক্ত ব্যক্তিকে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রিধারী হইতে হইবে।

(২) একাডেমি বা ইনস্টিটিউট পরিদর্শক-

(ক) শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পর্কিত বিষয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকিবেন;

(খ) প্রয়োজনে, অধিভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করিবেন এবং পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন প্রস্তুতক্রমে উহা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করিবেন; 

(গ) প্রতিষ্ঠানসমূহের অধিভুক্তি ও অনধিভুক্তির উপযুক্ততা যাচাই করিবেন; এবং

(ঘ) ভাইস-চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর কর্তৃক অর্পিত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।

১৯। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক

১৯। (১) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংবিধি, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পরীক্ষা পরিচালনার সহিত সম্পর্কিত সকল বিষয়ের দায়িত্বে থাকিবেন এবং তাহার নিয়োগ পদ্ধতি ও দায়িত্ব-কর্তব্য সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুন্ন না করিয়া, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক-

(ক) পরীক্ষা পরিচালনার সহিত সম্পর্কিত সকল বিষয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকিবেন;

(খ) পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ এবং উহা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল পরীক্ষার্থীকে অবহিত করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন;

(গ) পরীক্ষার্থীদের নিবন্ধন, পরীক্ষার জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ, রোল নম্বর বরাদ্দকরণ, প্রবেশপত্র ইস্যু এবং উহা অধিভুক্ত কলেজসমূহের পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রেরণের ব্যবস্থা করিবেন;

(ঘ) পরীক্ষা গ্রহণের জন্য পরীক্ষা কমিটি গঠন এবং উহা অনুষদ সদস্যদেরকে অবহিত করিবার ব্যবস্থা করিবেন;

(ঙ) ভাইস চ্যান্সেলরের সহিত আলোচনা সাপেক্ষে প্রশ্নপত্র প্রণেতা এবং মডারেটর নির্বাচন করিবেন;

(চ) সকল প্রকার প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, মডারেশন এবং মুদ্রণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করিবেন এবং প্রেস কর্তৃপক্ষের সহিত যোগাযোগ করিবেন;

(ছ) পরীক্ষাসমূহ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সকল প্রকার প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন;

(জ) বিষয় অনুযায়ী পরীক্ষকগণের নামের তালিকা প্রস্তুত করিবেন;

(ঝ) পরীক্ষার উত্তরপত্র সংগ্রহ এবং উহা পরীক্ষকগণের নিকট প্রেরণের ব্যবস্থা করিবেন; 

(ঞ) মৌখিক এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ এবং নির্দিষ্ট তারিখে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করিবেন;

(ট) প্রধান পরীক্ষকের নিকট হইতে নম্বরপত্র সংগ্রহ করিবেন, টেবুলেটর নিয়োগ করিবেন এবং টেবুলেশন সম্পন্ন করিবার ব্যবস্থা করিবেন;

(ঠ) কম্পিউটার ইউনিট, রেজিস্ট্রেশন বিভাগ এবং অধিভুক্ত কলেজ অথবা প্রতিষ্ঠানসমূহের সহিত প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করিবেন;

(ড) ফল প্রকাশের পূর্বে উহা একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের নিকট উপস্থাপন করিবেন;

(ঢ) নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করিবেন এবং উহাতে যদি কোনো ভুল পরিলক্ষিত হয় উহা সংশোধনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করিবেন;

(ণ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মাঝে সনদপত্র এবং প্রশংসাপত্র বিতরণ করিবেন;

(ত) পরীক্ষা বিষয়ক সকল প্রকার সভার প্রয়োজনীয় কর্মপত্র প্রস্তুত করিবেন;

(থ) পরীক্ষা কেন্দ্রগুলি পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনবোধে শিক্ষক ও কর্মচারীগণের সমন্বয়ে পরিদর্শন টিম গঠন করিবেন;

(দ) পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল অভিযোগের তদন্ত করিবেন;

(ধ) বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত কলেজসমূহের বিভিন্ন কার্যালয়ের সহিত সমন্বয় সাধন করিবেন;

(ন) পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল সামগ্রী সংগ্রহ, গুদামজাতকরণ এবং প্রদানের নিশ্চয়তা বিধান করিবেন;

(প) উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ সংক্রান্ত সকল কার্য করিবেন; এবং

(ফ) ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর এবং ডিনের সকল প্রকার আইনানুগ আদেশ এবং নির্দেশাবলি পালন করিবেন।

২০। অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ, দায়িত্ব ও ক্ষমতা

২০। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল কর্মচারী নিয়োগ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে এই আইনের কোথাও উল্লেখ নাই, সিন্ডিকেট সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সেইসকল কর্মচারীর নিয়োগ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্ধারণ করিবে।

২১। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ

২১। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নবর্ণিত কর্তৃপক্ষ থাকিবে, যথা :-

(ক) সিনেট;

(খ) সিন্ডিকেট;

(গ) একাডেমিক কাউন্সিল;

(ঘ) অনুষদ;

(ঙ) পাঠ্যক্রম কমিটি;

(চ) অর্থ কমিটি;

(ছ) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি;

(জ) নিয়োগ সংক্রান্ত বাছাই কমিটি; এবং

(ঝ) সংবিধি অনুসারে গঠিত অন্যান্য কমিটি বা কর্তৃপক্ষ।

২২। সিনেট

২২। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা প্রণয়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হইবে সিনেট।

(২) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে সিনেট গঠিত হইবে, যথা :-

(ক) ভাইস-চ্যান্সেলর, যিনি উহার চেয়ারম্যানও হইবেন;

(খ) জাতীয় সংসদের স্পীকার কর্তৃক মনোনীত ২ (দুই) জন সংসদ সদস্য;

(গ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর;

(ঘ) ট্রেজারার;

(ঙ) সকল ডিন;

(চ) চেয়ারম্যান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ;

(ছ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স;

(জ) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কর্তৃক মনোনীত এয়ার ভাইস মার্শাল পদমর্যাদার একজন কর্মচারী;

(ঝ) বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক মনোনীত মেজর জেনারেল পদমর্যাদার একজন কর্মচারী;

(ঞ) বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক মনোনীত রিয়ার অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার একজন কর্মচারী;

(ট) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক মনোনীত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২(দুই)জন ভাইস-চ্যান্সেলর;

(ঠ) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক মনোনীত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অথবা কমডোর অথবা এয়ার কমডোর পদমর্যাদার একজন কর্মচারী;

(ড) সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মচারী; 

(ঢ) চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন অথবা তাহার প্রতিনিধি;

(ণ) সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা তৎকর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মচারী;

(ত) সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা তৎকর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্মসচিবের পদমর্যাদার একজন কর্মচারী;

(থ) অধিভুক্ত ইনস্টিটিউট, একাডেমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধানগণ; 

(দ) ব্যবস্হাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানী লিমিটেড; এবং

(ধ) রেজিস্ট্রার, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(৩) সিনেটে মনোনীত সদস্যগণ প্রত্যেকে তাহার মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।

(৪) সিনেটের কোনো সদস্য যে পদ বা প্রতিষ্ঠান হইতে মনোনীত হইয়াছিলেন তিনি যদি সেই পদ বা প্রতিষ্ঠানে না থাকেন তাহা হইলে তিনি সিনেটের সদস্য পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন না।

২৩। সিনেটের সভা

২৩। (১) সিনেট চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে, বৎসরে অন্যূন ১ (এক) বার, সিনেটের সভা অনুষ্ঠিত হইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, সিনেট চেয়ারম্যান শিক্ষাবর্ষের যে কোনো সময় সিনেটের বিশেষ সভা আহ্বান করিতে পারিবেন।

(২) সিনেটের সকল সভায় উহার চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন, তবে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে, তৎকর্তৃক অনুমোদিত হইলে, সিনেটের অপর কোনো সদস্য সিনেটর সভায় সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন।

(৩) কোরাম গঠনের জন্য, সভার সভাপতিসহ, সদস্যবৃন্দের অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) ভাগ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।

২৪। সিনেটের ক্ষমতা ও দায়িত্ব

২৪। এই আইন এবং মঞ্জুরী কমিশন আদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে, সিনেট-

(ক) সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রস্তাবিত সংবিধি অনুমোদন, সংশোধন ও বাতিল করিতে পারিবে;

(খ) সিন্ডিকেট কর্তৃক পেশকৃত প্রস্তাব, বার্ষিক প্রতিবেদন, বার্ষিক হিসাব ও বার্ষিক সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রস্তাব বিবেচনাক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে; এবং

(গ) এই আইন বা সংবিধি দ্বারা অর্পিত অন্যান্য ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবে।

২৫। সিন্ডিকেট

২৫। (১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গঠিত হইবে, যথা :-

(ক) ভাইস-চ্যান্সেলর, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন:

(খ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর;

(গ) ট্রেজারার;

(ঘ) চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি;

(ঙ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মচারী;

(চ) চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত ৩(তিন)জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ;

(ছ) একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের মধ্য হইতে একজন শিক্ষক;

(জ) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কর্তৃক মনোনীত অন্যূন এয়ার কমডোর পদমর্যাদার একজন কর্মচারী;

(ঝ) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক মনোনীত এয়ার কমডোর অথবা সমপদমর্যাদার একজন কর্মচারী;

(ঞ) সদস্য (অপারেশন), বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ;

(ট) ব্যাবস্হাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ বিমান অথবা তৎকর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি;

(ঠ) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মচারী;

(ড) বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মচারী;

(ঢ) সরকার কর্তৃক মনোনীত শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়োজিত ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে একজন প্রতিনিধি;

(ণ) রেজিস্ট্রার, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) সিন্ডিকেটে মনোনীত কোনো সদস্য তাহার মনোনয়নের তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন: 

তবে শর্ত থাকে যে, তাহার মেয়াদ সমাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তাহার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি তাহার পদে বহাল থাকিবেন:

আরও শর্ত থাকে, কোনো সদস্য যে পদ অথবা প্রতিষ্ঠান হইতে মনোনীত হইয়াছিলেন তিনি যদি সেই পদ বা প্রতিষ্ঠানে না থাকেন তাহা হইলে তিনি সিন্ডিকেটের সদস্যপদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন না।

২৬। সিন্ডিকেটের সভা

২৬। (১) এই ধারার বিধানাবলি সাপেক্ষে, সিন্ডিকেট উহার সভার কার্যক্রম পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) সিন্ডিকেটের সভা ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময়ে ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতি ২ (দুই ) মাসে সিন্ডিকেটের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) ভাইস-চ্যান্সেলর যখনই উপযুক্ত মনে করিবেন তখনই সিন্ডিকেটের বিশেষ সভা আহ্বান করিতে পারিবেন।

২৭। সিন্ডিকেটের ক্ষমতা ও দায়িত্ব

২৭। (১) এই আইন ও মঞ্জুরী কমিশন আদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী কর্তৃপক্ষ হইবে এবং এই আইন ও ভাইস চ্যান্সেলরের উপর অর্পিত ক্ষমতা সাপেক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যাবলি, সংস্হাসমূহ এবং সম্পত্তির উপর সাধারণ ব্যবস্হাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা থাকিবে, এবং এই আইন, সংবিধি, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি ও প্রবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালিত হইতেছে কি না তাহার প্রতি লক্ষ্য রাখিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুন্ন না করিয়া, সিন্ডিকেট-

(ক) সিনেটের অনুমোদন সাপেক্ষে, সংবিধি প্রণয়ন, সংশোধন ও বাতিলের প্রস্তাব করিবে;

(খ) বাৎসরিক প্রতিবেদন, বাৎসরিক হিসাব ও বাৎসরিক সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রস্তাব বিবেচনাক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে;

(গ) সিনেট ৩০ (ত্রিশ) জুনের পূর্বে বাৎসরিক বাজেট অধিবেশন আহ্বান এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ অনুমোদন করিবে;

(ঘ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি অর্জন ও তহবিল সংগ্রহ করিবে, উহা অধিকারে রাখিবে এবং নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করিবে;

(ঙ) অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে অর্থ কমিটির পরামর্শ বিবেচনা করিবে;

(চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সিলমোহরের আকার নির্ধারণ এবং উহার হেফাজতের ব্যবস্থা ও ব্যবহার পদ্ধতি নিরূপণ করিবে;

(ছ) সংশ্লিষ্ট বৎসরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক চাহিদার পূর্ণ বিবরণ প্রতি বৎসর মঞ্জুরী কমিশনের নিকট পেশ করিবে এবং পূর্ববর্তী বৎসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উৎস তথা মঞ্জুরী কমিশন বহির্ভূত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ সম্পদের বিবরণ প্রদান করিবে;

(জ) বিশেষ উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রদত্ত যে কোনো তহবিল পরিচালনা করিবে;

(ঝ) এই আইন অথবা সংবিধিতে কোনো বিধান না থাকিলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ ও তাহাদের দায়িত্ব ও চাকুরির শর্তাবলি নির্ধারণ করিবে;

(ঞ) বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে উইল, দান এবং অন্যভাবে হস্তান্তরকৃত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করিবে;

(ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠান এবং উহার ফল প্রকাশের ব্যবস্থা করিবে;

(ঠ) এই আইন দ্বারা অর্পিত ভাইস চ্যান্সেলরের ক্ষমতাবলি সাপেক্ষে, এই আইন, সংবিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহিত সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারণ করিবে;

(ড) ইনস্টিটিউট ও হল পরিদর্শনের ব্যবস্থা করিবে অথবা পরিদর্শনের নির্দেশ প্রদান করিবে;

(ঢ) এই আইন, সংবিধি ও মঞ্জুরী কমিশন আদেশের বিধান সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি প্রণয়ন করিবে;

(ণ) সংবিধি অনুসারে এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক এবং অন্যান্য শিক্ষক, গবেষক এবং কর্মচারীর পদ সৃষ্টি, বিলোপ অথবা সাময়িকভাবে স্থগিত করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো পদের জন্য আর্থিক সংস্থান হইবার পূর্বে উক্ত পদে নিয়োগ প্রদান করা যাইবে না;

(ত) সংবিধি অনুসারে এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী, মঞ্জুরী কমিশন এবং চ্যান্সেলরের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে, নূতন অনুষদ ও বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করিবে;

(থ) সংবিধি অনুসারে এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী কোনো অনুষদ, বিভাগ অথবা ইনস্টিটিউট বিলোপ অথবা সাময়িকভাবে স্থগিত করিতে পারিবে;

(দ) সংবিধি অনুসারে এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী কোনো খ্যাতিমান ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরূপে স্বীকৃতি প্রদান করিবে;

(ধ) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে এবং ভাইস-চ্যান্সেলরের সুপারিশক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে উহার ক্ষমতা কোনো নির্ধারিত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে অর্পণ করিতে পারিবে;

(ন) একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশক্রমে নূতন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, অগ্রসর শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন, আন্তঃবিভাগীয় এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক নূতন শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম চালু অথবা বন্ধ এবং পুরাতন কার্যক্রম বাতিল করিতে পারিবে;

(প) এই আইন ও সংবিধির বিধান সাপেক্ষে অর্থ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর এবং ট্রেজারার ব্যতীত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ, তাহাদের দায়িত্ব ও চাকুরির শর্তাবলি নির্ধারণ এবং তাহাদের কোনো পদ স্থায়ীভাবে শূন্য হইলে সেই পদ পূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে;

(ফ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক অথবা খ্যাতিমান পণ্ডিত ব্যক্তিকে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে তাহার বিশেষ অবদানের জন্য মেধা ও মনীষার স্বীকৃতি হিসাবে পুরস্কৃত করিতে পারিবে;

(ব) মঞ্জুরী কমিশন হইতে প্রাপ্ত মঞ্জুরি এবং নিজস্ব উৎস হইতে প্রাপ্ত আয়ের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বিবেচনা ও অনুমোদন করিবে;

(ভ) সাধারণ অথবা বিশেষ উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রদত্ত সকল তহবিল পরিচালনা করিবে;

(ম) এই আইন ও সংবিধি দ্বারা অর্পিত বা আরোপিত অন্যান্য ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালন করিবে; এবং 

(য) বিশ্ববিদ্যালয়ের এইরূপ অন্যান্য ক্ষমতা প্রয়োগ করিবে, যাহা এই আইন বা সংবিধির অধীন অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে প্রদত্ত নহে।

২৮। একাডেমিক কাউন্সিল

২৮। (১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একাডেমিক কাউন্সিল গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) ভাইস-চ্যান্সেলর, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর;

(গ) অনুষদসমূহের ডিন;

(ঘ) সকল বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যান;

(ঙ) একাডেমি, ইনস্টিটিউট ও কেন্দ্রসমূহের প্রধানগণ;

(চ) প্রক্টর;

(ছ) ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মনোনীত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ (সাত) জন অধ্যাপক;

(জ) বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক;

(ঝ) চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি;

(ঞ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকগণের মধ্য হইতে ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মনোনীত একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষক;

(ট) সিন্ডিকেট কর্তৃক মনোনীত অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থা হইতে দুইজন ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিজ্ঞান, প্রযু্ক্তি ও অ্যাভিয়েশন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক দুইজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ;

(ঠ) ভাইস-চ্যান্সেলর, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, কর্তৃক মনোনীত একজন ডিন বা অধ্যাপক;

(ড) ভাইস-চ্যান্সেলর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ, কর্তৃক মনোনীত একজন ডিন বা অধ্যাপক;

(ঢ) ভাইস-চ্যান্সেলর, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, কর্তৃক মনোনীত একজন ডিন বা অধ্যাপক;

(ণ) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক;

(ত) রেজিষ্ট্রার, যিনি উহার সচিবও হইবেন।

(২) একাডেমিক কাউন্সিলের মনোনীত কোনো সদস্য ২ (দুই) বৎসর মেয়াদের জন্য উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো মনোনীত সদস্য যে কোনো সময় একাডেমিক কাউন্সিলের সভাপতিকে উদ্দেশ্য করিয়া তাহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৩) একাডেমিক কাউন্সিলের কোনো মনোনীত সদস্য তাহার মেয়াদ সমাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তাহার স্থলাভিষ

২৯। একাডেমিক কাউন্সিলের ক্ষমতা ও দায়িত্ব

২৯। (১) একাডেমিক কাউন্সিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ হইবে এবং এই আইন, সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধির বিধান সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক কার্যক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ, একাডেমিক বর্ষসূচি ও তৎসম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন, শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার মান নির্ধারণ ও সংরক্ষণের জন্য দায়ী থাকিবে এবং এই সকল বিষয়ের উপর উহার নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান ক্ষমতা থাকিবে। 

(২) একাডেমিক কাউন্সিল এই আইন, সংবিধি এবং মঞ্জুরী কমিশন আদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষাদান, গবেষণা ও পরীক্ষার সঠিক মান নির্ধারণের জন্য প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সামগ্রিক ক্ষমতার আওতায় একাডেমিক কাউন্সিলের নিম্নবর্ণিত ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা :-

(ক) বিশ্ব বাজার ও দেশের আর্থ-সামাজিক চাহিদার সহিত সংগতি রাখিয়া, মঞ্জুরী কমিশনের অনুমোদনক্রমে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি, ডিপ্লোমা ও সনদ কোর্স চালুর বিষয়ে সিন্ডিকেটের নিকট সুপারিশ করা;

(খ) সার্বিকভাবে শিক্ষা সংক্রান্ত সকল বিষয়ে সিন্ডিকেটকে পরামর্শ প্রদান করা;

(গ) শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বিধি প্রণয়নের জন্য সিন্ডিকেটের নিকট প্রস্তাব পেশ করা;

(ঘ) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে গবেষণায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিকট হইতে গবেষণা প্রতিবেদন তলব করা এবং তৎসম্পর্কে সিন্ডিকেটের নিকট সুপারিশ করা;

(ঙ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ এবং পাঠ্যক্রম কমিটি গঠনের জন্য সিন্ডিকেটের নিকট প্রস্তাব পেশ করা;

(চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা ও গবেষণার মানোন্নয়নের ব্যবস্থা করা;

(ছ) সিন্ডিকেটের অনুমোদন এবং অনুষদের সুপারিশক্রমে, সকল পরীক্ষার প্রতিটি পত্রের পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যক্রম এবং গঠন ও গবেষণার সীমারেখা নির্ধারণ করা:

তবে শর্ত থাকে যে, একাডেমিক কাউন্সিল কেবল অনুষদের সুপারিশমালা গ্রহণ করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনবোধে, সংশোধন ও পরিমার্জনের জন্য অনুষদের নিকট ফেরত পাঠাইতে পারিবে;

(জ) এম.ফিল., ও পিএইচ.ডি. ডিগ্রির জন্য কোনো প্রার্থী থিসিস পেশ করিলে সংবিধি (যদি থাকে) অনুসারে, তৎসম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করা;

(ঝ) প্রয়োজনবোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির সহিত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির সমতা বিধান করা;

(ঞ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণার ক্ষেত্রে নূতন কোনো উন্নয়ন প্রস্তাবের উপর সিন্ডিকেটকে পরামর্শ প্রদান করা;

(ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ব্যবহার সংক্রান্ত প্রবিধান প্রণয়ন এবং গ্রন্থাগার সুষ্ঠু পরিচালনার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

(ঠ) বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা উন্নয়নের সুপারিশ করা এবং ইহার নিকট প্রেরিত শিক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে সিন্ডিকেটকে পরামর্শ প্রদান করা;

(ড) নূতন অনুষদ প্রতিষ্ঠা এবং কোনো অনুষদ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নূতন বিষয় প্রবর্তনের জন্য প্রস্তাব সিন্ডিকেটের বিবেচনার জন্য পেশ করা;

(ঢ) অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষকসহ সকল পর্যায়ের বা প্রকারের শিক্ষক, গবেষকের পদ সৃষ্টি, বিলোপ অথবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখিবার প্রস্তাব বিবেচনা করা এবং তৎসম্পর্কে সিন্ডিকেটের নিকট সুপারিশ করা;

(ণ) ডিগ্রি, ডিপ্লোমা, সনদ, বৃত্তি, ফেলোশীপ, স্কলারশীপ, স্টাইপেন্ড, পুরস্কার, পদক, ইত্যাদি প্রদানের উদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়ন এবং উপযুক্ত ব্যক্তিকে তাহা প্রদানের জন্য সিন্ডিকেটের নিকট সুপারিশ করা;

(ত) শিক্ষকের প্রশিক্ষণ ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ বিষয়ে সিন্ডিকেটের নিকট প্রস্তাব পেশ এবং প্রশিক্ষণ ও ফেলোশীপ প্রদানের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা;

(থ) সংশ্লিষ্ট কমিটিসমূহের সুপারিশক্রমে কোর্স, পাঠ্যক্রম ও সিলেবাস নির্ধারণসহ গবেষণা ডিগ্রির জন্য গবেষণার প্রতিটি বিষয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করা;

(দ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদের গুণগত উৎকর্ষ ও তাহা সংরক্ষণ করিবার লক্ষ্যে প্রবিধান প্রণয়ন এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহিত যোগসূত্র স্থাপন অথবা যৌথ কার্যক্রম গ্রহণ করিবার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা; এবং 

(ধ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ভর্তির যোগ্যতা ও শর্তাবলি নির্ধারণ এবং তদুদ্দেশ্যে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা।

(৪) একাডেমিক কাউন্সিল সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত এবং সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষা বিষয়ক অন্যান্য দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতা প্রযোগ করিবে।

৩০। অনুষদ

৩০। (১) বিশ্ববিদ্যালয়, এই আইন ও সংবিধির বিধান এবং বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ বা অর্থায়ন সম্পর্কে নিশ্চিত হইয়া, মঞ্জুরী কমিশন এবং চ্যান্সেলরের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে, এক অথবা একাধিক অনুষদ প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে, তবে এই ক্ষেত্রে বিমান চলাচল সংক্রান্ত অনুষদ প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে।

(২) একাডেমিক কাউন্সিলের সাধারণ তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, প্রত্যেক অনুষদ সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ও গবেষণা পরিচালনার দায়িত্ব থাকিবে।

(৩) অনুষদ গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে। 

(৪) প্রত্যেক অনুষদে একজন করিয়া ডিন থাকিবেন এবং তিনি ভাইস চ্যান্সেলরের সাধারণ নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে থাকিয়া অনুষদ সম্পর্কিত সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধির বিধান অনুসারে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য দায়ী থাকিবেন।

(৫) প্রত্যেক অনুষদের অধীন বিভাগসমূহে অধ্যাপকগণের মধ্য হইতে ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে একজন অধ্যাপক অথবা এয়ার কমডোর বা তদূর্ধ্ব পদবির কর্মচারী আবর্তন পদ্ধতিতে ২(দুই) বৎসরের জন্য ডিন হিসাবে নিযুক্ত হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো অনুষদের অধীন কোনো বিভাগেই অধ্যাপক না থাকিলে সহযোগী অধ্যাপকগণের মধ্য হইতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে একজনকে ডিন হিসাবে নিযুক্ত করা যাইবে;
আরও শর্ত থাকে যে, একাধিক বিভাগে সমজ্যেষ্ঠ অধ্যাপক অথবা সহযোগী অধ্যাপক থাকিলে, সেইক্ষেত্রে তাহাদের মধ্যে ডিন পদের আবর্তনক্রম ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক নির্দিষ্ট হইবে।

৩১। একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কেন্দ্র অথবা অনুরূপ প্রতিষ্ঠান

৩১। (১) বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনবোধে, মঞ্জুরী কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এবং চ্যান্সেলর কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে, অ্যাভিয়েশন বিষয়ক গবেষণা কার্য পরিচালনাসহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার জন্য সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহার অঙ্গীভূত একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কেন্দ্র হিসাবে এক বা একাধিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করিতে পারিবে অথবা, ক্ষেত্রমত, উক্ত বিষয় সংশ্লিষ্ট কোনো ইনস্টিটিউটকে অধিভুক্ত করিতে পারিবে।

(২) প্রতিটি একাডেমি, ইনস্টিটিউট বা কেন্দ্র পরিচালনার জন্য ১ (এক) জন পরিচালকসহ পৃথক বোর্ড অব গভর্নরস থাকিবে, যাহা সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

৩২। বিভাগ

৩২। বিভাগের গঠন এবং দায়িত্ব ও কার্যাবলি সংবিধি দ্বারা নির্ধারত হইবে।

৩৩। পাঠ্যক্রম কমিটি

৩৩। প্রত্যেক অনুষদে সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পাঠ্যক্রম কমিটি থাকিবে।

৩৪। বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল

৩৪। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বিশেষ অনুদান;

(খ) মঞ্জুরী কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(গ) প্রাক্তন শিক্ষার্থী কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(ঘ) বৃত্তিদান তহবিল (Endowment Fund);

(ঙ) শিক্ষার্থী কর্তৃক প্রদত্ত বেতন, ফি, ইত্যাদি;

(চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি হইতে প্রাপ্ত ও পরিচালন উৎসারিত আয়;

(ছ) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অন্যান্য উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ;

(জ) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো বিদেশি সংস্থা হইতে প্রাপ্ত অনুদান;

(ঝ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি অথবা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(ঞ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গৃহীত ঋণ;

(ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিনিয়োগ হইতে প্রাপ্ত আয় বা মুনাফা; এবং

(ঠ) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উৎস হইতে প্রাপ্ত আয় বা অর্থ।

(২) তহবিলের অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে তৎকর্তৃক অনুমোদিত কোনো তপশিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং প্রবিধান অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল হইতে অর্থ উত্তোলন করা যাইবে।

(৩) তহবিল হইতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।

(৪) তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো উন্নয়ন ও পরিকল্পনা খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে।

(৫) বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনবোধে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে অন্য কোনো তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করিতে পারিবে।

৩৫। অর্থ কমিটি

৩৫। (১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে অর্থ কমিটি গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) ভাইস-চ্যান্সেলর, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) রেজিস্ট্রার;

(গ) ট্রেজারার;

(ঘ) ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত একজন ডিন;

(ঙ) সিন্ডিকেট কর্তৃক মনোনীত সিন্ডিকেটের একজন সদস্য, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরিতে নিয়োজিত নহেন;

(চ) একাডেমিক কাউন্সিলে নিয়োজিত একজন শিক্ষক;

(ছ) মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি (পরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে নহে); এবং

(জ) পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবে।

(২) অর্থ কমিটির মনোনীত কোনো সদস্য ২(দুই) বৎসর মেয়াদে তাহার পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো সদস্য যে কোনো সময় সভাপতিকে উদ্দেশ্য করিয়া তাহার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৩) অর্থ কমিটির কোনো মনোনীত সদস্য মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাহার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, যে পদ বা প্রতিষ্ঠান হইতে তিনি মনোনীত হইয়াছিলেন সেই পদ বা প্রতিষ্ঠানে যদি না থাকেন, তাহা হইলে তিনি অর্থ কমিটির সদস্য পদেও অধিষ্ঠিত থাকিবেন না ।

৩৬। অর্থ কমিটির ক্ষমতা ও দায়িত্ব

৩৬। অর্থ কমিটি-
(ক) বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় ও ব্যয় সংক্রান্ত কার্য তত্ত্বাবধান করিবে;

(খ) বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ, তহবিল, সম্পদ ও হিসাব নিকাশ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে সিন্ডিকেটকে পরামর্শ প্রদান করিবে;

(গ) বার্ষিক বাজেট বিবেচনা করিবে এবং তৎসম্পর্কে সিন্ডিকেটকে পরামর্শ প্রদান করিবে;

(ঘ) ভাইস চ্যান্সেলরের নির্দেশনা অথবা এতৎসংক্রান্ত আদেশ ও নির্দেশ অনুযায়ী অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবে;

(ঙ) বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সিন্ডিকেটের পরামর্শ অনুযায়ী কোনো তপশিলি ব্যাংকে জমা করা এবং উক্ত হিসাব হইতে অর্থ উত্তোলনসহ ইহা পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যাদি সম্পন্ন করিবে;

(চ) শিক্ষক ও কর্মচারীদের সকল প্রকার পেনশন এবং অবসরজনিত সকল পাওনা পরিশোধ করিবে; 

(ছ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশক্রমে শিক্ষক ও কর্মচারীদের ঋণ এবং অগ্রিম পরিশোধের ব্যবস্থা করিবে;

(জ) শিক্ষক ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবীমা এবং জীবন বীমার সকল প্রকার হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করিবে;

(ঝ) সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত অথবা ভাইস-চ্যান্সেলর বা সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবে; এবং

(ঞ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে শিক্ষক, গবেষক ও কর্মচারীর পদ সৃষ্টির সুপারিশ করিবে।

৩৭। পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটি

৩৭। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কমিটি থাকিবে এবং ইহার গঠন, দায়িত্ব ও কার্যাবলি সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

৩৮। জনসম্পর্ক ও তথ্য বিভাগ

৩৮। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জনসম্পর্ক ও তথ্য বিভাগ থাকিবে এবং উক্ত বিভাগের দায়িত্ব ও কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে প্রচারণা, প্রিন্ট ও তথ্য প্রকাশ;

(খ) সিম্পোজিয়াম, সেমিনার ও ওয়ার্কশপসমূহে অংশগ্রহণের জন্য অতিথিদের জন্য আমন্ত্রণপত্র মুদ্রণ;

(গ) নীতি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্মকাণ্ডের ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থাকরণ;

(ঘ) জনস্বার্থে তথ্য সরবরাহের জন্য প্রেস কনফারেন্সের ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং

(ঙ) ডিজিটাল অথবা আইসিটি বিষয়ক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং ওয়েবপেজ প্রস্তুতকরণ।

৩৯। গ্রন্থাগার ও আর্কাইভ

৩৯। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও আর্কাইভ থাকিবে।

(২) গ্রন্থাগারিক নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম গ্রহণ করিবে, যথা:-

(ক) গ্রন্থাগারের উন্নয়নের জন্য নীতিমালা তৈরি;

(খ) বই, সাময়িকী, ইত্যাদি সংগ্রহ এবং বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ;

(গ) গ্রন্থাগার বুলেটিন প্রকাশ;

(ঘ) গ্রন্থাগার ব্যবহারকারীদের জন্য ইন্টারনেট সার্ভিসের ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং

(ঙ) গ্রন্থাগার বিষয়ক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা ও উন্নয়ন সাধন।

৪০। মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগ

৪০। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগ থাকিবে এবং উক্ত বিভাগ নিম্নবর্ণিত কার্যাদি সম্পন্ন করিবে, যথা :-

(ক) প্রশ্নপত্র মুদ্রণ;

(খ) উত্তরপত্র প্রস্তুত;

(গ) গবেষণামূলক প্রবন্ধ, পুস্তক, জার্নাল, ইত্যাদি মুদ্রণ ও প্রকাশ; এবং

(ঘ) ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য কার্য।

৪১। বাছাই কমিটি

৪১। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে সুপারিশ প্রদানের জন্য পৃথক পৃথক বাছাই কমিটি থাকিবে।

(২) বাছাই কমিটির গঠন ও কার্যাবলি সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৩) বাছাই কমিটির সুপারিশ সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে।

(৪) বাছাই কমিটির সুপারিশের সহিত সিন্ডিকেট একমত না হইলে বিষয়টি চ্যান্সেলরের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং এই বিষয়ে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।

৪২। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ইউনিট

৪২। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নবর্ণিত একাডেমিক ইউনিট থাকিবে, যথা:-

(ক) স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান;

(খ) স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান; এবং

(গ) পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্র।

৪৩। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান

৪৩। (১) স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান, একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা সংগঠন, পাঠক্রম ও পাঠ্যসূচি নির্ধারণ এবং একাডেমিক কাউন্সিলের বিবেচনার জন্য পরীক্ষা পদ্ধতি সুপারিশ করিবে, প্রশিক্ষণের মান সংরক্ষণ করিবে এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করিবে।

(২) স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানসমূহের নিজস্ব পরিচালনা বিধি এবং একাডেমিক ও ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি থাকিবে, তবে নীতি-নির্ধারণী ক্ষেত্রে ইহা স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্র এবং পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের সহিত যোগাযোগ এবং সমন্বয় রক্ষা করিবে।

৪৪। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান

৪৪। স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র অ্যাভিয়েশন, বিমান প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, অ্যাভিয়েশন ব্যবস্থাপনা ও যুদ্ধ কৌশল, নিরাপত্তা, ইত্যাদি বিষয় লইয়া গঠিত হইবে এবং ইহা-

(ক) সম্মান ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা সংগঠনের দায়িত্ব পালন করিবে;

(খ) একাডেমিক ইনস্টিটিউট অথবা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রসর শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবে; এবং

(গ) একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তবলির সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে নিজস্ব পরিচালনা বিধি, একাডেমিক কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী পরিচালিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে নীতি নির্ধারণী ক্ষেত্রে ইহা স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এবং পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের সহিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করিবে।

৪৫। পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্র

৪৫। (১) পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব থাকিবে, যথা :-

(ক) জাতীয় ভাবধারার সহিত সংগতি রাখিয়া বিভিন্ন স্তরে শিক্ষা কোর্স এবং পাঠ্যক্রম মূল্যায়ন;

(খ) বিভিন্ন পাঠক্রম ও পাঠ্যসূচিতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্বশেষ অগ্রগতির প্রতিফলন;

(গ) পরিবর্তনশীল সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ও প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য ও প্রকৃতি নির্ধারণ;

(ঘ) উপযুক্ত মূল্যায়নের মাধ্যমে আধুনিক ও যথোপযোগী শিক্ষা উপকরণ উদ্ভাবন ও ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান;

(ঙ) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রয়োজন নির্ধারণপূর্বক তাহা ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন লক্ষ্যের সহিত সমন্বিতকরণ;

(চ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের একাডেমিক কার্যক্রমের মূল্যায়ন।

(২) একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের নিজস্ব পরিচালনা বিধি ও ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি থাকিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, নীতি নির্ধারণী ক্ষেত্রে ইহা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের সহিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করিবে।

৪৬। শৃঙ্খলা কমিটি

৪৬। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শৃঙ্খলা কমিটি থাকিবে।

(২) শৃঙ্খলা কমিটির গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

৪৭। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্তৃপক্ষ

৪৭। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ হিসাবে ঘোষিত অন্যান্য কর্তৃপক্ষের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

৪৮। সংবিধি

৪৮। এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, সংবিধি দ্বারা নিম্নবর্ণিত সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কে বিধান করা যাইবে, যথা:-

(ক) ভাইস চ্যান্সেলরের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ;

(খ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ;

(গ) ট্রেজারারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ;

(ঘ) জ্ঞান বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রখ্যাত ব্যক্তিদের সম্মানে অধ্যাপক পদ (চেয়ার) প্রবর্তন;

(ঙ) সম্মানসূচক ডিগ্রি অথবা অন্য কোনো সম্মান প্রদান;

(চ) ফেলোশীপ, স্কলারশীপ, বৃত্তি, পুরস্কার ও পদক প্রবর্তন;

(ছ) গবেষণা কার্যক্রমের বিষয় ও ধরন নির্ধারণ;

(জ) ডিগ্রি, ডিপ্লোমা অথবা সনদ প্রদান;

(ঝ) শিক্ষাদানকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ;

(ঞ) শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি নির্ধারণ;

(ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীগণের পদবি, ক্ষমতা, দায়িত্ব-কর্তব্য ও কর্মের শর্তাবলি নির্ধারণ;

(ঠ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্ধারণ;

(ড) ইনস্টিটিউট, হল প্রতিষ্ঠা এবং উহাদের রক্ষণাবেক্ষণ;

(ঢ) হলের অনুমোদন সম্পর্কিত শর্তাবলি নির্ধারণ;

(ণ) প্রতিনিধি নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ;

(ত) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি ও ছাঁটাই সংক্রান্ত পদ্ধতি নির্ধারণ;

(থ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারীর কল্যাণার্থে অবসরভাতা, গোষ্ঠীবীমা, কল্যাণ ও ভবিষ্য তহবিল গঠন;

(দ) শিক্ষক ও গবেষকের পদ সৃষ্টি, বিলোপ অথবা সাময়িকভাবে স্থগিতকরণ সংক্রান্ত শর্তাবলি নির্ধারণ;

(ধ) চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে নূতন বিভাগ বা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, সাময়িকভাবে স্থগিতকরণ, বিলোপ সাধন এবং শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির বিধান নির্ধারণ;

(ন) একাডেমিক কাউন্সিলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ;

(প) পি.এইচ.ডি. ডিগ্রির জন্য থিসিসের বিষয় নির্ধারণ;

(ফ) অনুষদের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্ধারণ;

(ব) অধিভুক্ত এবং অঙ্গীভূত ইনস্টিটিউট, একাডেমি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা;

(ভ) বাছাই কমিটির গঠন ও কার্যাবলি নির্ধারণ;

(ম) ডিগ্রি, ডিপ্লোমা ও অন্যান্য পাঠ্যক্রমে ভর্তি ও পরীক্ষা সংক্রান্ত বিধান প্রণয়ন;

(য) বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধান প্রণয়ন;

(র) রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েটদের রেজিস্টার সংরক্ষণ; এবং

(ল) এই আইনের অধীন সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে অথবা হইতে পারে এইরূপ অন্যান্য বিষয়।

৪৯। সংবিধি প্রণয়ন

৪৯। (১) এই ধারায় বর্ণিত পদ্ধতিতে সিন্ডিকেট সংবিধি প্রণয়ন, সংশোধন অথবা বাতিলের প্রস্তাব করিতে পারিবে।

(২) তপশিলে বর্ণিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংবিধি চ্যান্সেলরের অনুমোদন ব্যতীত সংশোধন অথবা বাতিল করা যাইবে না।

(৩) সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রণীত সকল সংবিধি সিন্ডিকেটের সুপারিশসহ অনুমোদনের জন্য চ্যান্সেলরের নিকট পেশ করিতে হইবে।

(৪) চ্যান্সেলর কর্তৃক অনুমোদিত না হইলে সিন্ডিকেটের প্রস্তাবিত কোনো সংবিধি বৈধ হইবে না।

৫০। বিশ্ববিদ্যালয় বিধি

৫০। এই আইন ও সংবিধির বিধান সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোনো বিষয় সম্পর্কে বিধান করা যাইবে, যথা:-

(ক) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি, ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট ও অন্যান্য প্রোগ্রাম বা কোর্সে ভর্তি ও নিবন্ধন;

(খ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্সের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন;

(গ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং ডিগ্রি, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট পাইবার যোগ্যতার শর্তাবলি নির্ধারণ;

(ঘ) শিক্ষাদান, টিউটোরিয়াল ক্লাস, গবেষণাগার ও গ্রন্থাগার ব্যবহার ও পরিচালনার পদ্ধতি নিরূপণ;

(ঙ) বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে শিক্ষার্থীদের বসবাসের শর্তাবলি এবং তাহাদের আচরণ ও শৃঙ্খলা;

(চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা, ডিগ্রি, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম বা কোর্সে ভর্তির জন্য আদায়যোগ্য ফি নির্ধারণ;

(ছ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটি গঠন ও উহাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ;

(জ) শিক্ষাদান ও পরীক্ষা পরিচালনা পদ্ধতি নির্ধারণ;

(ঝ) ফেলোশীপ, স্কলারশীপ বা বৃত্তি, পুরস্কার ও পদক প্রবর্তন;

(ঞ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংস্থা গঠন ও উহার ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ;

(ট) হল পরিচালনা এবং হলের প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষক নিয়োগ; এবং

(ঠ) এই আইন বা সংবিধির অধীনে বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে অথবা হইতে পারে এইরূপ অন্যান্য বিষয়।

৫১। বিশ্ববিদ্যালয় বিধি প্রণয়ন

৫১। বিশ্ববিদ্যালয় বিধি সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রণীত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নর্ণিত বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ ব্যতীত বিশ্ববিদ্যালয় বিধি প্রণয়ন করা যাইবে না, যথা :-

(ক) শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা;

(খ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন;

(গ) অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত পরীক্ষাসমূহের সমতা;

(ঘ) হলে শিক্ষার্থীদের বসবাসের শর্তাবলি;

(ঙ) পরীক্ষা পরিচালনা;

(চ) ফেলোশীপ ও বৃত্তি প্রবর্তন;

(ছ) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত সকল ডিগ্রি, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেটের জন্য পাঠ্যসূচি প্রণয়ন ও পাঠ্যক্রম নির্ধারণ;

(জ) বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং তাহাদের তালিকাভুক্তি; এবং

(ঝ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, ডিপ্লোমা অথবা সার্টিফিকেট কোর্সে ভর্তি, উহার বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের এবং উহার ডিগ্রি, সনদ ও ডিপ্লোমা পাইবার যোগ্যতার শর্তাবলি।

৫২। প্রবিধান

৫২। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিত বিষয়ে এই আইন, সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধির সহিত সংগতিপূর্ণ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) উহাদের স্ব-স্ব সভায় অনুসরণীয় কার্যবিধি প্রণয়ন এবং কোরাম গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ;

(খ) এই আইন, সংবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুসারে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণযোগ্য সকল বিষয়ের উপর প্রবিধান প্রণয়ন; এবং

(গ) কেবল উক্ত কর্তৃপক্ষসমূহের সহিত সংশ্লিষ্ট, অথচ এই আইন, সংবিধি বা বিশ্ববিদ্যালয় বিধিতে বিধৃত হয় নাই এইরূপ অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে প্রবিধান প্রণয়ন।

(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ উহার সভার তারিখ এবং সভার বিবেচ্য বিষয় সম্পর্কে উক্ত কর্তৃপক্ষের সদস্যগণকে নোটিশ প্রদান এবং সভার কার্যবিবরণীর রেকর্ড সংরক্ষণ সম্পর্কে প্রবিধান প্রণয়ন করিবে।

(৩) সিন্ডিকেট এই ধারার অধীন প্রণীত কোনো প্রবিধান তৎকর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশোধন অথবা বাতিল করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত নির্দেশ পালনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাধ্য থাকিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ২১ এ উল্লিখিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্তৃপক্ষ অনুরূপ নির্দেশে অসন্তুষ্ট হইলে বিষয়টি সম্পর্কে চ্যান্সেলরের নিকট আপিল করিতে পারিবে এবং আপিলে চ্যান্সেলর প্রদত্ত সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

৫৩। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে ভর্তি

৫৩। (১) এই আইন এবং সংবিধির বিধান সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট ও অন্যান্য পাঠ্যক্রমে শিক্ষার্থী ভর্তি একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত ভর্তি কমিটি কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা পরিচালিত হইবে।

(২) কোনো শিক্ষার্থী বাংলাদেশের অনুমোদিত কোনো শিক্ষা বোর্ড অথবা সমমানের সংস্থার অধীন কোনো স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হইতে উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হইয়া থাকিলে কিংবা বিদেশের অনুমোদিত বা স্বীকৃত কোনো শিক্ষা বোর্ড, সমমানের সংস্থা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সমমানের পরীক্ষায় (যাহা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, সমমানের সংস্থা বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সমমান বলিয়া স্বীকৃত) উত্তীর্ণ না হইয়া থাকিলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা তাহার না থাকিলে উক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক কোর্সের কোনো পাঠ্যক্রমে যোগ্য হইবেন না।

(৩) যে সকল শর্তাধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হইবে তাহা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৪) কোনো ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তির উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অথবা স্বীকৃত সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত ডিগ্রিকে তৎকর্তৃক প্রদত্ত কোনো ডিগ্রির সমমানের বলিয়া স্বীকৃতি প্রদান করিতে পারিবে অথবা স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ব্যতীত অন্য কোনো পরীক্ষাকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সমমানের বলিয়া স্বীকৃত প্রদান করিতে পারিবে।

(৫) শিক্ষার্থীর প্রদত্ত মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হইলে এবং পরবর্তীকালে উহা প্রমাণিত হইলে ভর্তি বাতিলযোগ্য হইবে।

(৬) নৈতিক স্খলনের দায়ে উপযুক্ত কোনো আদলত কর্তৃক কোনো শিক্ষার্থী দোষী সাব্যস্ত হইলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যোগ্য হইবেন না।

৫৪। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন ব্যয় ও শিক্ষার্থীদের বেতনাদি

৫৪। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক পরিচালন ব্যয়ের (মূলধন ব্যয় ব্যতিরেকে) নিরীখে শিক্ষার্থীদের নিকট হইতে বার্ষিক আদায়যোগ্য বেতন ও ফি নির্ধারিত হইবে।

(২) সেমিস্টার অনুযায়ী নির্ধারিত বেতন ও ফি সেমিস্টার আরম্ভ হইবার পূর্বেই পরিশোধ করিতে হইবে।

(৩) সরকার অথবা অন্যান্য উৎস হইতে প্রাপ্ত অনুদান অথবা আয় হইতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেধা ও প্রয়োজনের নিরিখে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করিতে পারিবে এবং শিক্ষা বৎসরওয়ারি বৃত্তি প্রদান করা হইবে।

(৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, অধ্যয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের উপর বৃত্তি প্রদানের বিষয়টি নির্ভর করিবে।

৫৫। শিক্ষার মাধ্যম

৫৫। আন্তর্জাতিকতার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মাধ্যম হইবে ইংরেজি।

৫৬। পরীক্ষা

৫৬। (১) ভাইস চ্যান্সেলরের সাধারণ নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকিয়া পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পরীক্ষা পরিচালনার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(২) কোনো পরীক্ষার বিষয়ে কোনো পরীক্ষক কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে অথবা অপারগতা প্রকাশ করিলে ভাইস চ্যান্সেলরের নির্দেশে তাহার স্থলে অন্য একজন পরীক্ষককে নিয়োগ প্রদান করা যাইবে।

৫৭। পরীক্ষা পদ্ধতি

৫৭। (১) বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার ও নির্ধারিত সংখ্যক কোর্সে একক ক্রেডিট আওয়ারস পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ করা যাইবে।

(২) সম্পূর্ণ পাঠ্যসূচি নির্ধারিত সংখ্যক সেমিস্টারে বিভাজিত হইবে এবং ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা বিশেষের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক কোর্স সম্পন্ন করিয়া ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা লাভের জন্য সর্বোচ্চ সময় নির্ধারিত থাকিবে এবং প্রত্যেক পাঠ্যক্রমের সফল সমাপ্তি এবং উহার উপর পরীক্ষা গ্রহণের পর পরীক্ষার্থীকে গ্রেড বা নম্বর প্রদান করা হইবে।

(৩) সকল সেমিস্টার পরীক্ষায় প্রাপ্ত গ্রেডের সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল নির্ধারণপূর্বক পরীক্ষার্থীকে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা প্রদান করা হইবে।

৫৮। চাকুরির শর্তাবলি

৫৮। চাকুরির শর্তাবলি ।- (১) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক বেতনভোগী শিক্ষক ও কর্মচারী লিখিত চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত হইবেন এবং চুক্তিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারের হেফাজতে তাহার কার্যালয়ে গচ্ছিত থাকিবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারীকে উহার একটি অনুলিপি প্রদান করা হইবে।

(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও কর্মচারী পূর্ণ সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সহিত দায়িত্ব কর্তব্য পালন করিবেন এবং পদ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণরূপে নিরপেক্ষ হইবেন।

(৩) নিয়োগের শর্তাবলিতে স্পষ্টভাবে ভিন্নরূপ কিছু উল্লেখ না থাকিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষক ও কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বক্ষণিক শিক্ষক ও কর্মচারীরূপে গণ্য হইবেন।

(৪) বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতনভোগী কোনো কর্মচারী অন্য কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী অথবা সাময়িক নিয়োগ গ্রহণ করিতে পারিবেন না।

(৫) বিশ্ববিদ্যালয় অথবা রাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি কোনো কার্যকলাপের সহিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক ও কর্মচারী নিজেকে জড়িত করিবেন না।

(৬) কোনো শিক্ষক ও কর্মচারীর রাজনৈতিক মতামত পোষণের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না করিয়া তাহার চাকুরির শর্তাবলি নির্ধারণ করিতে হইবে, তবে তিনি তাহার রাজনৈতিক মতামত প্রচার করিতে পারিবেন না অথবা তিনি নিজেকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সহিত জড়িত করিতে পারিবেন না।

(৭) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বেতনভোগী শিক্ষক বা কর্মচারী সংসদ সদস্য হিসাবে অথবা স্থানীয় সরকারের কোনো পদে নির্বাচিত হইবার জন্য প্রার্থী হইতে চাহিলে তিনি তাহার মনোনয়নপত্র পেশ করিবার পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরি হইতে ইস্তফা দিবেন।

(৮) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বেতনভোগী শিক্ষক বা কর্মচারীকে তাহার কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ, নৈতিক স্খলন অথবা অদক্ষতার কারণে প্রচলিত সরকারি বিধি বা সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে চাকুরি হইতে অপসারণ অথবা পদচ্যুত করা অথবা অন্য কোনো প্রকার শাস্তি প্রদান করা যাইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, আনীত অভিযোগ সম্পর্কে কোনো তদন্ত কমিটি কর্তৃক তদন্ত অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এবং তাহাকে ব্যক্তিগতভাবে অথবা কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান না করিয়া তাহাকে চাকরি হইতে অপসারণ অথবা পদচ্যুত করা যাইবে না।

৫৯। বার্ষিক প্রতিবেদন

৫৯। বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন সিন্ডিকেটের নির্দেশনা অনুসারে প্রস্তুত করিতে হইবে এবং পরবর্তী শিক্ষা বৎসর আরম্ভের ৬০ (ষাট) দিবসের মধ্যে অথবা তৎপূর্বে উহা মঞ্জুরী কমিশনের মাধ্যমে সরকারের নিকট পেশ করিতে হইবে।

৬০। বার্ষিক হিসাব

৬০। (১) বিশ্ববিদ্যালয় যথাযথভাবে উহার হিসাবরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।

(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক হিসাব-নিরীক্ষার জন্য ভাইস-চ্যান্সেলর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

৬১। পরিদর্শন ও প্রতিবেদন

৬১। (১) বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষভাবে দায়িত্ব প্রদত্ত ব্যক্তি অথবা ব্যক্তিবর্গ দ্বারা, প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সময় সময়, পরিদর্শন করাইতে পারিবে এবং উক্তরূপে পরিদর্শিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল এবং কেন্দ্রের চাহিদা অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যে কোনো প্রতিবেদন, বিবরণ ও তথ্য সরবরাহ করিতে হইবে।

৬২। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদান এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা, ইত্যাদি

৬২। (১) একাডেমিক কাউন্সিলের পরামর্শক্রমে সিন্ডিকেট কোনো কলেজ, একাডেমি অথবা প্রতিষ্ঠানকে যে সকল বিষয়ে ও যে পর্যায়ে শিক্ষাদানের ক্ষমতা প্রদান করিবে সংশ্লিষ্ট কলেজ, একাডেমি অথবা প্রতিষ্ঠান সেইসকল বিষয়ে এবং সেই পর্যায়ে শিক্ষাদান করিবে এবং উক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে ভিন্নরূপ কোনো শিক্ষাদান করা যাইবে না।

(২) একাডেমিক কাউন্সিল এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সুপারিশ বিবেচনা করিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কলেজ, একাডেমি অথবা প্রতিষ্ঠানসমূহের সহিত পরামর্শক্রমে সহযোগিতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করিতে হইবে।

(৩) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অথবা একাডেমি শিক্ষার্থীদের উপকারার্থে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র নির্বাচিত বিষয়ে লেকচার অথবা কোর্স দানের ব্যবস্থা করিতে পারিবে।

(৪) বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কর্তৃক প্রদত্ত এবং কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত কোনো লেকচার, ভাইস চ্যান্সেলরের পূর্বানুমতিক্রমে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা যাইবে।

৬৩। কর্তৃপক্ষের সদস্য হইবার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ

৬৩। কোনো ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা ইনস্টিটিউটের কোনো পদে অধিষ্ঠিত থাকা বা বিশ্ববিদ্যালয় বা কোনো ইনস্টিটিউটের কোনো কর্তৃপক্ষের সদস্য হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি-

(ক) অপ্রকৃতিস্থ বা অন্য কোনো অসুস্থতার কারণে তাহার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণভাবে অক্ষম হন;

(খ) উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর উক্ত দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;

(গ) নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হন।

৬৪। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গঠন সম্পর্কে বিরোধ

৬৪। এই আইন, সংবিধি বা বিশ্ববিদ্যালয় বিধি বা প্রবিধানে এতদসম্পর্কিত বিধানের অবর্তমানে, কোনো ব্যক্তির বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্তৃপক্ষের সদস্য হইবার অধিকার সম্পর্কিত কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে উহা সিন্ডিকেটের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং সিন্ডিকেট উহা নিষ্পত্তি করিতে না পারিলে চ্যান্সেলরের নিকট প্রেরিত হইবে এবং উক্ত বিষয়ে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।

৬৫। কমিটি গঠন

৬৫। এই আইন বা সংবিধি দ্বারা কোনো কর্তৃপক্ষকে কমিটি গঠনের ক্ষমতা প্রদান করা হইলে এবং উক্ত কর্তৃপক্ষ উল্লিখিত মতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইয়া কোনো কমিটি গঠন করিলে উহার গঠনের আইনগত বৈধতা সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

৬৬। আকস্মিক সৃষ্ট শূন্যপদ পূরণ

৬৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্তৃপক্ষ অথবা ইনস্টিটিউটের পদাধিকারবলে সদস্য নহেন এইরূপ কোনো সদস্যের পদ আকস্মিকভাবে শূন্য হইলে, যে ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ উক্ত সদস্যকে নিযুক্ত, নির্বাচিত বা মনোনীত করিয়াছিলেন সেই ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ, যতশীঘ্র সম্ভব, উক্ত শূন্যপদ পূরণ করিবেন এবং যে ব্যক্তি এই প্রকার শূন্যপদে নিযুক্ত, নির্বাচিত বা মনোনীত হইবেন, তিনি যাহার স্থলাভিষিক্ত হইয়াছেন, তাহার অসমাপ্ত কার্যকালের জন্য উক্ত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার সদস্য বহাল থাকিবেন।

৬৭। কার্যধারার বৈধতা, ইত্যাদি

৬৭। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্তৃপক্ষের কোনো কার্য ও কার্যধারা কেবল উহার কোনো পদের শূন্যতা অথবা উক্ত পদে নিযুক্তি, মনোনয়ন অথবা নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যর্থতা অথবা ক্রটির কারণে অথবা কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়ে অন্য কোনো প্রকার ক্রটির জন্য অবৈধ হইবে না কিংবা তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

৬৮। বিতর্কিত বিষয়ে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্ত

৬৮। এই আইন অথবা সংবিধিতে বিধৃত হয় নাই এইরূপ কোনো বিষয়ে অথবা চুক্তি সম্পর্কে কোনো বিতর্ক বা বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সিন্ডিকেটের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং সিন্ডিকেট উহা নিষ্পত্তি করিতে ব্যর্থ হইলে উহা নিষ্পত্তির জন্য চ্যান্সেলরের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত বিষয়ে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

৬৯। অবসরভাতা ও ভবিষ্য তহবিল

৬৯। সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি এবং শর্তাবলি সাপেক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয় উহার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কল্যাণার্থে দেশে প্রচলিত এতদসংক্রান্ত আইন, নিয়ম ও বিধির সহিত সংগতি রাখিয়া অবসরভাতা, গোষ্ঠীবীমা, কল্যাণ তহবিল এবং ভবিষ্য তহবিল গঠন অথবা আনুতোষিক প্রদানের ব্যবস্থা করিতে পারিবে।

৭০। সংবিধিবদ্ধ মঞ্জুরি

৭০। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বৎসর মঞ্জুরী কমিশনের নিকট হইতে সরকার ও মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ মঞ্জুরিপ্রাপ্ত হইবে এবং মঞ্জুরী কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরকার অথবা অন্য কোনো উৎস হইতে সংগ্রহ করিবে।

৭১। অসুবিধা দূরীকরণ

৭১। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে অথবা উহার কোনো কর্তৃপক্ষের প্রথম বৈঠকের বিষয়ে অথবা এই আইনের বিধানাবলি প্রথম কার্যকর করিবার বিষয়ে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষসমূহ গঠিত হইবার পূর্বে যে কোনো সময়ে উক্ত অসুবিধা দূরীকরণের জন্য সমীচীন বা প্রয়োজনীয় বলিয়া চ্যান্সেলরের নিকট প্রতীয়মান হইলে তিনি আদেশ দ্বারা এই আইন এবং সংবিধির সহিত যতদূর সম্ভব সংগতি রক্ষা করিয়া যে কোনো পদে নিয়োগ দান বা অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং এই প্রকার প্রত্যেকটি আদেশ এইরূপে কার্যকর হইবে, যেন উক্ত নিয়োগদান ও ব্যবস্থা গ্রহণ এই আইনের বিধান অনুসারে করা হইয়াছে।

৭২। বিশেষ বিধান

৭২। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন কার্যকর হইবার পর অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, কাউন্সিল বা প্রতিষ্ঠানের সহিত ধারা (৫) এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কলেজ, সেন্টার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের অধিভুক্তি বা অধিকার, যদি থাকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হইবে এবং উক্ত একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কলেজ, সেন্টার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের বিষয়-সম্পত্তি, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী বা শিক্ষার্থী সম্পর্কে এই আইন অনুযায়ী গৃহীত ব্যবস্থার ক্ষেত্রে উক্ত অধিভুক্তি বা অধিকারে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কাউন্সিল বা প্রতিষ্ঠানের আর কোনো এখতিয়ার থাকিবে না।

(২) এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে ধারা ৫ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত একাডেমি, ইনস্টিটিউট, কলেজ, সেন্টার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীগণ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তাহাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, কাউন্সিল বা প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং আনুষঙ্গিক নিয়মাবলি এমনভাবে প্রযোজ্য হইবে যেন, উক্ত রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং আনুষঙ্গিক নিয়মাবলি এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন এন্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত হইয়াছে।

৭৩। রহিতকরণ ও হেফাজত

৭৩। (১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ, ২০১৮ ২০১৮ সনের ৪নং অধ্যাদেশ রহিত হইবে।

(২) উপধারা (১) এর অধীন রহিত হওয়া সত্ত্বেও, উক্ত অধ্যাদেশ-এর—

(ক) অধীন কৃত সকল কার্যক্রম ও গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত ও গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(খ) অধীন গৃহীত কোন কার্য বা ব্যবস্থা অনিষ্পন্ন বা চলমান থাকিলে উহা এমনভাবে নিষ্পন্ন করিতে হইবে বা চলমান থাকিবে যেন উক্ত অধ্যাদেশ রহিত হয় নাই।

৭৪। ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

৭৪। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্য কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।



Related Laws

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় আইন

অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রসর বিশ্বের সহিত…

শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ণ ইনস্টিটিউট আইন

দেশের সম্ভাবনাময় যুবদের প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন…

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়…

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্ট আইন

Bangabandhu National Agriculture Award Fund Ordinance, 1976 রহিতক্রমে উহা পরিমার্জনপূর্বক পুনঃপ্রণয়নের…

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ আইন, ২০১৬

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষত বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে…

Share your thoughts on this law